উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট, বস্ত্র, চা, চামড়া ও তৈরি পোশাক শিল্পসমূহের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের ধারণাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রধানত রপ্তানিযোগ্য দ্রব্যাদি উৎপাদন ও তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে সেগুলোকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে। যেসব পণ্যের বৈদেশিক চাহিদা ও রপ্তানির সম্ভাবনা বেশি থাকে সেসব পণ্যের শিল্পকেই রপ্তানিমুখী শিল্প বলা হয়। অর্থাৎ রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের মূল্য উদ্দেশ্য হলো দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ও আয় বৃদ্ধি করা।
রপ্তানিমুখী শিল্প বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগ বা সম্পূর্ণভাবে দেশি বিনিয়োগ দ্বারা ব্যক্তি খাত বা সরকারি খাতে স্থাপিত হতে পারে। যেমন রপ্তানিমুখী শিল্পে দেশজ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, সেসব শিল্পের পণ্য উৎপাদনে মূল্য সংযোজন বেশি হয়। পক্ষান্তরে, আমদানিকৃত কাঁচামাল ও উপকরণের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে (বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প) মূল্য সংযোজনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হয়। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পসমূহের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো- পাট শিল্প, বস্ত্র শিল্প, চা শিল্প, চামড়া শিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প।
তেমনি উদ্দীপকেও এ শিল্পগুলোর (পাট, বস্ত্র, চা, চামড়া ও তৈরি পোশাক) কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী শিল্পের অন্তর্গত। এসব শিল্পের আওতায় উৎপাদিত পণ্য ও সেবা বিদেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে।