অথবা, প্রদত্ত গল্পসংকেত অনুসারে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর। #ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় কথাটি কতটুকু বাস্তব তার প্রমাণ আমাদের গ্রামের মেয়ে সুমনা ldots.
উত্তর: ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় কথাটি কতটুকু বাস্তব তার প্রমাণ আমাদের গাঁয়ের মেয়ে সুমনা। এক অদম্য মেধাবী ও পরিশ্রমী এই মেয়ে। রিকশাচালক বাবার বড় মেয়ে সে। ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব তার কাঁধে পড়ে। বাবা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে দু-চার পয়সা রোজগার করে তা দিয়েই তাদের চার ভাই-বোনের খাবার জোটে। একটি কুঁড়েঘরে তারা গাদাগাদি করে বসবাস করে। এমনও দিন যায় যে তাদের চুলায় হাড়ি ওঠে না। সুমনা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে মেধাবৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলেও পড়ালেখার চালানো তার জন্য কষ্ট হয়ে যায়। যেখানে সংসার চালানো দায় সেখানে বাবা তার লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বই খাতা কিনে দিতে পারেন না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার মেধা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। বেতন মওকুফ সহ তার খাতাপত্র তিনিই কিনে দেন। বাসায় পড়ার মতো সে সময় পায়না। পরিবারের রান্নাবান্না ও ছোট ভাই-বোনদের প্রতি নজর দিতে গিয়ে সে খুব কম সময় পেতো। তাদের ঘুম পাড়িয়ে যখন বই নিয়ে বসত তখন বাঁধতো আরেক বিপত্তি।মাঝে মাঝে পড়ার জন্য খুপিতে তেল থাকে না। বাবার কাছেও পয়সা নেই। মাঝে মাঝে একাকী ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদত সে। তার সেই কানা অন্ধকারের ছায়াই কেবল অনুভব করতো। যেদিন রাতে পড়া সম্ভব হতো না সেদিন খুব ভোরে উঠে সে পড়তে বসতো। এভাবে চলতে চলতে এসএসসি পরীক্ষার সময় হলো। ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করা তার জন্য কষ্টসাধ্য। তার আগ্রহ ও মেথার জন্য স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক ফরম পূরণের টাকা ব্যবস্থা করে দেন। এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে সে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এবার কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়। গ্রামের যে কলেজ রয়েছে সেখানে ছাড়া আর কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই।স্কুলের প্রধান শিক্ষকই তাকে টাকা-পয়সা দিয়ে কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। সিনিয়রদের কাছ থেকে সুমন পুরনো বই সংগ্রহ করে কলেজ জীবনের অধ্যায়ন শুরু করে। এদিকে তার ছোট ভাইবোনদেরও সেই লেখাপড়া করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। নিজে তাদের শিক্ষকের ভূমিকা ও ভূমিকায় অবতীর্ণ করে। এভাবে এইচএসসিতেও সে জিপিএ ৫পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তার বাবাও প্রায় অসুস্থ থাকেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আর আগের মতো রিকশা চালাতে পারেন না। তাই সংসারের খরচ চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সে মহা বিপদে পড়ে। অনন্যোপায় হয়েছে একটি কিন্ডারগার্টেন এর চাকরি নেয়। এরই মাঝে বাংলা বিষয়ে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়। পরিবারে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার মহা সংগ্রাম চলতে থাকে। তবু সে হার মানতে চায় না। তার লক্ষ্য স্থির। সফলতার শিখরে আরোহন করতে সে বন্ধপরিকর। স্নাতক শেষ হওয়ার সাথে সাথে এসে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে লেখাপড়ার ভীষণ মনোযোগী হয় সুমনা।অনার্সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তার কলেজের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে উত্তীর্ণ হয়। তার কিছুদিন পর বিসিএস পরীক্ষা অংশ নিয়ে এসেছে সারাদেশে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাশ করে। একে একে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় পাস করে শিক্ষা ক্যাডারে বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি পায় সুমনা। পত্রিকার পাতায় উঠে আসে এক অদম্য জীবন কাহিনী। সে দরিদ্রের কাছে হার না মেনে সংগ্রাম করে সফল হওয়া এক নারী।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
অথবা, প্রদত্ত গল্পসংকেত অনুসারে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর। #ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় কথাটি কতটুকু বাস্তব তার প্রমাণ আমাদের গ্রামের মেয়ে সুমনা ldots.
উত্তর