HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
কাবিল মিয়া দুষ্ট প্রকৃতির লোক। অনাথ জরিনা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কারণে-অকারণে জরিনাকে মারপিট করে। একদিন সে জরিনাকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। জরিনার মামা বিষয়টি জানতে পেরে কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করে।
Chittagong · 2017
ক
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় কত সালে?
উত্তর
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে।
খ
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?
উত্তর
বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ের বিবাহকে বোঝায়।
বিবাহের প্রথম শর্ত হলো ছেলে-মেয়ের বয়স। প্রচলিত আইন অনুসারে বাংলাদেশে বিবাহের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর আর মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ের প্রকৃত বয়সকে পাশ কাটিয়ে সমাজে অনেক বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে দুজনেরই অথবা কোনো একজনের বয়স কম হয়ে থাকে। আর এ ধরনের বিবাহই বাল্যবিবাহ।
গ
উদ্দীপকে জরিনার মামা কোন আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের জরিনার মামা ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতনরোধ আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন।
আমাদের দেশে সামাজিকভাবে প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সংসদ কর্তৃক 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০" প্রণয়ন করে। আইনটি ২০০৩ সালে সংশোধিত হয়। এই আইনের নারী পাচার সম্পর্কিত ধারা অনুসারে উদ্দীপকের কাবিলের বিচার করা সম্ভব।
কাবিল তার স্ত্রীকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে এসে সে তার স্ত্রীকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এমতাবস্থায় জরিনার মামা কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এখন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ এর ৫ নং ধারায় এ ধরনের অপরাধের প্রকৃতি ও শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারা অনুসারে, 'যদি কোনো নারীকে কোনো পতিতার নিকট বা পতিতালয়ের ব্যবস্থাপকের নিকট বিক্রয় করা হয়, তাহলে যে ব্যক্তি এই কর্ম সাধন করেছেন তিনি সুনিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক বিশ বছর কিন্তু অন্যূন দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন'। কাবিলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
ঘ
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত আইনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সমাজ থেকে নানা ধরনের অপরাধ নিরসনকল্পে আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন অন্যতম সামাজিক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে সমাজে শান্তি নষ্ট হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকার ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনকে আরও কার্যকর করার জন্য ঢেলে সাজিয়েছে।
আমাদের সমাজে নারীরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে ঘরে-বাইরে নির্যাতিত হচ্ছে। যৌতুকের কারণে তারা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের দ্বারা নিগৃহীত হয়, কখনো যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, আবার কখনো পড়ে পাচারকারীদের খপ্পরে। এভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হাত থেকে বাঁচতে এক সময় তারা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। অন্যদিকে আমাদের সমাজে শিশুশ্রম, শিশু পাচার প্রভৃতি অপরাধমূলক ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এ সকল অপরাধ নিরসনে আলোচ্য আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূর্বেকার বলবৎ আইনগুলোর তুলনায় এ আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ। ফলে এ আইনটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর। তবে এই আইনের প্রয়োগকে আরও সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, আলোচ্য আইনটি যদি যথার্থভাবে প্রয়োগ করা যায় তবে সমাজ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন আরও হ্রাস পাবে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
