HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক

Rajshahi · 2017
ক
একটি শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
উত্তর
একটি শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম হলো পরিবার।
খ
'শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ পরিবারের অন্যতম কাজ'- বুঝিয়ে দাও।
উত্তর
শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ করাই পরিবারের প্রধান বা মুখ্য কাজ।
শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শিশু অবস্থায় সবাই খুব অসহায় থাকে। ফলে, নানারকম বিপদ-আপদ ও দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন- দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ফলে শিশুর জীবন বিপন্ন হতে পারে, কোনো কারণে শিশু ভয় পেলে তার মানসিক ভারসাম্যও হারাতে পারে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিপদ-আপদ থেকে শিশুদের রক্ষা করা তথা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবারের অন্যতম প্রধান কাজ।
গ
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক সংগঠনের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক সংগঠনের অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় জ্ঞাতি সম্পর্ক (Kinship)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
জ্ঞাতি সম্পর্ক মানবজীবনের একটি নিয়ন্ত্রিত প্রথা। প্রাচীন কি আধুনিক প্রায় সব সমাজেই জ্ঞাতি সম্পর্ক হচ্ছে সমাজ কাঠামোর চাবিকাঠি। জ্ঞাতি সম্পর্কের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো '। পারিভাষিক অর্থে, জ্ঞাতি সম্পর্ক বলতে সেই সামাজিক সম্পর্ককে বোঝায় যাতে সমাজের প্রতিটি সদস্য বিভিন্ন সূত্রের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ও অনুমিতভাবে রক্ত সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। যেকোনো সমাজে সামাজিক সম্পর্ক বা সংগঠনের মূলে রয়েছে এই জ্ঞাতি সম্পর্ক। আমাদের পূর্বপুরুষের সাথে জৈবিক বন্ধন, পরিবারের বিবাহবন্ধন, কাল্পনিক বন্ধন এবং দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞাতি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্ক অপেক্ষা কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতাই জ্ঞাতি সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মোটকথা রক্তসম্পর্কিত, বৈবাহিক, প্রথাগত ও কাল্পনিক বন্ধনের মাধ্যমেই জ্ঞাতিসম্পর্কের সৃষ্টি হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত "?" চিহ্নিত স্থানে জ্ঞাতি সম্পর্ক প্রত্যয়টি বসবে।
ঘ
সমাজজীবনে উক্ত বিষয়টি কতটুকু প্রভাব ফেলে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
সমাজজীবনে সামাজিক সম্পর্ক নির্ণয়ে উক্ত বিষয় অর্থাৎ, জ্ঞাতি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সমাজজীবনে জ্ঞাতিরা সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য শিশুকে প্রেরণা দিয়ে থাকে। জ্ঞাতিরাই শিশুকে পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। জ্ঞাতিদের হাতেই সামাজিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়।
এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক যোগানের একমাত্র বাহন হচ্ছে ভূমি। ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, বর্গা দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিদের মধ্যে লেনদেন এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর সাধারণত জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কেননা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কাছে জমি বিক্রয় করলে তা পুনরায় ফেরত পাওয়ার আশা থাকে। টাকা-পয়সা হাওলাত ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সাহায্য পাওয়া যায়। গ্রামের কৃষক পরিবারের মধ্যে অনেকেরই কৃষি উপকরণ, যেমন- বলদ, লাঙল, জোয়াল, মই ইত্যাদি থাকে না। এক্ষেত্রে তারা এগুলো জ্ঞাতিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাছাড়া তারা তুলনামূলকভাবে বিশ্বস্ত হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্ঞাতিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় দেখা যায়, যে প্রার্থীর জ্ঞাতিগোষ্ঠী বেশি তিনি সহজে জয় লাভ করেন। অনেকেই ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এবং অধিক সমর্থন লাভের আশায় বড় বড় জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে জ্ঞাতি সম্পর্ক বৃদ্ধি করে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সমাজজীবনে জ্ঞাতি সম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
