Chapter 6 : সমাজ জীবনের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান Sociology 1st Paper

HSC Sociology 1st Paper এর Chapter 6 : সমাজ জীবনের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৩৫

প্রশ্ন

Sociology 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Rajshahi · 2017

ক
অণু পরিবার কী?

উত্তর

স্বামী-স্ত্রী সহযোগে অথবা স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানকে নিয়ে গঠিত পরিবার হলো অণু পরিবার (Nuclear Family)।
খ
সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মানব শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। বস্তুত সামাজিকীকরণ হচ্ছে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। কেননা, জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন বাহন ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীদল শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া তাই সামাজিকীকরণকে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোন উপাদানটি বসবে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে। সামাজিক বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হচ্ছে সংস্কৃতি। সাধারণ অর্থে, সংস্কৃতি বলতে আমরা নাটক, গান, নৃত্য, আবৃত্তি প্রভৃতি বিনোদনমূলক বিষয়গুলোকে বুঝি। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতি প্রত্যয়টি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ যা কিছু করে তাই সংস্কৃতি। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে গিয়ে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানুষ যা কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করেছে তার সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। অর্থাৎ- সংস্কৃতি হলো সার্বিক জীবনপ্রণালি। সমাজজীবনের বিভিন্ন উপাদানের ভিত্তিতে সংস্কৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। মূলত যান্ত্রিকতা ও শিল্পকলার বদৌলতে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য যে সমস্ত উপাদান বিদ্যমান তাই বস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ট্রাক্টর, কল-কারখানার যন্ত্রপাতি, ইট, রড, রাস্তাঘাট প্রভৃতি। অন্যদিকে, সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, বিশ্বাস প্রভৃতি। উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের একপাশে কৃষিপ্রযুক্তি, শিল্পপ্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অপরপাশে ভাষা, সাহিত্য, লোকরীতি, শিল্পকলা তথা অবস্তুগত সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে যা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে একথা স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে '?' চিহ্নিতস্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে।
ঘ
সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সাধনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সমাজজীবনে সামাজিক সম্পর্ক নির্ণয়ে উক্ত বিষয় অর্থাৎ, জ্ঞাতি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সমাজজীবনে জ্ঞাতিরা সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য শিশুকে প্রেরণা দিয়ে থাকে। জ্ঞাতিরাই শিশুকে পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। জ্ঞাতিদের হাতেই সামাজিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়। এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক যোগানের একমাত্র বাহন হচ্ছে ভূমি। ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, বর্গা দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিদের মধ্যে লেনদেন এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর সাধারণত জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কেননা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কাছে জমি বিক্রয় করলে তা পুনরায় ফেরত পাওয়ার আশা থাকে। টাকা-পয়সা হাওলাত ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সাহায্য পাওয়া যায়। গ্রামের কৃষক পরিবারের মধ্যে অনেকেরই কৃষি উপকরণ, যেমন- বলদ, লাঙল, জোয়াল, মই ইত্যাদি থাকে না। এক্ষেত্রে তারা এগুলো জ্ঞাতিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাছাড়া তারা তুলনামূলকভাবে বিশ্বস্ত হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্ঞাতিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় দেখা যায়, যে প্রার্থীর জ্ঞাতিগোষ্ঠী বেশি তিনি সহজে জয় লাভ করেন। অনেকেই ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এবং অধিক সমর্থন লাভের আশায় বড় বড় জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে জ্ঞাতি সম্পর্ক বৃদ্ধি করে থাকেন। পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সমাজজীবনে জ্ঞাতি সম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Rajshahi · 2017

ক
অণু পরিবার কী?

উত্তর

স্বামী-স্ত্রী সহযোগে অথবা স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানকে নিয়ে গঠিত পরিবার হলো অণু পরিবার (Nuclear Family)।
খ
সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মানব শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। বস্তুত সামাজিকীকরণ হচ্ছে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। কেননা, জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন বাহন ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীদল শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া তাই সামাজিকীকরণকে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোন উপাদানটি বসবে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে। সামাজিক বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হচ্ছে সংস্কৃতি। সাধারণ অর্থে, সংস্কৃতি বলতে আমরা নাটক, গান, নৃত্য, আবৃত্তি প্রভৃতি বিনোদনমূলক বিষয়গুলোকে বুঝি। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতি প্রত্যয়টি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ যা কিছু করে তাই সংস্কৃতি। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে গিয়ে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানুষ যা কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করেছে তার সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। অর্থাৎ- সংস্কৃতি হলো সার্বিক জীবনপ্রণালি। সমাজজীবনের বিভিন্ন উপাদানের ভিত্তিতে সংস্কৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। মূলত যান্ত্রিকতা ও শিল্পকলার বদৌলতে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য যে সমস্ত উপাদান বিদ্যমান তাই বস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ট্রাক্টর, কল-কারখানার যন্ত্রপাতি, ইট, রড, রাস্তাঘাট প্রভৃতি। অন্যদিকে, সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, বিশ্বাস প্রভৃতি। উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের একপাশে কৃষিপ্রযুক্তি, শিল্পপ্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অপরপাশে ভাষা, সাহিত্য, লোকরীতি, শিল্পকলা তথা অবস্তুগত সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে যা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে একথা স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে '?' চিহ্নিতস্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে।
ঘ
সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সাধনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সমাজজীবনে সামাজিক সম্পর্ক নির্ণয়ে উক্ত বিষয় অর্থাৎ, জ্ঞাতি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সমাজজীবনে জ্ঞাতিরা সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য শিশুকে প্রেরণা দিয়ে থাকে। জ্ঞাতিরাই শিশুকে পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। জ্ঞাতিদের হাতেই সামাজিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়। এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক যোগানের একমাত্র বাহন হচ্ছে ভূমি। ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, বর্গা দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিদের মধ্যে লেনদেন এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর সাধারণত জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কেননা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কাছে জমি বিক্রয় করলে তা পুনরায় ফেরত পাওয়ার আশা থাকে। টাকা-পয়সা হাওলাত ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সাহায্য পাওয়া যায়। গ্রামের কৃষক পরিবারের মধ্যে অনেকেরই কৃষি উপকরণ, যেমন- বলদ, লাঙল, জোয়াল, মই ইত্যাদি থাকে না। এক্ষেত্রে তারা এগুলো জ্ঞাতিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাছাড়া তারা তুলনামূলকভাবে বিশ্বস্ত হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্ঞাতিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় দেখা যায়, যে প্রার্থীর জ্ঞাতিগোষ্ঠী বেশি তিনি সহজে জয় লাভ করেন। অনেকেই ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এবং অধিক সমর্থন লাভের আশায় বড় বড় জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে জ্ঞাতি সম্পর্ক বৃদ্ধি করে থাকেন। পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সমাজজীবনে জ্ঞাতি সম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
কোন অঞ্চল মানুষের বসবাসের উপযোগী?

উত্তর

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল মানুষের বসবাসের উপযোগী।
খ
বংশগতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

বংশগতি বা জৈবিক প্রভাব বলতে বোঝায় এমন কিছু জৈবিক ও মানসিক গুণ যা মানুষ পূর্ববর্তী বংশ বা পিতামাতা থেকে জন্মসূত্রে লাভ করে। মানুষ যেসব দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য পিতামাতা থেকে জন্মসূত্রে লাভ করে সেগুলো হলো লিঙ্গ, চোখ, চুলের রং, গায়ের রং, চুলের ধরন, হাত-পায়ের গড়ন, দেহের উচ্চতা, রক্তের শ্রেণি, জ্ঞান, মেধা, পারদর্শিতা ইত্যাদি। সুতরাং, প্রাকৃতিক নিয়মে পূর্ববর্তী বংশধরদের দৈহিক ও মানসিক গড়ন পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। আর এই স্থানান্তরিত জটিল বৈশিষ্ট্যাবলি 'বংশগতি' নামে পরিচিত।
গ
উপরের ছকে 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের প্রভাব বিস্তারকারী যে উপাদানটির ইঙ্গিত রয়েছে তা বর্ণনা কর।

উত্তর

ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাববিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানের ইঙ্গিত রয়েছে। সামজজীবনকে যেসব উপাদান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে সেসবের মধ্যে সংস্কৃতি তথা কৃৎকৌশল অন্যতম। সংস্কৃতি হলো মানুষের সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা যেসব কার্যসাধন করি সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। সংস্কৃতি বলতে সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট সব বস্তুগত ও অবস্তুগত উপকরণকে বুঝিয়ে থাকেন। সংস্কৃতির যে উপাদান বাস্তবরূপ ধারণ করে তাকে সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদান বলা হয়। যেমন- ঘরবাড়ি, কলকারখানা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। অন্যদিকে সংস্কৃতির যে উপাদানটি উপলব্ধি করা যায় তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন- গান-বাজনা, নৃত্য, কবিতা ইত্যাদি। উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সমাজের একটি উপাদানের কিছু চিত্র হিসেবে পৌষ মেলা, নবান্ন উৎসব, ভাওয়াইয়া গান, পহেলা বৈশাখ, তাঁতশিল্প ও মহানগর নাট্যমঞ্চকে দেখানো হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ। সুতরাং বলা যায়, ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে সাংস্কৃতিক উপাদানের ইঙ্গিত রয়েছে।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত উপাদানটি সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, সাংস্কৃতিক উপাদান সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। বস্তুত সমাজজীবনে সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- সামাজিক সম্পর্ক নির্ধারণে সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অনস্বীকার্য। সমাজজীবনে যুগে যুগে সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে উৎপাদন কৌশল বা সাংস্কৃতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মানুষের অভ্যাস ও রুচিবোধ জাগ্রত করা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উপাদান কার্যকর ভূমিকা পালন করে তাকে। যেমন- কৃষকের অভ্যাস ও রুচিবোধ তার পরিবারের সদস্যরা রপ্ত করে। আবার শিল্পপতির ছেলে-মেয়েরা তাদের অভ্যাস ও রুচিবোধের বিষয়গুলো পরিবারের কাছ থেকেই রপ্ত করে। সাংস্কৃতিক উপাদানের দ্বারা এ বিষয়গুলো রপ্ত করা হয়। সমাজজীবনে অর্থব্যবস্থার ওপরও সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অপরিসীম। কৃষিকাজের সূচনার মাধ্যমে সমাজে যখন স্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয় তখন মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আগমন ঘটে। আবার যখন শিল্পসমাজের উত্তরণ ঘটে তখন ব্যক্তিগত মালিকানার প্রভাবে অর্থব্যবস্থার উন্নয়নে মানুষ তৎপর হয়ে ওঠে। এর মূল কারণ হিসেবে সাংস্কৃতিক উপাদানই ভূমিকা রেখেছে। মানুষের পেশাগত বৈচিত্র্য আনয়নের ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উপাদান ক্রিয়াশীল। যুগে যুগে ভিন্ন পেশায় আসার ক্ষেত্রে মানুষকে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাবিত করেছে। এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন ও গতিশীলতার ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজব্যবস্থার সাথে সাংস্কৃতিক উপাদান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাবে সমাজজীবনে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
কোন অঞ্চল মানুষের বসবাসের উপযোগী?

উত্তর

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল মানুষের বসবাসের উপযোগী।
খ
বংশগতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

বংশগতি বা জৈবিক প্রভাব বলতে বোঝায় এমন কিছু জৈবিক ও মানসিক গুণ যা মানুষ পূর্ববর্তী বংশ বা পিতামাতা থেকে জন্মসূত্রে লাভ করে। মানুষ যেসব দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য পিতামাতা থেকে জন্মসূত্রে লাভ করে সেগুলো হলো লিঙ্গ, চোখ, চুলের রং, গায়ের রং, চুলের ধরন, হাত-পায়ের গড়ন, দেহের উচ্চতা, রক্তের শ্রেণি, জ্ঞান, মেধা, পারদর্শিতা ইত্যাদি। সুতরাং, প্রাকৃতিক নিয়মে পূর্ববর্তী বংশধরদের দৈহিক ও মানসিক গড়ন পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। আর এই স্থানান্তরিত জটিল বৈশিষ্ট্যাবলি 'বংশগতি' নামে পরিচিত।
গ
উপরের ছকে 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের প্রভাব বিস্তারকারী যে উপাদানটির ইঙ্গিত রয়েছে তা বর্ণনা কর।

উত্তর

ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাববিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানের ইঙ্গিত রয়েছে। সামজজীবনকে যেসব উপাদান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে সেসবের মধ্যে সংস্কৃতি তথা কৃৎকৌশল অন্যতম। সংস্কৃতি হলো মানুষের সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা যেসব কার্যসাধন করি সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। সংস্কৃতি বলতে সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট সব বস্তুগত ও অবস্তুগত উপকরণকে বুঝিয়ে থাকেন। সংস্কৃতির যে উপাদান বাস্তবরূপ ধারণ করে তাকে সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদান বলা হয়। যেমন- ঘরবাড়ি, কলকারখানা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। অন্যদিকে সংস্কৃতির যে উপাদানটি উপলব্ধি করা যায় তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন- গান-বাজনা, নৃত্য, কবিতা ইত্যাদি। উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সমাজের একটি উপাদানের কিছু চিত্র হিসেবে পৌষ মেলা, নবান্ন উৎসব, ভাওয়াইয়া গান, পহেলা বৈশাখ, তাঁতশিল্প ও মহানগর নাট্যমঞ্চকে দেখানো হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ। সুতরাং বলা যায়, ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে সাংস্কৃতিক উপাদানের ইঙ্গিত রয়েছে।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত উপাদানটি সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, সাংস্কৃতিক উপাদান সমাজব্যবস্থাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। বস্তুত সমাজজীবনে সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- সামাজিক সম্পর্ক নির্ধারণে সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অনস্বীকার্য। সমাজজীবনে যুগে যুগে সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে উৎপাদন কৌশল বা সাংস্কৃতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মানুষের অভ্যাস ও রুচিবোধ জাগ্রত করা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উপাদান কার্যকর ভূমিকা পালন করে তাকে। যেমন- কৃষকের অভ্যাস ও রুচিবোধ তার পরিবারের সদস্যরা রপ্ত করে। আবার শিল্পপতির ছেলে-মেয়েরা তাদের অভ্যাস ও রুচিবোধের বিষয়গুলো পরিবারের কাছ থেকেই রপ্ত করে। সাংস্কৃতিক উপাদানের দ্বারা এ বিষয়গুলো রপ্ত করা হয়। সমাজজীবনে অর্থব্যবস্থার ওপরও সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অপরিসীম। কৃষিকাজের সূচনার মাধ্যমে সমাজে যখন স্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয় তখন মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আগমন ঘটে। আবার যখন শিল্পসমাজের উত্তরণ ঘটে তখন ব্যক্তিগত মালিকানার প্রভাবে অর্থব্যবস্থার উন্নয়নে মানুষ তৎপর হয়ে ওঠে। এর মূল কারণ হিসেবে সাংস্কৃতিক উপাদানই ভূমিকা রেখেছে। মানুষের পেশাগত বৈচিত্র্য আনয়নের ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উপাদান ক্রিয়াশীল। যুগে যুগে ভিন্ন পেশায় আসার ক্ষেত্রে মানুষকে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাবিত করেছে। এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন ও গতিশীলতার ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজব্যবস্থার সাথে সাংস্কৃতিক উপাদান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাবে সমাজজীবনে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Comilla · 2019

ক
'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?

উত্তর

'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ কার্ল মার্কসের।
খ
সভ্যতা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বস্তুগত সংস্কৃতির চূড়ান্ত বিকাশই হলো সভ্যতা । সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির এমন একটি উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যা নগর জীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে উন্মেষ হয়েছে এবং যে পর্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে, “সভ্যতা হলো আমাদের যা আছে বা আমরা যা ব্যবহার করি।”
গ
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের কোন উপাদানটি প্রযোজ্য হবে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী ভৌগোলিক উপাদানটি প্রযোজ্য হবে। সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহের মধ্য থেকে চারটি উপাদানকে সমাজবিজ্ঞানীরা মৌলিক উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন। যথা- ১. জৈবিক উপাদান, ২. ভৌগোলিক উপাদান, ৩. সাংস্কৃতিক উপাদান এবং ৪. সামাজিক উপাদান। এ সমস্ত উপাদান ব্যক্তিজীবনে যেমন প্রভাব বিস্তার করে তেমনি ব্যক্তির সমাজজীবনকেও প্রভাবিত করে । প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ নিয়ে গড়ে ওঠা পরিবেশকে ভৌগোলিক পরিবেশ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, ভৌগোলিক পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক জলবায়ু, তাপমাত্রা, মৃত্তিকা, জলের অবস্থান ও গতি, বনাঞ্চল, ঋতু, পশুপাখি, ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প ইত্যাদিকে বোঝায়। অর্থাৎ জৈব-সামাজিক উপাদান এবং মানবসৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ বাদে প্রায় সবই ভৌগোলিক পরিবেশের অন্তর্গত। উদ্দীপকের উল্লখিত চিত্রে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী চারটি উপাদানের অন্যতম ভৌগোলিক উপাদান অনুপস্থিত। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, '?' চিহ্নিত স্থানটিতে ভৌগোলিক উপাদান প্রযোজ্য হবে।
ঘ
সমাজজীবনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

সমাজজীবনে উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানের নির্দেশিত বিষয় তথা ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও সভ্যতার উত্থান নির্ভর করে জলবায়ু এবং আবহাওয়ার ওপর। যেমন- নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু ও আবহাওয়া ফসল উৎপাদনে সহায়ক হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার ঘনবসতি হয়েছে এবং যার ফলে সভ্যতারও উৎপত্তি ঘটেছে। একটি দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে তার উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর। আর এ উৎপাদনের জন্যে দরকার উপযুক্ত জলবায়ু, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপ, আলো ইত্যাদি। তাই ভৌগোলিক পরিবেশের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা। পোশাক-পরিচ্ছদ ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারাই নির্ধারিত হয়। যেমন— শীত প্রধান অঞ্চলে মোটা কাপড় বা গরম পশমি কাপড় পরার প্রচলন এবং গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে হালকা সুতি কাপড়ের প্রচলন দেখা যায়। ভৌগোলিক পরিবেশভেদে ঘরবাড়ির ধরন তথা আবাসন ব্যবস্থা ভিন্ন হয়। যেমন— শীতপ্রধান দেশের ঘরবাড়ি আর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ির ধরন এক নয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনসমষ্টির দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় বাহ্যিক আকৃতির দিক থেকে সব মানুষ এক নয়। সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ শ্বেত বর্ণের এবং গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ কৃষ্ণ বর্ণের হয়ে থাকে। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Comilla · 2019

ক
'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?

উত্তর

'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ কার্ল মার্কসের।
খ
সভ্যতা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বস্তুগত সংস্কৃতির চূড়ান্ত বিকাশই হলো সভ্যতা । সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির এমন একটি উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যা নগর জীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে উন্মেষ হয়েছে এবং যে পর্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে, “সভ্যতা হলো আমাদের যা আছে বা আমরা যা ব্যবহার করি।”
গ
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের কোন উপাদানটি প্রযোজ্য হবে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী ভৌগোলিক উপাদানটি প্রযোজ্য হবে। সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহের মধ্য থেকে চারটি উপাদানকে সমাজবিজ্ঞানীরা মৌলিক উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন। যথা- ১. জৈবিক উপাদান, ২. ভৌগোলিক উপাদান, ৩. সাংস্কৃতিক উপাদান এবং ৪. সামাজিক উপাদান। এ সমস্ত উপাদান ব্যক্তিজীবনে যেমন প্রভাব বিস্তার করে তেমনি ব্যক্তির সমাজজীবনকেও প্রভাবিত করে । প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ নিয়ে গড়ে ওঠা পরিবেশকে ভৌগোলিক পরিবেশ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, ভৌগোলিক পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক জলবায়ু, তাপমাত্রা, মৃত্তিকা, জলের অবস্থান ও গতি, বনাঞ্চল, ঋতু, পশুপাখি, ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প ইত্যাদিকে বোঝায়। অর্থাৎ জৈব-সামাজিক উপাদান এবং মানবসৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ বাদে প্রায় সবই ভৌগোলিক পরিবেশের অন্তর্গত। উদ্দীপকের উল্লখিত চিত্রে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী চারটি উপাদানের অন্যতম ভৌগোলিক উপাদান অনুপস্থিত। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, '?' চিহ্নিত স্থানটিতে ভৌগোলিক উপাদান প্রযোজ্য হবে।
ঘ
সমাজজীবনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

সমাজজীবনে উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানের নির্দেশিত বিষয় তথা ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও সভ্যতার উত্থান নির্ভর করে জলবায়ু এবং আবহাওয়ার ওপর। যেমন- নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু ও আবহাওয়া ফসল উৎপাদনে সহায়ক হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার ঘনবসতি হয়েছে এবং যার ফলে সভ্যতারও উৎপত্তি ঘটেছে। একটি দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে তার উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর। আর এ উৎপাদনের জন্যে দরকার উপযুক্ত জলবায়ু, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপ, আলো ইত্যাদি। তাই ভৌগোলিক পরিবেশের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা। পোশাক-পরিচ্ছদ ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারাই নির্ধারিত হয়। যেমন— শীত প্রধান অঞ্চলে মোটা কাপড় বা গরম পশমি কাপড় পরার প্রচলন এবং গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে হালকা সুতি কাপড়ের প্রচলন দেখা যায়। ভৌগোলিক পরিবেশভেদে ঘরবাড়ির ধরন তথা আবাসন ব্যবস্থা ভিন্ন হয়। যেমন— শীতপ্রধান দেশের ঘরবাড়ি আর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ির ধরন এক নয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনসমষ্টির দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় বাহ্যিক আকৃতির দিক থেকে সব মানুষ এক নয়। সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ শ্বেত বর্ণের এবং গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ কৃষ্ণ বর্ণের হয়ে থাকে। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো