বৃষ্টি বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর বৃষ্টি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২০

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অংশ-১ : বৈকালে কি বিকাশে মাঠে-ঘাটে নামলে ঢল ফিরে ফিরে ঢেউ দেয় ঘাসে। কল্পনায় সাদা হাঁস; অংশ-২ : বাহিরে নাহিরে ঝরঝর জল, গৃহগৃহ মেঘ ডাকে এসবের মাঝে বুকে বুকে কেন যেন ব্যথা গুমরি ওঠে যেন ও গুমর, গুমর চাহিয়া, দ্বার এ বুকের বাদলের সাথে মিশিয়া গুমরে গুমরে কাঁদে।

Dinajpur · 2026

'বৃষ্টি' কবিতায় মাঠ কিসে ঢেকে ফেলে?

উত্তর

'বৃষ্টি' কবিতায় মাঠ কাজল ধারায় ঢেকে ফেলে।
উদ্দীপকের অংশ-১-এ 'বৃষ্টি' কবিতার কোন দিক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে রুক্ষ এবং বিবর্ণরূপ ধারণ করা প্রকৃতির প্রাণহীনতায় 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতি সম্পর্কিত দিক ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের অংশ-২-এ 'বৃষ্টি' কবিতার কোন দিক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-২-এ 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতির ওপর বৃষ্টির প্রভাবের চমৎকার চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পায়। উদ্দীপকের অংশ-১-এ বলা হয়েছে বৈকালের বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট ও বন সব যেন প্রাণ ফিরে পায়। 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টিতে প্রকৃতির এরূপ সজীব হওয়ার কথা 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, বৃষ্টি প্রকৃতির ওপর এক আনন্দময় স্নিগ্ধতার সৃষ্টি করে। বৃষ্টি মাঠ-ঘাট ও বন ভেজায় এবং তাদের রুক্ষতা দূর করে। উদ্দীপকের প্রকৃতি সম্পর্কিত এই দিকটির সাদৃশ্য 'বৃষ্টি' কবিতায় বিদ্যমান রয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের অংশ-২-এ 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে।
“বর্ষার আবহ থাকলে ও উদ্দীপক-২ 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করতে পারেনি”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

“বর্ষার আবহ থাকলেও উদ্দীপক-২ 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করতে পারেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ এতে বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক থাকলেও মানবমনের কোনো ইঙ্গিত নেই। 'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টিমুখর দিনে প্রকৃতিতে নিয়ে আসে সজীব প্রাণ আর মানবমনে জেগে ওঠে। মন যেন অতীত স্মৃতিতে ডুব দিয়ে ফিরে পেতে চায় দিক দিগন্তে। উদ্দীপক-২-এ বর্ষাকালীন আবহ ফুটে উঠেছে। বর্ষার দুপুর মধ্যে মেঘমায়া যেন আরও গুমরায় আছে। এসময় গৃহের বৃদ্ধা চাহিয়া রয় পথের পানে তার পুত্র আসবে। উদ্দীপকের যে বিষয় তা স্পস্ট 'বৃষ্টি' কবিতায় নেই। 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব হলো বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের দিকটি। বর্ষণমুখর দিনে প্রকৃতি প্রাণ খুঁজে পায়। রুক্ষ মাঠ-ঘাট ও বন সিক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে জেগে ওঠে রসসিক্ত মানবমন। আনন্দ-বেদনার নানা স্মৃতি মানসপটে ভেসে ওঠে। বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের এ দিকটি 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, বর্ষার আবহ থাকলেও উদ্দীপক-২ 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করতে পারেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অংশ-১ : বৈকালে কি বিকাশে মাঠে-ঘাটে নামলে ঢল ফিরে ফিরে ঢেউ দেয় ঘাসে। কল্পনায় সাদা হাঁস; অংশ-২ : বাহিরে নাহিরে ঝরঝর জল, গৃহগৃহ মেঘ ডাকে এসবের মাঝে বুকে বুকে কেন যেন ব্যথা গুমরি ওঠে যেন ও গুমর, গুমর চাহিয়া, দ্বার এ বুকের বাদলের সাথে মিশিয়া গুমরে গুমরে কাঁদে।

Dinajpur · 2026

'বৃষ্টি' কবিতায় মাঠ কিসে ঢেকে ফেলে?

উত্তর

'বৃষ্টি' কবিতায় মাঠ কাজল ধারায় ঢেকে ফেলে।
উদ্দীপকের অংশ-১-এ 'বৃষ্টি' কবিতার কোন দিক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে রুক্ষ এবং বিবর্ণরূপ ধারণ করা প্রকৃতির প্রাণহীনতায় 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতি সম্পর্কিত দিক ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের অংশ-২-এ 'বৃষ্টি' কবিতার কোন দিক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-২-এ 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতির ওপর বৃষ্টির প্রভাবের চমৎকার চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পায়। উদ্দীপকের অংশ-১-এ বলা হয়েছে বৈকালের বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট ও বন সব যেন প্রাণ ফিরে পায়। 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টিতে প্রকৃতির এরূপ সজীব হওয়ার কথা 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, বৃষ্টি প্রকৃতির ওপর এক আনন্দময় স্নিগ্ধতার সৃষ্টি করে। বৃষ্টি মাঠ-ঘাট ও বন ভেজায় এবং তাদের রুক্ষতা দূর করে। উদ্দীপকের প্রকৃতি সম্পর্কিত এই দিকটির সাদৃশ্য 'বৃষ্টি' কবিতায় বিদ্যমান রয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের অংশ-২-এ 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে।
“বর্ষার আবহ থাকলে ও উদ্দীপক-২ 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করতে পারেনি”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

“বর্ষার আবহ থাকলেও উদ্দীপক-২ 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করতে পারেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ এতে বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক থাকলেও মানবমনের কোনো ইঙ্গিত নেই। 'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টিমুখর দিনে প্রকৃতিতে নিয়ে আসে সজীব প্রাণ আর মানবমনে জেগে ওঠে। মন যেন অতীত স্মৃতিতে ডুব দিয়ে ফিরে পেতে চায় দিক দিগন্তে। উদ্দীপক-২-এ বর্ষাকালীন আবহ ফুটে উঠেছে। বর্ষার দুপুর মধ্যে মেঘমায়া যেন আরও গুমরায় আছে। এসময় গৃহের বৃদ্ধা চাহিয়া রয় পথের পানে তার পুত্র আসবে। উদ্দীপকের যে বিষয় তা স্পস্ট 'বৃষ্টি' কবিতায় নেই। 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব হলো বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের দিকটি। বর্ষণমুখর দিনে প্রকৃতি প্রাণ খুঁজে পায়। রুক্ষ মাঠ-ঘাট ও বন সিক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে জেগে ওঠে রসসিক্ত মানবমন। আনন্দ-বেদনার নানা স্মৃতি মানসপটে ভেসে ওঠে। বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের এ দিকটি 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, বর্ষার আবহ থাকলেও উদ্দীপক-২ 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাব স্পর্শ করতে পারেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: মেঘের উপর মেঘ করেছে, রঙের উপর রঙ মন্দিরেতে কাঁসর ঘণ্টা বাজল ঠঙ্ ঠঙ্। ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছ-পালা। এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। দৃশ্যকল্প-২: মম যূথীবনে শ্রাবণ মেঘের সজল পরশ লেগেছে তৃষ্ণাতুর মন অঙ্গনে যেন প্রথম বর্ষা নেমেছে।

Sylhet · 2026

দিকদিগন্তের পথে কী দেখা যায়?

উত্তর

দিকদিগন্তের পথে অপরূপ আভা দেখা যায়।
"নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।”- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার"- অর্থাৎ বর্ষার প্লাবনে ফসল ফলানোর মাধ্যমে নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আসে। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপপ্রবাহে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে ফেটে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। এরপর প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসে বর্ষা। এ সময় নদীর দুধারে প্লাবন দেখা দেয়। ফলে পলিমাটির গৌরবে ফসল ভালো হয়। নদীর পলিবাহিত মাটিতে উর্বরতা পুনরায় ফিরে পায় আবাদি জমি। তাই "নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।" অর্থাৎ বন্যা নদীকে ও মানুষকে নতুন জীবন দেয়।
দৃশ্যকল্প-১-এর সাথে 'বৃষ্টি' কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এর সাথে 'বৃষ্টি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে বর্ষার আগমনে। 'বৃষ্টি' কবিতায় ফররুখ আহমদ বর্ষার আগমনী চিত্র এঁকেছেন পুবের হাওয়া, কাজল ছায়ায় ঢাকা মাঠ ও বিদগ্ধ আকাশের মাধ্যমে। তিনি বিদ্যুৎকে 'রূপসি পরি'রূপে কল্পনা করেছেন, যে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়ে আসে। কবি বর্ষার আগমনের মাধ্যমে প্রকৃতির এক জমজমাট রূপ তুলে ধরেছেন। দৃশ্যকল্প-১ কবিতাংশে বর্ষার আগমনে প্রকৃতির এক চমৎকার ছবিঅঙ্কিত হয়েছে, যেখানে মেঘের ওপর মেঘ জমে রঙের খেলা সৃষ্টি করেছে। মন্দিরের কাঁসর ঘণ্টার শব্দ বৃষ্টির আগমন ঘোষণা করেছে আর ওপারে ঝাপসা গাছপালার আড়ালে বৃষ্টি নেমেছে। এ পারেতে মেঘের বিদ্যুৎ চমকানিতে আলোর ঝলকানি ঠিকরে পড়ছে। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও বর্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিতে প্রাণস্পন্দন ফিরে আসার বর্ণনা করা হয়েছে। কবিতায় বিদ্যুৎ রূপসি পরি হয়ে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়েছে। বিদগ্ধ মাঠ-ঘাট কাজল ছায়ায় ঢেকে গিয়েছে। বৃষ্টি প্রকৃতিতে সজীবতার জোয়ার এনেছে। 'বৃষ্টি' কবিতা ও দৃশ্যকল্প-১ উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃতি এক উৎসবমুখর রূপ পেয়েছে। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বর্ষা নামার চিত্রের সাদৃশ্য বহন করে।
দৃশ্যকল্প-২-এর ভাব 'বৃষ্টি' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেছে কি? যুক্তিযুক্ত মতামত উপস্থাপন করো।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২-এর ভাব 'বৃষ্টি' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেনি, বরং কবিতার তৃষাতপ্ত মন ও বর্ষার পরশের আকাঙ্ক্ষার একটি অংশ ধারণ করেছে। 'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনার, পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর চিত্রায়ণ আছে। বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে। তার মনে পড়ে সুখময় অতীত স্মৃতি। বৃষ্টির ছোঁয়ায় যেমন প্রকৃতি স্নিগ্ধতা লাভ করে তেমনই মানুষের মনও পূর্ণতা পায়। দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ষার সজল পরশকে ব্যক্তির মনস্তত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃতির স্পর্শকে ব্যক্তির অন্তর্জগতে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এই বর্ণনা 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের ভাবনার কাছাকাছি হলেও প্রকৃতির ব্যাপক বর্ণনা এতে অনুপস্থিত। এটি কবিতার মানসিক জাগরণের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। 'বৃষ্টি' কবিতাটির সমগ্র ভাবের মধ্যে আছে প্রকৃতির ব্যাপক চিত্রায়ণ, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং বিষণ্ণতার অনুভূতি। কবিতার প্রথম স্তবকটি প্রাণস্পন্দন ও প্রকৃতির উৎসবমুখর রূপ তুলে ধরে যা দৃশ্যকল্প-২-এ নেই। দৃশ্যকল্প-২ তৃষাতুর মন ও বর্ষার সজল পরশের অনুভূতিকে ধারণ করেছে যা 'বৃষ্টি' কবিতার দ্বিতীয় স্তবকের একটি অংশমাত্র। কবিতার দৃষ্টি বিস্মৃত ও সর্বজনীন। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ কবিতার তৃষাতপ্ত মনের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। সুতরাং দৃশ্যকল্প-২-এর ভাব 'বৃষ্টি' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-১: মেঘের উপর মেঘ করেছে, রঙের উপর রঙ মন্দিরেতে কাঁসর ঘণ্টা বাজল ঠঙ্ ঠঙ্। ওপারেতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছ-পালা। এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। দৃশ্যকল্প-২: মম যূথীবনে শ্রাবণ মেঘের সজল পরশ লেগেছে তৃষ্ণাতুর মন অঙ্গনে যেন প্রথম বর্ষা নেমেছে।

Sylhet · 2026

দিকদিগন্তের পথে কী দেখা যায়?

উত্তর

দিকদিগন্তের পথে অপরূপ আভা দেখা যায়।
"নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।”- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার"- অর্থাৎ বর্ষার প্লাবনে ফসল ফলানোর মাধ্যমে নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আসে। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপপ্রবাহে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে ফেটে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। এরপর প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসে বর্ষা। এ সময় নদীর দুধারে প্লাবন দেখা দেয়। ফলে পলিমাটির গৌরবে ফসল ভালো হয়। নদীর পলিবাহিত মাটিতে উর্বরতা পুনরায় ফিরে পায় আবাদি জমি। তাই "নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।" অর্থাৎ বন্যা নদীকে ও মানুষকে নতুন জীবন দেয়।
দৃশ্যকল্প-১-এর সাথে 'বৃষ্টি' কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এর সাথে 'বৃষ্টি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে বর্ষার আগমনে। 'বৃষ্টি' কবিতায় ফররুখ আহমদ বর্ষার আগমনী চিত্র এঁকেছেন পুবের হাওয়া, কাজল ছায়ায় ঢাকা মাঠ ও বিদগ্ধ আকাশের মাধ্যমে। তিনি বিদ্যুৎকে 'রূপসি পরি'রূপে কল্পনা করেছেন, যে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়ে আসে। কবি বর্ষার আগমনের মাধ্যমে প্রকৃতির এক জমজমাট রূপ তুলে ধরেছেন। দৃশ্যকল্প-১ কবিতাংশে বর্ষার আগমনে প্রকৃতির এক চমৎকার ছবিঅঙ্কিত হয়েছে, যেখানে মেঘের ওপর মেঘ জমে রঙের খেলা সৃষ্টি করেছে। মন্দিরের কাঁসর ঘণ্টার শব্দ বৃষ্টির আগমন ঘোষণা করেছে আর ওপারে ঝাপসা গাছপালার আড়ালে বৃষ্টি নেমেছে। এ পারেতে মেঘের বিদ্যুৎ চমকানিতে আলোর ঝলকানি ঠিকরে পড়ছে। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও বর্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিতে প্রাণস্পন্দন ফিরে আসার বর্ণনা করা হয়েছে। কবিতায় বিদ্যুৎ রূপসি পরি হয়ে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়েছে। বিদগ্ধ মাঠ-ঘাট কাজল ছায়ায় ঢেকে গিয়েছে। বৃষ্টি প্রকৃতিতে সজীবতার জোয়ার এনেছে। 'বৃষ্টি' কবিতা ও দৃশ্যকল্প-১ উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃতি এক উৎসবমুখর রূপ পেয়েছে। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বর্ষা নামার চিত্রের সাদৃশ্য বহন করে।
দৃশ্যকল্প-২-এর ভাব 'বৃষ্টি' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেছে কি? যুক্তিযুক্ত মতামত উপস্থাপন করো।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২-এর ভাব 'বৃষ্টি' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেনি, বরং কবিতার তৃষাতপ্ত মন ও বর্ষার পরশের আকাঙ্ক্ষার একটি অংশ ধারণ করেছে। 'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনার, পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর চিত্রায়ণ আছে। বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে। তার মনে পড়ে সুখময় অতীত স্মৃতি। বৃষ্টির ছোঁয়ায় যেমন প্রকৃতি স্নিগ্ধতা লাভ করে তেমনই মানুষের মনও পূর্ণতা পায়। দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ষার সজল পরশকে ব্যক্তির মনস্তত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃতির স্পর্শকে ব্যক্তির অন্তর্জগতে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এই বর্ণনা 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের ভাবনার কাছাকাছি হলেও প্রকৃতির ব্যাপক বর্ণনা এতে অনুপস্থিত। এটি কবিতার মানসিক জাগরণের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। 'বৃষ্টি' কবিতাটির সমগ্র ভাবের মধ্যে আছে প্রকৃতির ব্যাপক চিত্রায়ণ, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং বিষণ্ণতার অনুভূতি। কবিতার প্রথম স্তবকটি প্রাণস্পন্দন ও প্রকৃতির উৎসবমুখর রূপ তুলে ধরে যা দৃশ্যকল্প-২-এ নেই। দৃশ্যকল্প-২ তৃষাতুর মন ও বর্ষার সজল পরশের অনুভূতিকে ধারণ করেছে যা 'বৃষ্টি' কবিতার দ্বিতীয় স্তবকের একটি অংশমাত্র। কবিতার দৃষ্টি বিস্মৃত ও সর্বজনীন। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ কবিতার তৃষাতপ্ত মনের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। সুতরাং দৃশ্যকল্প-২-এর ভাব 'বৃষ্টি' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-(i): মাস তিনেকের খরায় গ্রামের জমি ফেটে খাঁ খাঁ করছিল। কৃষক রমিজ ও তার পরিবার আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করছিল। এক বিকেলে কালো মেঘ জমে ভারী বৃষ্টি নামল। রমিজ তার ছেলেকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলল, "এই বৃষ্টিই তো আমাদের নতুন জীবনের সূচনা করল।" উদ্দীপক-(ii): বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনিমিতা বৃষ্টিভেজা সড়কের দিকে তাকিয়ে আছে। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির শব্দ তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবে- যখন দাদুবাড়ির আঙিনায় মাটির গন্ধমাখা বৃষ্টিতে ভিজে সে কাগজের নৌকা ভাসাত।

Comilla · 2026

পদ্মা-মেঘনার দুপাশে কী রয়েছে?

উত্তর

পদ্মা-মেঘনার দুপাশে, আবাদি গ্রাম রয়েছে।
"মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়"- চরণাংশটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়"- চরণাংশটি দ্বারা বর্ষার মেঘের ঘনছায়ায় মাঠ ঢেকে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলার বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি নিয়ে কবি ফররুখ আহমদ 'বৃষ্টি' কবিতাটি লিখেছেন। প্রকৃতিতে বর্ষা আসে প্রাণস্পন্দন নিয়ে। গ্রীষ্মের রুক্ষতার মধ্যে বৃষ্টি আসার পূর্ব মুহূর্তে কাজলকালো মেঘ দেখা দেয় আকাশে। মাঠজুড়ে মেঘের ছায়া পড়ে স্নিগ্ধ ও কোমলতার সঞ্চার করে। প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মের রুক্ষতা দূরীভূত হয় বর্ষার এমন মেঘাচ্ছন্ন, স্নিগ্ধ ও কাজল কালো রূপের বর্ণনা দিয়েছেন।
উদ্দীপক-(i) 'বৃষ্টি' কবিতার কোন দিকটিকে উপস্থাপন করেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপক (ⅰ) 'বৃষ্টি' কবিতার গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বৃষ্টি এসে প্রকৃতিকে সজীব করে দেওয়ার দিকটিকে উপস্থাপন করেছে। 'বৃষ্টি' কবিতায় বাংলার রুক্ষ প্রকৃতিতে বৃষ্টির আগমনের কথা বলা হয়েছে। কৃষিপ্রধান এই বাংলায় বৃষ্টি খুব প্রতীক্ষিত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যখন প্রকৃতি রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে তখন প্রকৃতি বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়ার জন্য অধিক আগ্রহে থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের কথাও এ কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে খরায় বা বৃষ্টিহীনতায় প্রকৃতির রুক্ষ অবস্থা এবং কৃষকের কষ্টকর অবস্থার কথা বলা হয়েছে। তিন মাসের খরায় জমি ফেটে খাঁ খাঁ করছে। কৃষক রমিজ ও তার পরিবার বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছিল। এক বিকেলে কালো মেঘ জমে ভারী বৃষ্টি নামলে রমিজ তার ছেলেকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলে যে, বৃষ্টি তাদের নতুন জীবনের সূচনা করল। উদ্দীপকের এ অবস্থাটি 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বৃষ্টির আগমনে সজীবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। 'বৃষ্টি' কবিতায় কবি বৃষ্টির অভাবে প্রকৃতিতে বিরাজমান রুক্ষতা, তৃষ্ণাকাতর হয়ে ওঠা ফসলের মাঠ ও বনের গাছপালার কথা বলেছেন। আর বৃষ্টির আগমনে কীভাবে প্রকৃতি স্নিগ্ধ ও কোমল হয়ে ওঠে তা দেখিয়েছেন। বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের মতো চৌচির মাঠ বৃষ্টির পানিতে ভরে ওঠে। তখন ফসল ফলানোর জন্য সেই মাঠে চাষ দেওয়া যায়। রুক্ষ প্রকৃতিতে বৃষ্টির আগমনে প্রাণসঞ্চারের দিকটি উদ্দীপকেও উঠে এসেছে। বৃষ্টি রমিজ শেখের গ্রামে ও জীবনে প্রাণের সঞ্চার করে যেন।
"উদ্দীপক-(i), উদ্দীপক-(ii)-এর পৃথক অভিব্যক্তি নয়; উভয়ের সম্মিলিত ভাবনাই 'বৃষ্টি' কবিতার মূলবার্তা।"-মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর

বৃষ্টি প্রকৃতি ও মানবমনে যে প্রভাব ফেলে তার ভিত্তিতে বলা যায়, "উদ্দীপক (i), উদ্দীপক (ii)-এর পৃথক অভিব্যক্তি নয়; উভয়ের সম্মিলিত ভাবনাই 'বৃষ্টি' কবিতার মূলবার্তা"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, প্রকৃতি বৃষ্টির ছোঁয়ায় সজীব হয়ে ওঠে, পায় নতুনত্বের ছোঁয়া। প্রকৃতিকে বর্ষা বৈচিত্র্যময় করে তুলে যেন নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে বর্ষায় মানবমনেও প্রভাব পড়ে। বর্ষার সঙ্গে প্রকৃতি ও মানুষের মনের সংযোগ অত্যন্ত নিবিড়। উদ্দীপক (i)-এ খরায় প্রকৃতির রুক্ষ অবস্থার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। বৃষ্টি নেমে প্রকৃতি ও জনজীবনে নতুন জীবনের সূচনার কথা বিবৃত হয়েছে। উদ্দীপক (ii)-এ বৃষ্টিতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনিমিতার অতীত স্মৃতি রোমন্থনের কথা বলা হয়েছে। বৃষ্টির শব্দ তাকে শৈশবের স্মৃতিতে নিয়ে যেত যখন সে দাদুবাড়িতে বৃষ্টির পানিতে কাগজের নৌকা ভাসাত। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও প্রকৃতি ও মানবমনে বৃষ্টির প্রভাব দেখানো হয়েছে উদ্দীপক দুটির মতো। 'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, বর্ষা প্রকৃতিতে প্রাণ স্পন্দন নিয়ে আসে। নদীর দুই পাড়ে প্লাবন দেখা দেয়। আকাশে মেঘের খেলা দেখা যায়। বিভিন্ন ফুল ফুটে সুঘ্রাণে চারদিক মোহিত করে। রুক্ষ মাঠ-ঘাট বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। শুধু তাই নয়, বৃষ্টি সংবেদনশীল মানুষের' মনেও ভাব জাগায়। মনে পড়ে সুখময় অতীত স্মৃতি। বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই বিষয় দুটি উদ্দীপকেও দেখা যায়। উদ্দীপক (i)-এ দেখা যায় প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাব এবং উদ্দীপক (ii)-এ দেখা যায় মানবমনে বৃষ্টির প্রভাব। এ দুটির সম্মিলিত ভাবনা 'বৃষ্টি' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবকে তুলে ধরেছে। তবে উদ্দীপক (i) কিংবা উদ্দীপক (ii) কোনোটিই একক ভাবে 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাবকে তুলে ধরতে পারে না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-(i): মাস তিনেকের খরায় গ্রামের জমি ফেটে খাঁ খাঁ করছিল। কৃষক রমিজ ও তার পরিবার আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করছিল। এক বিকেলে কালো মেঘ জমে ভারী বৃষ্টি নামল। রমিজ তার ছেলেকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলল, "এই বৃষ্টিই তো আমাদের নতুন জীবনের সূচনা করল।" উদ্দীপক-(ii): বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনিমিতা বৃষ্টিভেজা সড়কের দিকে তাকিয়ে আছে। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির শব্দ তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবে- যখন দাদুবাড়ির আঙিনায় মাটির গন্ধমাখা বৃষ্টিতে ভিজে সে কাগজের নৌকা ভাসাত।

Comilla · 2026

পদ্মা-মেঘনার দুপাশে কী রয়েছে?

উত্তর

পদ্মা-মেঘনার দুপাশে, আবাদি গ্রাম রয়েছে।
"মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়"- চরণাংশটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়"- চরণাংশটি দ্বারা বর্ষার মেঘের ঘনছায়ায় মাঠ ঢেকে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলার বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি নিয়ে কবি ফররুখ আহমদ 'বৃষ্টি' কবিতাটি লিখেছেন। প্রকৃতিতে বর্ষা আসে প্রাণস্পন্দন নিয়ে। গ্রীষ্মের রুক্ষতার মধ্যে বৃষ্টি আসার পূর্ব মুহূর্তে কাজলকালো মেঘ দেখা দেয় আকাশে। মাঠজুড়ে মেঘের ছায়া পড়ে স্নিগ্ধ ও কোমলতার সঞ্চার করে। প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মের রুক্ষতা দূরীভূত হয় বর্ষার এমন মেঘাচ্ছন্ন, স্নিগ্ধ ও কাজল কালো রূপের বর্ণনা দিয়েছেন।
উদ্দীপক-(i) 'বৃষ্টি' কবিতার কোন দিকটিকে উপস্থাপন করেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপক (ⅰ) 'বৃষ্টি' কবিতার গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বৃষ্টি এসে প্রকৃতিকে সজীব করে দেওয়ার দিকটিকে উপস্থাপন করেছে। 'বৃষ্টি' কবিতায় বাংলার রুক্ষ প্রকৃতিতে বৃষ্টির আগমনের কথা বলা হয়েছে। কৃষিপ্রধান এই বাংলায় বৃষ্টি খুব প্রতীক্ষিত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যখন প্রকৃতি রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে তখন প্রকৃতি বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়ার জন্য অধিক আগ্রহে থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের কথাও এ কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে খরায় বা বৃষ্টিহীনতায় প্রকৃতির রুক্ষ অবস্থা এবং কৃষকের কষ্টকর অবস্থার কথা বলা হয়েছে। তিন মাসের খরায় জমি ফেটে খাঁ খাঁ করছে। কৃষক রমিজ ও তার পরিবার বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছিল। এক বিকেলে কালো মেঘ জমে ভারী বৃষ্টি নামলে রমিজ তার ছেলেকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলে যে, বৃষ্টি তাদের নতুন জীবনের সূচনা করল। উদ্দীপকের এ অবস্থাটি 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতিতে বৃষ্টির আগমনে সজীবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। 'বৃষ্টি' কবিতায় কবি বৃষ্টির অভাবে প্রকৃতিতে বিরাজমান রুক্ষতা, তৃষ্ণাকাতর হয়ে ওঠা ফসলের মাঠ ও বনের গাছপালার কথা বলেছেন। আর বৃষ্টির আগমনে কীভাবে প্রকৃতি স্নিগ্ধ ও কোমল হয়ে ওঠে তা দেখিয়েছেন। বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের মতো চৌচির মাঠ বৃষ্টির পানিতে ভরে ওঠে। তখন ফসল ফলানোর জন্য সেই মাঠে চাষ দেওয়া যায়। রুক্ষ প্রকৃতিতে বৃষ্টির আগমনে প্রাণসঞ্চারের দিকটি উদ্দীপকেও উঠে এসেছে। বৃষ্টি রমিজ শেখের গ্রামে ও জীবনে প্রাণের সঞ্চার করে যেন।
"উদ্দীপক-(i), উদ্দীপক-(ii)-এর পৃথক অভিব্যক্তি নয়; উভয়ের সম্মিলিত ভাবনাই 'বৃষ্টি' কবিতার মূলবার্তা।"-মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর

বৃষ্টি প্রকৃতি ও মানবমনে যে প্রভাব ফেলে তার ভিত্তিতে বলা যায়, "উদ্দীপক (i), উদ্দীপক (ii)-এর পৃথক অভিব্যক্তি নয়; উভয়ের সম্মিলিত ভাবনাই 'বৃষ্টি' কবিতার মূলবার্তা"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, প্রকৃতি বৃষ্টির ছোঁয়ায় সজীব হয়ে ওঠে, পায় নতুনত্বের ছোঁয়া। প্রকৃতিকে বর্ষা বৈচিত্র্যময় করে তুলে যেন নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে বর্ষায় মানবমনেও প্রভাব পড়ে। বর্ষার সঙ্গে প্রকৃতি ও মানুষের মনের সংযোগ অত্যন্ত নিবিড়। উদ্দীপক (i)-এ খরায় প্রকৃতির রুক্ষ অবস্থার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। বৃষ্টি নেমে প্রকৃতি ও জনজীবনে নতুন জীবনের সূচনার কথা বিবৃত হয়েছে। উদ্দীপক (ii)-এ বৃষ্টিতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনিমিতার অতীত স্মৃতি রোমন্থনের কথা বলা হয়েছে। বৃষ্টির শব্দ তাকে শৈশবের স্মৃতিতে নিয়ে যেত যখন সে দাদুবাড়িতে বৃষ্টির পানিতে কাগজের নৌকা ভাসাত। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও প্রকৃতি ও মানবমনে বৃষ্টির প্রভাব দেখানো হয়েছে উদ্দীপক দুটির মতো। 'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, বর্ষা প্রকৃতিতে প্রাণ স্পন্দন নিয়ে আসে। নদীর দুই পাড়ে প্লাবন দেখা দেয়। আকাশে মেঘের খেলা দেখা যায়। বিভিন্ন ফুল ফুটে সুঘ্রাণে চারদিক মোহিত করে। রুক্ষ মাঠ-ঘাট বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। শুধু তাই নয়, বৃষ্টি সংবেদনশীল মানুষের' মনেও ভাব জাগায়। মনে পড়ে সুখময় অতীত স্মৃতি। বৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবমন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই বিষয় দুটি উদ্দীপকেও দেখা যায়। উদ্দীপক (i)-এ দেখা যায় প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাব এবং উদ্দীপক (ii)-এ দেখা যায় মানবমনে বৃষ্টির প্রভাব। এ দুটির সম্মিলিত ভাবনা 'বৃষ্টি' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবকে তুলে ধরেছে। তবে উদ্দীপক (i) কিংবা উদ্দীপক (ii) কোনোটিই একক ভাবে 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাবকে তুলে ধরতে পারে না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো