উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকল্পটি হলো সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্র যা সরকারের 'পিপিপি' নীতিকে নির্দেশ করে।
দেশে শিল্প উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির যোগান পিপিপি'র মাধ্যমে সম্ভব। কেননা কেবল সরকারি বা বেসরকারি উদ্যেগে শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসার সম্ভব নয়। এছাড়া শিল্পায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবকাঠামো। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি সরবরাহ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ দেশে শিল্পায়নের গতি দ্রুততর করতে যথেষ্ট সহায়ক। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিপুল পুঁজির যোগান পিপিপি দ্বারা সম্ভব।
উদ্দীপকের পিপিপি'র মাধ্যমে সামাজিক অবকাঠামোও শক্তিশালী করা সম্ভব। যৌথ উদ্যোগের এ কৌশল দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যিক, ব্যাংক, বিমা প্রভৃতি সেবা খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে যথেষ্ট সহায়ক হবে। পিপিপি'র মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পায়ন হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে পিপিপি'র উদ্যোগে দেশে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে পিপিপি'র উদ্যোগ ছাড়া কেবল সরকারি বা বেসরকারি প্রচেষ্টা এককভাবে সফল নাও হতে পারে। তাই উদ্দীপকের পিপিপি ধারণার প্রেক্ষিতে উন্নয়ন বাজেটে বেসকারি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ধারণার সৃষ্টি করা হয়। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনীতিতে সরকারের পিপিপি নীতিটি যথার্থ।