Chapter 5: সামাজিক আইন এবং সমাজকর্ম Social Work 2nd Paper

HSC Social Work 2nd Paper এর Chapter 5: সামাজিক আইন এবং সমাজকর্ম অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৪২

প্রশ্ন

Social Work 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

কাবিল মিয়া দুষ্ট প্রকৃতির লোক। অনাথ জরিনা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কারণে-অকারণে জরিনাকে মারপিট করে। একদিন সে জরিনাকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। জরিনার মামা বিষয়টি জানতে পেরে কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করে।

Chittagong · 2017

ক
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় কত সালে?

উত্তর

বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে।
খ
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ের বিবাহকে বোঝায়। বিবাহের প্রথম শর্ত হলো ছেলে-মেয়ের বয়স। প্রচলিত আইন অনুসারে বাংলাদেশে বিবাহের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর আর মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ের প্রকৃত বয়সকে পাশ কাটিয়ে সমাজে অনেক বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে দুজনেরই অথবা কোনো একজনের বয়স কম হয়ে থাকে। আর এ ধরনের বিবাহই বাল্যবিবাহ।
গ
উদ্দীপকে জরিনার মামা কোন আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের জরিনার মামা ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতনরোধ আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন। আমাদের দেশে সামাজিকভাবে প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সংসদ কর্তৃক 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০" প্রণয়ন করে। আইনটি ২০০৩ সালে সংশোধিত হয়। এই আইনের নারী পাচার সম্পর্কিত ধারা অনুসারে উদ্দীপকের কাবিলের বিচার করা সম্ভব। কাবিল তার স্ত্রীকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে এসে সে তার স্ত্রীকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এমতাবস্থায় জরিনার মামা কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এখন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ এর ৫ নং ধারায় এ ধরনের অপরাধের প্রকৃতি ও শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারা অনুসারে, 'যদি কোনো নারীকে কোনো পতিতার নিকট বা পতিতালয়ের ব্যবস্থাপকের নিকট বিক্রয় করা হয়, তাহলে যে ব্যক্তি এই কর্ম সাধন করেছেন তিনি সুনিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক বিশ বছর কিন্তু অন্যূন দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন'। কাবিলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
ঘ
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত আইনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমাজ থেকে নানা ধরনের অপরাধ নিরসনকল্পে আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন অন্যতম সামাজিক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে সমাজে শান্তি নষ্ট হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকার ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনকে আরও কার্যকর করার জন্য ঢেলে সাজিয়েছে। আমাদের সমাজে নারীরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে ঘরে-বাইরে নির্যাতিত হচ্ছে। যৌতুকের কারণে তারা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের দ্বারা নিগৃহীত হয়, কখনো যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, আবার কখনো পড়ে পাচারকারীদের খপ্পরে। এভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হাত থেকে বাঁচতে এক সময় তারা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। অন্যদিকে আমাদের সমাজে শিশুশ্রম, শিশু পাচার প্রভৃতি অপরাধমূলক ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এ সকল অপরাধ নিরসনে আলোচ্য আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূর্বেকার বলবৎ আইনগুলোর তুলনায় এ আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ। ফলে এ আইনটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর। তবে এই আইনের প্রয়োগকে আরও সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, আলোচ্য আইনটি যদি যথার্থভাবে প্রয়োগ করা যায় তবে সমাজ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন আরও হ্রাস পাবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

কাবিল মিয়া দুষ্ট প্রকৃতির লোক। অনাথ জরিনা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কারণে-অকারণে জরিনাকে মারপিট করে। একদিন সে জরিনাকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। জরিনার মামা বিষয়টি জানতে পেরে কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করে।

Chittagong · 2017

ক
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় কত সালে?

উত্তর

বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে।
খ
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ের বিবাহকে বোঝায়। বিবাহের প্রথম শর্ত হলো ছেলে-মেয়ের বয়স। প্রচলিত আইন অনুসারে বাংলাদেশে বিবাহের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর আর মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ের প্রকৃত বয়সকে পাশ কাটিয়ে সমাজে অনেক বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে দুজনেরই অথবা কোনো একজনের বয়স কম হয়ে থাকে। আর এ ধরনের বিবাহই বাল্যবিবাহ।
গ
উদ্দীপকে জরিনার মামা কোন আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের জরিনার মামা ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতনরোধ আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন। আমাদের দেশে সামাজিকভাবে প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সংসদ কর্তৃক 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০" প্রণয়ন করে। আইনটি ২০০৩ সালে সংশোধিত হয়। এই আইনের নারী পাচার সম্পর্কিত ধারা অনুসারে উদ্দীপকের কাবিলের বিচার করা সম্ভব। কাবিল তার স্ত্রীকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে এসে সে তার স্ত্রীকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এমতাবস্থায় জরিনার মামা কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এখন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ এর ৫ নং ধারায় এ ধরনের অপরাধের প্রকৃতি ও শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারা অনুসারে, 'যদি কোনো নারীকে কোনো পতিতার নিকট বা পতিতালয়ের ব্যবস্থাপকের নিকট বিক্রয় করা হয়, তাহলে যে ব্যক্তি এই কর্ম সাধন করেছেন তিনি সুনিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক বিশ বছর কিন্তু অন্যূন দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন'। কাবিলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
ঘ
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত আইনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমাজ থেকে নানা ধরনের অপরাধ নিরসনকল্পে আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন অন্যতম সামাজিক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে সমাজে শান্তি নষ্ট হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকার ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনকে আরও কার্যকর করার জন্য ঢেলে সাজিয়েছে। আমাদের সমাজে নারীরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে ঘরে-বাইরে নির্যাতিত হচ্ছে। যৌতুকের কারণে তারা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের দ্বারা নিগৃহীত হয়, কখনো যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, আবার কখনো পড়ে পাচারকারীদের খপ্পরে। এভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হাত থেকে বাঁচতে এক সময় তারা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। অন্যদিকে আমাদের সমাজে শিশুশ্রম, শিশু পাচার প্রভৃতি অপরাধমূলক ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এ সকল অপরাধ নিরসনে আলোচ্য আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূর্বেকার বলবৎ আইনগুলোর তুলনায় এ আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ। ফলে এ আইনটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকর। তবে এই আইনের প্রয়োগকে আরও সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, আলোচ্য আইনটি যদি যথার্থভাবে প্রয়োগ করা যায় তবে সমাজ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন আরও হ্রাস পাবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
আইন কাকে বলে?

উত্তর

মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম ক্ষমতায় প্রণীত এবং অনুমোদিত বিধিবদ্ধ নিয়ম-কানুনই আইন।
খ
সামাজিক আইন কীভাবে সামাজিক সমস্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে?

উত্তর

সামাজিক আইন অপরাধমূলক সামাজিক সমস্যা নিরসনে শাস্তিমূলক বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে। আমাদের সমাজে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। যেমন- বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ইত্যাদি। এ সকল সমস্যা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষিতে সামাজিক আইন প্রণীত হয় এবং এর মাধ্যমে উক্ত সমস্যাগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক আইনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ
ছকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে 'মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১' এর নাম লিখলে এ্যারো ছকগুলো হবে তার ধারা। একসময় মুসলমান সমাজে বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে বেশ অসামঞ্জস্য ছিল। এজন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার (বর্তমান বাংলাদেশ) নারীর মর্যাদা রক্ষা, অধিকার আদায়, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং শিশুদের উত্তরাধিকারিত্ব প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে 'মুসলিম পারিবারিক আইন' কার্যকর করে। ছকে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা উল্লিখিত হয়েছে। এই আইন অনুসারে প্রতিটি বিবাহ রেজিস্ট্রি হতে হবে। বিবাহ রেজিস্ট্রির জন্য ইউনিয়ন কাউন্সিল এক বা একাধিক ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেবে। এই ধারাটি বিবাহের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। ছকে সালিশি কাউন্সিল গঠন সম্পর্কিত ধারাটি মূলত পারিবারিক নানা সমস্যা সমাধান ভূমিকা রাখে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই সালিশি পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদ খোরপোশ ও দেনমোহর আদায়ে সালিশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্বামী তার স্ত্রীর প্রয়োজনমতো ভরণপোষণ দিতে না পারলে স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সালিশি পরিষদ স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়। আলোচ্য আইনের তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পর্কিত ধারাটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা অনুসারে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য স্বামীকে ইউনিয়ন বা পৌর চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত নোটিশ দিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ৯০ দিনের পর তালাক কার্যকর হবে। ছকে ১৯৬১ মুসলিম সালের পারিবারিক আইনের এ ধারাগুলোই দেখানো হয়েছে।

উত্তর

ছকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে কোন আইনের নাম লিখলে এ্যারো ছকগুলো হবে তার ধারা? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোই কি শুধুমাত্র ঐ আইনের ধারা নাকি আরো ধারা আছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও 'মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১' এর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা রয়েছে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন মহিলা ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ এনে দিয়েছে। ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও এই আইনে দ্বিতীয় বিয়ে, বিবাহের বয়স, উত্তরাধিকার সম্পর্কিত ধারাগুলোও সুনির্দিষ্ট। তাছাড়া তালাক ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পর্কিত বিধানও এই আইনে বর্ণিত হয়েছে। আলোচ্য আইন অনুসারে প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকতে স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না। তবে প্রথম স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, অপেক্ষাকৃত স্থায়ী মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা, দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষায় ব্যর্থতা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় সালিশি কাউন্সিল দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি দিতে পারে। আর অনুমতি ব্যতীত কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করলে স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। এজন্য এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আলোচ্য আইনে মুসলিম ছেলে ও মেয়ের বিয়ের বয়স যথাক্রমে ১৮ ও ১৬ বছর। বর্তমানে আমাদের দেশে এ বয়স ২১ ও ১৮ বছর। আলোচ্য আইনে উত্তরাধিকার সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এই আইনের পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানেরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। বর্তমানে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সন্তান মারা গেলে এবং মৃত ছেলে বা মেয়ের সন্তান থাকলে তারা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির অংশ পাবে। ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে উপর্যুক্ত ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়নি। যদিও এই সবগুলো ধারার সমন্বয়ে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অত্যন্ত কার্যকর একটি আইন হিসেবে আমাদের দেশে প্রচলিত রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
আইন কাকে বলে?

উত্তর

মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম ক্ষমতায় প্রণীত এবং অনুমোদিত বিধিবদ্ধ নিয়ম-কানুনই আইন।
খ
সামাজিক আইন কীভাবে সামাজিক সমস্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে?

উত্তর

সামাজিক আইন অপরাধমূলক সামাজিক সমস্যা নিরসনে শাস্তিমূলক বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে। আমাদের সমাজে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। যেমন- বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ইত্যাদি। এ সকল সমস্যা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষিতে সামাজিক আইন প্রণীত হয় এবং এর মাধ্যমে উক্ত সমস্যাগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক আইনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ
ছকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে 'মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১' এর নাম লিখলে এ্যারো ছকগুলো হবে তার ধারা। একসময় মুসলমান সমাজে বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয়ে বেশ অসামঞ্জস্য ছিল। এজন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার (বর্তমান বাংলাদেশ) নারীর মর্যাদা রক্ষা, অধিকার আদায়, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং শিশুদের উত্তরাধিকারিত্ব প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে 'মুসলিম পারিবারিক আইন' কার্যকর করে। ছকে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা উল্লিখিত হয়েছে। এই আইন অনুসারে প্রতিটি বিবাহ রেজিস্ট্রি হতে হবে। বিবাহ রেজিস্ট্রির জন্য ইউনিয়ন কাউন্সিল এক বা একাধিক ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেবে। এই ধারাটি বিবাহের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। ছকে সালিশি কাউন্সিল গঠন সম্পর্কিত ধারাটি মূলত পারিবারিক নানা সমস্যা সমাধান ভূমিকা রাখে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই সালিশি পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদ খোরপোশ ও দেনমোহর আদায়ে সালিশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্বামী তার স্ত্রীর প্রয়োজনমতো ভরণপোষণ দিতে না পারলে স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সালিশি পরিষদ স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়। আলোচ্য আইনের তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পর্কিত ধারাটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা অনুসারে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য স্বামীকে ইউনিয়ন বা পৌর চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত নোটিশ দিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ৯০ দিনের পর তালাক কার্যকর হবে। ছকে ১৯৬১ মুসলিম সালের পারিবারিক আইনের এ ধারাগুলোই দেখানো হয়েছে।

উত্তর

ছকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে কোন আইনের নাম লিখলে এ্যারো ছকগুলো হবে তার ধারা? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোই কি শুধুমাত্র ঐ আইনের ধারা নাকি আরো ধারা আছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও 'মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১' এর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা রয়েছে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন মহিলা ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ এনে দিয়েছে। ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও এই আইনে দ্বিতীয় বিয়ে, বিবাহের বয়স, উত্তরাধিকার সম্পর্কিত ধারাগুলোও সুনির্দিষ্ট। তাছাড়া তালাক ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পর্কিত বিধানও এই আইনে বর্ণিত হয়েছে। আলোচ্য আইন অনুসারে প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকতে স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না। তবে প্রথম স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, অপেক্ষাকৃত স্থায়ী মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা, দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষায় ব্যর্থতা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় সালিশি কাউন্সিল দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি দিতে পারে। আর অনুমতি ব্যতীত কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করলে স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। এজন্য এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আলোচ্য আইনে মুসলিম ছেলে ও মেয়ের বিয়ের বয়স যথাক্রমে ১৮ ও ১৬ বছর। বর্তমানে আমাদের দেশে এ বয়স ২১ ও ১৮ বছর। আলোচ্য আইনে উত্তরাধিকার সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এই আইনের পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানেরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। বর্তমানে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সন্তান মারা গেলে এবং মৃত ছেলে বা মেয়ের সন্তান থাকলে তারা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির অংশ পাবে। ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে উপর্যুক্ত ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়নি। যদিও এই সবগুলো ধারার সমন্বয়ে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অত্যন্ত কার্যকর একটি আইন হিসেবে আমাদের দেশে প্রচলিত রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শরিফার বাবা শরিফার বিবাহের পূর্বে তার হবু জামাতাকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দারিদ্র্যের কারণে তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। শরিফার স্বামী এজন্য শরিফাকে মাঝে মাঝে নির্যাতন করছে।

Rajshahi · 2018

ক
কিশোর আদালত কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়?

উত্তর

কিশোর অপরাধীদের বিচার এবং তাদের আচরণ সংশোধনের জন্য কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
খ
'আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক'- বুঝিয়ে লিখ।

উত্তর

আইন সমাজের মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত বেশিরভাগ সময় সমাজের সবল অংশ দুর্বলদের শোষণ ও নিপীড়ন করার চেষ্টা চালায়। এতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ সংঘটিত হয়। তবে যথাযথ আইন ও এর সুষ্ঠু প্রয়োগ মানুষের নেতিবাচক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে অপরাধ হ্রাস করতে পারে। দেশের আইন অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিকে সংশোধিত হতে উৎসাহিত করে। তাই বলা হয়, আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক।
গ
শরিফার স্বামীর অপরাধ যে সামাজিক আইনের লঙ্ঘন তার পরিচয় দাও।

উত্তর

শরীফার স্বামীর অপরাধ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর লঙ্ঘন, যা একটি সামাজিক আইন। যৌতুক একটি সামাজিক কুপ্রথা। এটি নারী তথা সার্বিকভাবে সমাজের উন্নয়নের অন্তরায়। যৌতুক প্রথা নারী ও তার পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করে। যৌতুক নিরোধ আইন- ১৯৮০ এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে এ প্রথা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আইনটিতে এদেশের নারীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে উদ্দীপকের শরীফার স্বামীর মতো অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে এ আইন না মানার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। শরীফার বাবা বিয়ের আগে তার হবু জামাতাকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অর্থাভাবে তিনি সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। শরিফার স্বামী এজন্য তাকে নির্যাতন করে। অথচ বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে এ ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি এর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ঐ আইন অনুযায়ী বিয়েতে কোনো এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষকে কোনো মূল্যবান জামানত দেওয়া বা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া যৌতুক হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো ব্যক্তি যৌতুক দিলে অথবা নিলে অথবা নিতে সাহায্য করলে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে এটি কার্যকর হওয়ার পর যৌতুক দেওয়া বা নেওয়া সংক্রান্ত প্রচলিত সব চুক্তি বাতিল হবে। তাই বলা যায়, শরীফার স্বামী ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনটি অমান্য করেছে।
ঘ
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটির ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইন অর্থাৎ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই কমবেশি নারী নির্যাতনের খবর চোখে পড়ে। আর এ সব নির্যাতনের একটি বড় অংশ যৌতুকের কারণে সংঘটিত হয়। বিবাহিত নারীদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ছাড়াও যৌতুকের কারণে সমাজে আরও বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি রোধ করে নারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ আইন প্রণীত হয়। যৌতুকের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও তার পরিবার। যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে অনেক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে তার সর্বস্ব হারাতে হয়। ফলে এ ধরনের পরিবারগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিবারে নানা ধরনের অশান্তি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা এ কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। যৌতুক নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদও ঘটতে দেখা যায়। কিছুসংখ্যক নারী অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যার মতো চরম নেতিবাচক কাজ করে বসেন। বিবাহবিচ্ছেদ বা স্ত্রীর মৃত্যু কিংবা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দম্পতির ছেলেমেয়েরাও ভোগান্তি পোহায়। তারাও অনেক সময় অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার হয়। এ রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০-তে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া ও এ কাজে সহায়তা করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি যৌতুক দাবি করার জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যৌতুকের জন্য কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে ও এ কারণে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। যৌতুকের জন্য অঙ্গহানি ঘটালে সাজা হবে যাবজ্জীবন বা কমপক্ষে ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। তবে কাগজে- কলমে আইনের ধারাগুলো বেশ শক্ত হলেও যৌতুক প্রথার চল বা যৌতুকজনিত সহিংস ঘটনা প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ। মানুষের মধ্যে এ ধারণা দিতে হবে যে যৌতুক চাইলে বা এজন্য নারীকে নির্যাতন করলে শাস্তি ভোগ অবশ্যম্ভাবী। সার্বিক আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর ভূমিকা অপরিসীম। তবে আইনটি আরও ফলপ্রসূ করতে চাইলে এর কঠোর বাস্তবায়ন দরকার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শরিফার বাবা শরিফার বিবাহের পূর্বে তার হবু জামাতাকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দারিদ্র্যের কারণে তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। শরিফার স্বামী এজন্য শরিফাকে মাঝে মাঝে নির্যাতন করছে।

Rajshahi · 2018

ক
কিশোর আদালত কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়?

উত্তর

কিশোর অপরাধীদের বিচার এবং তাদের আচরণ সংশোধনের জন্য কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
খ
'আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক'- বুঝিয়ে লিখ।

উত্তর

আইন সমাজের মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত বেশিরভাগ সময় সমাজের সবল অংশ দুর্বলদের শোষণ ও নিপীড়ন করার চেষ্টা চালায়। এতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ সংঘটিত হয়। তবে যথাযথ আইন ও এর সুষ্ঠু প্রয়োগ মানুষের নেতিবাচক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে অপরাধ হ্রাস করতে পারে। দেশের আইন অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিকে সংশোধিত হতে উৎসাহিত করে। তাই বলা হয়, আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক।
গ
শরিফার স্বামীর অপরাধ যে সামাজিক আইনের লঙ্ঘন তার পরিচয় দাও।

উত্তর

শরীফার স্বামীর অপরাধ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর লঙ্ঘন, যা একটি সামাজিক আইন। যৌতুক একটি সামাজিক কুপ্রথা। এটি নারী তথা সার্বিকভাবে সমাজের উন্নয়নের অন্তরায়। যৌতুক প্রথা নারী ও তার পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করে। যৌতুক নিরোধ আইন- ১৯৮০ এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে এ প্রথা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আইনটিতে এদেশের নারীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে উদ্দীপকের শরীফার স্বামীর মতো অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে এ আইন না মানার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। শরীফার বাবা বিয়ের আগে তার হবু জামাতাকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অর্থাভাবে তিনি সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। শরিফার স্বামী এজন্য তাকে নির্যাতন করে। অথচ বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে এ ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি এর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ঐ আইন অনুযায়ী বিয়েতে কোনো এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষকে কোনো মূল্যবান জামানত দেওয়া বা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া যৌতুক হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো ব্যক্তি যৌতুক দিলে অথবা নিলে অথবা নিতে সাহায্য করলে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে এটি কার্যকর হওয়ার পর যৌতুক দেওয়া বা নেওয়া সংক্রান্ত প্রচলিত সব চুক্তি বাতিল হবে। তাই বলা যায়, শরীফার স্বামী ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনটি অমান্য করেছে।
ঘ
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটির ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইন অর্থাৎ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই কমবেশি নারী নির্যাতনের খবর চোখে পড়ে। আর এ সব নির্যাতনের একটি বড় অংশ যৌতুকের কারণে সংঘটিত হয়। বিবাহিত নারীদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ছাড়াও যৌতুকের কারণে সমাজে আরও বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি রোধ করে নারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ আইন প্রণীত হয়। যৌতুকের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও তার পরিবার। যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে অনেক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে তার সর্বস্ব হারাতে হয়। ফলে এ ধরনের পরিবারগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিবারে নানা ধরনের অশান্তি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা এ কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। যৌতুক নিয়ে বিরোধের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদও ঘটতে দেখা যায়। কিছুসংখ্যক নারী অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যার মতো চরম নেতিবাচক কাজ করে বসেন। বিবাহবিচ্ছেদ বা স্ত্রীর মৃত্যু কিংবা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দম্পতির ছেলেমেয়েরাও ভোগান্তি পোহায়। তারাও অনেক সময় অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার হয়। এ রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০-তে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া ও এ কাজে সহায়তা করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি যৌতুক দাবি করার জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যৌতুকের জন্য কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে ও এ কারণে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। যৌতুকের জন্য অঙ্গহানি ঘটালে সাজা হবে যাবজ্জীবন বা কমপক্ষে ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। তবে কাগজে- কলমে আইনের ধারাগুলো বেশ শক্ত হলেও যৌতুক প্রথার চল বা যৌতুকজনিত সহিংস ঘটনা প্রত্যাশা অনুযায়ী কমছে না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ। মানুষের মধ্যে এ ধারণা দিতে হবে যে যৌতুক চাইলে বা এজন্য নারীকে নির্যাতন করলে শাস্তি ভোগ অবশ্যম্ভাবী। সার্বিক আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ এর ভূমিকা অপরিসীম। তবে আইনটি আরও ফলপ্রসূ করতে চাইলে এর কঠোর বাস্তবায়ন দরকার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো