Chapter 3: সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন Social Work 2nd Paper

HSC Social Work 2nd Paper এর Chapter 3: সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৮৭

প্রশ্ন

Social Work 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Chittagong · 2017

ক
অধ্যাপক পিগুর মতে বেকারত্ব কী?

উত্তর

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এ.সি. পিগুর মতে, 'যখন কোনো কর্মক্ষম লোক যোগ্যতা অনুসারে প্রচলিত মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে চায় অথচ কাজ পায় না সে অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়।'
খ
অপুষ্টির একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

অপুষ্টির একটি অন্যতম কারণ হলো দারিদ্র্য। প্রকৃতপক্ষে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দারিদ্র্যের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যবহার হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠী অনেক ক্ষেত্রেই তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাই করতে পারে না। ফলে তাদের জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে অপুষ্টির শিকার হয়। এভাবে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি পরস্পর সম্পর্কিত।
গ
উদ্দীপকটিতে "?" চিহ্নিত স্থানে কোন সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ডায়াগ্রামে প্রদত্ত তথ্যানুসারে '?' চিহ্নিত স্থানে অটিজম নামক সামাজিক সমস্যা বসবে। অটিজম হলো মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশগত অসম্পূর্ণতার একটি বৈকল্য বা সমস্যা। এটি এমন একটি স্নায়বিক ও মানসিক সমস্যা, যার ফলে একটি শিশু মানসিকভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। অটিজমের ফলে শিশুরা অস্বাভাবিকভাবে নিজেদেরকে চারপাশ থেকে গুটিয়ে ফেলে। ফলে তাদের মধ্যে আচরণগত নানা সমস্যা দেখা দেয়, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে। অটিজম আক্রান্ত শিশুরা পারস্পরিক মৌখিক ও অমৌখিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। এ কথার অর্থ হলো, অটিস্টিকরা সাধারণ মানুষের মতো মৌখিক যোগাযোগে দক্ষ হয় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা ইশারা-ইঙ্গিতে বা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও যোগাযোগে অসমর্থ হয়। বেশিরভাগ অটিস্টিক শিশুই কথা বলার সময় দৃষ্টি সংযোগ পর্যন্ত করে না। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের আরেকটি লক্ষণ হলো- এরা সমবয়সী বন্ধু বা কারো সাথে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অসুবিধার সম্মুখীন হয়। সাধারণ শিশুদের মতো তাদের সামাজিকীকরণ হয় না; তারা অন্য শিশুদের সাথে মিশতে পারে না এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনেও ব্যর্থ হয়। অটিস্টিক শিশুর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা বিশেষ ধরনের আচরণ বারবার করতে থাকে। কেউ শরীর দোলায়, কেউ খেলনা নিয়ে একইভাবে বারবার সাজাতে থাকে- এভাবে তারা পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ প্রদর্শন করে। এ বিষয়গুলোই উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ
উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য একজন সমাজকর্মীর কী ভূমিকা থাকতে পারে বলে তুমি মনে করো।

উত্তর

উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য অর্থাৎ অটিজম আক্রান্ত শিশুদেরকে সহায়তা প্রদানে এবং অটিজম সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন। আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষই অটিজম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখে না। এর ফলে অটিজম আক্রান্তরা সমাজে নানা ধরনের বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। যখন তাদের জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন ও ভালোবাসা তখন তারা উপেক্ষিত হয় এবং উপহাসের মুখে মানবেতর জীবনযাপন করে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। অটিস্টিক শিশুদের সমস্যাগুলো কখনোই পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। যেটি সম্ভব তা হলো নিবিড় পরিচর্যা ও যত্নের মাধ্যমে তার অক্ষমতা কমিয়ে আনা, যথাযথ সহযোগিতা ও বিশেষ শিক্ষা দিয়ে পরিণত বয়সে তাদেরকে আত্মনির্ভর করা। আর এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী নানা পদক্ষেপ নিতে পারেন। অটিস্টিক শিশুদের অনুভূতি, উদ্দীপনা, সংবেদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা পেশাগত থেরাপির ব্যবস্থা করতে পারেন। তাছাড়া সমাজকর্মীরা অটিস্টিক শিশুদের পুনর্বাসন, তাদের পক্ষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিশেষ প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, অটিজম সমস্যার সমাধানে সমাজকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Chittagong · 2017

ক
অধ্যাপক পিগুর মতে বেকারত্ব কী?

উত্তর

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এ.সি. পিগুর মতে, 'যখন কোনো কর্মক্ষম লোক যোগ্যতা অনুসারে প্রচলিত মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে চায় অথচ কাজ পায় না সে অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়।'
খ
অপুষ্টির একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

অপুষ্টির একটি অন্যতম কারণ হলো দারিদ্র্য। প্রকৃতপক্ষে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দারিদ্র্যের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যবহার হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠী অনেক ক্ষেত্রেই তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাই করতে পারে না। ফলে তাদের জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে অপুষ্টির শিকার হয়। এভাবে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি পরস্পর সম্পর্কিত।
গ
উদ্দীপকটিতে "?" চিহ্নিত স্থানে কোন সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ডায়াগ্রামে প্রদত্ত তথ্যানুসারে '?' চিহ্নিত স্থানে অটিজম নামক সামাজিক সমস্যা বসবে। অটিজম হলো মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশগত অসম্পূর্ণতার একটি বৈকল্য বা সমস্যা। এটি এমন একটি স্নায়বিক ও মানসিক সমস্যা, যার ফলে একটি শিশু মানসিকভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। অটিজমের ফলে শিশুরা অস্বাভাবিকভাবে নিজেদেরকে চারপাশ থেকে গুটিয়ে ফেলে। ফলে তাদের মধ্যে আচরণগত নানা সমস্যা দেখা দেয়, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে। অটিজম আক্রান্ত শিশুরা পারস্পরিক মৌখিক ও অমৌখিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। এ কথার অর্থ হলো, অটিস্টিকরা সাধারণ মানুষের মতো মৌখিক যোগাযোগে দক্ষ হয় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা ইশারা-ইঙ্গিতে বা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও যোগাযোগে অসমর্থ হয়। বেশিরভাগ অটিস্টিক শিশুই কথা বলার সময় দৃষ্টি সংযোগ পর্যন্ত করে না। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের আরেকটি লক্ষণ হলো- এরা সমবয়সী বন্ধু বা কারো সাথে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অসুবিধার সম্মুখীন হয়। সাধারণ শিশুদের মতো তাদের সামাজিকীকরণ হয় না; তারা অন্য শিশুদের সাথে মিশতে পারে না এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনেও ব্যর্থ হয়। অটিস্টিক শিশুর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা বিশেষ ধরনের আচরণ বারবার করতে থাকে। কেউ শরীর দোলায়, কেউ খেলনা নিয়ে একইভাবে বারবার সাজাতে থাকে- এভাবে তারা পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ প্রদর্শন করে। এ বিষয়গুলোই উদ্দীপকে নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ
উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য একজন সমাজকর্মীর কী ভূমিকা থাকতে পারে বলে তুমি মনে করো।

উত্তর

উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য অর্থাৎ অটিজম আক্রান্ত শিশুদেরকে সহায়তা প্রদানে এবং অটিজম সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন। আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষই অটিজম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখে না। এর ফলে অটিজম আক্রান্তরা সমাজে নানা ধরনের বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। যখন তাদের জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন ও ভালোবাসা তখন তারা উপেক্ষিত হয় এবং উপহাসের মুখে মানবেতর জীবনযাপন করে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। অটিস্টিক শিশুদের সমস্যাগুলো কখনোই পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। যেটি সম্ভব তা হলো নিবিড় পরিচর্যা ও যত্নের মাধ্যমে তার অক্ষমতা কমিয়ে আনা, যথাযথ সহযোগিতা ও বিশেষ শিক্ষা দিয়ে পরিণত বয়সে তাদেরকে আত্মনির্ভর করা। আর এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী নানা পদক্ষেপ নিতে পারেন। অটিস্টিক শিশুদের অনুভূতি, উদ্দীপনা, সংবেদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা পেশাগত থেরাপির ব্যবস্থা করতে পারেন। তাছাড়া সমাজকর্মীরা অটিস্টিক শিশুদের পুনর্বাসন, তাদের পক্ষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিশেষ প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, অটিজম সমস্যার সমাধানে সমাজকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সবুর মিয়ার তিন মেয়ে। বড় মেয়েটিকে পনের বছর বয়সে বেকার রফিকের কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় বরকে একটি মোটরসাইকেল ও এক লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। ধার করে এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও মোটরসাইকেল দিতে পারেননি। তাই তার স্বামী বিভিন্ন সময় মেয়েটির উপর নির্যাতন চালায়। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে এক সময় মেয়েটি জীবন দিল।

Chittagong · 2017

ক
HIV′HIV^{\prime} কী?

উত্তর

'HIV (Human Immuno Deficiency Virus)' হলো এক বিশেষ ধরনের অতি ক্ষুদ্র ভাইরাস, যা মানবদেহে এইডস রোগের বিস্তারের জন্য দায়ী।
খ
মাদকাসক্তি বলতে কী বোঝ?

উত্তর

মাদকাসক্তি বলতে ড্রাগ বা মাদকের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও আগ্রহকে বোঝায়, যা ক্রমশ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্বে যে সকল সামাজিক সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম। এটি এমন একটি মনো-স্নায়ু-দৈহিক সমস্যা যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বারবার মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তখন তারা মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে না। সুতরাং বলা যায় মাদকাসক্তি হলো একটি স্নায়ুবিক ধারণা যার কারণে আসক্ত ব্যক্তির আচার-আচরণে অসামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়।
গ
উদ্দীপকে সবুর মিয়ার মেয়েটি মূলত কোন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে জীবন দিল?

উত্তর

উদ্দীপকে সবুর মিয়ার মেয়েটি আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা যৌতুকের কারণে জীবন দিয়েছে। যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ঘৃণ্য প্রথা, যা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিয়ের আগে পাত্রপক্ষ থেকে দর কষাকষি করে এটা নির্ধারণ করা হয়। এটি অনেকটা হাট-বাজারে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মতো। যৌতুকের প্রধান শিকার আমাদের দেশের নারী সমাজ। উদ্দীপকের মেয়েটিকেও যৌতুক প্রথার বলি হতে হয়েছে। সবুর মিয়া তার বড় মেয়েকে বেকার যুবক রফিকের সাথে বিয়ে দেন। বরপক্ষের দাবি অনুযায়ী তিনি বিয়েতে বরকে একটি মোটরসাইকেল ও এক লক্ষ টাকা দিতে রাজি হন। এ থেকে বোঝা যায়, এক্ষেত্রে যৌতুকের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন অনুসারে, যৌতুক বলতে বিবাহের কোনো এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে বিয়ের সময় পূর্বে বা পরে উক্ত পক্ষগণের মধ্যে বিবাহের পণ্য হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করতে সম্মত জামানতকে বোঝায়।' এ থেকে বোঝা যায়, সবুর মিয়া যৌতুক দিতে সম্মত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে চাহিদানুযায়ী যৌতুক না দেওয়ায় তার মেয়েটি স্বামীর নির্যাতনের মুখে মৃত্যুর দেশে পাড়ি জমায়, অর্থাৎ মেয়েটি যৌতুক প্রথার কারণেই জীবন দিল।
ঘ
বাংলাদেশে উক্ত সমস্যার প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর

বাংলাদেশে উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটির অর্থাৎ যৌতুক প্রথার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে এর ফলে কন্যার পিতামাতাকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। আমাদের দেশে প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই কমবেশি নারী নির্যাতনের সংবাদ চোখে পড়ে। আর এ সকল নারী নির্যাতন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংঘটিত হয় যৌতুকের কারণে। অর্থাৎ নারী নির্যাতন যৌতুকের একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব। এর পাশাপাশি যৌতুকের কারণে সমাজে আরও নানাবিধ সমস্যার উদ্ভব হয়ে থাকে। যৌতুকের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও তার পরিবার। যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে তার সর্বস্ব হারাতে হয়। ফলে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়, দারিদ্র্যের হার বাড়ে। যৌতুক প্রদানকে কেন্দ্র করে পরিবারে নানা ধরনের অশান্তি ও পারিবারিক ভাঙন দেখা দেয়। যৌতুকের দাবি পূরণ না করতে পারলে স্বামী তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সে তার বাবার বাড়িতে গিয়েও নানা ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। অনেক সময় স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। ফলে উদ্দীপকের সবুর মিয়ার মেয়ের মতো অনেক নারীরই অকালে জীবনাবসান হয়। অনেক নারীই অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে ছেলে-মেয়ে রেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এতে তার ছেলেমেয়েরাও পরবর্তীতে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। পরিশেষে বলা যায়, আমাদের দেশে যৌতুক প্রথার ভয়াবহ প্রভাব সমাজের সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সবুর মিয়ার তিন মেয়ে। বড় মেয়েটিকে পনের বছর বয়সে বেকার রফিকের কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় বরকে একটি মোটরসাইকেল ও এক লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। ধার করে এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও মোটরসাইকেল দিতে পারেননি। তাই তার স্বামী বিভিন্ন সময় মেয়েটির উপর নির্যাতন চালায়। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে এক সময় মেয়েটি জীবন দিল।

Chittagong · 2017

ক
HIV′HIV^{\prime} কী?

উত্তর

'HIV (Human Immuno Deficiency Virus)' হলো এক বিশেষ ধরনের অতি ক্ষুদ্র ভাইরাস, যা মানবদেহে এইডস রোগের বিস্তারের জন্য দায়ী।
খ
মাদকাসক্তি বলতে কী বোঝ?

উত্তর

মাদকাসক্তি বলতে ড্রাগ বা মাদকের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও আগ্রহকে বোঝায়, যা ক্রমশ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্বে যে সকল সামাজিক সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম। এটি এমন একটি মনো-স্নায়ু-দৈহিক সমস্যা যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বারবার মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তখন তারা মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে না। সুতরাং বলা যায় মাদকাসক্তি হলো একটি স্নায়ুবিক ধারণা যার কারণে আসক্ত ব্যক্তির আচার-আচরণে অসামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়।
গ
উদ্দীপকে সবুর মিয়ার মেয়েটি মূলত কোন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে জীবন দিল?

উত্তর

উদ্দীপকে সবুর মিয়ার মেয়েটি আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা যৌতুকের কারণে জীবন দিয়েছে। যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ঘৃণ্য প্রথা, যা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিয়ের আগে পাত্রপক্ষ থেকে দর কষাকষি করে এটা নির্ধারণ করা হয়। এটি অনেকটা হাট-বাজারে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মতো। যৌতুকের প্রধান শিকার আমাদের দেশের নারী সমাজ। উদ্দীপকের মেয়েটিকেও যৌতুক প্রথার বলি হতে হয়েছে। সবুর মিয়া তার বড় মেয়েকে বেকার যুবক রফিকের সাথে বিয়ে দেন। বরপক্ষের দাবি অনুযায়ী তিনি বিয়েতে বরকে একটি মোটরসাইকেল ও এক লক্ষ টাকা দিতে রাজি হন। এ থেকে বোঝা যায়, এক্ষেত্রে যৌতুকের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন অনুসারে, যৌতুক বলতে বিবাহের কোনো এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে বিয়ের সময় পূর্বে বা পরে উক্ত পক্ষগণের মধ্যে বিবাহের পণ্য হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করতে সম্মত জামানতকে বোঝায়।' এ থেকে বোঝা যায়, সবুর মিয়া যৌতুক দিতে সম্মত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে চাহিদানুযায়ী যৌতুক না দেওয়ায় তার মেয়েটি স্বামীর নির্যাতনের মুখে মৃত্যুর দেশে পাড়ি জমায়, অর্থাৎ মেয়েটি যৌতুক প্রথার কারণেই জীবন দিল।
ঘ
বাংলাদেশে উক্ত সমস্যার প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর

বাংলাদেশে উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটির অর্থাৎ যৌতুক প্রথার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে এর ফলে কন্যার পিতামাতাকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। আমাদের দেশে প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই কমবেশি নারী নির্যাতনের সংবাদ চোখে পড়ে। আর এ সকল নারী নির্যাতন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংঘটিত হয় যৌতুকের কারণে। অর্থাৎ নারী নির্যাতন যৌতুকের একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব। এর পাশাপাশি যৌতুকের কারণে সমাজে আরও নানাবিধ সমস্যার উদ্ভব হয়ে থাকে। যৌতুকের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও তার পরিবার। যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে তার সর্বস্ব হারাতে হয়। ফলে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়, দারিদ্র্যের হার বাড়ে। যৌতুক প্রদানকে কেন্দ্র করে পরিবারে নানা ধরনের অশান্তি ও পারিবারিক ভাঙন দেখা দেয়। যৌতুকের দাবি পূরণ না করতে পারলে স্বামী তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সে তার বাবার বাড়িতে গিয়েও নানা ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। অনেক সময় স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। ফলে উদ্দীপকের সবুর মিয়ার মেয়ের মতো অনেক নারীরই অকালে জীবনাবসান হয়। অনেক নারীই অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে ছেলে-মেয়ে রেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এতে তার ছেলেমেয়েরাও পরবর্তীতে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। পরিশেষে বলা যায়, আমাদের দেশে যৌতুক প্রথার ভয়াবহ প্রভাব সমাজের সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজিব একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরির চেষ্টা করছেন। তবে প্রচলিত মজুরি কাঠামোতে চাকরি করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পেতে অসমর্থ হন। অন্যদিকে পুঁজি না থাকায় তার পক্ষে ব্যবসা করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই বর্তমানে তিনি অনেকাংশে হতাশাগ্রস্ত।

Dhaka · 2017

ক
অপুষ্টি কী?

উত্তর

অপুষ্টি হলো ঐ পরিস্থিতি যা মানুষের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি হ্রাস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে এবং দেহের স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে প্রাত্যহিক কাজকর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
খ
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিবাহকে বোঝায়। বিবাহের প্রথম শর্ত হলো ছেলে-মেয়ের বয়স। প্রচলিত আইন অনুসারে বাংলাদেশে বিবাহের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর আর মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ের প্রকৃত বয়সকে পাশ কাটিয়ে সমাজে অনেক বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে দুজনেরই অথবা কোনো একজনের বয়স কম থাকে। আর এ ধরনের বিবাহই বাল্যবিবাহ।
গ
রাজিবের বিষয়টি কোন ধরনের সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রাজিবের চাকরি না পাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারার বিষয়টি বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা বেকারত্বকে নির্দেশ করে। বেকারত্ব যেকোনো দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। বিশেষ করে ভুক্তভোগী যুবকেরা হতাশাগ্রস্ত জীবন অতিবাহিত করে। কাজ করার সামর্থ্য, ইচ্ছা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মহীন সময় কাটায়। এর ফলে কেবল তাদের ব্যক্তিজীবনেই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতবিাচক প্রভাব পড়ে। উদ্দীপকের রাজিব দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন অর্থাৎ তিনি উচ্চশিক্ষিত। বর্তমানে তিনি চেষ্টা করলেও চাকরি পাচ্ছেন না। আবার পুঁজি না থাকায় তিনি ব্যবসাও করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো- রাজিবের চাকরি করার মতো যোগ্যতা এবং ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না। এ বিষয়টি বেকারত্ব সমস্যার সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ কেবল কর্মহীনতাই বেকারত্ব নয়; বরং যখন কর্মক্ষম লোকেরা শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা অনুসারে প্রচলিত মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে চায় অথচ কাজ পায় না সে অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও কর্মহীনতা। উদ্দীপকে রাজিবের ক্ষেত্রে এরূপ পরিস্থিতিই সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকটি বেকারত্ব সমস্যার একটি বাস্তব উদাহরণ।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা কী হতে পারে? তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একজন সাহায্যকারী হিসেবে সমাজকর্মী সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। সামাজিক সমস্যার মধ্যে বেকারত্ব একটি মৌলিক সমস্যা। কোনো বিক্ষিপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সে অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করা। আর এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের পদ্ধতির আলোকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারেন। উদ্দীপকের রাজিবের মতো যুবকেরা দেশে প্রচলিত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও চাকরি পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী তাদেরকে কারিগরি শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে সমাজকর্মীরা বেকারত্ব নিরসনের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার মধ্যমে আয় উপার্জনমূলক কাজের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে তারা পুঁজির স্বল্পতা কাটিয়ে এবং চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। সুতরাং একজন সমাজকর্মী রাজিবের মতো বেকার যুবকদেরকে ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির উৎস সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন। তাছাড়া বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মী কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহী করতে পারেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন, নারীদেরকে কর্মে উৎসাহী করতে পারেন এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি দূরীকরণে কাজ করতে পারেন। এ সকল বিষয়ই বেকারত্ব সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট। পরিশেষে বলা যায়, বেকারত্বের কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজিব একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরির চেষ্টা করছেন। তবে প্রচলিত মজুরি কাঠামোতে চাকরি করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পেতে অসমর্থ হন। অন্যদিকে পুঁজি না থাকায় তার পক্ষে ব্যবসা করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই বর্তমানে তিনি অনেকাংশে হতাশাগ্রস্ত।

Dhaka · 2017

ক
অপুষ্টি কী?

উত্তর

অপুষ্টি হলো ঐ পরিস্থিতি যা মানুষের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি হ্রাস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে এবং দেহের স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে প্রাত্যহিক কাজকর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
খ
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিবাহকে বোঝায়। বিবাহের প্রথম শর্ত হলো ছেলে-মেয়ের বয়স। প্রচলিত আইন অনুসারে বাংলাদেশে বিবাহের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর আর মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ের প্রকৃত বয়সকে পাশ কাটিয়ে সমাজে অনেক বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে দুজনেরই অথবা কোনো একজনের বয়স কম থাকে। আর এ ধরনের বিবাহই বাল্যবিবাহ।
গ
রাজিবের বিষয়টি কোন ধরনের সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রাজিবের চাকরি না পাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারার বিষয়টি বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা বেকারত্বকে নির্দেশ করে। বেকারত্ব যেকোনো দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। বিশেষ করে ভুক্তভোগী যুবকেরা হতাশাগ্রস্ত জীবন অতিবাহিত করে। কাজ করার সামর্থ্য, ইচ্ছা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মহীন সময় কাটায়। এর ফলে কেবল তাদের ব্যক্তিজীবনেই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতবিাচক প্রভাব পড়ে। উদ্দীপকের রাজিব দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন অর্থাৎ তিনি উচ্চশিক্ষিত। বর্তমানে তিনি চেষ্টা করলেও চাকরি পাচ্ছেন না। আবার পুঁজি না থাকায় তিনি ব্যবসাও করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো- রাজিবের চাকরি করার মতো যোগ্যতা এবং ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না। এ বিষয়টি বেকারত্ব সমস্যার সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ কেবল কর্মহীনতাই বেকারত্ব নয়; বরং যখন কর্মক্ষম লোকেরা শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা অনুসারে প্রচলিত মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে চায় অথচ কাজ পায় না সে অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও কর্মহীনতা। উদ্দীপকে রাজিবের ক্ষেত্রে এরূপ পরিস্থিতিই সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকটি বেকারত্ব সমস্যার একটি বাস্তব উদাহরণ।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা কী হতে পারে? তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একজন সাহায্যকারী হিসেবে সমাজকর্মী সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। সামাজিক সমস্যার মধ্যে বেকারত্ব একটি মৌলিক সমস্যা। কোনো বিক্ষিপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সে অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করা। আর এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের পদ্ধতির আলোকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারেন। উদ্দীপকের রাজিবের মতো যুবকেরা দেশে প্রচলিত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও চাকরি পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী তাদেরকে কারিগরি শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে সমাজকর্মীরা বেকারত্ব নিরসনের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার মধ্যমে আয় উপার্জনমূলক কাজের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে তারা পুঁজির স্বল্পতা কাটিয়ে এবং চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। সুতরাং একজন সমাজকর্মী রাজিবের মতো বেকার যুবকদেরকে ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির উৎস সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন। তাছাড়া বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মী কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহী করতে পারেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন, নারীদেরকে কর্মে উৎসাহী করতে পারেন এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি দূরীকরণে কাজ করতে পারেন। এ সকল বিষয়ই বেকারত্ব সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট। পরিশেষে বলা যায়, বেকারত্বের কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো