'আমার ইচ্ছেডানা' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর: আমার ইচ্ছেডানা এক অভাবনীয় হতাশা আজকাল প্রেয়ে বসেছে দীপুকে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হওয়ার পর থেকেই একটি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে সে। খুব বড় কোনো চাকরির আশা তার ছিল না! ছোটখাটো একটা চাকরি হলেই চলত। কিন্তু তাও যেন সোনার হরিণের মতো। এদিকে পিতা-মাতার অভাবের সংসারে দিন দিন বাড়তে থাকে টানাপোড়েন। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। একদিন বাবা তাকে ডেকে ক্ষোভের সঙ্গে বললেন— 'এত বড় ছেলে হয়ে সংসারে বসে বসে খেতে লজ্জা করে না তোর?' কথাটা বড় দুঃখ দেয় দীপুর মনে। ফলে রাগ করে সে কাউকে কিছু না বলে বন্ধু শফিকের বাসায় চলে আসে। শফিক উচ্চশিক্ষিত নয় । ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়াশোনা করে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে। দীপুর দুঃখের কথা শুনে শফিক তার কাঁধে হাত রেখে বলল— 'শোন বন্ধু, চাকরি খুঁজে কোনো লাভ হবে না, তোকে স্বনির্ভর হতে হবে । ঠিক আমার মতো ।' দীপু হতাশার স্বরে বলল— 'কিন্তু তার জন্যও তো পুঁজি দরকার। সেটা কোথায় পাব? শফিক দীপুকে আশ্বস্ত করে বলল— পুঁজি দরকার সেটা ঠিক,কিন্তু তার চেয়ে বেশি দরকার ইচ্ছাশক্তি। তোর যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে আমি তোকে প্রাথমিক পুঁজি কিছুটা দেব। বাকিটা নিজের দক্ষতা দিয়ে তোকেই এগিয়ে নিতে হবে। দীপু যেন হঠাৎ আশার আলো খুঁজে পায়। সে আগ্রহের সঙ্গে বলে 'আমি রাজি। তোর সহযোগিতা পেলে আমি নিশ্চয়ই সফল হতে পারব।' এরপর শফিকের সহযোগিতায় দীপু একটি মুরগি খামার গড়ে তোলে। প্রথমে ছোট আকারে শুরু করলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। শফিকের কাছ থেকে ধার করা টাকা শোধ করে সে তার ব্যবসা সম্প্রসারিত করে। এভাবে কয়েক বছরের মধ্যে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এই উদ্যোক্তা দিপুর প্রতিষ্ঠানে কাজ করে এলাকার ২০/২৫ জন ছেলের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ইচ্ছাশক্তিই দীপুর এই সফলতার প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার হয়ে কাজ করেছে। কথায় আছে— “বড় হওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছাই মানুষকে বড়ো করে তোলে।” তেমনিভাবে বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, “ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।” পরিশেষে বলা যায়, সফল হতে হলে, নিজের মতো করে কিছু করতে হলে ইচ্ছে ডানায় ভর করে উড়ে চলতে শিখতে হয়।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
'আমার ইচ্ছেডানা' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর