উদ্দীপকের ধারণাটি অর্থাৎ আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করবে।
প্রথমত, আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যখন দেশেই আমদানি করা পণ্যের বিকল্প তৈরি হবে, তখন বিদেশ থেকে ওইসব পণ্য কেনার জন্য আর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হবে না, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে।
দ্বিতীয়ত, এ ধরনের শিল্পায়নের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠায় নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠবে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করবে।
তৃতীয়ত, এটি দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং স্থানীয় শিল্পের ভিত্তি মজবুত হবে।
চতুর্থত, দেশের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী, হবে এবং বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক ওঠানামার প্রভাব হ্রাস পাবে।
পঞ্চমত, দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ায় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
সব মিলিয়ে উদ্দীপকের ধারণাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কেবল বাণিজ্য ঘাটতিই দূর করতে পারবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে একটি মজবুত ও স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।