মনে করো, তুমি সাকিব, তোমার বন্ধু লিমন। 'নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দু'জনের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ বা 'সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতনতা' বিষয়ে সংলাপ। সাকিব : বন্ধু, কেমন আছ তুমি? অনেক দিন তোমার দেখা নেই! লিমন : ভালো নেই, বন্ধু। মনটা ভীষণ খারাপ। সাকিব : কেন কী হয়েছে? কোনো সমস্যায় পড়োনি তো? লিমন : না আমি কোনো সমস্যায় পড়িনি। তবে আবরারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ। সাকিব : কোন আবরারের কথা বলছ? সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবরারের কথা? লিমন : হ্যাঁ। ঠিক ধরেছ। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী আমাদের ছেড়ে অকালে চলে গেল। ঘাতক বাস কেড়ে নিলো তার তাজা প্রাণ। সাকিব : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটকের সামনে ঘটা ওই দুর্ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। তাদের দাবি একটাই- 'নিরাপদ সড়ক চাই'। লিমন : ঠিকই বলেছ, এই আন্দোলনের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি। সড়কে মৃত্যুর মিছিল যে করেই হোক থামাতে হবে। সাকিব : নিরাপদ সড়কের দাবি আজও পূরণ হলো না। ভেবেছিলাম ২০১৮ সালের স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের পর দেশের সড়কগুলো নিরাপদ হবে। ওই বছরের ২৯ জুলাই সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী বিমানবন্দর রোডে বাসচাপায় মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ওই গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। নয় দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল দেশের ছাত্রসমাজ। লিমন : তখন ভেবেছিলাম, সড়কে মৃত্যুর মিছিল বোধ হয় থামবে। কিন্তু থামল না। ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ক্ষত শুকাতে না শুকাতে ঝরে গেল আবরারের প্রাণ। সাকিব : 'নিরাপদ সড়ক চাই' আজ মানুষের প্রাণের দাবি। মানুষ রাস্তায় নিরাপদ চলাচলের গ্যারান্টি চায়। লিমন : এক পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে সড়কে মারা গেছে ৫২২৭ জন মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক। এর মধ্যে অনেকেই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে পরিবারগুলো সীমাহীন দুর্দশায় পড়ে যায়। সাকিব : এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। লিমন : নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার চিহ্নিতকরণ, সড়কে অসাধু শ্রমিক নেতাদের দৌরাত্ম্য বন্ধকরণ, বাসমালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সাকিব : সাধারণ জনগণের সচেতনতা দরকার সবার আগে। ট্রাফিক আইন মেনে রাস্তা পারাপার, ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। মানুষ সচেতন হলেই কেবল সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে। লিমন : গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কঠোর সড়ক আইন প্রণয়ন করতে তাদের ভূমিকাই সর্বাধিক। দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড, বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করে প্রচারাভিযান চালাতে পারে। সাকিব : ঠিক বলেছ। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত লিমন : হতে পারে নিরাপদ সড়ক। : ঠিক বলেছ বন্ধু, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যতীত এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়। সাকিব : ঠিক তাই। আচ্ছা বন্ধু আজ তাহলে আসি। ভালো থেকো। বিদায়। লিমন : তুমিও ভালো থেকো। বিদায়।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
মনে করো, তুমি সাকিব, তোমার বন্ধু লিমন। 'নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দু'জনের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর