SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
ব্যবসায়ে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে আরিফ সাহেবের। এ কারণে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েছেন। সারাদিন শুধু চিন্তা করেন- যে ব্যবসায় তিনি তিল তিল করে বড় করেছেন, ভবিষ্যতের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য স্বপ্ন দেখেছেন তা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। বর্তমানের দারিদ্র্য তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। কেননা কিছুদিন আগেও তিনি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করতেন, আর আজ তিনি একেবারে নিঃস্ব। এই জীবনের প্রতি আরিফ সাহেব অত্যন্ত বিরক্ত। তিনি বুঝতে পারছেন না এই মুহূর্তে তার কী করা উচিত।
ক
'ডাকঘর' কার লেখা?
উত্তর
'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
খ
কবি 'চিরতরঙ্গিত' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর
কবি 'চিরতরঙ্গিত' বলতে মানবজীবনের গতিময়তা কে বুঝিয়েছেন।
'প্রাণ' কবিতায় দেখা যায়, কবি জগতের মায়া ত্যাগ করে অন্যকিছুর আহ্বানে প্রলুব্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে চান না। কেননা এই জগৎ সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। মানুষের হাসি-কান্না, মান-অভিমান, আবেগ-ভালোবাসায় পৃথিবী পরিপূর্ণ। সমগ্র পৃথিবী জীবনের স্পন্দনে মুখরিত। এই স্পন্দনই পৃথিবীকে গতিশীল করেছে। মানব হৃদয়ের রয়েছে বিচিত্র অনুভূতি। হাসি-কান্না, বিরহ-মিলন, সুখ-সুঃখ সবই পৃথিবীর প্রাণে তরঙ্গ সৃষ্টি করে। আর একেই কবি 'চিরতরঙ্গিত' বলেছেন।
গ
'প্রাণ' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
'প্রাণ' কবিতার সাথে উদ্দীপকের জীবনকে নিয়ে নেতিবাচক ভাবনার বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'প্রাণ' কবিতায় কবি জীবনের প্রতি ইতিবাচক ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানবহৃদয়ের ভালোবাসা ও সৃষ্টির আনন্দে জীবনকে পূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, মৃত্যুর ভয় করে নয়, বরং সৃষ্টির মধ্য দিয়েই মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকে।
উদ্দীপকে আরিফ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ে লোকসান হওয়ার কারণে তিনি ভেঙে পড়েছেন। তিনি জীবনের সত্য বুঝতে পারেননি বলেই তাঁর এই অবস্থা হয়েছে। ব্যবসায়ে লাভ হলে যেমন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করা যায় তেমনই লোকসান হলে নিঃস্ব হতে হয়। এটিই জীবনের পরম সত্য। এই সত্য আরিফ সাহেব মেনে নিতে না শিখলেও 'প্রাণ' কবিতার কবি তা জেনেছেন এবং মেনেছেন। কবি উপলব্ধি করেছেন যে, জীবনের মতো সবকিছুরই উত্থান-পতন আছে। এটিই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। এখানেই কবিতার সাথে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য।
ঘ
"প্রাণ' কবিতায় প্রকাশিত চেতনা উদ্দীপকের আরিফ সাহেব ধারণ করলে সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও জীবনকে উপভোগ করতে পারতেন।"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর
জীবনকে নিয়ে ইতিবাচক উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে বলা যায়, 'প্রাণ' কবিতায় প্রকাশিত চেতনা উদ্দীপকের আরিফ সাহেব ধারণ করলে সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও জীবনকে উপভোগ করতে পারতেন" মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রাণ' কবিতায় কবি মানবিকতার গানে নিজের জীবন মিশিয়ে দিতে চান। তিনি মনে করেন, মানুষই জীবনের আসল সম্পদ, আর মানবহৃদয়েই অমরত্বের আসন। তাই তিনি বিপদে ভেঙে না পড়ে, মৃত্যুকে না ভয় করে, মানব হৃদয়কে জয় করাকেই জীবনের লক্ষা করেছেন।
উদ্দীপকে আরিফ সাহেব ব্যবসায়ে লোকসান হওয়ার ফলে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তিনি জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করতে না পেরে জীবনের প্রতি অত্যন্ত বিরক্ত। কারণ তিনি মানবজীবনের একটি দিকের শিক্ষাই পেয়েছেন। সুখের পাশাপাশি যে দুঃখও চলে এ কথা তিনি মেনে নিতে পারছেন না বলেই কষ্ট বেশি পাচ্ছেন। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় এই পৃথিবী পরিপূর্ণ। 'প্রাণ' কবিতায় কবিকে যতদিন পাঠক তাদের হৃদয়ে স্থান দেবেন ততদিনই কবি থাকবেন। তাতেই তিনি সুখী। আবার যেদিন তাঁর সুর মানুষের হৃদয় কম্পিত করবে না সেদিনও বিষয়টাকে তিনি সহজভাবে মেনে নেবেন। আমি মনে করি আরিফ সাহেবেরও সবকিছু সহজভাবে মেনে নেওয়া উচিত।
'প্রাণ' কবিতায় কবি পৃথিবীতে মানুষকে সৎ ও শুভকর্মের মাধ্যমে অমর হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। কর্মময় জীবনে উত্থান-পতন এখানে স্বাভাবিক। এই চেতনাকে ধারণ করে উদ্দীপকের আরিফ সাহেবেরও উচিত বর্তমান বাস্তবতা মেনে নিয়ে যাতে ব্যবসায়ে সফলতা আসে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। তবেই তিনি জীবনকে উপভোগ করতে পারবেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো