অভাগীর স্বর্গ বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর অভাগীর স্বর্গ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৯১

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দশ বছরের মা মরা মেয়ে রাবেয়া গৃহকর্মীর কাজ করে নিজের এবং অসুস্থ বাবার অন্ন সংস্থান করে। চিকিৎসার অভাবে রাবেয়াকে ছেড়ে একদিন বাবা ইহধাম ত্যাগ করেন। দাফন কাফনের খরচ এবং কবরের জায়গা না থাকায় রাবেয়া গাঁয়ের মোড়লের সহযোগিতা চেয়ে খালি হাতে ফিরে আসে। অনন্যোপায় হয়ে বাবার মৃতদেহের পাশে বসে কাঁদতে থাকে। প্রতিবেশী মনসুর এ খবর পেয়ে রাবেয়ার পাশে দাঁড়ায় এবং যাবতীয় ব্যবস্থা করে। [ রাজশাহী বোর্ড ২০১৫]
গ্রামের শ্মশানটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর

গ্রামের শ্মশানটি গরুড় নদীর তীরে অবস্থিত।
"তোর হাতের আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো।"- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

"তোর হাতে আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো।" উক্তিটিতে অভাগীর সংস্কার ও বিশ্বাসের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অভাগী সংস্কারে বিশ্বাসী মানুষ। ঠাকুরদাস মুখুয্যের বর্ষীয়সী স্ত্রীকে শ্মশানে পুড়তে দেখে অভাগী। যেখানে মুখুয্যের স্ত্রী ছেলের হাতে আগুন পায়। হিন্দুধর্মের সংস্কার অনুসারে অভাগীর বিশ্বাস মুখুয্যের স্ত্রী স্বর্গে যাবে। তাই অভাগী মৃত্যুর পর ছেলের হাতে আগুন প্রত্যাশা করে, যেন সে নিজেও মুখুয্যের স্ত্রীর মতো স্বর্গে যেতে পারে।
"উদ্দীপকে মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত। সামন্ত সমাজে জমিদার ও প্রজার সম্পর্ক সুখকর ছিল না। জমিদাররা নানাভাবে প্রজাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাত। তখন ধর্ম-জাতি ও বর্ণের ব্যাপক বৈষম্য ছিল। তবে ব্যতিক্রমও ছিল। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের লোকজন দ্বারা নিম্নবর্ণের লোকদের নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হওয়ার চিত্রটি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে অনুরূপ সমাজচিত্রের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে সেখানে গাঁয়ের মোড়লের পাশাপাশি মনসুরদের মতো মানবদরদি মানুষও দেখা যায়, যারা বিপদগ্রস্ত অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে সক্ষম এবং মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে আগ্রহী ও সাহসী। যার ফলে উদ্দীপকের রাবেয়া আলোচ্য গল্পের কাঙালীর মতো অসহায় হয়ে পড়েনি। সে মনসুর নামক সহৃদয়বান ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছে। অন্যদিকে গল্পের গোমস্তা অধর রায়ের কাছ থেকে কাঙালী কোনো সাহায্য পায়নি। বরং অপমান, অবহেলা আর ভর্ৎসনা পেয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত।
"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিষয়টি ছাড়াও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা রয়েছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিষয়টি ছাড়াও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা রয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ। সহায়-সম্বলহীন নিম্নশ্রেণির মানুষদের জগতে জন্ম নেওয়াটাই যেন বড় অপরাধ। তারা সমাজ, রাষ্ট্র সবখানেই অবহেলিত, বঞ্চিত। আর বিত্তবান উঁচু শ্রেণির লোকেরা সবকিছুতেই প্রতিষ্ঠিত ও সমৃদ্ধ। উদ্দীপকে এক গৃহকর্মীর প্রতি অবহেলা ও সহানুভূতি উভয় দিকই ফুটে উঠেছে। সেখানে বাবার চিকিৎসার জন্য গৃহকর্মী রাবেয়া মোড়লের কাছে সাহায্য চেয়ে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে ঐ গ্রামের সহৃদয়বান ব্যক্তি মনসুর অসহায় রাবেয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়টি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের পুরো বিষয় নির্দেশ করে না। এখানে কেবল সামন্ত শ্রেণির প্রতিনিধি অধর রায়ের নির্মমতার সাথে উদ্দীপকের মোড়লের মিল রয়েছে। সমাজে একশ্রেণির মানুষ কীভাবে ধনী থেকে আরও ধনী হচ্ছে, আর একশ্রেণির মানুষ কীভাবে গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে তার যে চিত্র আলোচ্য গল্পে পাওয়া যায় তা উদ্দীপকে নেই। ধর্মীয় আচার সংস্কারের ক্ষেত্রে নিম্নশ্রেণির উপর উচ্চশ্রেণির শাসন, শোষণ, নির্যাতনের যেসব বিষয় 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়- প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দশ বছরের মা মরা মেয়ে রাবেয়া গৃহকর্মীর কাজ করে নিজের এবং অসুস্থ বাবার অন্ন সংস্থান করে। চিকিৎসার অভাবে রাবেয়াকে ছেড়ে একদিন বাবা ইহধাম ত্যাগ করেন। দাফন কাফনের খরচ এবং কবরের জায়গা না থাকায় রাবেয়া গাঁয়ের মোড়লের সহযোগিতা চেয়ে খালি হাতে ফিরে আসে। অনন্যোপায় হয়ে বাবার মৃতদেহের পাশে বসে কাঁদতে থাকে। প্রতিবেশী মনসুর এ খবর পেয়ে রাবেয়ার পাশে দাঁড়ায় এবং যাবতীয় ব্যবস্থা করে। [ রাজশাহী বোর্ড ২০১৫]
গ্রামের শ্মশানটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর

গ্রামের শ্মশানটি গরুড় নদীর তীরে অবস্থিত।
"তোর হাতের আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো।"- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

"তোর হাতে আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো।" উক্তিটিতে অভাগীর সংস্কার ও বিশ্বাসের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অভাগী সংস্কারে বিশ্বাসী মানুষ। ঠাকুরদাস মুখুয্যের বর্ষীয়সী স্ত্রীকে শ্মশানে পুড়তে দেখে অভাগী। যেখানে মুখুয্যের স্ত্রী ছেলের হাতে আগুন পায়। হিন্দুধর্মের সংস্কার অনুসারে অভাগীর বিশ্বাস মুখুয্যের স্ত্রী স্বর্গে যাবে। তাই অভাগী মৃত্যুর পর ছেলের হাতে আগুন প্রত্যাশা করে, যেন সে নিজেও মুখুয্যের স্ত্রীর মতো স্বর্গে যেতে পারে।
"উদ্দীপকে মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত। সামন্ত সমাজে জমিদার ও প্রজার সম্পর্ক সুখকর ছিল না। জমিদাররা নানাভাবে প্রজাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাত। তখন ধর্ম-জাতি ও বর্ণের ব্যাপক বৈষম্য ছিল। তবে ব্যতিক্রমও ছিল। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের লোকজন দ্বারা নিম্নবর্ণের লোকদের নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হওয়ার চিত্রটি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে অনুরূপ সমাজচিত্রের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে সেখানে গাঁয়ের মোড়লের পাশাপাশি মনসুরদের মতো মানবদরদি মানুষও দেখা যায়, যারা বিপদগ্রস্ত অভাবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে সক্ষম এবং মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে আগ্রহী ও সাহসী। যার ফলে উদ্দীপকের রাবেয়া আলোচ্য গল্পের কাঙালীর মতো অসহায় হয়ে পড়েনি। সে মনসুর নামক সহৃদয়বান ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছে। অন্যদিকে গল্পের গোমস্তা অধর রায়ের কাছ থেকে কাঙালী কোনো সাহায্য পায়নি। বরং অপমান, অবহেলা আর ভর্ৎসনা পেয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মনসুর এবং 'অভাগীর স্বর্গ গল্পের গোমস্তা অধর রায় একে অন্যের বিপরীত।
"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিষয়টি ছাড়াও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা রয়েছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিষয়টি ছাড়াও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা রয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ। সহায়-সম্বলহীন নিম্নশ্রেণির মানুষদের জগতে জন্ম নেওয়াটাই যেন বড় অপরাধ। তারা সমাজ, রাষ্ট্র সবখানেই অবহেলিত, বঞ্চিত। আর বিত্তবান উঁচু শ্রেণির লোকেরা সবকিছুতেই প্রতিষ্ঠিত ও সমৃদ্ধ। উদ্দীপকে এক গৃহকর্মীর প্রতি অবহেলা ও সহানুভূতি উভয় দিকই ফুটে উঠেছে। সেখানে বাবার চিকিৎসার জন্য গৃহকর্মী রাবেয়া মোড়লের কাছে সাহায্য চেয়ে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে ঐ গ্রামের সহৃদয়বান ব্যক্তি মনসুর অসহায় রাবেয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়টি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের পুরো বিষয় নির্দেশ করে না। এখানে কেবল সামন্ত শ্রেণির প্রতিনিধি অধর রায়ের নির্মমতার সাথে উদ্দীপকের মোড়লের মিল রয়েছে। সমাজে একশ্রেণির মানুষ কীভাবে ধনী থেকে আরও ধনী হচ্ছে, আর একশ্রেণির মানুষ কীভাবে গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে তার যে চিত্র আলোচ্য গল্পে পাওয়া যায় তা উদ্দীপকে নেই। ধর্মীয় আচার সংস্কারের ক্ষেত্রে নিম্নশ্রেণির উপর উচ্চশ্রেণির শাসন, শোষণ, নির্যাতনের যেসব বিষয় 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়- প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

ও কে ? চন্ডাল ? চমকাও কেন ? নহে ও ঘৃণ্য জীব ! ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব । আজ চন্ডাল, কাল হতে পারে মহাযোগী-সম্রাট, তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দী পাঠ ।

Rajshahi · 2016

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের গোমস্তার নাম কী?

উত্তর

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের গোমস্তার নাম অধর রায়।
'রসিক হতবুদ্ধির মত দাঁড়াইয়া রহিল' কেন?

উত্তর

রসিক দুলের পায়ের ধুলা কারও কাছে এত মূল্যবান হতে পারে এ কথা ভেবে রসিক হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল। কাঙালীর মা মৃত্যুশয্যায় তার স্বামীর পায়ের ধুলা নিতে চেয়েছে। তাই অভাগী সন্তান কাঙালীকে দিয়ে তাকে অন্য গ্রাম থেকে ডেকে পাঠায়। অভাগীর যখন আর জ্ঞান নেই তখন তার স্বামী রসিক সেখানে উপস্থিত হয়। অভাগীকে সারা জীবন সে অবজ্ঞা করেছে অথচ তার পায়ের ধুলার জন্য অভাগী তাকে স্মরণ করে। পৃথিবীতে তার পায়ের ধুলারও যে কারও প্রয়োজন আছে এ কথা তার কল্পনাতীত। তাই মৃত্যুপথযাত্রী অভাগীর অবশ হাত পায়ের ধুলা নিতে গেলে সে হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল।
উদ্দীপকের চণ্ডাল 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কাঙালীর প্রতিনিধি।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বর্ণ পরিচয়ের কারণে কাঙালী যেভাবে অবহেলিত হয়েছে সেদিক থেকে উদ্দীপকের চন্ডাল তার প্রতিনিধি। চন্ডাল, মুচি প্রভৃতি বর্ণের মানুষেরা সমাজে নিম্ন বর্ণ হিসেবে পরিচিত। সমাজে তাদের মর্যাদা নির্ধারিত হয় বর্ণ পরিচয় দ্বারা। এ কারণে সবার কাছে তারা তুচ্ছ, অবহেলার পাত্র। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে নিম্ন বর্ণের হওয়ার কারণে কাঙালী অবহেলিত হয়েছে। মায়ের সৎকারের জন্য জমিদারবাড়িতে কাঠ চাইতে গিয়ে সে চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। জমিদারের কর্মচারী তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এতকিছুর পরও সে মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। কাঙালী দুলে সম্প্রদায়ের বলে যেমন ঘৃণিত হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে উদ্দীপকের চন্ডালও একইভাবে ঘৃণিত। চন্ডাল বলে সে অস্পৃশ্য, অবহেলিত। এই মিথ্যা জাত-পরিচয় এবং এর জন্য অবহেলিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের চন্ডাল 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কাঙালীর প্রতিনিধি।
'উদ্দীপকে ফুটে ওঠা মনোভাবই 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখকের প্রত্যাশা।"- মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা মনোভাবই 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখকের প্রত্যাশা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষে মানুষে যে বৈষম্য তা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই উচ্চবর্ণের প্রবল প্রতাপে নিম্ন বর্ণ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা শোষণ, অবহেলার শিকার হচ্ছে। কিন্তু কোনো সুদ্ধ সমাজে এমন অবস্থা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। অবশ্যই এর প্রতিকার করা উচিত। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক এই অবস্থা পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছেন। তাই তিনি সামন্তবাদী সমাজে বর্ণবাদের নির্মম রূপটি তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষের মৃত্যুতেও বর্ণবাদীরা তাদের মনোভাব বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি। উদ্দীপকেও আমরা 'বর্ণবাদের প্রবল প্রতাপ লক্ষ করি। এ কারণেই চন্ডাল ঘৃণিত। এতটাই সৃণিত যে, তার মানুষ পরিচয়টিই অস্বীকৃত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আজ যে ঘৃণিত তার মাঝেও মহৎ কিন্তু থাকতে পারে। হয়তো এই অবহেলিত মানুষটিই কর্মের মাধ্যমে মহৎ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আজ যে তাকে অবহেলা করছে কালই হয় তো সে তার গুণগান করবে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখকের প্রত্যাশাও এমনই। মানুষই একসময় তাদের জাত-ধর্ম-বর্ণের দাসত্ব ছেড়ে মানবতাবোধে জেগে উঠবে। সেদিন ধর্ম নয়, মানবতার জয় হবে। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

ও কে ? চন্ডাল ? চমকাও কেন ? নহে ও ঘৃণ্য জীব ! ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব । আজ চন্ডাল, কাল হতে পারে মহাযোগী-সম্রাট, তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দী পাঠ ।

Rajshahi · 2016

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের গোমস্তার নাম কী?

উত্তর

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের গোমস্তার নাম অধর রায়।
'রসিক হতবুদ্ধির মত দাঁড়াইয়া রহিল' কেন?

উত্তর

রসিক দুলের পায়ের ধুলা কারও কাছে এত মূল্যবান হতে পারে এ কথা ভেবে রসিক হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল। কাঙালীর মা মৃত্যুশয্যায় তার স্বামীর পায়ের ধুলা নিতে চেয়েছে। তাই অভাগী সন্তান কাঙালীকে দিয়ে তাকে অন্য গ্রাম থেকে ডেকে পাঠায়। অভাগীর যখন আর জ্ঞান নেই তখন তার স্বামী রসিক সেখানে উপস্থিত হয়। অভাগীকে সারা জীবন সে অবজ্ঞা করেছে অথচ তার পায়ের ধুলার জন্য অভাগী তাকে স্মরণ করে। পৃথিবীতে তার পায়ের ধুলারও যে কারও প্রয়োজন আছে এ কথা তার কল্পনাতীত। তাই মৃত্যুপথযাত্রী অভাগীর অবশ হাত পায়ের ধুলা নিতে গেলে সে হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল।
উদ্দীপকের চণ্ডাল 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কাঙালীর প্রতিনিধি।"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বর্ণ পরিচয়ের কারণে কাঙালী যেভাবে অবহেলিত হয়েছে সেদিক থেকে উদ্দীপকের চন্ডাল তার প্রতিনিধি। চন্ডাল, মুচি প্রভৃতি বর্ণের মানুষেরা সমাজে নিম্ন বর্ণ হিসেবে পরিচিত। সমাজে তাদের মর্যাদা নির্ধারিত হয় বর্ণ পরিচয় দ্বারা। এ কারণে সবার কাছে তারা তুচ্ছ, অবহেলার পাত্র। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে নিম্ন বর্ণের হওয়ার কারণে কাঙালী অবহেলিত হয়েছে। মায়ের সৎকারের জন্য জমিদারবাড়িতে কাঠ চাইতে গিয়ে সে চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। জমিদারের কর্মচারী তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এতকিছুর পরও সে মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। কাঙালী দুলে সম্প্রদায়ের বলে যেমন ঘৃণিত হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে উদ্দীপকের চন্ডালও একইভাবে ঘৃণিত। চন্ডাল বলে সে অস্পৃশ্য, অবহেলিত। এই মিথ্যা জাত-পরিচয় এবং এর জন্য অবহেলিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের চন্ডাল 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কাঙালীর প্রতিনিধি।
'উদ্দীপকে ফুটে ওঠা মনোভাবই 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখকের প্রত্যাশা।"- মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা মনোভাবই 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখকের প্রত্যাশা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষে মানুষে যে বৈষম্য তা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই উচ্চবর্ণের প্রবল প্রতাপে নিম্ন বর্ণ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা শোষণ, অবহেলার শিকার হচ্ছে। কিন্তু কোনো সুদ্ধ সমাজে এমন অবস্থা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। অবশ্যই এর প্রতিকার করা উচিত। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক এই অবস্থা পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছেন। তাই তিনি সামন্তবাদী সমাজে বর্ণবাদের নির্মম রূপটি তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষের মৃত্যুতেও বর্ণবাদীরা তাদের মনোভাব বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি। উদ্দীপকেও আমরা 'বর্ণবাদের প্রবল প্রতাপ লক্ষ করি। এ কারণেই চন্ডাল ঘৃণিত। এতটাই সৃণিত যে, তার মানুষ পরিচয়টিই অস্বীকৃত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আজ যে ঘৃণিত তার মাঝেও মহৎ কিন্তু থাকতে পারে। হয়তো এই অবহেলিত মানুষটিই কর্মের মাধ্যমে মহৎ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আজ যে তাকে অবহেলা করছে কালই হয় তো সে তার গুণগান করবে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখকের প্রত্যাশাও এমনই। মানুষই একসময় তাদের জাত-ধর্ম-বর্ণের দাসত্ব ছেড়ে মানবতাবোধে জেগে উঠবে। সেদিন ধর্ম নয়, মানবতার জয় হবে। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) "দেখিনু সেদিন রেলে- কুলি বলে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিলে নিচে ফেলে" (ii) "কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, কাহারে মারিছ লাখি? হয়তো উহারই বুকে ভগবান জাগিয়েছেন দিবা-রাতি। অথবা হয়তো কিছুই নহে সে, মহান উচ্চ নহে, আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত পড়িয়া দুঃখ-দহে,"

Dinajpur · 2017

'সব ব্যাটারাই এখন বামুন কায়েত হতে চায়"- কথাটি কে বলেছিল?

উত্তর

মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের বড় ছেলে বলেছেন- "সব ব্যাটারাই এখন বামুন কায়েত হতে চায়"।
নাপিত কাঙালীর মায়ের হাত দেখে মুখ গম্ভীর করল কেন?

উত্তর

কাঙালীর মায়ের শারীরিক অবস্থার জন্য নাপিত কাঙালীর মায়ের হাত দেখে মুখ গম্ভীর করে। কাঙালীর মা বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিল। নীচ জাত এবং দরিদ্র হওয়ার কারণে কবিরাজ তাকে বাড়িতে দেখতেও আসেনি, ভালো ওষুধও দেয়নি। আর যে ওষুধ অনেক কষ্টে জোগাড় করা হয়, কাঙালীর মা তা না খেয়ে উনুনে ফেলে দেয়। অবস্থা বেশি খারাপ হলে ঈশ্বর নাপিত এসে নাড়ি পরীক্ষা করে। হাত দেখে সে বুঝতে পারে, কাঙালীর মা মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার উপক্রম। কাঙালীর মায়ের শরীরের ভয়ানক অবস্থা বুঝতে পেরে ঈশ্বর নাপিত মুখ গম্ভীর।
উদ্ধৃতি (i)-এ 'অভাগীর স্বর্ণ' গল্পের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্ধৃতি (ⅰ)-এ 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের শ্রেণিবৈষম্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। পৃথিবীতে সব মানুষ সমান পরিস্থিতিতে থাকে না। কেউ ধনী, কেউ গরিব, কেউ উঁচু জাত, কেউ নীচ জাত। এই বিভেদ-বৈষম্যের জন্য সমাজব্যবস্থা দায়ী। কিন্তু, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও বৈষম্য তৈরি করেছি আমরা নিজেরা। কিন্তু, পৃথিবীতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না থাকলে পৃথিবীটা আরও শান্তিপূর্ণ এবং বাসের উপযোগী হয়ে উঠবে। উদ্ধৃতি (i)-এ দেখা গেছে কুলি বলে জনৈক ব্যক্তিকে এক বাবু সাহেব ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। শুধু সে গরিব এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল বলে তাকে ঠেলে নিচে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অভাগীর মৃত্যুর পরে তাকে পোড়ানোর জন্য তার ছেলে কাঙালী অনেক চেষ্টা করেও কাঠ জোগাড় করতে পারেনি। কারণ তারা নীচ শ্রেণির মানুষ, জাতে তারা দুলে। অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও এক টুকরো কাঠ কেউ দেয়নি অভাগীকে পোড়ানোর জন্য। এমনকি অভাগীর নিজে হাতে লাগানো গাছ নিতে চাইলে তাও দেয়নি। অভাগীর খুব ইচ্ছে ছিল মারা যাওয়ার পরে যেন আগুন দিয়ে তার মৃতদেহের সৎকার করা হয়। শুধু নীচ শ্রেণির বলে অভাগীর মৃতদেহ পোড়ানোর কাঠ কাঙালী জোগাড় করতে পারে না। উদ্ধৃতি (i)-এ যেন 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের শ্রেণিবৈষম্য ফুটে উঠেছে। এই ভাবেই গল্পের মানুষে মানুষে শ্রেণি ভেদাভেদের দিকটি উদ্ধৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্ধৃতি (ii)-এর কবি এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখক উভয়ের মধ্যে সমাজের দরিদ্র ও নিচু শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা লক্ষণীয়'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্ধৃতি (ii)-এর কবি এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখক উভয়ের মধ্যে সমাজের দরিদ্র ও নিচু শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা লক্ষণীয়- উক্তিটি সার্থক। সমাজের সবচেয়ে সংগ্রামী মানুষ হলো আমাদের চারপাশের নিম্নশ্রেণির মানুষেরা। তারা অনেক পরিশ্রম করলেও সমাজে তারাই সবচেয়ে অবহেলিত। সমাজ তাদেরকে শোষণ করেই এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। উদ্ধৃতি (ii)-এ কবি বলেছেন, আমরা সমার্জের নিচু স্তরের মানুষদের অবহেলা করি। কিন্তু তাদের ভেতরেও ঈশ্বর থাকতে পারে। আর তাদের ভেতরে যদি ঈশ্বর নাও থাকে তাহলেও তাদেরকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ, তাদের জীবন সংগ্রামী এবং দুঃখ- কষ্টে জর্জরিত। সমাজের উচ্চ অবস্থানে থাকা লোকজন কখনই তাদের দঃখের কথা জানার চেষ্টা করে না, বরং তাদেরকে আরও কষ্ট দেয়। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও দেখা যায় অভাগী অনেক কষ্টে বিয়ের পরে ছেলেকে মানুষ করেছে। তাদের অভাবের শেষ নেই। এমনকি মারা যাওয়ার পর তার সৎকার করার জন্য সামান্য কাঠও কেউ দেয়নি। কারণ অভাগী গরিব, তার ছেলে ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক নিম্নশ্রেণির মানুষের প্রতি সামাজিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। উদ্ধৃতি (ii)-এ কবি দরিদ্র ও নীচ শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করেছেন। কবিতার লাইনগুলো থেকে বোঝা যায় কবি অবহেলিত মানুষের প্রতি সমৃদয় ব্যক্তি। একই বিষয় ফুটে উঠেছে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে। অভাগীর দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা এবং শেষ পর্যন্ত তার সৎকারের জন্য কাঠ না পাওয়া যাওয়ায় যে করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয় তা আমাদের হৃদয়ে এক আর্দ্র অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাদের প্রতি আমরা সহমর্মিতা অনুভব করি যা প্রকাশ করাই লেখকের উদ্দেশ্য। তাই বলা যায়, উদ্ধৃতি (ii)-এর কবি এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখক দুজনই দরিদ্র এবং নীচ শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) "দেখিনু সেদিন রেলে- কুলি বলে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিলে নিচে ফেলে" (ii) "কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, কাহারে মারিছ লাখি? হয়তো উহারই বুকে ভগবান জাগিয়েছেন দিবা-রাতি। অথবা হয়তো কিছুই নহে সে, মহান উচ্চ নহে, আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত পড়িয়া দুঃখ-দহে,"

Dinajpur · 2017

'সব ব্যাটারাই এখন বামুন কায়েত হতে চায়"- কথাটি কে বলেছিল?

উত্তর

মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের বড় ছেলে বলেছেন- "সব ব্যাটারাই এখন বামুন কায়েত হতে চায়"।
নাপিত কাঙালীর মায়ের হাত দেখে মুখ গম্ভীর করল কেন?

উত্তর

কাঙালীর মায়ের শারীরিক অবস্থার জন্য নাপিত কাঙালীর মায়ের হাত দেখে মুখ গম্ভীর করে। কাঙালীর মা বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিল। নীচ জাত এবং দরিদ্র হওয়ার কারণে কবিরাজ তাকে বাড়িতে দেখতেও আসেনি, ভালো ওষুধও দেয়নি। আর যে ওষুধ অনেক কষ্টে জোগাড় করা হয়, কাঙালীর মা তা না খেয়ে উনুনে ফেলে দেয়। অবস্থা বেশি খারাপ হলে ঈশ্বর নাপিত এসে নাড়ি পরীক্ষা করে। হাত দেখে সে বুঝতে পারে, কাঙালীর মা মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার উপক্রম। কাঙালীর মায়ের শরীরের ভয়ানক অবস্থা বুঝতে পেরে ঈশ্বর নাপিত মুখ গম্ভীর।
উদ্ধৃতি (i)-এ 'অভাগীর স্বর্ণ' গল্পের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্ধৃতি (ⅰ)-এ 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের শ্রেণিবৈষম্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। পৃথিবীতে সব মানুষ সমান পরিস্থিতিতে থাকে না। কেউ ধনী, কেউ গরিব, কেউ উঁচু জাত, কেউ নীচ জাত। এই বিভেদ-বৈষম্যের জন্য সমাজব্যবস্থা দায়ী। কিন্তু, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও বৈষম্য তৈরি করেছি আমরা নিজেরা। কিন্তু, পৃথিবীতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না থাকলে পৃথিবীটা আরও শান্তিপূর্ণ এবং বাসের উপযোগী হয়ে উঠবে। উদ্ধৃতি (i)-এ দেখা গেছে কুলি বলে জনৈক ব্যক্তিকে এক বাবু সাহেব ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। শুধু সে গরিব এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল বলে তাকে ঠেলে নিচে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অভাগীর মৃত্যুর পরে তাকে পোড়ানোর জন্য তার ছেলে কাঙালী অনেক চেষ্টা করেও কাঠ জোগাড় করতে পারেনি। কারণ তারা নীচ শ্রেণির মানুষ, জাতে তারা দুলে। অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও এক টুকরো কাঠ কেউ দেয়নি অভাগীকে পোড়ানোর জন্য। এমনকি অভাগীর নিজে হাতে লাগানো গাছ নিতে চাইলে তাও দেয়নি। অভাগীর খুব ইচ্ছে ছিল মারা যাওয়ার পরে যেন আগুন দিয়ে তার মৃতদেহের সৎকার করা হয়। শুধু নীচ শ্রেণির বলে অভাগীর মৃতদেহ পোড়ানোর কাঠ কাঙালী জোগাড় করতে পারে না। উদ্ধৃতি (i)-এ যেন 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের শ্রেণিবৈষম্য ফুটে উঠেছে। এই ভাবেই গল্পের মানুষে মানুষে শ্রেণি ভেদাভেদের দিকটি উদ্ধৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্ধৃতি (ii)-এর কবি এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখক উভয়ের মধ্যে সমাজের দরিদ্র ও নিচু শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা লক্ষণীয়'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্ধৃতি (ii)-এর কবি এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখক উভয়ের মধ্যে সমাজের দরিদ্র ও নিচু শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা লক্ষণীয়- উক্তিটি সার্থক। সমাজের সবচেয়ে সংগ্রামী মানুষ হলো আমাদের চারপাশের নিম্নশ্রেণির মানুষেরা। তারা অনেক পরিশ্রম করলেও সমাজে তারাই সবচেয়ে অবহেলিত। সমাজ তাদেরকে শোষণ করেই এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। উদ্ধৃতি (ii)-এ কবি বলেছেন, আমরা সমার্জের নিচু স্তরের মানুষদের অবহেলা করি। কিন্তু তাদের ভেতরেও ঈশ্বর থাকতে পারে। আর তাদের ভেতরে যদি ঈশ্বর নাও থাকে তাহলেও তাদেরকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ, তাদের জীবন সংগ্রামী এবং দুঃখ- কষ্টে জর্জরিত। সমাজের উচ্চ অবস্থানে থাকা লোকজন কখনই তাদের দঃখের কথা জানার চেষ্টা করে না, বরং তাদেরকে আরও কষ্ট দেয়। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও দেখা যায় অভাগী অনেক কষ্টে বিয়ের পরে ছেলেকে মানুষ করেছে। তাদের অভাবের শেষ নেই। এমনকি মারা যাওয়ার পর তার সৎকার করার জন্য সামান্য কাঠও কেউ দেয়নি। কারণ অভাগী গরিব, তার ছেলে ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক নিম্নশ্রেণির মানুষের প্রতি সামাজিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। উদ্ধৃতি (ii)-এ কবি দরিদ্র ও নীচ শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করেছেন। কবিতার লাইনগুলো থেকে বোঝা যায় কবি অবহেলিত মানুষের প্রতি সমৃদয় ব্যক্তি। একই বিষয় ফুটে উঠেছে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে। অভাগীর দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা এবং শেষ পর্যন্ত তার সৎকারের জন্য কাঠ না পাওয়া যাওয়ায় যে করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয় তা আমাদের হৃদয়ে এক আর্দ্র অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাদের প্রতি আমরা সহমর্মিতা অনুভব করি যা প্রকাশ করাই লেখকের উদ্দেশ্য। তাই বলা যায়, উদ্ধৃতি (ii)-এর কবি এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখক দুজনই দরিদ্র এবং নীচ শ্রেণির মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSC বাংলা ১ম পত্র — অভাগীর স্বর্গ MCQ | Prosthuti