SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
দশ বছরের মা মরা মেয়ে রাবেয়া গৃহকর্মীর কাজ করে নিজের এবং অসুস্থ বাবার অন্ন সংস্থান করে। চিকিৎসার অভাবে রাবেয়াকে ছেড়ে একদিন বাবা ইহধাম ত্যাগ করেন। দাফন কাফনের খরচ এবং কবরের জায়গা না থাকায় রাবেয়া গাঁয়ের মোড়লের সহযোগিতা চেয়ে খালি হাতে ফিরে আসে। অনন্যোপায় হয়ে বাবার মৃতদেহের পাশে বসে কাঁদতে থাকে। প্রতিবেশী মনসুর এ খবর পেয়ে রাবেয়ার পাশে দাঁড়ায় এবং যাবতীয় ব্যবস্থা করে।
[ রাজশাহী বোর্ড ২০১৫]
ক
গ্রামের শ্মশানটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
উত্তর
গ্রামের শ্মশানটি গরুড় নদীর তীরে অবস্থিত।
খ
"তোর হাতের আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো।"- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
"তোর হাতে আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো।" উক্তিটিতে অভাগীর সংস্কার ও বিশ্বাসের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অভাগী সংস্কারে বিশ্বাসী মানুষ। ঠাকুরদাস মুখুয্যের বর্ষীয়সী স্ত্রীকে শ্মশানে পুড়তে দেখে অভাগী। যেখানে মুখুয্যের স্ত্রী ছেলের হাতে আগুন পায়। হিন্দুধর্মের সংস্কার অনুসারে অভাগীর বিশ্বাস মুখুয্যের স্ত্রী স্বর্গে যাবে। তাই অভাগী মৃত্যুর পর ছেলের হাতে আগুন প্রত্যাশা করে, যেন সে নিজেও মুখুয্যের স্ত্রীর মতো স্বর্গে যেতে পারে।
গ
"উদ্দীপকে মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত।
সামন্ত সমাজে জমিদার ও প্রজার সম্পর্ক সুখকর ছিল না। জমিদাররা নানাভাবে প্রজাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাত। তখন ধর্ম-জাতি ও বর্ণের ব্যাপক বৈষম্য ছিল। তবে ব্যতিক্রমও ছিল।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের লোকজন দ্বারা নিম্নবর্ণের লোকদের নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হওয়ার চিত্রটি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে অনুরূপ সমাজচিত্রের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে সেখানে গাঁয়ের মোড়লের পাশাপাশি মনসুরদের মতো মানবদরদি মানুষও দেখা যায়, যারা বিপদগ্রস্ত অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে সক্ষম এবং মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে আগ্রহী ও সাহসী। যার ফলে উদ্দীপকের রাবেয়া আলোচ্য গল্পের কাঙালীর মতো অসহায় হয়ে পড়েনি। সে মনসুর নামক সহৃদয়বান ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছে। অন্যদিকে গল্পের গোমস্তা অধর রায়ের কাছ থেকে কাঙালী কোনো সাহায্য পায়নি। বরং অপমান, অবহেলা আর ভর্ৎসনা পেয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত।
ঘ
"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিষয়টি ছাড়াও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা রয়েছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিষয়টি ছাড়াও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা রয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সহায়-সম্বলহীন নিম্নশ্রেণির মানুষদের জগতে জন্ম নেওয়াটাই যেন বড় অপরাধ। তারা সমাজ, রাষ্ট্র সবখানেই অবহেলিত, বঞ্চিত। আর বিত্তবান উঁচু শ্রেণির লোকেরা সবকিছুতেই প্রতিষ্ঠিত ও সমৃদ্ধ।
উদ্দীপকে এক গৃহকর্মীর প্রতি অবহেলা ও সহানুভূতি উভয় দিকই ফুটে উঠেছে। সেখানে বাবার চিকিৎসার জন্য গৃহকর্মী রাবেয়া মোড়লের কাছে সাহায্য চেয়ে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে ঐ গ্রামের সহৃদয়বান ব্যক্তি মনসুর অসহায় রাবেয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়টি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের পুরো বিষয় নির্দেশ করে না। এখানে কেবল সামন্ত শ্রেণির প্রতিনিধি অধর রায়ের নির্মমতার সাথে উদ্দীপকের মোড়লের মিল রয়েছে।
সমাজে একশ্রেণির মানুষ কীভাবে ধনী থেকে আরও ধনী হচ্ছে, আর একশ্রেণির মানুষ কীভাবে গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে তার যে চিত্র আলোচ্য গল্পে পাওয়া যায় তা উদ্দীপকে নেই। ধর্মীয় আচার সংস্কারের ক্ষেত্রে নিম্নশ্রেণির উপর উচ্চশ্রেণির শাসন, শোষণ, নির্যাতনের যেসব বিষয় 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়- প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো