মানুষ মুহম্মদ (স.) বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর মানুষ মুহম্মদ (স.) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৪৪

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

বৃদ্ধ রজব আলির বাড়ির চাকর শহিদুল। একদিন মনিবের টাকা চুরি করে সে ছেলেকে বিদেশে পাঠায়। রজব আলির মৃত্যুশয্যায় শহিদুল অনুতপ্ত হয়ে তাঁর নিকট সব কথা খুলে বললে রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছ, এতেই আমি খুশি।

Comilla · 2017

ক
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনাটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনাটি 'মরু ভাস্কর' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ
'মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে উল্লিখিত মাহনবি (স.)-এর কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্দে উল্লিখিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল গুণটি ফুটে উঠেছে। মানুষের যত মানবিক গুণাবলি রয়েছে তার মধ্যে ক্ষমা অন্যতম। মহৎ ও উদার ব্যক্তিরা ক্ষমাশীল হন। তাঁরা অন্যের দোষগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। এ কারণে তাঁরা সকলের কাছে সম্মানিত হন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে গিয়ে হযরত মুহম্মদ (স.) অজস্র নির্যাতন সহ্য করেন। কিন্তু তিনি কখনো কাউকে আঘাত করেননি, কাউকে অভিশাপ দেননি। তাদের ক্ষমা করে ভাই বলে বুকে টেনে নিয়েছেন। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই রজব আলি চরিত্রে এই ক্ষমাশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। রজব আলির চাকর শহিদুল তাঁর কাছে টাকা চুরির অপরাধ স্বীকার করলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে নেন। তাই আমরা বলতে পারি যে. উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্দে উল্লিখিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল গুণটি ফুটে উঠেছে।
ঘ
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা গুণটির বাইরে মহানবি (স.)-এর আরও গুণের সমাবেশ পঠিত প্রবন্ধে রয়েছে। বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ফুটে ওঠা গুণটির বাইরে মহানবি (স.)-এর আরও গুণের সমাবেশ পঠিত প্রবন্ধে রয়েছে। বক্তব্যটি যথার্থ। এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে স্বার্থপর, অহংকারী মানুষ তেমনি রয়েছে মহৎ, বিনয়ী, নম্র ও নিরহংকারী মানুষ। তাঁদের জন্য পৃথিবী, সমাজ ও সংসার হয় সুন্দর। উদ্দীপকে চুরির কথা স্বীকার করায় চাকর শহিদুলকে রজব আলি ক্ষমা করে দিয়ে ক্ষমার মহত্ত্ব স্থাপন করেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও আমরা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর অসাধারণ ক্ষমাশীলতার কথা জানতে পারি। কিন্তু এই একটিমাত্র গুণের কথা ছাড়াও আলোচা প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও মহৎ গুণাবলি যেমন- মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা, দয়া, পরোপকারিতা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে রজব আলি শহিদুলকে ক্ষমা করে ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা মহানবি (স.)-এর একটি গুণের প্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে আলোচ্য প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও অনেক গুণের সমাবেশ ঘটেছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

বৃদ্ধ রজব আলির বাড়ির চাকর শহিদুল। একদিন মনিবের টাকা চুরি করে সে ছেলেকে বিদেশে পাঠায়। রজব আলির মৃত্যুশয্যায় শহিদুল অনুতপ্ত হয়ে তাঁর নিকট সব কথা খুলে বললে রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছ, এতেই আমি খুশি।

Comilla · 2017

ক
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনাটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনাটি 'মরু ভাস্কর' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ
'মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে উল্লিখিত মাহনবি (স.)-এর কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্দে উল্লিখিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল গুণটি ফুটে উঠেছে। মানুষের যত মানবিক গুণাবলি রয়েছে তার মধ্যে ক্ষমা অন্যতম। মহৎ ও উদার ব্যক্তিরা ক্ষমাশীল হন। তাঁরা অন্যের দোষগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। এ কারণে তাঁরা সকলের কাছে সম্মানিত হন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে গিয়ে হযরত মুহম্মদ (স.) অজস্র নির্যাতন সহ্য করেন। কিন্তু তিনি কখনো কাউকে আঘাত করেননি, কাউকে অভিশাপ দেননি। তাদের ক্ষমা করে ভাই বলে বুকে টেনে নিয়েছেন। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই রজব আলি চরিত্রে এই ক্ষমাশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। রজব আলির চাকর শহিদুল তাঁর কাছে টাকা চুরির অপরাধ স্বীকার করলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে নেন। তাই আমরা বলতে পারি যে. উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্দে উল্লিখিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল গুণটি ফুটে উঠেছে।
ঘ
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা গুণটির বাইরে মহানবি (স.)-এর আরও গুণের সমাবেশ পঠিত প্রবন্ধে রয়েছে। বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ফুটে ওঠা গুণটির বাইরে মহানবি (স.)-এর আরও গুণের সমাবেশ পঠিত প্রবন্ধে রয়েছে। বক্তব্যটি যথার্থ। এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে স্বার্থপর, অহংকারী মানুষ তেমনি রয়েছে মহৎ, বিনয়ী, নম্র ও নিরহংকারী মানুষ। তাঁদের জন্য পৃথিবী, সমাজ ও সংসার হয় সুন্দর। উদ্দীপকে চুরির কথা স্বীকার করায় চাকর শহিদুলকে রজব আলি ক্ষমা করে দিয়ে ক্ষমার মহত্ত্ব স্থাপন করেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও আমরা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর অসাধারণ ক্ষমাশীলতার কথা জানতে পারি। কিন্তু এই একটিমাত্র গুণের কথা ছাড়াও আলোচা প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও মহৎ গুণাবলি যেমন- মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা, দয়া, পরোপকারিতা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে রজব আলি শহিদুলকে ক্ষমা করে ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা মহানবি (স.)-এর একটি গুণের প্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে আলোচ্য প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও অনেক গুণের সমাবেশ ঘটেছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

শত্রুর প্রলোভনে পড়ে ইমাম হাসান (রঃ)-কে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী জায়েদা বিষ প্রয়োগ করেন। মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান (রঃ) বিষয়টি জানতে পেরেও তা গোপন রাখেন। তাঁর অনুজ বিষদাতার নাম জানতে চাইলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভবিষ্যতে জানতে পারলেও তাকে ক্ষমা করতে বলেন।

Combined · 2018

ক
ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন?

উত্তর

ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী 'অসহযোগ আন্দোলনে' যোগ দিয়েছিলেন।
খ
'মানুষের একজন হইয়াও মুহম্মদ (স.) দুর্লভ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রঃ)-এর চরিত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর যে মহৎ গুণের প্রভাব পড়েছে তা 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মহৎ গুণের প্রভাব পড়েছে। ক্ষমা মহৎ গুণ। মানব চরিত্রে এ গুণের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। সত্য ও ন্যায়ের পথে যাঁরা চলেন তাঁদের মধ্যে যেসব মানবীয় গুণের পরিচয় পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে ক্ষমা অন্যতম। মহাপ্রাণ ব্যক্তিরা সীমাহীন নির্যাতন ভোগ করেও মানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। অন্যায়কারীকে সংশোধনের জন্য ক্ষমার আদর্শ স্থাপন করেছেন। উদ্দীপকে অন্যের প্ররোচনায় বিষপান করিয়ে জায়েদার স্বামীকে হত্যা করা এবং মৃত্যুর পূর্বে স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয় বর্ণিত হয়েছে। স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মতো মহৎ গুণের প্রভাব লক্ষ করা যায়। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায় মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। কিন্তু কখনো তাদের ওপর অভিসম্পাত করেননি। তিনি তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে জ্ঞান প্রার্থনা করেছেন। নিজে ক্ষমা করে দিয়ে আল্লাহকেও ক্ষমা করে দিতে বলেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর মধ্যে মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মতো মানবীয় গুণের প্রভাব পড়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকের প্রতিফলিত গুণটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর পরিপূর্ণ গুণের অংশবিশেষ।”- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকের প্রতিফলিত গুণটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর পরিপূর্ণ গুণের অংশবিশেষ।"- মন্তব্যটি যথার্থ। জগতে যাঁরা মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন, তাঁরা একদিকে সত্যের সাধক অন্যদিকে উদার ও ক্ষমাশীল হয়ে থাকেন। তাঁরা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান করেন। জগতের সমস্ত মন্দ কাজ থেকে, অকল্যাণ ও অশুভ থেকে মানুষকে বিরত করেন। তাঁরা ক্ষমা, মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া ইত্যাদি মানবীয় গুণের অধিকারী হন। উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর মধ্যে ক্ষমাশীলতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর বিষদানকারী স্ত্রী জায়েদাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই দিকটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিকটি ছাড়া 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি (স.)-এর অন্যান্য গুণ এখানে তেমনভাবে প্রকাশ পায়নি। ক্ষমা মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির মধ্যে অন্যতম। ক্ষমাশীলতা ছাড়াও তিনি সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, পরোপকারী, আর্তের সেবাদানকারী, অন্যের আমানত রক্ষাকারী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর এসব মহৎ গুণের পরিচয় উদ্দীপকে নেই। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকে তিনি মানবীয় গুণাবলি দ্বারা দুর্লভ হয়েছিলেন। তাঁর মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা ও দয়ার দিকটিও উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির যে প্রকাশ ঘটোৎ, তা উদ্দীপকে ঘটেনি। সেখানে 'ক্ষমাশীলতার' দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মহানবি (স.)-এর অন্যান্য মানবীয় গুণ সেখানে অনুপস্থিত বলে আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

শত্রুর প্রলোভনে পড়ে ইমাম হাসান (রঃ)-কে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী জায়েদা বিষ প্রয়োগ করেন। মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান (রঃ) বিষয়টি জানতে পেরেও তা গোপন রাখেন। তাঁর অনুজ বিষদাতার নাম জানতে চাইলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভবিষ্যতে জানতে পারলেও তাকে ক্ষমা করতে বলেন।

Combined · 2018

ক
ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন?

উত্তর

ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী 'অসহযোগ আন্দোলনে' যোগ দিয়েছিলেন।
খ
'মানুষের একজন হইয়াও মুহম্মদ (স.) দুর্লভ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রঃ)-এর চরিত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর যে মহৎ গুণের প্রভাব পড়েছে তা 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মহৎ গুণের প্রভাব পড়েছে। ক্ষমা মহৎ গুণ। মানব চরিত্রে এ গুণের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। সত্য ও ন্যায়ের পথে যাঁরা চলেন তাঁদের মধ্যে যেসব মানবীয় গুণের পরিচয় পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে ক্ষমা অন্যতম। মহাপ্রাণ ব্যক্তিরা সীমাহীন নির্যাতন ভোগ করেও মানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। অন্যায়কারীকে সংশোধনের জন্য ক্ষমার আদর্শ স্থাপন করেছেন। উদ্দীপকে অন্যের প্ররোচনায় বিষপান করিয়ে জায়েদার স্বামীকে হত্যা করা এবং মৃত্যুর পূর্বে স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয় বর্ণিত হয়েছে। স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মতো মহৎ গুণের প্রভাব লক্ষ করা যায়। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায় মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। কিন্তু কখনো তাদের ওপর অভিসম্পাত করেননি। তিনি তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে জ্ঞান প্রার্থনা করেছেন। নিজে ক্ষমা করে দিয়ে আল্লাহকেও ক্ষমা করে দিতে বলেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর মধ্যে মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মতো মানবীয় গুণের প্রভাব পড়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকের প্রতিফলিত গুণটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর পরিপূর্ণ গুণের অংশবিশেষ।”- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকের প্রতিফলিত গুণটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর পরিপূর্ণ গুণের অংশবিশেষ।"- মন্তব্যটি যথার্থ। জগতে যাঁরা মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন, তাঁরা একদিকে সত্যের সাধক অন্যদিকে উদার ও ক্ষমাশীল হয়ে থাকেন। তাঁরা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান করেন। জগতের সমস্ত মন্দ কাজ থেকে, অকল্যাণ ও অশুভ থেকে মানুষকে বিরত করেন। তাঁরা ক্ষমা, মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া ইত্যাদি মানবীয় গুণের অধিকারী হন। উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর মধ্যে ক্ষমাশীলতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর বিষদানকারী স্ত্রী জায়েদাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই দিকটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিকটি ছাড়া 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি (স.)-এর অন্যান্য গুণ এখানে তেমনভাবে প্রকাশ পায়নি। ক্ষমা মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির মধ্যে অন্যতম। ক্ষমাশীলতা ছাড়াও তিনি সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, পরোপকারী, আর্তের সেবাদানকারী, অন্যের আমানত রক্ষাকারী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর এসব মহৎ গুণের পরিচয় উদ্দীপকে নেই। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকে তিনি মানবীয় গুণাবলি দ্বারা দুর্লভ হয়েছিলেন। তাঁর মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা ও দয়ার দিকটিও উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির যে প্রকাশ ঘটোৎ, তা উদ্দীপকে ঘটেনি। সেখানে 'ক্ষমাশীলতার' দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মহানবি (স.)-এর অন্যান্য মানবীয় গুণ সেখানে অনুপস্থিত বলে আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি সাইমুম ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক' নুয়ে, ঊর্ধ্বের যারা- পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে। শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।

Sylhet · 2020

ক
'পুলকদীপ্তি' অর্থ কী?

উত্তর

'পুলকদীপ্তি' অর্থ আনন্দের উদ্ভাস।
খ
মানুষের একজন হইয়াও হযরত মুহম্মদ (স) দুর্লভ কেন?

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
'মানুষ মুহম্মদ (স)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিক দিয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে। মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবন পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য আদর্শ। উন্নত চরিত্র ও মানবীয় গুণাবলির জন্য তিনি সবার কাছে প্রিয়। তাঁর মতো মহৎ গুণসম্পন্ন মানুষ পৃথিবীতে বিরল। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায় হযরত মুহম্মদ (স.) নিজেকে সব সময় একজন সাধারণ মানুষ মনে করতেন। তিনি ইচ্ছে করলেই অনেক। প্রাচুর্য ও ভোগবিলাসের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে পারতেন। অথচ তিনি তা করেননি। তিনি রাজা বা সম্রাট নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, তিনি খুব সাধারণ একজন মানুষ। তিনি স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট ধারণ করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এমনই আড়ম্বরহীন জীবনযাপনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে একজন মহান নেতা অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন ধুলার সিংহাসনে বসে। সাইমুম ঝড়ে যার ঘর বারবার ভেঙে গেছে। শত ঐশ্বর্য, বিলাস তাঁকে প্রলোভিত করলেও তাঁকে কিছুই ছুঁতে পারেনি। তাই বলা যায় যে, অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিক দিয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের চেয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স)' প্রবন্ধের ভাব অধিকতর গভীর ও ব্যাপক"- মন্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত? যুক্তিসহ লেখ।

উত্তর

"উদ্দীপকের চেয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের ভাব অধিকতর গভীর ও ব্যাপক।"- মন্তব্যটি যথার্থ। সততা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা মানুষের মানবীয় গুণ। এসব গুণ একজন মানুষকে মহান করে তোলে। মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা ব্যক্তিই সৃষ্টির সেরা জীব। উদ্দীপকে একজন নেতার অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শত ঐশ্বর্য আর বিলাসী জীবন ভোগ করার সুযোগ থাকার পরও তিনি একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। কোনো লোভ-লালসা তাকে ছুঁতে পারেনি। এই বিষয়টি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে। তিনিও আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে তাঁর মৃত্যু সংবাদে মদিনাবাসীর শোক, ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়া, শত্রুকে ক্ষমা করে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনযাপনের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। এ বিষয়টি ছাড়াও তাঁর জীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন মহৎ, ক্ষমাশীল, মানবিক, সহনশীল, সৎ ও উদার। তার এসব বৈশিষ্ট্য আলোচ্য প্রবন্ধে অধিকতর গভীর করে তুলেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি সাইমুম ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক' নুয়ে, ঊর্ধ্বের যারা- পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে। শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।

Sylhet · 2020

ক
'পুলকদীপ্তি' অর্থ কী?

উত্তর

'পুলকদীপ্তি' অর্থ আনন্দের উদ্ভাস।
খ
মানুষের একজন হইয়াও হযরত মুহম্মদ (স) দুর্লভ কেন?

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
'মানুষ মুহম্মদ (স)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিক দিয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে। মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবন পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য আদর্শ। উন্নত চরিত্র ও মানবীয় গুণাবলির জন্য তিনি সবার কাছে প্রিয়। তাঁর মতো মহৎ গুণসম্পন্ন মানুষ পৃথিবীতে বিরল। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায় হযরত মুহম্মদ (স.) নিজেকে সব সময় একজন সাধারণ মানুষ মনে করতেন। তিনি ইচ্ছে করলেই অনেক। প্রাচুর্য ও ভোগবিলাসের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে পারতেন। অথচ তিনি তা করেননি। তিনি রাজা বা সম্রাট নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, তিনি খুব সাধারণ একজন মানুষ। তিনি স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট ধারণ করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এমনই আড়ম্বরহীন জীবনযাপনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে একজন মহান নেতা অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন ধুলার সিংহাসনে বসে। সাইমুম ঝড়ে যার ঘর বারবার ভেঙে গেছে। শত ঐশ্বর্য, বিলাস তাঁকে প্রলোভিত করলেও তাঁকে কিছুই ছুঁতে পারেনি। তাই বলা যায় যে, অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিক দিয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের চেয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স)' প্রবন্ধের ভাব অধিকতর গভীর ও ব্যাপক"- মন্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত? যুক্তিসহ লেখ।

উত্তর

"উদ্দীপকের চেয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের ভাব অধিকতর গভীর ও ব্যাপক।"- মন্তব্যটি যথার্থ। সততা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা মানুষের মানবীয় গুণ। এসব গুণ একজন মানুষকে মহান করে তোলে। মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা ব্যক্তিই সৃষ্টির সেরা জীব। উদ্দীপকে একজন নেতার অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শত ঐশ্বর্য আর বিলাসী জীবন ভোগ করার সুযোগ থাকার পরও তিনি একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। কোনো লোভ-লালসা তাকে ছুঁতে পারেনি। এই বিষয়টি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে। তিনিও আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে তাঁর মৃত্যু সংবাদে মদিনাবাসীর শোক, ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়া, শত্রুকে ক্ষমা করে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনযাপনের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। এ বিষয়টি ছাড়াও তাঁর জীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন মহৎ, ক্ষমাশীল, মানবিক, সহনশীল, সৎ ও উদার। তার এসব বৈশিষ্ট্য আলোচ্য প্রবন্ধে অধিকতর গভীর করে তুলেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো