১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন তরুণের মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: তরুণ :কাকা, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? মুক্তিযোদ্ধা :ওয়ালাইকুম আসসালাম, ভালো আছি, তুমি কেমন আছো? তরুণ :আমিও ভাল আছি, কাকা। মুক্তিযোদ্ধা :তোমার বাড়ি কোথায়? আমি তোমাকে ভালো করে চিনতে পারিনি। তরুণ :কাকা, আমাদের বাড়ি স্কুলের পাশে। আমি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছি। মুক্তিযোদ্ধা :ও আচ্ছা ভালো। তো কি মনে করে আমার বাড়িতে এসেছো? তরুণ :কাকা, আমি জেনেছি আপনি ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাই আপনার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু তথ্য ও আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে এসেছি। মুক্তিযোদ্ধা :মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তোমার আগ্রহ দেখে খুব আনন্দিত হলাম। এখন বলো তুমি কি ধরনের অভিজ্ঞতা ও তথ্য সম্পর্কে জানতে চাও। তরুণ :কাকা, কি কারনে নিজের জীবনকে বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন? মুক্তিযোদ্ধা :নিজের বিবেক ও মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন বাঁচবো কি মোর বসে চিন্তা একেবারেই জন্য মাথায় আসেনি। তরুণ :আপনি কত নাম্বার সেক্টরে এবং কোন সেক্টরের প্রধান অধীনে যুদ্ধ করেছিলেন? মুক্তিযোদ্ধা :আমি বীর উত্তম খালেদ মোশারফ এর অধীনে ২ নং সেক্টরের যুদ্ধ করেছিলাম। তরুণ :কাকা, আপনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য কোন প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন? মুক্তিযোদ্ধা :হ্যাঁ, আমি সীমান্ত পার হয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। তরুণ :কাকা, কিভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাই। মুক্তিযোদ্ধা :অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭সালের ১৪ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু হইতে আমাদের দেশে আসা ভঙ্গ হতে শুরু করে তখন তারা আমাদের মাতৃভাষার উপর আঘাত হানে। অর্থাৎ ১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন করা হয়। তরুণ :তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ মূলত 1952 সাল থেকে শুরু হয়েছিল। তাহলে তো মুক্তিযুদ্ধের পেছনে অনেক ঘটনায় অনুঘটন হিসেবে কাজ করছে। মুক্তিযোদ্ধা :তা তো অবশ্যই। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ও নির্বাচন, ৫৬ এর সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃত, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান সর্বপরি ৭০এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পরও ক্ষমতা হস্তান্ত না হওয়া প্রভৃতির বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের পেছনে অণু ঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তরুণ :কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা আসে এবং কবে আসে? মুক্তিযোদ্ধা :১৯৭০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী নির্বাচনে হেরে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে এবং গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফলে বাংলা ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভার স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি বলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম '। তাছাড়া 1971 সালের 25 শে মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। তরুণ :রাজাকারদের নিয়ে যদি কিছু বলতেন। মুক্তিযোদ্ধা :রাজাকাররা এই দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের কারণে স্বাধীনতা লাভ করতে নয় মাস লেগেছিল,তা না হলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে স্বাধীনতা লাভ করতে পারতাম। তাদের সহায়তা তিন লাখ বাঙালি কে হত্যা করে দুই লাখ মা ও বোনের সম্মানহানি করে। তরুণ :বর্তমান সরকার যুদ্ধ পরাধীদের বিচার শুরু করেছে এতে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? মুক্তিযোদ্ধা :স্বাধীনতার অনেক বছর পরে হলো বাংলাদেশের এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম সফলতা। তরুণ :আপনার মূল্যবান সময় ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। মুক্তিযোদ্ধা :তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন তরুণের মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর