উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও এ ধরনের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ সাধিত হবে। বাংলাদেশের হস্তশিল্প, শঙ্খশিল্প এবং কারুকার্য দ্বারা অলঙ্কারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে বিদেশে এসব পণ্যদ্রব্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে স্বল্প মূলধন, সাধারণ যন্ত্রপাতি ও অধিক সংখ্যক শ্রমিকের দরকার। বাংলাদেশে যে স্বল্প পরিমাণ মূলধন ও প্রযুক্তিবিদ্যা রয়েছে তাতে দেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাই সরকারের উচিত এ শিল্পের সুনজর জ্ঞাপন করে শিল্পটিকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করা। বাংলাদেশে উৎপাদিত কুটির শিল্পের কিছু পণ্য রয়েছে যার খ্যাতি জগৎ জোড়া। যেমন— জামদানি শাড়ি, মুৎশিল্প, বেত, বাঁশ দিয়ে প্রস্তুতকৃত পণ্য ইত্যাদি। মসলিন শাড়ি আজও জগদ্বিখ্যাত। এসব পণ্যের চাহিদা আজ দেশ বিদেশে সর্বত্র বিদ্যমান। সরকার যদি এই শিল্পের যথাযথ খেয়াল বা তদারকি করে তবে অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের মতো এই সকল পণ্যও রপ্তানি সম্ভব বলে আমি মনে করি। আর উক্ত পণ্যগুলো একবার বিশ্ববাজারে পরিচিতি পেলে ওই গুলো হয়ে উঠতে পারে রপ্তানি পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই উপরিউক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে বলে আমি মনে করি।