শব্দদূষণের কুফল সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: তমাল : কেমন আছ, বন্ধু? তরুণ : ভালো, তুমি কেমন আছ? তমাল: আমিও ভালো আছি। শুনলাম গতকাল ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিলে? কী হয়েছিল? তরুণ: তেমন কিছু না, আগের রাতে ঘুমাতে পারিনি। মাইকের শব্দে প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয়েছিল। সকালে, কলেজে আসার পরেও মাথাব্যথা ছাড়েনি। বেশি অসুস্থ বোধ করছিলাম। তাই আগে চলে গিয়েছিলাম। তমাল : ভালো করেছ। শব্দদূষণ 'নীরব ঘাতক'। অথচ শব্দদূষণ সম্পর্কে মানুষ এখনও সচেতন নয়। মানুষের অসচেতনতার ফলে এটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এর প্রভাবে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তরুণ: সত্যিই তাই। শব্দদূষণের ফলে মাথাব্যথা, অনিদ্রা, আলসার, বধিরতা, হৃদরোগ ইত্যাদি রোগ হতে পারে। সন্তানসম্ভবা মায়েরা বিকলাঙ্গ ও অপুষ্ট সন্তান জন্ম দিতে পারে। তমাল : তুমি ঠিক বলেছ। শব্দদূষণের ফলে কত মানুষ যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার হিসাব নেই। যানবাহনের আওয়াজ, হাইড্রোলিক হর্নের শব্দ, মাইকের শব্দ, কলকারখানার শব্দ, বিমান-হেলিকপ্টারের শব্দ, জেনারেটরের শব্দ, মিউজিকের শব্দ, ট্রেনের হুইসেলের শব্দ, মানুষের কোলাহল প্রভৃতি কারণে শব্দদূষণ হয়। তরুণ: মানুষের শব্দ স্তরের গ্রহণযোগ্য পরিমাণ ৬০-৬৫ ডেসিবেল, যা একটি সাধারণ কথোপকথনের সমান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দমাত্রা মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস করে। এই অসহনীয় শব্দ ছোট-বড় সবারই কানের ক্ষতি করছে। এটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় বলতে পার? তমাল: ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা যায়। তবে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণকে অবগত করতে হবে। হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি বন্ধ করতে হবে। শব্দদূষণ সম্পর্কে যে আইন আছে তার কঠোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তরুণ: ঠিক বলেছ। আমাদের উচিত শব্দদূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বোঝানো। অনেক কথা হলো, চলো ক্লাসে যাই।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
শব্দদূষণের কুফল সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর