প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর। মাকে সেবা করতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হয় হাসান ldots [গণিত]
উত্তর: অনুশোচনার দহন হাসান সাহেবের বয়স সত্তরের কোঠায়। শরীরটা ভেঙে গেছে, চোখেও ভালো দেখেন না। তবুও প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙতেই মায়ের ঘরের দিকে তাকান, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। গত বিশ বছর ধরে এই একই দৃশ্য, একই যন্ত্রণা। মাকে সেবা করতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হয় হাসান। তার মা, আয়েশা বেগম, মারা গেছেন বিশ বছর আগে। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। সে সময় হাসান ছিল বিদেশের মাটিতে। উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিল, তারপর সেখানেই ভালো চাকরি পেয়ে থিতু হয়েছিল। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়েও আসতে পারেনি। কাজের চাপ, ছুটির সমস্যা—হাজারটা অজুহাত ছিল তার। ফোনে মায়ের দুর্বল কণ্ঠস্বর শুনেছে, "বাবা, একবার যদি তোকে দেখতে পেতাম!" আর হাসান আশ্বাস দিয়েছে, "মা, আরেকটু সবুর করো, সব কাজ গুছিয়েই আসব।" কিন্তু সেই ফেরা আর হয়নি মায়ের জীবদ্দশায়। মা মারা যাওয়ার পর যখন হাসান দেশে ফিরল, তখন শুধুই কবরের নীরবতা তাকে স্বাগত জানাল। মায়ের শূন্য ঘর, মায়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সব কিছু যেন তাকে বিঁধেছিল। সবচেয়ে বেশি বিঁধেছিল মায়ের শেষ কথাগুলো— "একবার যদি তোকে দেখতে পেতাম!" আজও হাসান সাহেবের মনে হয়, যদি সেদিন মায়ের পাশে থাকতে পারত! যদি নিজের হাতে মায়ের সেবা করতে পারত! সামান্য একটা গ্লাস জল এগিয়ে দেওয়া, মাথা টিপে দেওয়া, অথবা শুধু পাশে বসে মায়ের কথা শোনা—এই সাধারণ কাজগুলোও সে করতে পারেনি। এই অক্ষমতা, এই অনুশোচনা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মায়ের ছবিটা হাতে নিয়ে বসে থাকেন হাসান। ছবিটা ঝাপসা, মায়ের মুখটাও স্পষ্ট নয়। তবুও তিনি অনুভব করেন মায়ের মমতাভরা স্পর্শ, শুনতে পান মায়ের আদরের ডাক। আর তার চোখ বেয়ে নেমে আসে উষ্ণ অশ্রুধারা। এই অশ্রু কেবল শোকের নয়, এই অশ্রু অসীম অনুশোচনা আর মাকে সেবা করতে না পারার এক অব্যক্ত যন্ত্রণার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাননি হাসান। হয়তো কোনোদিন পাবেনও না।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর। মাকে সেবা করতে না…
Dhaka · 2025
উত্তর
উত্তর