HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সেলিনা বেগম একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রতিষ্ঠান তাকে ভান্ডারিয়া গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি গবেষণা করার অনুমতি দেয়। এ গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের খন্ড খন্ড যুদ্ধ হয়েছিল। গ্রামের সাধারণ মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। এলাকাটি নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে পাকিস্তানি বাহিনী নানা কৌশলে যুদ্ধ করেছে। গবেষক সেলিনা বেগম এ গবেষণার জন্য একটি সমস্যা নির্বাচন করেন। সমস্যা নির্বাচনের পর তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন এবং কতিপয় সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। কিন্তু গবেষণাকর্মটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে তার প্রতিষ্ঠান এটি পুনরায় করার আদেশ দেয়।
ক
গবেষণা সমস্যার তাত্ত্বিক কাঠামো কী?
উত্তর
একজন গবেষক গবেষণার মাধ্যমে যা জানতে চান বা যে সমস্যাটির সমাধান করতে চান, সে বিষয়টিকে যথাযথভাবে সংজ্ঞায়ন করা হলো সমস্যার তাত্ত্বিক কাঠামো স্থির করা।
খ
সমস্যার তাত্ত্বিক কাঠামো গঠন করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
সমস্যার তাত্ত্বিক কাঠামো গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো একজন গবেষক যা জানতে চান বা যে সমস্যা নিয়ে গবেষণা করবেন তার একটি স্পষ্ট ও যুক্তিসংগত ধারণা প্রদান করা। কেননা একটি শব্দের বিভিন্ন অর্থ বা ব্যাখ্যা থাকলেও গবেষক যখন গবেষণা করেন তখন তিনি কেবল সুনির্দিষ্ট একটি অর্থই গ্রহণ করে থাকেন। এটি গ্রহণ না করা হলে গবেষণাকর্মটি ব্যাহত হতে বাধ্য। এজন্য সমস্যার তাত্ত্বিক কাঠামো প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টির ভূমিকা, ব্যাখ্যা, সংজ্ঞায়ন ইত্যাদি স্পষ্ট করা হয়।
গ
গবেষক সেলিনা এ বিষয়ের ওপর গবেষণা করার জন্য কোন পদ্ধতিটি বেছে নেবেন এবং কেন?
উত্তর
উদ্দীপকের গবেষক সেলিনা ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। কেননা উক্ত গবেষণাকর্মটি এমন একটি বিষয়ের ওপর, যা সংঘটিত হয়েছিল অনেক আগে এবং বর্তমানে এর বাস্তব কোনো অবশিষ্ট অংশ নেই।
গবেষণাটি করতে হবে ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত দলিল-দস্তাবেজ, পুস্তক, ডায়েরি, সেই সময়কার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তির বর্ণনা এবং যুদ্ধের কোনো উপাদান বা প্রামাণ্য বস্তু থাকলে তা বিশ্লেষণ করে। এরূপ গবেষণা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আবশ্যক। কেননা কাজটি খুব সহজসাধ্য কোনো বিষয় নয়। সংগৃহীত উপাদানের উপযুক্ততা বিচার করে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা খুব সূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ পূর্বক ঐতিহাসিক গবেষণাকর্মটি সম্পন্ন করা হয়। ইতিহাস যেহেতু পরিস্থিতি ও পরিবেশের ফসল, তাই ঐতিহাসিক তথ্য ও উপাত্তকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয় তৎকালীন প্রেক্ষাপটের আলোকে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের সেলিনাও তার গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে সফল হবেন।
ঘ
গবেষণাকর্মটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার ওপর গবেষণা করা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। এরূপ গবেষণা করার ক্ষেত্রে প্রায়ই নির্ভর করতে হয় সেকেন্ডারি তথ্য ও উপাত্তের ওপর। এছাড়াও প্রাথমিক উৎস থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
যেমন- ব্যক্তিগত নথি, ডায়েরি, জীবনপুঞ্জি, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ বর্ণনা ইত্যাদি প্রাথমিক উৎস। কিন্তু এরূপ উৎসকে গ্রহণ করতে চাইলে তার যথার্থতা বিচার করতে হবে। যেমন- কোনো একটি ব্যক্তিগত ডায়েরিতে ১৯৭১ সাল সম্পর্কে লেখা থাকতে পারে। কিন্তু এর পাতা, লেখার কালি, কাগজের মান ইত্যাদি ১৯৭১ সালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা দেখার বিষয়। কিংবা সেকেন্ডারি তথ্য হলে এর উৎস, লেখকের বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা, মতাদর্শ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। উদ্দীপকের গবেষণাকর্মটি একটি ঐতিহাসিক গবেষণা। তাই এর সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলোকেও সেভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে। কিন্তু সেলিনা বেগম তার গবেষণাটি এরূপ মানদন্ড অনুসারে করেছেন কিনা, তা বিবেচ্য বিষয়। এরূপ মানদন্ড অনুসরণ করা হয়নি বলেই উদ্দীপকের গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এটি গ্রহণ করেনি।
উপযুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, ঐতিহাসিক গবেষণা করার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করার কথা, তা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় গবেষণাটি গৃহীত হয়নি।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
