অথবা, উপর্যুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসারে একটি খুদে গল্প লেখ: বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করে আরজিনা বেগম। আরজিনার দুই ছেলে মোতালেব আর আলেপ। বিভিন্ন এনজিও থেকে চরা সুদের ঋণ নিয়ে বড় ছেলে মোতালেবকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার আশা বুকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে। কিন্তু মাদকাসক্তির কারণে মোতালেব
উত্তর: মাদকাসক্তির পরিণাম বাড়ি ঘুরে ঘুরে কাজ করে আরজিনা বেগম। আরজিনার দুই ছেলে মোতালেব আর আলেপ।বিভিন্ন এনজিও থেকে চরা সুদের ঋণ নিয়ে আর্জিনা বেগম বড় ছেলে মোতালেবকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। লেখাপড়া শিখে তার ছেলে মানুষের মতো মানুষ হবে এমন স্বপ্ন দেখেন সে। ছেলেকে নিয়ে দেখা মায়ের স্বপ্ন ভাঙ্গে। মাদকাশক্তির কারণে মোতালেব তার মায়ের স্বপ্নের মত মানুষ হয়ে উঠতে পারে না। এর ফলে শরীরের একটা অস্থিরতা অনুভব করেছে। আর তখনই টাকার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন মোতালেব। রাতেই তার মাদক নিতে হয়। নেশায় টাকার জন্য সে তার মাকে তাড়া দেয়। মা টাকা জোগাড় করতে না পারলে তার অস্থিরতা আরো বেড়ে যায়। নেশা গ্রহণের সময় হলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে খিচুনি শুরু হয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে ছোট ভাইকে চাপ দেন। বছরখানেক আগের কথা, গ্রামে থাকাকালে সে মাদকের ধাবা থেকে দূরে ছিল। সহজ সরল প্রানোচ্ছল ছেলে ছিল সে। সবার সঙ্গে তার সৎ ভাব ছিল।তাই অনেকে তার বন্ধু হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর সেই নতুন বন্ধুদের সঙ্গে সাত দিনের জন্য কক্সবাজার ঘুরতে চায়। সেই শিক্ষা সফরে কয়েকজন মাদকাসক্ত ও সঙ্গী ছিল তার। সমুদ্র সৈকতে তাদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় মাদক রূপে লাল রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট সহজে পেয়ে যায় সে, তখন থেকে শুরু। ভার্সিটিতে ফেরার পর থেকে সে অভাব অনুভব করে ট্যাবলেট গুলোর। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তার অস্বাভাবিক জীবনযাপন আর টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর মানসিক অত্যাচার। পড়াশোনা, গান বাজনা, ভালো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কোন কিছুতেই এখন তাকে আর টানে না। নেশার ট্যাবলেট ছাড়া আর কোন কিছুতেই তার আকর্ষণ নেই। টাকার জন্য সে ক্রমশ মা ও ভাই এর উপর চাপ দিয়ে থাকেন। মা টাকা নেই বললে তার অস্থিরতা আরো বেড়ে যায়। কাউকে মানা করে কারো কথা শোনে না। মাতা কি নিষেধ করলে মাকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছা করে তার। তখন বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। শরীরের মধ্যে অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে তার। রাস্তার পাশে একটা স্বর্ণের দোকান। সেখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর ভাবে সুযোগ পেলে ওই দোকানে চুরি করবে। চুরি করা গহনা বিক্রি করে সেই নেশার টাকা জোগাড় করবে। সত্যি সে ওই দোকানে চুরি করতে যায় এবং ধরা পড়ে। দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা মিলে তাকে বেদম প্রহার করে। কোন পিটুনিতে তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। সেদিকে তার কোন খেয়াল নেই। সে শুধু ভাবে নেশার টাকা কোথায় পাবে। সে গ্রামের বাড়িতে যায় এবং মাথায় খুব বুদ্ধি আটতে থাকে। কিভাবে মায়ের ফোন চুরি করে বিক্রি করা যায়। না বুঝতে পেরে তাকে বাধা দেয়। সে তখন হিতাহিত জ্ঞান শূন্য। কারণ তার মধ্যে কোন মানবিকতা আর অবশিষ্ট নেই। আর চাই শুধু টাকা ও নেশা দ্রব্য। মা যতই তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে সে ততই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রাগে ও ক্ষোভে সে ছোট ভাইকে মারতে শুরু করে। মা বাধা দিলে শেষ পর্যন্ত মাকে ছুরির আঘাতে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। নিজের জীবন ও পরিবারকে ধ্বংস করে আজ সে জেলখানায় নিঃস্ব অসহায়। এখন সেভাবে মাদকাসক্তি আমাদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। জীবনকে অভিশপ্ত করে তোলে। সকলের উচিত মাদককে না করা।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
অথবা, উপর্যুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসারে একটি খুদে গল্প লেখ: বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করে আরজিনা বেগম। আরজিনার দুই ছেলে মোতালেব আর আলেপ। বিভিন্ন এনজিও থেকে চরা সুদের ঋণ নিয়ে বড় ছেলে মোতালেবকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার আশা বুকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে। কিন্তু মাদকাসক্তির কারণে মোতালেব
উত্তর