চীন এবং বাংলাদেশের মানবসম্পদের গুণগত মানে কোনো পার্থক্য আছে কি? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: হ্যাঁ, চীন ও বাংলাদেশের মানবসম্পদের গুণগত পার্থক্য আছে। মানবসম্পদ বলতে মূলত দক্ষ জনশক্তিকে বোঝায়। আর কোনো দেশের জনশক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সুবিধা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী দক্ষ মানবগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলাকে মানব উন্নয়ন বলে। মানব উন্নয়নে তিনটি মৌলিক সূচক রয়েছে। যথা- আয়ুষ্কাল, শিক্ষার্জন ও জ্ঞানার্জন এবং জীবনযাত্রার মান। উদ্দীপকে চীনে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হলেও কোনো অভাব নেই। সকল মানুষেই সেখানে কর্মে নিয়োজিত এবং সকলেই শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত। এছাড়া সকলেই কাজের উপযুক্ত মূল্যও পাচ্ছে। অর্থাৎ চীন মানব উন্নয়ন সূচকে অনেকটাই এগিয়ে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ হলেও এখানকার অনেক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। এদেশের অনেক মানুষ বেকার এবং তারা উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত। অর্থাৎ বাংলাদেশ মানব উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে রয়েছে। মানুষের কর্মক্ষম জীবনকাল তার আয়ুষ্কালের ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো দেশের মানুষের আয়ুষ্কাল বা জীবন প্রত্যাশা বাড়ে তাহলে বোঝা যাবে যে, উক্ত দেশে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটেছে। এক্ষেত্রে চীনের মানুষের বর্তমান গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ৭৭ বছর। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল ৭২.৮ বছর। যা চীনের থেকে কম। শিক্ষার্জন বা জ্ঞানার্জন মানব উন্নয়নের একটি অন্যতম সূচক। এক্ষেত্রে চীনের শিক্ষার হার প্রায় ৯৬.৭% কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার হার প্রায় ৭৫.২%। যা চীনের তুলনায় কম। এছাড়া জীবনযাত্রার মান বাড়লে মানব উন্নয়নের সূচক বাড়ে। জীবনযাত্রার মানের ক্ষেতেও বাংলাদেশ চীনের তুলনায় পিছিয়ে। এ থেকে প্রতিয়মান হয় যে, চীন ও বাংলাদেশের। মানবসম্পদের গুণগত পার্থক্য রয়েছে।
HSC Economics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Economics 2nd Paper · সৃজনশীল
চীন এবং বাংলাদেশের মানবসম্পদের গুণগত মানে কোনো পার্থক্য আছে কি? উদ্…
উদ্দীপক
Barisal · 2021
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর