যানজটের ভোগান্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: ইয়াসিন: (বিরক্ত মুখে) কিরে আবির, কেমন আছিস? সেই কখন থেকে তোকে ফোন দিচ্ছি, ধরছিস না কেন? আর এত দেরি হলো তোর? আবির: (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) আর বলিস না দোস্ত! জ্যামে আটকা পড়ে আমার জীবন শেষ। এই তোদের ধানমন্ডি আসার পথে যা জ্যাম! প্রায় এক ঘণ্টা লেগে গেল শুধু রাসেল স্কয়ার থেকে সাইন্সল্যাব আসতে। মেজাজটাই খারাপ হয়ে আছে। তুই কেমন আছিস? ইয়াসিন: আমি আর কেমন থাকব! আমিও তো তোর জন্য এই মোড়ে ১৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে। রিকশা থেকে নেমে হেঁটে চলে এলাম। ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি আসবি, একটু নিরিবিলি কথা বলব। কিন্তু এই জ্যামের শহরে শান্তি কোথায়! আবির: একদম ঠিক বলেছিস। ঢাকা শহরটা এখন জ্যামের নগরী হয়ে গেছে। প্রতিটা মোড়ে, প্রতিটা রাস্তায় শুধু গাড়ি আর গাড়ি। অসহ্য লাগে মাঝে মাঝে। বিশেষ করে অফিস টাইমে তো মনে হয় গাড়ির ওপর গাড়ি তুলে দিই। ইয়াসিন: অফিস টাইম কেন, এখন তো মনে হয় সব সময়ই জ্যাম লেগে থাকে। ছুটির দিনেও রেহাই নেই। গত পরশু নিউমার্কেট গিয়েছিলাম, ছোট একটা কাজ ছিল। আধা ঘণ্টার পথ যেতে দেড় ঘণ্টা লাগল। সব কাজ ফেলে রাস্তায় বসে থাকতে হয়। আবির: এই জ্যামের কারণে কত জরুরি কাজ পণ্ড হয়, তার কোনো হিসাব নেই। একবার এক ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলাম, জ্যামের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল। কী যে মানসিক চাপ যায় এই জ্যামে! ইয়াসিন: শুধু মানসিক চাপ না, শারীরিক ধকলও কম না। রিকশার ঝাঁকুনি, গাড়ির হর্ন, ধোঁয়া – সব মিলিয়ে মনে হয় যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের সময় আর স্বাস্থ্যের কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, একবার ভেবে দেখেছিস? আবির: হ্যাঁ, আর এই যে সময় নষ্ট হচ্ছে, এর মূল্য কে দেবে? দিনের অনেকটা সময় তো শুধু গাড়িতে বসেই কেটে যায়। কত প্রোডাক্টিভ কাজ করা যেত এই সময়ে! সরকারেরও এই ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখছি না। ইয়াসিন: ঠিকই বলেছিস। ফ্লাইওভার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাতেও জ্যাম কমছে না। মনে হয় যেন যেই লাউ সেই কদু। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি না হলে আর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত না হলে এই জ্যাম কমার কোনো সম্ভাবনাই দেখি না। আবির: আমার তো মনে হয়, প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা কমানো দরকার। আর ভালো একটা বাস সার্ভিস চালু করা উচিত, যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে যাতায়াত করতে পারে। তাহলে হয়ত মানুষ প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে দেবে। ইয়াসিন: সেটাই একমাত্র উপায় মনে হয়। আর ট্রাফিক আইনগুলো আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত। সবাই যদি নিয়ম মেনে চলে, তাহলে হয়ত কিছুটা সুরাহা হতে পারে। আপাতত চল, এই জ্যামের ভোগান্তি ভুলে কিছুক্ষণের জন্য গল্প করি। আবির: হ্যাঁ, চল। জ্যামের গল্প করে আর মেজাজ খারাপ করে লাভ নেই। তার চেয়ে চল, গরম এক কাপ চা খাই।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
যানজটের ভোগান্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
Chittagong · 2025
উত্তর
উত্তর