Chapter 2: সমাজকর্মের শাখা Social Work 2nd Paper

HSC Social Work 2nd Paper এর Chapter 2: সমাজকর্মের শাখা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৮১

প্রশ্ন

Social Work 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফারজানা হক পরিবারের একমাত্র সন্তান। মা-বাবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে গেলে সে বাসায় একা থাকে। খেলার সাথি পায় না। এই একাকিত্ব তাকে অসুস্থ করে তোলে। তার মধ্যে একধরনের ভ্রান্তি বা ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। সে বড় হলেও সবার সাথে মিলেমিশে চলতে পারে না। তাই তার মা-বাবা তার জন্য বড়ই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।

Chittagong · 2017

ক
বাংলাদেশে কোন মেডিকেল কলেজে প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম কার্যক্রম শুরু হয়?

উত্তর

বাংলাদেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম কার্যক্রম শুরু হয়।
খ
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্মের সেই প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে শিশুর বিদ্যালয় গমন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী উপাদান নিরূপণের লক্ষ্যে কাজ করা হয়। বিদ্যালয় সমাজকর্মীরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেন। মূলত যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে অমনোযোগী, স্কুল থেকে ঝরে পড়ে নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে তাদেরকে স্কুলের পরিবেশ ও পড়াশোনার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যালয় সমাজকর্ম কাজ করে থাকে।
গ
উদ্দীপকে ফারজানা হকের চিকিৎসার জন্য সমাজকর্মের কোন শাখা উপযোগী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ফারজানা হকের সমস্যাটি মানসিক হওয়ার তার চিকিৎসার জন্য সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মে বিভিন্ন মানসিক রোগীদের তত্ত্বাবধান, তাদের রোগের কারণ অনুসন্ধান, পর্যাপ্ত সেবা ও ওষুধ প্রদান, কাউন্সেলিং ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক সেবা প্রদান করা হয়। আর এ ধরনের সহায়তাই উদ্দীপকে ফারজানার ক্ষেত্রে প্রয়োজন। ফারজানা পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঙ্গ পর্যাপ্ত পরিমাণে পায়নি। বেশিরভাগ সময়ে বাবা-মা কাজের কারণে বাড়িতে না থাকায় এবং অন্য কোনো খেলার সাথি না থাকায় সে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছে না এবং সবার সাথে মিলেমিশে চলতে পারছে না। এমতাবস্থায় একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মী ফারজানাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বাত্মক সহায়তা করতে পারেন। ফারজানার জন্য কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন তা তিনি ঠিক করে দিতে পারেন। তাছাড়া নিয়মিত ফারজানার সাথে কাউন্সেলিং, তারা বাবা-মাকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রেও সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মের সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর হবে। সুতরাং বলা যায়, ফারজানাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে তার বাবা-মায়ের উচিত একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মীর সহায়তা নেওয়া।
ঘ
উক্ত শাখা সমাজকর্মের পেশাগত বিকাশে কতটা কার্যকরী বলে তুমি মনে কর।

উত্তর

উক্ত শাখা অর্থাৎ সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজকর্মের পেশাগত বিকাশ ত্বরান্বিত করা সম্ভব। সমাজকর্ম একটি প্রায়োগিক জ্ঞানশাস্ত্র। কেবল তত্ত্বগত আলোচনার মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ নয়। বহুমুখী বাস্তব সমস্যা সমাধানে এই জ্ঞানশাস্ত্র প্রয়োগযোগ্য। এজন্যই সমাজকর্মের পেশাগত ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। আর এই পেশাগত ক্ষেত্রকে আরও কার্যকর করতে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মের মতো শতভাগ প্রায়োগিক শাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক রোগীদের চিকিৎসার কাজটি মূলত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ করে থাকেন। এক্ষেত্রে একজন মনোচিকিৎসক কেবল রোগী নিয়েই গবেষণা ও আলোচনা করে থাকেন। কিন্তু একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তার পরিবার, মাতাপিতা ও ভাই-বোনকে নিয়ে পারিবারিক থেরাপি এবং দলীয় থেরাপি প্রদান করে থাকেন। তিনি সাহায্যার্থীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সাহায্য প্রদান করেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে পেশাগত দিক বিবেচনায় সমাজকর্মের এ শাখাটির প্রায়োগিকতা অসামান্য। তাছাড়া সমাজব্যবস্থায় ক্রমাগত জটিলতা বাড়ায় সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মের আবেদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এর পেশাগত ক্ষেত্রও প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বেই সমাজকর্মের এ শাখাটির প্রসার ঘটছে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আর এ কারণেই সমাজকর্মের পেশাগত বিকাশে এর ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফারজানা হক পরিবারের একমাত্র সন্তান। মা-বাবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে গেলে সে বাসায় একা থাকে। খেলার সাথি পায় না। এই একাকিত্ব তাকে অসুস্থ করে তোলে। তার মধ্যে একধরনের ভ্রান্তি বা ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। সে বড় হলেও সবার সাথে মিলেমিশে চলতে পারে না। তাই তার মা-বাবা তার জন্য বড়ই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।

Chittagong · 2017

ক
বাংলাদেশে কোন মেডিকেল কলেজে প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম কার্যক্রম শুরু হয়?

উত্তর

বাংলাদেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম কার্যক্রম শুরু হয়।
খ
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর

বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্মের সেই প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে শিশুর বিদ্যালয় গমন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী উপাদান নিরূপণের লক্ষ্যে কাজ করা হয়। বিদ্যালয় সমাজকর্মীরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেন। মূলত যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে অমনোযোগী, স্কুল থেকে ঝরে পড়ে নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে তাদেরকে স্কুলের পরিবেশ ও পড়াশোনার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যালয় সমাজকর্ম কাজ করে থাকে।
গ
উদ্দীপকে ফারজানা হকের চিকিৎসার জন্য সমাজকর্মের কোন শাখা উপযোগী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ফারজানা হকের সমস্যাটি মানসিক হওয়ার তার চিকিৎসার জন্য সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মে বিভিন্ন মানসিক রোগীদের তত্ত্বাবধান, তাদের রোগের কারণ অনুসন্ধান, পর্যাপ্ত সেবা ও ওষুধ প্রদান, কাউন্সেলিং ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক সেবা প্রদান করা হয়। আর এ ধরনের সহায়তাই উদ্দীপকে ফারজানার ক্ষেত্রে প্রয়োজন। ফারজানা পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঙ্গ পর্যাপ্ত পরিমাণে পায়নি। বেশিরভাগ সময়ে বাবা-মা কাজের কারণে বাড়িতে না থাকায় এবং অন্য কোনো খেলার সাথি না থাকায় সে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছে না এবং সবার সাথে মিলেমিশে চলতে পারছে না। এমতাবস্থায় একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মী ফারজানাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বাত্মক সহায়তা করতে পারেন। ফারজানার জন্য কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন তা তিনি ঠিক করে দিতে পারেন। তাছাড়া নিয়মিত ফারজানার সাথে কাউন্সেলিং, তারা বাবা-মাকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রেও সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মের সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর হবে। সুতরাং বলা যায়, ফারজানাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে তার বাবা-মায়ের উচিত একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মীর সহায়তা নেওয়া।
ঘ
উক্ত শাখা সমাজকর্মের পেশাগত বিকাশে কতটা কার্যকরী বলে তুমি মনে কর।

উত্তর

উক্ত শাখা অর্থাৎ সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজকর্মের পেশাগত বিকাশ ত্বরান্বিত করা সম্ভব। সমাজকর্ম একটি প্রায়োগিক জ্ঞানশাস্ত্র। কেবল তত্ত্বগত আলোচনার মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ নয়। বহুমুখী বাস্তব সমস্যা সমাধানে এই জ্ঞানশাস্ত্র প্রয়োগযোগ্য। এজন্যই সমাজকর্মের পেশাগত ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। আর এই পেশাগত ক্ষেত্রকে আরও কার্যকর করতে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মের মতো শতভাগ প্রায়োগিক শাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক রোগীদের চিকিৎসার কাজটি মূলত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ করে থাকেন। এক্ষেত্রে একজন মনোচিকিৎসক কেবল রোগী নিয়েই গবেষণা ও আলোচনা করে থাকেন। কিন্তু একজন সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তার পরিবার, মাতাপিতা ও ভাই-বোনকে নিয়ে পারিবারিক থেরাপি এবং দলীয় থেরাপি প্রদান করে থাকেন। তিনি সাহায্যার্থীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সাহায্য প্রদান করেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে পেশাগত দিক বিবেচনায় সমাজকর্মের এ শাখাটির প্রায়োগিকতা অসামান্য। তাছাড়া সমাজব্যবস্থায় ক্রমাগত জটিলতা বাড়ায় সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্মের আবেদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এর পেশাগত ক্ষেত্রও প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বেই সমাজকর্মের এ শাখাটির প্রসার ঘটছে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আর এ কারণেই সমাজকর্মের পেশাগত বিকাশে এর ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দরিদ্র বাবার সন্তান শারমিনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরে তার একটি প্রতিবন্ধী সন্তান হয়। শারমিনের স্বামী তার ভরণপোষণ করতে না পেরে তাকে তালাক দেয়। দরিদ্র, অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্তা শারমিন প্রতিবন্ধী সন্তানটিকে নিয়ে খুবই কষ্টে আছে।

Chittagong · 2017

ক
চিকিৎসা সমাজকর্মের সর্বপ্রথম প্রয়োগ শুরু হয় কত সালে?

উত্তর

চিকিৎসা সমাজকর্মের সর্বপ্রথম প্রয়োগ শুরু হয় ১৯০৫ সালে।
খ
শিল্প সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর

শিল্প সমাজকর্ম বলতে শিল্প কারখানার পরিবেশে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানে সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতার অনুশীলনকে বোঝায়। শিল্প সমাজকর্ম পেশাদার সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষায়িত শাখা। সাধারণত শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্প সমাজকর্ম অনুশীলন করা হয়। শিল্প-কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি ও দক্ষতা প্রয়োগ করা হয়। মূলত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সামাজিক ভূমিকা ও মানবিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করাই শিল্প সমাজকর্মের লক্ষ্য।
গ
উদ্দীপকের শারমিন ও তার সন্তানের জন্য সমাজকর্মের কোন শাখা সাহায্য করতে পারে? আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের শারমিন ও তার সন্তানের জন্য সমাজকর্মের একটি অন্যতম শাখা ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্য করতে পারে। ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের ঐ শাখা যেখানে সাহায্যার্থীর সমস্যা (রোগ) নির্ণয় বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করা হয়। সমাজকর্মের এ শাখাটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- চিকিৎসার সর্বক্ষেত্রে রোগীকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। বিবাহবিচ্ছেদ, অটিজম প্রভৃতি নিয়েও এ শাখাটি কাজ করে। উদ্দীপকে শারমিন একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তার সন্তানটিও প্রতিবন্ধী। সে দারিদ্র্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছে। এমতাবস্থায় ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা তাকে সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতা, পরিত্যক্ত, বঞ্চিত এবং সহিংসতার শিকার মানবগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করেন। সেই সাথে অটিজম-আক্রান্ত শিশুদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, জীবনমুখী আত্মব্যবস্থাপনা, দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে লক্ষণীয় হলো স্বামী পরিত্যক্তা শারমিনের মানসিক বল ফিরিয়ে আনতে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্য করতে পারে। তাছাড়া তার প্রতিবন্ধী শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানেও ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। এভাবে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম শারমিন ও তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নতুন করে আশার আলো দেখাতে পারে।
ঘ
উদ্দীপকের উল্লিখিত শাখা বাংলাদেশের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকরী বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের উল্লিখিত শাখা অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম বাংলাদেশের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বহুমুখী সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। দারিদ্র্য, অশিক্ষা আর নানা ধরনের সামাজিক কুপ্রথাই এসব সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সকল সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম অনুশীলনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের যথার্থ প্রয়োগ ঘটাতে পারলে অনেক সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং দলীয়ভাবে সেবা প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের এ শাখাটির পরিধি বিবেচনা করলে দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, ব্যক্তিগত অসামর্থ্য বিবাহবিচ্ছেদ, চাকরি হারানো প্রভৃতির ফলে জীবনযাত্রার যে পরিবর্তন হয় সে পরিস্থিতিতে সামঞ্জস্য বিধানে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কাজ করে। তাছাড়া ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম উদ্বাস্তু, বেকার, দুর্বল ও অসহায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করে থাকে। দাম্পত্যকলহ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক যোগাযোগহীনতা, মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা, কিশোর অপরাধ প্রভৃতি সমস্যাও ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত। আর এসব সমস্যা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। এ কারণে সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম এসব সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত। পরিশেষে বলা যায়, ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম অনুশীলন বাংলাদেশের নানা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে স্থিতিশীল সমাজ নিশ্চিত করতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

দরিদ্র বাবার সন্তান শারমিনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরে তার একটি প্রতিবন্ধী সন্তান হয়। শারমিনের স্বামী তার ভরণপোষণ করতে না পেরে তাকে তালাক দেয়। দরিদ্র, অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্তা শারমিন প্রতিবন্ধী সন্তানটিকে নিয়ে খুবই কষ্টে আছে।

Chittagong · 2017

ক
চিকিৎসা সমাজকর্মের সর্বপ্রথম প্রয়োগ শুরু হয় কত সালে?

উত্তর

চিকিৎসা সমাজকর্মের সর্বপ্রথম প্রয়োগ শুরু হয় ১৯০৫ সালে।
খ
শিল্প সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর

শিল্প সমাজকর্ম বলতে শিল্প কারখানার পরিবেশে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানে সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতার অনুশীলনকে বোঝায়। শিল্প সমাজকর্ম পেশাদার সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষায়িত শাখা। সাধারণত শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্প সমাজকর্ম অনুশীলন করা হয়। শিল্প-কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি ও দক্ষতা প্রয়োগ করা হয়। মূলত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সামাজিক ভূমিকা ও মানবিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করাই শিল্প সমাজকর্মের লক্ষ্য।
গ
উদ্দীপকের শারমিন ও তার সন্তানের জন্য সমাজকর্মের কোন শাখা সাহায্য করতে পারে? আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের শারমিন ও তার সন্তানের জন্য সমাজকর্মের একটি অন্যতম শাখা ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্য করতে পারে। ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের ঐ শাখা যেখানে সাহায্যার্থীর সমস্যা (রোগ) নির্ণয় বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করা হয়। সমাজকর্মের এ শাখাটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- চিকিৎসার সর্বক্ষেত্রে রোগীকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। বিবাহবিচ্ছেদ, অটিজম প্রভৃতি নিয়েও এ শাখাটি কাজ করে। উদ্দীপকে শারমিন একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তার সন্তানটিও প্রতিবন্ধী। সে দারিদ্র্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছে। এমতাবস্থায় ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা তাকে সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতা, পরিত্যক্ত, বঞ্চিত এবং সহিংসতার শিকার মানবগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করেন। সেই সাথে অটিজম-আক্রান্ত শিশুদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, জীবনমুখী আত্মব্যবস্থাপনা, দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে লক্ষণীয় হলো স্বামী পরিত্যক্তা শারমিনের মানসিক বল ফিরিয়ে আনতে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্য করতে পারে। তাছাড়া তার প্রতিবন্ধী শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানেও ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। এভাবে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম শারমিন ও তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নতুন করে আশার আলো দেখাতে পারে।
ঘ
উদ্দীপকের উল্লিখিত শাখা বাংলাদেশের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকরী বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের উল্লিখিত শাখা অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম বাংলাদেশের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বহুমুখী সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। দারিদ্র্য, অশিক্ষা আর নানা ধরনের সামাজিক কুপ্রথাই এসব সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সকল সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম অনুশীলনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের যথার্থ প্রয়োগ ঘটাতে পারলে অনেক সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং দলীয়ভাবে সেবা প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের এ শাখাটির পরিধি বিবেচনা করলে দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, ব্যক্তিগত অসামর্থ্য বিবাহবিচ্ছেদ, চাকরি হারানো প্রভৃতির ফলে জীবনযাত্রার যে পরিবর্তন হয় সে পরিস্থিতিতে সামঞ্জস্য বিধানে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কাজ করে। তাছাড়া ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম উদ্বাস্তু, বেকার, দুর্বল ও অসহায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করে থাকে। দাম্পত্যকলহ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক যোগাযোগহীনতা, মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা, কিশোর অপরাধ প্রভৃতি সমস্যাও ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত। আর এসব সমস্যা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। এ কারণে সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতির আলোকে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম এসব সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত। পরিশেষে বলা যায়, ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম অনুশীলন বাংলাদেশের নানা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে স্থিতিশীল সমাজ নিশ্চিত করতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সাভারে একটি গার্মেন্টসে মালিক ও শ্রমিক দ্বন্দ্বের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারিদের ছাঁটাই করে মালিক নতুন করে কারখানা শুরু করতে চাইলে তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করে। উচ্চবিত্ত কর্মকর্তাদের সমস্যা না হলেও নিম্ন শ্রেণির কর্মীদের পথে বসতে হয়। এদের সমস্যা সমাধান ও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন উপলব্ধি করে।

Dhaka · 2017

ক
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কী?

উত্তর

ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের একটি বিশেষ শাখা যেখানে সাহায্যার্থীর সমস্যা (রোগ) নির্ণয় বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করা হয়।
খ
প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর

প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্মের এমন শাখাকে বোঝায় যেটি প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণের জন্য কাজ করে। বর্তমানে প্রবীণদের বিশেষ জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রবীণকল্যাণের প্রতি বিশ্বের সবদেশে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতেই প্রবীণ সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। সমাজকর্ম অভিধানের (১৯৯৫) ব্যাখ্যানুযায়ী, প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের বিশেষ অনুশীলন ক্ষেত্র, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মনো- সামাজিক চিকিৎসা এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।
গ
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানের জন্যে সমাজকর্মের কোন বিশেষায়িত শাখা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মালিক-শ্রমিক স্বন্দ্ব নিরসনের জন্যে সমাজকর্মের অন্যতম বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্ম তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে। শিল্প সমাজকর্ম শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠানে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে শিল্প সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যাটি শিল্প সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে, সাভারের একটি গার্মেন্টসে মালিক-শ্রমিক স্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মালিক পক্ষের স্বার্থের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন শ্রেণির কর্মীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিতে সৃষ্ট সংকটাবস্থার অবসান ঘটাতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শিল্প সমাজকর্মী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সংকটের কারণেই সময়ের প্রয়োজনে শিল্প সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের মাধ্যমে শিল্প-শ্রমিকদের চাহিদা, শ্রমিক উন্নয়ন এবং বৃহৎ সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা প্রদান করাই শিল্প সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যকার নানা সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্ম যুক্তিসংগত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় বা পথ বাতলে দেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্মের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার সমাধানে তৃতীয় পক্ষ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসনে শিল্প সমাজকর্ম পরামর্শ প্রদান ও কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান রয়েছে। বিশেষ করে শ্রম আইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের সমাধানে শ্রম আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে শিল্প সমাজকর্ম ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রয়োজন হলে সরাসরি হস্তক্ষেপও এক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকেও শিল্প সমাজকর্মের এরূপ ভূমিকা ফলপ্রসূ হবে। উদ্দীপক থেকে জানা যায়, সাভারের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানটিতে মালিক- শ্রমিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। এখন শিল্প সমাজকর্মীরা এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টির পেছনে বিদ্যমান কারণসমূহ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। দ্বন্দ্বের কারণ চিহ্নিত করার পর তারা বিদ্যমান শ্রম আইনের আলোকে বিশ্লেষণ করে এর সমাধান নির্ধারণ করবেন। পরবর্তী ধাপে তারা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টির কাজ করবেন। তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃতি ও কারণ তুলে ধরে সমাধানের পথ নির্দেশ করে দেবেন। এক্ষেত্রে মূলত শিল্প সমাজকর্মীরা দল সমাজকর্মের পদ্ধতির আলোকে সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। তারা সাভারের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যমান দল বা সমষ্টিকে অর্থাৎ মালিক-শ্রমিক পক্ষকে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন। এভাবে তারা আলোচ্য সমস্যার একটি যৌক্তিকা সমাধান দিতে সমর্থ হবেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতি প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সাভারে একটি গার্মেন্টসে মালিক ও শ্রমিক দ্বন্দ্বের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারিদের ছাঁটাই করে মালিক নতুন করে কারখানা শুরু করতে চাইলে তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করে। উচ্চবিত্ত কর্মকর্তাদের সমস্যা না হলেও নিম্ন শ্রেণির কর্মীদের পথে বসতে হয়। এদের সমস্যা সমাধান ও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন উপলব্ধি করে।

Dhaka · 2017

ক
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কী?

উত্তর

ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের একটি বিশেষ শাখা যেখানে সাহায্যার্থীর সমস্যা (রোগ) নির্ণয় বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করা হয়।
খ
প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর

প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্মের এমন শাখাকে বোঝায় যেটি প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণের জন্য কাজ করে। বর্তমানে প্রবীণদের বিশেষ জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রবীণকল্যাণের প্রতি বিশ্বের সবদেশে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতেই প্রবীণ সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। সমাজকর্ম অভিধানের (১৯৯৫) ব্যাখ্যানুযায়ী, প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের বিশেষ অনুশীলন ক্ষেত্র, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মনো- সামাজিক চিকিৎসা এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।
গ
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানের জন্যে সমাজকর্মের কোন বিশেষায়িত শাখা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মালিক-শ্রমিক স্বন্দ্ব নিরসনের জন্যে সমাজকর্মের অন্যতম বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্ম তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে। শিল্প সমাজকর্ম শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠানে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে শিল্প সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যাটি শিল্প সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে, সাভারের একটি গার্মেন্টসে মালিক-শ্রমিক স্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মালিক পক্ষের স্বার্থের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন শ্রেণির কর্মীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিতে সৃষ্ট সংকটাবস্থার অবসান ঘটাতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শিল্প সমাজকর্মী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সংকটের কারণেই সময়ের প্রয়োজনে শিল্প সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের মাধ্যমে শিল্প-শ্রমিকদের চাহিদা, শ্রমিক উন্নয়ন এবং বৃহৎ সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা প্রদান করাই শিল্প সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যকার নানা সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্ম যুক্তিসংগত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় বা পথ বাতলে দেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্মের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার সমাধানে তৃতীয় পক্ষ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসনে শিল্প সমাজকর্ম পরামর্শ প্রদান ও কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান রয়েছে। বিশেষ করে শ্রম আইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের সমাধানে শ্রম আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে শিল্প সমাজকর্ম ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রয়োজন হলে সরাসরি হস্তক্ষেপও এক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকেও শিল্প সমাজকর্মের এরূপ ভূমিকা ফলপ্রসূ হবে। উদ্দীপক থেকে জানা যায়, সাভারের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানটিতে মালিক- শ্রমিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। এখন শিল্প সমাজকর্মীরা এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টির পেছনে বিদ্যমান কারণসমূহ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। দ্বন্দ্বের কারণ চিহ্নিত করার পর তারা বিদ্যমান শ্রম আইনের আলোকে বিশ্লেষণ করে এর সমাধান নির্ধারণ করবেন। পরবর্তী ধাপে তারা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টির কাজ করবেন। তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃতি ও কারণ তুলে ধরে সমাধানের পথ নির্দেশ করে দেবেন। এক্ষেত্রে মূলত শিল্প সমাজকর্মীরা দল সমাজকর্মের পদ্ধতির আলোকে সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। তারা সাভারের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যমান দল বা সমষ্টিকে অর্থাৎ মালিক-শ্রমিক পক্ষকে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন। এভাবে তারা আলোচ্য সমস্যার একটি যৌক্তিকা সমাধান দিতে সমর্থ হবেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতি প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো