শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদে গল্প রচনা কর: ঝড়ের রাত। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। পিয়ালের মন খুবই অস্থির। রাত আনুমানিক একটা। হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ। অজানা আতঙ্কে পিয়াল ldots [গণিত] ..।
উত্তর: ঝড়ের রাত। আকাশ যেন ছিঁড়ে পড়ছে অবিরাম বজ্রপাত আর মেঘের গর্জনে। ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানিতে ঘরের ভেতরেও সবকিছু এক নিমেষে আলোকিত হয়ে আবার ডুবে যাচ্ছে নিকষ কালো আঁধারে। পিয়ালের মনটা ভীষণ অস্থির। কী একটা অজানা আশঙ্কায় তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে। ঘড়িতে তখন রাত আনুমানিক একটা। এমন দুর্যোগপূর্ণ রাতে স্বাভাবিকভাবেই কেউ বাইরে থাকে না। চারিদিকে কেবল বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর বৃষ্টির একটানা ঝমঝম আওয়াজ। হঠাৎ কলিং বেলের তীক্ষ্ণ আওয়াজ! পিয়াল চমকে উঠল। এই গভীর রাতে কে আসতে পারে? তার সারা শরীর যেন ঠান্ডা হয়ে গেল। অজানা এক আতঙ্কে বুকের ভেতরটা হিম হয়ে আসতে লাগল। পিয়ালের ছোট পরিবার। বাবা-মা গ্রামে গেছেন এক আত্মীয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে। বাড়িতে সে আর কাজের লোকটা আছে, তবে কাজের লোকটা অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। পিয়াল কাঁপা কাঁপা হাতে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালাল। আলোতেও যেন ঘরের ভেতরের অন্ধকারটা পুরোপুরি কাটছে না। কলিং বেলের শব্দটা আবার হলো, এবার আরও জোরেশোরে, যেন কেউ অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করছে। পিয়ালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমল। সে বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে পা বাড়াল। তার মনে হলো, হৃদপিণ্ডটা যেন গলার কাছে চলে এসেছে। দরজার ছোট আই-হোল দিয়ে বাইরেটা দেখার চেষ্টা করল, কিন্তু বিদ্যুতের ঝলকানি আর বৃষ্টির কারণে কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তবে আবছাভাবে একটা ছায়ামূর্তি দেখা যাচ্ছে বলে মনে হলো। সে ভাবল, "চোর নয় তো? নাকি কোনো ডাকাত দল?" কিন্তু এতো ঝড়-বৃষ্টিতে চোর আসার কথা নয়। তাহলে কে? কোনো দুঃসংবাদ নয় তো? এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই তার অস্থিরতা আরও বেড়ে গেল। সে সিদ্ধান্ত নিল, সরাসরি দরজা খুলবে না। "কে?" পিয়াল সাহস সঞ্চয় করে গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করল। বাইরে থেকে কোনো উত্তর এলো না। শুধু কলিং বেলের তীব্র আওয়াজটা আবার বেজে উঠল, এবার যেন আরও দীর্ঘস্থায়ী। পিয়াল আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তার মনে হলো, বাইরে যে আছে, সে নিশ্চয়ই খুব মরিয়া। শেষমেশ অনেকটা সাহস জোগাড় করে সে দরজার লকের দিকে হাত বাড়াল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজাটা খুলতেই বিদ্যুতের ঝলকানিতে তার চোখে পড়ল এক অপ্রত্যাশিত মুখ! সে তার ছোটবেলার বন্ধু রায়হান! রায়হান ভিজে চুপচুপে হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। "আরে রায়হান! তুই!" বিস্ময়ে আর স্বস্তিতে পিয়ালের মুখ থেকে কথাটা বেরোলো। রায়হান কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আর বলিস না দোস্ত! বাসের চাকা ফেটে গিয়েছিল। সারা রাত রাস্তার পাশে আটকে ছিলাম। কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম না। শেষে হেঁটে হেঁটে এতদূর এলাম। তোর কথা মনে পড়ল, ভাবলাম এই দুর্যোগে আর কার কাছে যাব?" পিয়াল এক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। তারপর দ্রুত রায়হানকে ভেতরে টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করল। ঝড়ের রাতের অজানা আতঙ্ক নিমেষে স্বস্তিতে পরিণত হলো। সে মনে মনে ভাবল, সব আতঙ্ক সবসময় ভয়ের হয় না, কখনো কখনো তা অপ্রত্যাশিত আনন্দেরও কারণ হতে পারে।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদে গল্প রচনা কর: ঝড়ের রাত। আকা…
Chittagong · 2025
উত্তর
উত্তর