বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: সানি :আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো বন্ধু? জনি :ওয়ালাইকুম সালাম, ভালো আছি তুমি কেমন আছো? সানি :ভালো আছি তবে আজ মনটা বেশি ভালো নেই। জনি :কেন? কি হলো আবার? সানি :তেমন কিছু নয়, সকালে ঘুম থেকে উঠে সংবাদপত্রের দিকে তাকালে আর মন ভালো থাকে না। জনি :তা অবশ্য ঠিক, আমাদের চারদিকে এত নেতিবাচক দিক যে, সংবাদপত্রে ইতিবাচক কোন কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সানি :যেমন দেখো, আমাদের চোখের সামনে বিশ্বটা যেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে, বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিদিন খারাপ থেকে খারাপ তোর হয়ে যাচ্ছে। জনি :ঠিক বলেছ, পৃথিবীর উষ্ণতা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে মানুষ যেন প্রকৃতিকে ধ্বংসের প্রতিযোগিতা নেমেছে। সানি :এর পরিণাম কিন্তু মানুষকে ভোগ করতে হবে। প্রাকৃতির প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। জনি :এই পরিণাম তো দৃশ্যমান। পাকিস্তানের সম্প্রিত হয়ে গেল স্মরণ কালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। ইউরোপ দেখেছে এক নজর বিহীন খরা। বৃষ্টি হীনতায় বিশ্বযুদ্ধে নিদর্শন বেরিয়ে আসছে। খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে এই খরা। সানি :এই অনাবৃষ্টি অতি বৃষ্টি, বন্যা ও খাড়া হচ্ছে প্রকৃতির পরিবেশে ভারসাম্য বিঘ্নিত করার ফল। জনি :হ্যাঁ, একদিকে পৃথিবীতে প্রয়োজনীয়ত কলকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে বিষাক্ত কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিনিয়ত কমেছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য। সানি :ঠিকই বলেছ। এভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রের পানির উচ্চতা, ফলে মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। সনি :এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কি? সানি :এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সহজ কোনো উপায় নেই। তবে বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তা যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকৃতি ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়ানোর সম্ভব হতে পারে। সানি :তুমি হয়তো জেনে থাকবে ২০১৬ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কথা, সেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা রাশ ও বৃক্ষ রোপনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল -তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আবশ্যক। অর্থাৎ ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা জন্য দুই ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর মধ্যে থাকতে হবে। জনি :এক কথায় কার্বন নিঃসরণ যথাসম্ভব কমাতে হবে। প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। অবশ্য বর্তমানে অনেক উন্নত দেশে বনেয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ' গ্রিন ইকোনোমি। ভাবনার প্রচলন করা হচ্ছে। সানি :হ্যাঁ। বৃক্ষ রোপনের কোন বিকল্প নেই, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি রাষ্ট্র উদ্যোগ সৃষ্টি করতে হবে কৃত্রিম বনভূমি। জনি :রেললাইন ও রাস্তার পাশে খালি জায়গা, পতিত ও খাস জমি হতে পারে সরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের আদর্শ স্থান সানি :তুমি ঠিক বলেছ, অনেক কথা হলো, আজ আর নয়। ভালো থেকো। জনি :তুমিও ভালো থেকো।
HSC Bangla 2nd Paper সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সংলাপ রচনা/খুদে গল্প রচনা · সৃজনশীল
বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা কর।
উত্তর