উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী কুসংস্কারাচ্ছন্ন না হওয়ায় মাতৃসুলভ সহানুভূতি থাকলেও উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী চরিত্রটি পুরোপুরি 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রের মতো নয় মন্তব্যটি যথার্থ।
'বহিপীর' নাটকে লেখক খোদেজা চরিত্রের পিরভক্তি ও কুসংস্কার তুলে ধরেছেন। কুসংস্কার মানুষের জন্য অভিশাপ। কারণ মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে অনেক সময় সত্যকে বাদ দিয়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করে। ফলে অনেক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনো বিপদও হয়। আর যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে, বোধের স্ফুরণ আছে তারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না।
উদ্দীপকে মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর চরিত্রে মাতৃসুলভ আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। মাজেদাকে তার ভাই মঞ্জুর সাহেব বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু বিয়েতে টাকা খরচ হবে, এটা ভেবে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে জোর প্রতিবাদ করে তার স্ত্রী। সে বুঝতে পারে যে সতিনের সংসার কুরুক্ষেত্রের মতো, মাজেদা সেখানে শান্তি পাবে না। 'বহিপীর' নাটকে খোদেজা চরিত্রের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ খুঁজে পাই। তাহেরা বিপদে পড়ায় খোদেজা তাহেরাকে বজরায় তুলে নেন। যত্ন করেন, মাথার চুল আঁচড়ে দেন। মেয়ের মতো ব্যবহার করেন তাহেরার সঙ্গে।
'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কারণ তাহেরাকে তিনি মাতৃস্নেহ দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠিকই; কিন্তু যখন বুঝলেন যে, তাহেরা পীরের অবাধ্য স্ত্রী, তখনই তার মাতৃস্নেহ ম্লান হয়ে যায়। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার দাম্পত্য জীবন কেমন বেমানান আর অন্যায় হবে, সেটা বিবেচনা না করেই তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে চান। এ অন্যায়কে হাশেম রোধ করতে গেলে খোদেজা পীরের অভিশাপের ভয় দেখান। পীরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমিদারি রক্ষা করতে চান। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।