উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিল্পের যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে তা সমাধানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ভৌত অবকাঠামো খাতে বিশেষ করে মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে (যেমন: ম্যাস ট্রানজিট) ফ্লাইওভার, বাসটার্মিনাল, বিমানবন্দর, এভিয়েশন, সমুদ্রবন্দর, রেলওয়ে ইত্যাদি) এবং সেবা খাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্বের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।উদ্দীপকে অর্থনীতির অধ্যাপক নাসির মামুন বলেন, পাট, চামড়া ও তৈরি পোশাক ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্প। সম্প্রতি সরকার দেশের দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নীতি গ্রহণ করেছে। যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশসমূহের দ্রুত উন্নয়ন সাধনে ব্যাপক পুঁজির প্রয়োজন রয়েছে যা এককভাবে সরকার বা বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সম্পাদন করা দুরূহ। কারণ, কাঙ্ক্ষিত মূলধনের সম্পূর্ণ সংস্থান শুধু সরকারি আয় দ্বারা মেটানো সম্ভব নয়। আবার, বৈদেশিক ঋণ শর্তযুক্ত ও প্রভাব বেশি হওয়ায় তা দেশের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরূপ ক্ষেত্রে সরকারের PPP উদ্যোগের প্রয়োজন হয়।পিপিপি-র মাধ্যমে ভৌত অবকাঠামো খাতের শক্তিশালী বিকাশ সাধনের ফলে দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, বাণিজ্য, ব্যাংক, বিমা প্রভৃতি সেবা খাতের উন্নয়ন ঘটে। শিল্প খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত পিপিপি- এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি এর মাধ্যমে শক্তিশালী বেসরকারি খাতের সৃষ্টি হয়। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবে।