'মানুষ মানুষের জন্য' শিরোনামে একটি খুদে রচনা কর।
উত্তর: মেয়েটি দৌড়াচ্ছিল। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। ওদিকে মেয়েটির ব্যাগে মোবাইল ফোন বেজেই চলেছে। ফোন ধরছে না, করণ তাকে ট্রেন ধরতে হবে। শেষ পর্যন্ত সে দৌড়ে ট্রেনে উঠল। গেটে দাঁড়ানো লোকটিকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ দিল। টিকিট দেখে সিটে বসে ব্যাগ থেকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখল মায়ের ফোন। ফোন মা করেনি। করেছে সুমন। সুমন গত রাতেও ফোন করেছিল । কান্না ভেজা কণ্ঠে বলেছিল, 'আপু মা খুব অসুস্থ, তুমি বাড়িতে আসো।' সুমি শুধু বলেছিল, 'আমি সকালের ট্রেনে আসব, তুই মায়ের খেয়াল রাখিস।' অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া সুমন মায়ের আর কী খেয়াল রাখবে ! তবুও বিপদের ভরসা। প্রতিবেশীদের ডাকতে পারবে মাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। ডাক্তার ডাকতে পারবে, ওষুধ আনতে পারবে। সুমি ফোন করল, ফোনে রিং হচ্ছে না। বারবার কোটে যাচ্ছে। নেটওয়ার্কের সমস্যা হতে পারে, পরে আবার চেষ্টা করবে বলে ফোন রেখে দিল। মায়ের কথা ভাবতে লাগল। বাবার মৃত্যুর পর কত কষ্ট করে মা তাদের বড় করে তুলেছেন। জমিজমাহীন গ্রাম্য চিকিৎসক সিরাজ আলির মৃত্যুর পর সবাই তার মাকে ভিটেমাটি বিক্রি করে বাপের বাড়িতে চলে যেতে বলেছিল। মা যাননি। ছেলে-মেয়ে দুটোকে বুকে নিয়ে স্বামীর ভিটেমাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন। সংসার চালাতে তিনি কত কষ্টই না করেছেন। অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেছেন। সেখানে যে খাবার পেয়েছেন তা এনে সন্তানদের খাইয়েছেন। হাত পাখা বানিয়ে বিক্রি করেছেন। কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করেছেন। এভাবে টাকা জমিয়ে সেলাই মেশিন কিনেছেন। সেই মেশিন চালিয়েই তার সংসার তিনি টিকিয়ে রেখেছেন। তার স্বপ্ন সুমি আর সুমনকে মানুষের মতো মানুষ করবেন। মেধাবী ছেলে-মেয়ে দুটির জন্য শামসুন্নাহার পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আলাদা সম্মান পান । মেয়েকে মেডিকেলে ভর্তি করানোর সময় অনেকে তাকে সাহায্য করেছেন। সুমির মা সবার ঋণ পরিশোধ করতে চান। এ কারণেই তিনি রাত-দিন পরিশ্রম করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সুমি ডাক্তার দেখিয়ে ব্যবস্থাপত্র করে মাকে ওষুধ কিনে দিয়ে গেছে। মা নিশ্চয়ই ঠিকমতো ওষুধ খাননি। বেশি রাত জেগে কাজ করেছেন। ভাবতে ভাবতে কখন যে পুরোটা সময় পার হয়ে গেছে বুঝতে পারেনি সে । ট্রেন থেকে নেমে সুমি আবার ফোন করল। ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করল। না, রিং হচ্ছে না। ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে। সুমি অস্থির হয়ে উঠল। স্টেশন থেকে বড়ি খানিকটা দূর। রিকশা নিল সুমি দ্রুত বাড়ি পৌঁছতে। রিকশা থেকে নেমে কিছুটা পায়ে হাঁটার পথ। একটু এগিয়ে যেতেই তাদের প্রতিবেশী মারুফ চাচাকে দেখে সুমি সালাম দিল। মারুফ চাচা সাইকেল থেকে নেমে গম্ভীর গলায় বলল, তুই এসেছিস মা, যা বাড়ি মা, আমি যাই, সবকিছু নিয়ে আসি। চোখ মুছতে মুছতে তার মারুফ চাচা কী বোঝাল সুমি তা বুঝতে পারল না। সে স্তম্ভিত হয়ে গেল । তার পা আর সামনে চলছে না। কী হয়েছে তার মায়ের? সুমি ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল। মসজিদের মিনারের উঁচুতে বাঁধা মাইক থেকে ঘোষণায় সুমির সেই ঘোর কাটতেই তার দুচোখ অশ্রুতে ভরে উঠল, হাত শিথিল হয়ে ব্যাগ পড়ে গেল, জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সুমি। মাইকে তখনও কথা শোনা যাচ্ছে ... তার নামাজের জানাজা বাদ জোহর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
'মানুষ মানুষের জন্য' শিরোনামে একটি খুদে রচনা কর।
উত্তর