বহিপীর (নাটক) বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর বহিপীর (নাটক) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩০৩

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুমির বাবা দিনমজুর। যৌতুকের টাকার অভাবে সুমির বাবা বৃদ্ধ মোড়লের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। সুমি রাজি না হয়ে কর্মের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে গেলে সবাই মিলে তাকে ধরে জোর করে বিয়ে দিতে চায়। তখন রাহুল প্রতিবাদ করে এ বিয়ে ঠেকায়। অবশেষে সে নিজেই বিনা যৌতুকে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ক
নৌকার সঙ্গে কীসের ধাক্কা লেগেছিল?

উত্তর

নৌকার সঙ্গে বজরার ধাক্কা লেগেছিল।
খ
"এমন মেয়েও কারও পেটে জন্মায় জানতাম না"- এ কথাটি বুঝিয়ে বলো।

উত্তর

এমন মেয়েও কারও পেটে জন্মায় জানতাম না- কথাটি দ্বারা তাহেরার আচরণ লক্ষ করে তার মাকে নিন্দা করা হয়েছে। তাহেরার সঙ্গে বহিপীরের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু তাহেরা পীরকে স্বামী হিসেবে মানতে নারাজ। সে পীরের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার এই পালানোটা জমিদারগিন্নি খোদেজার কাছে খুব অন্যায় কাজ মনে হয়েছে। কারণ খোদেজা পীরভক্ত, পীরের স্ত্রী হওয়া তার কাছে বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। অথচ তাহেরা পীরের বউ হতে রাজি নয়। ঘর থেকে পালানোর কারণে তার প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে খোদেজার মনে। এজন্যই তিনি উক্তিটি করেছেন।
গ
উদ্দীপকের সুমি চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সুমী চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই তাদের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 'বহিপীর' নাটকে তাহেরাকে তার বাবা-মা জোরপূর্বক একজন বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। এ বিয়েতে তাহেরা রাজি ছিল না, তার মতামতের কোনো গুরুত্বও দেয়নি তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা-মা। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, সুমি দিনমজুর বাবার মেয়ে। যৌতুকের অভাবে সুমির বিয়ে হচ্ছে না। এর ফলে বাবা গ্রামের মোড়লের সঙ্গে সুমির বিয়ে ঠিক করে। সুমি এতে ঘোর আপত্তি জানায়। তাতে কোনো ফল হয় না। অবশেষে সুমি পালানোর চেষ্টা করে এবং ধরা পড়ে। গ্রামের মানুষ সুমিকে জোর করে বিয়ে দিতে চায়। 'বহিপীর' নাটকেও দেখা যায় যে, তাহেরা সৎমায়ের সংসারে থাকে। তার সৎমা এবং বাবা জোর করে তাকে বহিপীরের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এভাবে উদ্দীপকের সুমির সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার সাদশ্য বিদ্যমান।
ঘ
"প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র হিসেবে উদ্দীপকের রাহুল ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি অভিন্ন"- মূল্যায়ন করো।

উত্তর

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ায়, "প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র হিসেবে উদ্দীপকের রাহুল ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি অভিন্ন" মন্তব্যটি যথার্থ। 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন প্রতিবাদী যুবক। সে যখন বুঝতে পেরেছে তাহেরাকে অন্যায়ভাবে বহিপীরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন সে প্রতিবাদ করেছে, তাহেরাকে রক্ষা করেছে। সে মানবিক এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়ায় কখনই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, রাহুল অত্যন্ত প্রতিবাদী চরিত্র। সুমির বাবা দিনমজুর, যৌতুকের কারণে মেয়ের বিয়ে দিতে পারে না। ফলে গ্রামের মোড়লের সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু সুমি বৃদ্ধ মোড়লকে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হয় না। সে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়ে। গ্রামের সবাই মিলে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে রাহুল। অবশেষে সে নিজেই সুমিকে যৌতুক ছাড়া বিয়ে করে। 'বহিপীর' নাটকের হাশেমও অনুরূপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। বহিপীর তাহেরাকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও তাহেরা তা মেনে নেয় না। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে যাওয়ার চেয়ে পানিতে ডুবে মরবে বলে প্রতিবাদ করে। তবু পির তাকে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা চালায়। এমতাবস্থায় জমিদারপুত্র হাশেম তাহেরাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে। 'বহিপীর' নাটকের হাশেম জমিদারের ছেলে। তাহেরা বিপদাপন্ন মেয়ে। পির তাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করলে সে বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে না গিয়ে আত্মহত্যা করতে চায়। এছাড়াও যেখানে তাহেরার মত নেই, সেখানে পীরের সঙ্গে তাহেরাকে নিয়ে যেতে দেওয়াও ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে হাশেম তাহেরাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাই বলা যায় যে, প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র হিসেবে উদ্দীপকের রাহুল ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি অভিন্ন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুমির বাবা দিনমজুর। যৌতুকের টাকার অভাবে সুমির বাবা বৃদ্ধ মোড়লের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। সুমি রাজি না হয়ে কর্মের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে গেলে সবাই মিলে তাকে ধরে জোর করে বিয়ে দিতে চায়। তখন রাহুল প্রতিবাদ করে এ বিয়ে ঠেকায়। অবশেষে সে নিজেই বিনা যৌতুকে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ক
নৌকার সঙ্গে কীসের ধাক্কা লেগেছিল?

উত্তর

নৌকার সঙ্গে বজরার ধাক্কা লেগেছিল।
খ
"এমন মেয়েও কারও পেটে জন্মায় জানতাম না"- এ কথাটি বুঝিয়ে বলো।

উত্তর

এমন মেয়েও কারও পেটে জন্মায় জানতাম না- কথাটি দ্বারা তাহেরার আচরণ লক্ষ করে তার মাকে নিন্দা করা হয়েছে। তাহেরার সঙ্গে বহিপীরের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু তাহেরা পীরকে স্বামী হিসেবে মানতে নারাজ। সে পীরের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার এই পালানোটা জমিদারগিন্নি খোদেজার কাছে খুব অন্যায় কাজ মনে হয়েছে। কারণ খোদেজা পীরভক্ত, পীরের স্ত্রী হওয়া তার কাছে বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। অথচ তাহেরা পীরের বউ হতে রাজি নয়। ঘর থেকে পালানোর কারণে তার প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে খোদেজার মনে। এজন্যই তিনি উক্তিটি করেছেন।
গ
উদ্দীপকের সুমি চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সুমী চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই তাদের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 'বহিপীর' নাটকে তাহেরাকে তার বাবা-মা জোরপূর্বক একজন বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। এ বিয়েতে তাহেরা রাজি ছিল না, তার মতামতের কোনো গুরুত্বও দেয়নি তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা-মা। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, সুমি দিনমজুর বাবার মেয়ে। যৌতুকের অভাবে সুমির বিয়ে হচ্ছে না। এর ফলে বাবা গ্রামের মোড়লের সঙ্গে সুমির বিয়ে ঠিক করে। সুমি এতে ঘোর আপত্তি জানায়। তাতে কোনো ফল হয় না। অবশেষে সুমি পালানোর চেষ্টা করে এবং ধরা পড়ে। গ্রামের মানুষ সুমিকে জোর করে বিয়ে দিতে চায়। 'বহিপীর' নাটকেও দেখা যায় যে, তাহেরা সৎমায়ের সংসারে থাকে। তার সৎমা এবং বাবা জোর করে তাকে বহিপীরের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এভাবে উদ্দীপকের সুমির সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার সাদশ্য বিদ্যমান।
ঘ
"প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র হিসেবে উদ্দীপকের রাহুল ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি অভিন্ন"- মূল্যায়ন করো।

উত্তর

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ায়, "প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র হিসেবে উদ্দীপকের রাহুল ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি অভিন্ন" মন্তব্যটি যথার্থ। 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন প্রতিবাদী যুবক। সে যখন বুঝতে পেরেছে তাহেরাকে অন্যায়ভাবে বহিপীরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন সে প্রতিবাদ করেছে, তাহেরাকে রক্ষা করেছে। সে মানবিক এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়ায় কখনই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, রাহুল অত্যন্ত প্রতিবাদী চরিত্র। সুমির বাবা দিনমজুর, যৌতুকের কারণে মেয়ের বিয়ে দিতে পারে না। ফলে গ্রামের মোড়লের সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু সুমি বৃদ্ধ মোড়লকে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হয় না। সে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়ে। গ্রামের সবাই মিলে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে রাহুল। অবশেষে সে নিজেই সুমিকে যৌতুক ছাড়া বিয়ে করে। 'বহিপীর' নাটকের হাশেমও অনুরূপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। বহিপীর তাহেরাকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও তাহেরা তা মেনে নেয় না। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে যাওয়ার চেয়ে পানিতে ডুবে মরবে বলে প্রতিবাদ করে। তবু পির তাকে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা চালায়। এমতাবস্থায় জমিদারপুত্র হাশেম তাহেরাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে। 'বহিপীর' নাটকের হাশেম জমিদারের ছেলে। তাহেরা বিপদাপন্ন মেয়ে। পির তাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করলে সে বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে না গিয়ে আত্মহত্যা করতে চায়। এছাড়াও যেখানে তাহেরার মত নেই, সেখানে পীরের সঙ্গে তাহেরাকে নিয়ে যেতে দেওয়াও ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে হাশেম তাহেরাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাই বলা যায় যে, প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র হিসেবে উদ্দীপকের রাহুল ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি অভিন্ন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর মঞ্জুর সাহেব তার ভগিনী মাজেদার দায়িত্ব নেয়। মাজেদাকে সে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। দ্বিতীয়বার ভগিনীকে বিয়ে দিতে অনেক টাকা প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে মাজেদাকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করে এবং বিয়ে ভেঙে দেয়।
ক
'সূর্যাস্ত আইন' কত সালে প্রণীত হয়?

উত্তর

১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়।
খ
জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই কেন?

উত্তর

জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠেছে বলে জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই। হাতেম আলি জমিদার। খাজনা বাকি পড়ায় তার জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা না দিতে পারলে জমিদারি অন্যের কাছে হস্তান্তর করত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। হাতেম আলি সারা জীবন জমিদার ছিলেন। শেষ বয়সে এসে জমিদারি হারাতে হবে এটা তিনি মানতে পারেননি। আবার জমিদারি বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তাও তিনি জোগাড় করতে পারছেন না। এসব কারণেই হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।
গ
উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের সাথে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের বৈসাদশা তুলে ধরো।

উত্তর

'বহিপীর' নাটকে হাতেম আলি একজন আদর্শ মানুষ। কারণ তিনি টাকার জন্য তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি- এই বিষয়টি উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। 'বহিপীর' নাটকে জমিদার হাতেম আলি একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ। তিনি নিজের স্বার্থ ভুলে তাহেরার কল্যাণের কথা চিন্তা করেছেন। তাই বহিপীরের কথায় রাজি না হয়ে তাহেরার ভালো চেয়েছেন। উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেব একজন স্বার্থবাদী মানুষ। তাই টাকা বাঁচানোর জন্য সে তার বোনকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। মঞ্জুর সাহেবের বিপরীত চরিত্র হলো 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি। কারণ তিনি জমিদারি রক্ষা করার ক্ষেত্রে পিরের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার শর্তেও বহিপীরের হাতে তাহেরাকে তুলে দিতে রাজি হননি। সুতরাং দেখা যায় যে, উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলির চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
মাতৃসুলভ সহানুভূতি থাকলেও উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী চরিত্রটি পুরোপুরি 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রের মত নয়- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী কুসংস্কারাচ্ছন্ন না হওয়ায় মাতৃসুলভ সহানুভূতি থাকলেও উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী চরিত্রটি পুরোপুরি 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রের মতো নয় মন্তব্যটি যথার্থ। 'বহিপীর' নাটকে লেখক খোদেজা চরিত্রের পিরভক্তি ও কুসংস্কার তুলে ধরেছেন। কুসংস্কার মানুষের জন্য অভিশাপ। কারণ মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে অনেক সময় সত্যকে বাদ দিয়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করে। ফলে অনেক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনো বিপদও হয়। আর যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে, বোধের স্ফুরণ আছে তারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না। উদ্দীপকে মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর চরিত্রে মাতৃসুলভ আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। মাজেদাকে তার ভাই মঞ্জুর সাহেব বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু বিয়েতে টাকা খরচ হবে, এটা ভেবে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে জোর প্রতিবাদ করে তার স্ত্রী। সে বুঝতে পারে যে সতিনের সংসার কুরুক্ষেত্রের মতো, মাজেদা সেখানে শান্তি পাবে না। 'বহিপীর' নাটকে খোদেজা চরিত্রের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ খুঁজে পাই। তাহেরা বিপদে পড়ায় খোদেজা তাহেরাকে বজরায় তুলে নেন। যত্ন করেন, মাথার চুল আঁচড়ে দেন। মেয়ের মতো ব্যবহার করেন তাহেরার সঙ্গে। 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কারণ তাহেরাকে তিনি মাতৃস্নেহ দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠিকই; কিন্তু যখন বুঝলেন যে, তাহেরা পীরের অবাধ্য স্ত্রী, তখনই তার মাতৃস্নেহ ম্লান হয়ে যায়। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার দাম্পত্য জীবন কেমন বেমানান আর অন্যায় হবে, সেটা বিবেচনা না করেই তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে চান। এ অন্যায়কে হাশেম রোধ করতে গেলে খোদেজা পীরের অভিশাপের ভয় দেখান। পীরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমিদারি রক্ষা করতে চান। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর মঞ্জুর সাহেব তার ভগিনী মাজেদার দায়িত্ব নেয়। মাজেদাকে সে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। দ্বিতীয়বার ভগিনীকে বিয়ে দিতে অনেক টাকা প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে মাজেদাকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করে এবং বিয়ে ভেঙে দেয়।
ক
'সূর্যাস্ত আইন' কত সালে প্রণীত হয়?

উত্তর

১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়।
খ
জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই কেন?

উত্তর

জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠেছে বলে জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই। হাতেম আলি জমিদার। খাজনা বাকি পড়ায় তার জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা না দিতে পারলে জমিদারি অন্যের কাছে হস্তান্তর করত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। হাতেম আলি সারা জীবন জমিদার ছিলেন। শেষ বয়সে এসে জমিদারি হারাতে হবে এটা তিনি মানতে পারেননি। আবার জমিদারি বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তাও তিনি জোগাড় করতে পারছেন না। এসব কারণেই হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।
গ
উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের সাথে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের বৈসাদশা তুলে ধরো।

উত্তর

'বহিপীর' নাটকে হাতেম আলি একজন আদর্শ মানুষ। কারণ তিনি টাকার জন্য তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি- এই বিষয়টি উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। 'বহিপীর' নাটকে জমিদার হাতেম আলি একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ। তিনি নিজের স্বার্থ ভুলে তাহেরার কল্যাণের কথা চিন্তা করেছেন। তাই বহিপীরের কথায় রাজি না হয়ে তাহেরার ভালো চেয়েছেন। উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেব একজন স্বার্থবাদী মানুষ। তাই টাকা বাঁচানোর জন্য সে তার বোনকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। মঞ্জুর সাহেবের বিপরীত চরিত্র হলো 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি। কারণ তিনি জমিদারি রক্ষা করার ক্ষেত্রে পিরের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার শর্তেও বহিপীরের হাতে তাহেরাকে তুলে দিতে রাজি হননি। সুতরাং দেখা যায় যে, উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলির চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
মাতৃসুলভ সহানুভূতি থাকলেও উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী চরিত্রটি পুরোপুরি 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রের মত নয়- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী কুসংস্কারাচ্ছন্ন না হওয়ায় মাতৃসুলভ সহানুভূতি থাকলেও উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী চরিত্রটি পুরোপুরি 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রের মতো নয় মন্তব্যটি যথার্থ। 'বহিপীর' নাটকে লেখক খোদেজা চরিত্রের পিরভক্তি ও কুসংস্কার তুলে ধরেছেন। কুসংস্কার মানুষের জন্য অভিশাপ। কারণ মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে অনেক সময় সত্যকে বাদ দিয়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করে। ফলে অনেক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনো বিপদও হয়। আর যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে, বোধের স্ফুরণ আছে তারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না। উদ্দীপকে মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর চরিত্রে মাতৃসুলভ আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। মাজেদাকে তার ভাই মঞ্জুর সাহেব বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু বিয়েতে টাকা খরচ হবে, এটা ভেবে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে জোর প্রতিবাদ করে তার স্ত্রী। সে বুঝতে পারে যে সতিনের সংসার কুরুক্ষেত্রের মতো, মাজেদা সেখানে শান্তি পাবে না। 'বহিপীর' নাটকে খোদেজা চরিত্রের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ খুঁজে পাই। তাহেরা বিপদে পড়ায় খোদেজা তাহেরাকে বজরায় তুলে নেন। যত্ন করেন, মাথার চুল আঁচড়ে দেন। মেয়ের মতো ব্যবহার করেন তাহেরার সঙ্গে। 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কারণ তাহেরাকে তিনি মাতৃস্নেহ দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠিকই; কিন্তু যখন বুঝলেন যে, তাহেরা পীরের অবাধ্য স্ত্রী, তখনই তার মাতৃস্নেহ ম্লান হয়ে যায়। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার দাম্পত্য জীবন কেমন বেমানান আর অন্যায় হবে, সেটা বিবেচনা না করেই তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে চান। এ অন্যায়কে হাশেম রোধ করতে গেলে খোদেজা পীরের অভিশাপের ভয় দেখান। পীরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমিদারি রক্ষা করতে চান। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

আজাদের বাবা নামকরা পির ছিলেন। কিন্তু আজাদ লেখাপড়া শিখেছেন। শহরে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন পর গ্রামে বেড়াতে আসেন। গ্রামের মুরব্বি তার কাছে এসে তাকে সালাম করতে যায়। আজাদ সাহেব নিজেই তাকে সালাম করেন, কিন্তু মুরব্বি এ ঘটনায় নিজেকে পাপী মনে করেন। আরেকজন তার কাছে পানি পড়া নিতে আসে। তাকে আজাদ সাহেব বোঝানোর চেষ্টা করেন।
ক
'বহিপীর' নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?

উত্তর

'বহিপীর' নাটকের প্রথম সংলাপটি হাশেমের।
খ
"বিয়ে হলো তকদিরের কথা"- এ কথাটি বুঝিয়ে বলো।

উত্তর

বিয়ে হলো তকদিরের কথা- এ কথাটি জমিদারপত্নী খোদেজা বলেছেন তাহেরাকে উদ্দেশ করে। এখানে বিষয়কে বোঝানো হয়েছে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মানুষ সুখী হতে চায়। কিন্তু বিয়ে করলেই যে কেউ সুখী হবে, তার নিশ্চয়তা নেই, কেউ তা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে দুর্বলচিত্ত মানুষ কর্মশক্তির তুলনায় ভাগ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তারা মনে করে, ভাগ্য ভালো হলে সুখ আসবে, আর ভাগ্য খারাপ হলে তা আসবে না। এ কারণেই বলা হয়েছে- বিয়ে হলো তকদিরের কথা।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রামের মানুষগুলোর কার্যক্রমে 'বহিপীর' নাটকে প্রতিফলিত সমাজের কোন চিত্রকে ইঙ্গিত করে তা তুলে ধরো।

উত্তর

'বহিপীর' নাটকে পীরের প্রতি অন্ধভক্ত মানুষ দেখা যায় এবং সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায়। 'বহিপীর' নাটকে পিরপ্রথার বাস্তব দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে 'পীর' মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। কারণ সমাজের মানুষের মতে পীর খোদার প্রিয় বান্দা। পীর অনেক ক্ষমতা রাখেন, ক্ষমতার কারণেই খোদার সঙ্গে তার সম্পর্ক সাবলীল এবং মানুষ ঐ পীরের ক্ষমতার মাধ্যমে খোদার অনুগ্রহ পেতে চায়। উদ্দীপকে আজাদের বাবা একজন নামকরা পীর ছিলেন। আজাদের বাবার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির কারণে মানুষ চায় আজাদও তার পিতার মতো কাজ করুক। তারা আজাদকে পীরের সন্তান হওয়ায় পীর মনে করতে থাকে। 'বহিপীর' নাটকেও এ সমাজব্যবস্থার অনুরূপ চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বহিপীরকে সাধারণ মানুষ হিসেবে গণ্য করে না, তাদের কাছে তিনি অতিমানব। এ কারণেই সারা বছর তাকে মানুষের আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়। এমনকি বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী কন্যাকে বিয়ে দিতেও কেউ দোষের মনে করে না। এভাবে পীরের প্রতি যে অন্ধভক্তি তা উদ্দীপক এবং 'বহিপীর' নাটক উভয় সমাজব্যবস্থাতেই সমান বলে মনে হয়।
ঘ
উদ্দীপকের আজাদ চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী নয়- মন্তব্যটি বিচার করো।

উত্তর

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিকটি উদ্দীপকের আজাদের মধ্যে না থাকায়, উদ্দীপকের আজাদ চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী নয় মন্তব্যটি যথার্থ। 'বহিপীর' নাটকে নাট্যকার বহিপীর চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের ধর্মব্যবসায়ীদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন। ধর্ম মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বিষয় হিসেবে বিবেচিত। কারণ ধর্মের মাধ্যমে মানুষ আত্মিক শান্তি লাভ করে। ফলে যারা ধর্মসংশ্লিষ্ট মানুষ তাদের প্রতিও একধরনের দৃঢ়বিশ্বাস থাকে। তবে বহিপীরের মতো কিছু অসাধু মানুষ আছে, যারা এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করে। উদ্দীপকে আজাদের বাবা নামকরা পীর ছিলেন। কিন্তু আজাদ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। শহরে চাকরি করেন। অনেকদিন পর গ্রামে গিয়ে দেখলেন যে, মানুষ তাকে অত্যন্ত ভক্তি করছে। মানুষ পানিপড়া নিতে আসছে। আজাদ তাদের সালাম করলে তারা পাপ মনে করছে। আজাদ এ বিষয়টি প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। অন্যদিকে 'বহিপীর' নাটকেও দেখা যায়, বহিপীরের প্রতি মানুষ অনেক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ফলে সারা বছরই তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। তিনি মুখ ফুটে বললেই মানুষ অনেক টাকা বের করে দিতে প্রস্তুত। এমনকি ভক্তির কারণে বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতেও আপত্তি করে না। 'বহিপীর' নাটকে বহিপীরকে অত্যন্ত সুযোগসন্ধানী চরিত্রের মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়, যার বৈষয়িক জ্ঞান অত্যন্ত জোরালো। মানুষের - অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই বহিপীর তাহেরাকে বিয়ে করেছেন। উদ্দীপকের আজাদের প্রতিও মানুষের অন্ধভক্তি আছে। ইচ্ছা করলেই আজাদ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ধর্মব্যবসায়ী নন, তাই তিনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

আজাদের বাবা নামকরা পির ছিলেন। কিন্তু আজাদ লেখাপড়া শিখেছেন। শহরে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন পর গ্রামে বেড়াতে আসেন। গ্রামের মুরব্বি তার কাছে এসে তাকে সালাম করতে যায়। আজাদ সাহেব নিজেই তাকে সালাম করেন, কিন্তু মুরব্বি এ ঘটনায় নিজেকে পাপী মনে করেন। আরেকজন তার কাছে পানি পড়া নিতে আসে। তাকে আজাদ সাহেব বোঝানোর চেষ্টা করেন।
ক
'বহিপীর' নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?

উত্তর

'বহিপীর' নাটকের প্রথম সংলাপটি হাশেমের।
খ
"বিয়ে হলো তকদিরের কথা"- এ কথাটি বুঝিয়ে বলো।

উত্তর

বিয়ে হলো তকদিরের কথা- এ কথাটি জমিদারপত্নী খোদেজা বলেছেন তাহেরাকে উদ্দেশ করে। এখানে বিষয়কে বোঝানো হয়েছে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মানুষ সুখী হতে চায়। কিন্তু বিয়ে করলেই যে কেউ সুখী হবে, তার নিশ্চয়তা নেই, কেউ তা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে দুর্বলচিত্ত মানুষ কর্মশক্তির তুলনায় ভাগ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তারা মনে করে, ভাগ্য ভালো হলে সুখ আসবে, আর ভাগ্য খারাপ হলে তা আসবে না। এ কারণেই বলা হয়েছে- বিয়ে হলো তকদিরের কথা।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রামের মানুষগুলোর কার্যক্রমে 'বহিপীর' নাটকে প্রতিফলিত সমাজের কোন চিত্রকে ইঙ্গিত করে তা তুলে ধরো।

উত্তর

'বহিপীর' নাটকে পীরের প্রতি অন্ধভক্ত মানুষ দেখা যায় এবং সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায়। 'বহিপীর' নাটকে পিরপ্রথার বাস্তব দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে 'পীর' মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। কারণ সমাজের মানুষের মতে পীর খোদার প্রিয় বান্দা। পীর অনেক ক্ষমতা রাখেন, ক্ষমতার কারণেই খোদার সঙ্গে তার সম্পর্ক সাবলীল এবং মানুষ ঐ পীরের ক্ষমতার মাধ্যমে খোদার অনুগ্রহ পেতে চায়। উদ্দীপকে আজাদের বাবা একজন নামকরা পীর ছিলেন। আজাদের বাবার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির কারণে মানুষ চায় আজাদও তার পিতার মতো কাজ করুক। তারা আজাদকে পীরের সন্তান হওয়ায় পীর মনে করতে থাকে। 'বহিপীর' নাটকেও এ সমাজব্যবস্থার অনুরূপ চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বহিপীরকে সাধারণ মানুষ হিসেবে গণ্য করে না, তাদের কাছে তিনি অতিমানব। এ কারণেই সারা বছর তাকে মানুষের আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়। এমনকি বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী কন্যাকে বিয়ে দিতেও কেউ দোষের মনে করে না। এভাবে পীরের প্রতি যে অন্ধভক্তি তা উদ্দীপক এবং 'বহিপীর' নাটক উভয় সমাজব্যবস্থাতেই সমান বলে মনে হয়।
ঘ
উদ্দীপকের আজাদ চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী নয়- মন্তব্যটি বিচার করো।

উত্তর

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিকটি উদ্দীপকের আজাদের মধ্যে না থাকায়, উদ্দীপকের আজাদ চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী নয় মন্তব্যটি যথার্থ। 'বহিপীর' নাটকে নাট্যকার বহিপীর চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের ধর্মব্যবসায়ীদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন। ধর্ম মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বিষয় হিসেবে বিবেচিত। কারণ ধর্মের মাধ্যমে মানুষ আত্মিক শান্তি লাভ করে। ফলে যারা ধর্মসংশ্লিষ্ট মানুষ তাদের প্রতিও একধরনের দৃঢ়বিশ্বাস থাকে। তবে বহিপীরের মতো কিছু অসাধু মানুষ আছে, যারা এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করে। উদ্দীপকে আজাদের বাবা নামকরা পীর ছিলেন। কিন্তু আজাদ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। শহরে চাকরি করেন। অনেকদিন পর গ্রামে গিয়ে দেখলেন যে, মানুষ তাকে অত্যন্ত ভক্তি করছে। মানুষ পানিপড়া নিতে আসছে। আজাদ তাদের সালাম করলে তারা পাপ মনে করছে। আজাদ এ বিষয়টি প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। অন্যদিকে 'বহিপীর' নাটকেও দেখা যায়, বহিপীরের প্রতি মানুষ অনেক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ফলে সারা বছরই তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। তিনি মুখ ফুটে বললেই মানুষ অনেক টাকা বের করে দিতে প্রস্তুত। এমনকি ভক্তির কারণে বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতেও আপত্তি করে না। 'বহিপীর' নাটকে বহিপীরকে অত্যন্ত সুযোগসন্ধানী চরিত্রের মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়, যার বৈষয়িক জ্ঞান অত্যন্ত জোরালো। মানুষের - অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই বহিপীর তাহেরাকে বিয়ে করেছেন। উদ্দীপকের আজাদের প্রতিও মানুষের অন্ধভক্তি আছে। ইচ্ছা করলেই আজাদ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ধর্মব্যবসায়ী নন, তাই তিনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো