বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: বইপড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর সংলাপ মনিকা : কেমন আছ, বান্ধবী? সাবরিনা ভালো। তুমি কেমন আছ? মনিকা : আমিও ভালো। তোমার হাতের ব্যাগে কী? সাবরিনা : বই। নীলক্ষেত বই মার্কেট থেকে কিছু বই কিনে আনলাম। মনিকা : তোমার বই পড়ার অভ্যাসটা খুবই ভালো। আমিও পড়ার চেষ্টা করি। তবে তোমার মতো অতটা পেরে উঠি না। সাবরিনা : না, আমিও যে খুব বেশি পড়ি তা নয়। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। বন্ধুরা আমাকে মিছেমিছি বইপোকা বলে ডাকে। মনিকা : মানুষের যতগুলো সুঅভ্যাস রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বই পড়াই শ্রেষ্ঠ। বই মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলে। তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ সাধন করে থাকে। সাবরিনা : তা ঠিক বলেছ। বই আমাদের পৃথিবীর অতীত থেকে শুরু করে বর্তমানে জীবিত শ্রেষ্ঠ মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ করে দেয়। মনিকা : বই হলো জ্ঞানের আধার। বই মানেই জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার প্রতিচ্ছবি। মানবজীবনের চিন্তা-চেতনার বাস্তব প্রতিফলন ছাপার আখরে ধরা পড়ে বইয়ের পাতায়। এ কারণে বই মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সাবরিনা : বই পড়লে আর ভ্রমণ করার প্রয়োজন পড়ে না। বই তোমাকে মুহূর্তের মধ্যেই কোনো এক অজানা জগতে নিয়ে যাবে কিংবা এমন কোনো সময়ে তুমি ভ্রমণ করবে যা তুমি কখনো কল্পনাও করোনি। মনিকা : ঠিক বলেছ, সাবরিনা। বই যেন অমাদের এক কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যায়। সেখানে দেখি কোনো কিছুই যেন আর, অসম্ভব নয়। পড়ার মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত জানা জিনিস বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আবিষ্কার করতে পারি আমরা। জানতে পারি কীভাবে আচরণের ভিন্নতায় ফলাফলেও পরিবর্তন আসে। সাবরিনা: তাই তো সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছেন, 'রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা।' মনিকা : অনেকেই পড়ুয়াদের বাস্তবজ্ঞানবর্জিত অলস বলে ঠাট্টা- তামাশা করে। তখন আমার খুবই মন খারাপ হয়। সাবরিনা : দেখো, কারো কথায় কিছু আসে যায় না। বই পড়া থেকে আমরা নির্মল আনন্দ, বুদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জন করে থাকি। বই পড়তে হয় একাকী। এতে অবসর ভরে ওঠে নির্মল আনন্দে। বুদ্ধি আসে বইয়ের কথামালা থেকে। আর সক্ষমতা আসে গ্রন্থগত বিদ্যার সঙ্গে বিষয়বুদ্ধির সংশ্লেষে। মনিকা : আজকাল আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস যেন ক্রমশই উঠে যাচ্ছে। ইন্টারনেটেই বুঁদ হয়ে থাকছে তারা। বিষয়টি খুবই উদবেগের। সাবরিনা : আমি তোমার সঙ্গে এই বিষয়টিতে একমত নই। অনেকেই বলে থাকেন, টিভি, ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন আমাদের বই পড়ার অভ্যাস থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন করে চলেছে। এই কথাগুলোর সঙ্গে আমি মোটেও একমন নই। ইন্টারনেট ও মোবাইল ই-বুকের এক বিশাল ভান্ডার তুলে ধরেছে আমাদের সামনে। তরুণ প্রজন্ম অনেক ওয়েবসাইটে ঢুকে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে বই কেনার খরচ ও সময় দুই-ই বেঁচে যাচ্ছে। মনিকা : আমি আবার ইন্টারনেটে বই পড়তে পারি না। হার্ডকপি না হলে আমি পড়ে মজা পাই না। সাবরিনা: ইন্টারনেট হোক আর বাঁধাই করা বই হোক পড়লেই হলো। কীভাবে পড়লাম- এর চেয়েও বড়ো কতটুকু পড়লাম। ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। মনিকা: হ্যাঁ। বই আমাদের প্রকৃত বন্ধু। বিশ্বজগতের সমুদয় জ্ঞানের সঙ্গে আমরা বইয়ের মাধ্যমেই পরিচিত হই। বই আমাদের সুনাগরিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। সাবরিনা: ঠিক তাই। আমার পড়া শেষ হলে আমার কেনা বইগুলো তুমি নিয়ে পড়তে পারো। মনিকা : নিশ্চয়ই পড়ব। আজ তাহলে চললাম। ভালো থেকো। সাবরিনা : তুমিও ভালো থেকো। বিদায়।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
উত্তর