Chapter 1: বাংলাদেশে মৌলিক মানবিক চাহিদা Social Work 2nd Paper

HSC Social Work 2nd Paper এর Chapter 1: বাংলাদেশে মৌলিক মানবিক চাহিদা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৮৭

প্রশ্ন

Social Work 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জাহিদ হাসান স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে গ্রামে বসবাস করত। কিন্তু গ্রামে আয়ের ভাল ব্যবস্থা না থাকায় কাজের সন্ধানে শহরে যায় এবং রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়। তিনি যা আয় করেন তা দ্বারা সংসারের সকলের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং বাসার পাশেই সরকারি প্রাইমারি স্কুল থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও করান। কিন্তু কম আয়ের কারণে স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনমত কাপড়-চোপড় কিনে দিতে পারেন না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা করাতে পারেন না এবং অবসর সময় কাটানোর জন্য একটি টিভিও কিনে দিতে পারেন না। তবে বস্তি এলাকায় বসবাস করলেও ঘরে থাকতে তাদের খুব একটি অসুবিধা হয় না।

Chittagong · 2017

ক
মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?

উত্তর

মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম।
খ
মৌল মানবিক চাহিদা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয়, মৌল মানবিক চাহিদা বলতে সেসব চাহিদাকেই বোঝায়। মানুষের মৌল মানবিক চাহিদার মধ্যে রয়েছে- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রকৃতপক্ষে এ চাহিদাগুলো পূরণ না হলে সমাজে মানুষ সম্মান ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারে না।
গ
উদ্দীপকে জাহিদ হাসানের পরিবার কী কী মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে জাহিদ হাসানের পরিবার বস্ত্র, চিকিৎসা ও বিনোদন এই তিনটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। একজন মানুষের বেঁচে থাকা এবং সভ্য সমাজে বসবাস করার জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলোই মৌল মানবিক চাহিদা। এই চাহিদাগুলোর সবগুলো পূরণ না হলে মানুষের পক্ষে সমাজে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বস্তু, চিকিৎসা ও বিনোদন এ ধরনের তিনটি চাহিদা, যা থেকে জাহিদ হাসানের পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে। জাহিদ হাসান দারিদ্র্যের কারণে স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনমত কাপড়- চোপড় কিনে দিতে পারেন না। অথচ বস্তু মানবজীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। এটি একদিকে মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্যদিকে মানবিক চাহিদা পূরণ করে। এ চাহিদা ঠিকমতো পূরণ না হলে সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করা যায় না। বস্ত্রের পাশাপাশি জাহিদ হাসানের পরিবার চিকিৎসা ও বিনোদনের চাহিদা পূরণ হওয়া থেকেও বঞ্চিত। অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য সঠিক চিকিৎসার কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতপক্ষে সুস্থতা ব্যতীত জীবনে বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়ে আবার বিনোদন ছাড়াও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কারণ চিত্তবিনোদন হলো মানুষের মনের খোরাক। এটি মানুষকে শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। সুতরাং উপর্যুক্ত তিনটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়ায় জাহিদ হাসানের পরিবার সমাজে ভালোভাবে জীবন যাপনে ব্যর্থ হচ্ছে।
ঘ
উদ্দীপকে জাহিদ হাসান এবং তার পরিবার যে সকল চাহিদা পূরণ করতে পারছে তা যথার্থ কিনা? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে জাহিদ এবং তার পরিবার খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার চাহিদা পূরণ করতে পারছে। তবে এই চাহিদা পূরণ যথার্থ নয় বলে আমি মনে করি। সমাজে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ছয়টি মৌল মানবিক চাহিদাই পূরণ হওয়া প্রয়োজন। কোনো একটি চাহিদা পূরণ না হলে জীবনযাত্রার অসঙ্গতি দেখা যায়। ফলে সভ্য সমাজে মনের মতো করে বসবাস করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই জাহিদ হাসানের পরিবারে তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও তা যথার্থ নয়। জাহিদ হাসান তার উপার্জন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন। তিনি বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করেছেন। তাছাড়া বস্তি এলাকায় থাকলেও বাসস্থানের চাহিদাও পূরণ হয়ে যাচ্ছে। তবে এখানে লক্ষণীয় হচ্ছে, তিনি অপর তিনটি চাহিদা অর্থাৎ বস্ত্র, চিকিৎসা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। এ থেকে সহজেই বোঝা যায়, তিনি তার পরিবারের যে তিনটি চাহিদা পূরণ করছেন সেগুলোও জীবনযাত্রার উচ্চমান অনুসারে যথার্থ নয়। অর্থাৎ এই চাহিদাগুলোও তার পরিবারে কোনো রকমে পূরণ হচ্ছে। ভালো খাবার বা থাকার স্থান তাদের নেই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি তার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ভার কতটুকু বহন করতে পারবেন সেটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। পরিশেষে বলা যায়, জাহিদ হাসানের পরিবারের জন্য ছয়টি মৌল মানবিক চাহিদাই যথার্থ উপায়ে পূরণ হওয়া প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জাহিদ হাসান স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে গ্রামে বসবাস করত। কিন্তু গ্রামে আয়ের ভাল ব্যবস্থা না থাকায় কাজের সন্ধানে শহরে যায় এবং রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়। তিনি যা আয় করেন তা দ্বারা সংসারের সকলের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং বাসার পাশেই সরকারি প্রাইমারি স্কুল থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও করান। কিন্তু কম আয়ের কারণে স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনমত কাপড়-চোপড় কিনে দিতে পারেন না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা করাতে পারেন না এবং অবসর সময় কাটানোর জন্য একটি টিভিও কিনে দিতে পারেন না। তবে বস্তি এলাকায় বসবাস করলেও ঘরে থাকতে তাদের খুব একটি অসুবিধা হয় না।

Chittagong · 2017

ক
মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?

উত্তর

মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম।
খ
মৌল মানবিক চাহিদা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয়, মৌল মানবিক চাহিদা বলতে সেসব চাহিদাকেই বোঝায়। মানুষের মৌল মানবিক চাহিদার মধ্যে রয়েছে- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রকৃতপক্ষে এ চাহিদাগুলো পূরণ না হলে সমাজে মানুষ সম্মান ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারে না।
গ
উদ্দীপকে জাহিদ হাসানের পরিবার কী কী মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে জাহিদ হাসানের পরিবার বস্ত্র, চিকিৎসা ও বিনোদন এই তিনটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। একজন মানুষের বেঁচে থাকা এবং সভ্য সমাজে বসবাস করার জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলোই মৌল মানবিক চাহিদা। এই চাহিদাগুলোর সবগুলো পূরণ না হলে মানুষের পক্ষে সমাজে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বস্তু, চিকিৎসা ও বিনোদন এ ধরনের তিনটি চাহিদা, যা থেকে জাহিদ হাসানের পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে। জাহিদ হাসান দারিদ্র্যের কারণে স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনমত কাপড়- চোপড় কিনে দিতে পারেন না। অথচ বস্তু মানবজীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। এটি একদিকে মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্যদিকে মানবিক চাহিদা পূরণ করে। এ চাহিদা ঠিকমতো পূরণ না হলে সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করা যায় না। বস্ত্রের পাশাপাশি জাহিদ হাসানের পরিবার চিকিৎসা ও বিনোদনের চাহিদা পূরণ হওয়া থেকেও বঞ্চিত। অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য সঠিক চিকিৎসার কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতপক্ষে সুস্থতা ব্যতীত জীবনে বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়ে আবার বিনোদন ছাড়াও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কারণ চিত্তবিনোদন হলো মানুষের মনের খোরাক। এটি মানুষকে শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। সুতরাং উপর্যুক্ত তিনটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়ায় জাহিদ হাসানের পরিবার সমাজে ভালোভাবে জীবন যাপনে ব্যর্থ হচ্ছে।
ঘ
উদ্দীপকে জাহিদ হাসান এবং তার পরিবার যে সকল চাহিদা পূরণ করতে পারছে তা যথার্থ কিনা? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে জাহিদ এবং তার পরিবার খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার চাহিদা পূরণ করতে পারছে। তবে এই চাহিদা পূরণ যথার্থ নয় বলে আমি মনে করি। সমাজে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ছয়টি মৌল মানবিক চাহিদাই পূরণ হওয়া প্রয়োজন। কোনো একটি চাহিদা পূরণ না হলে জীবনযাত্রার অসঙ্গতি দেখা যায়। ফলে সভ্য সমাজে মনের মতো করে বসবাস করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই জাহিদ হাসানের পরিবারে তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও তা যথার্থ নয়। জাহিদ হাসান তার উপার্জন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন। তিনি বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করেছেন। তাছাড়া বস্তি এলাকায় থাকলেও বাসস্থানের চাহিদাও পূরণ হয়ে যাচ্ছে। তবে এখানে লক্ষণীয় হচ্ছে, তিনি অপর তিনটি চাহিদা অর্থাৎ বস্ত্র, চিকিৎসা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। এ থেকে সহজেই বোঝা যায়, তিনি তার পরিবারের যে তিনটি চাহিদা পূরণ করছেন সেগুলোও জীবনযাত্রার উচ্চমান অনুসারে যথার্থ নয়। অর্থাৎ এই চাহিদাগুলোও তার পরিবারে কোনো রকমে পূরণ হচ্ছে। ভালো খাবার বা থাকার স্থান তাদের নেই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি তার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ভার কতটুকু বহন করতে পারবেন সেটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। পরিশেষে বলা যায়, জাহিদ হাসানের পরিবারের জন্য ছয়টি মৌল মানবিক চাহিদাই যথার্থ উপায়ে পূরণ হওয়া প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পঞ্চগড়ের সফিকুলের নাম দেশবাসীর মুখে মুখে। কারণ এবার ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। অথচ কখনও দুবেলা দুমুঠো পেট ভরে খাবার পায়নি। এক কাপড়ে কেটেছে, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়েছে বার বার। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে গাদাগাদি করে জরাজীর্ণ ঘরে রাত কাটাতো। অবশ্য পরিবারটি 'দশ টাকা কেজি চাল' কর্মসূচির আওতায় ছিল। আর এর মধ্যেই স্বপ্ন দেখতো সে ডাক্তার হবে, অসুস্থ মাকে সুস্থ করে তুলবে, সাথে সাথে গ্রামবাসীর সেবা করবে।

Dhaka · 2017

ক
মৌলিক মানবিক চাহিদা কয়টি?

উত্তর

মৌলিক মানবিক চাহিদা ছয়টি।
খ
বস্তুকে কেন মানবিক চাহিদা বলা হয়?

উত্তর

মানুষের পক্ষে বস্ত্র ছাড়া সভ্য সমাজে বসবাস করা সম্ভব নয়। এ কারণে বস্তুকে মানবিক চাহিদা বলা হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রযোজ্য চাহিদাগুলোই মানবিক চাহিদা। সামাজিক পরিচিতি ও মর্যাদা রক্ষার জন্য মানবিক বা সামাজিক চাহিদার গুরুত্ব অপরিসীম। বস্ত্র এ ধরনেরই একটি সামাজিক চাহিদা। বস্ত্র ছাড়া মানুষের পক্ষে সভ্য সমাজে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বস্ত্র একদিকে লজ্জা নিবারণ করে মানুষকে সমাজে বাঁচতে সাহায্য করে, অন্যদিকে নানা রোগ থেকেও রক্ষা করে। এভাবে মানবিক চাহিদা হিসেবে বস্তু অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকে সফিকুল কোন চাহিদা পূরণের স্বাক্ষর রেখেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে সফিকুল মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের দ্বাক্ষর রেখেছে। একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না হলে সভ্য সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকা যায় না। উদ্দীপকের সফিকুল এ সকল চাহিদা পূরণেই সক্ষম হয়েছে। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী চার্লট টোলে তাঁর Common Human Needs′Needs^{\prime} গ্রন্থে ছয়টি মৌলিক মানবিক চাহিদার উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিত্তবিনোদন। সমাজে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই ছয়টি চাহিদা পূরণ হওয়া অত্যাবশ্যক। এখন উদ্দীপকের সফিকুল কিছুদিন পূর্বেও এই মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো থেকে বঞ্চিত ছিল। পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, মায়ের চিকিৎসা করতে না পারা, জরাজীর্ণ ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করা প্রভৃতি থেকে সফিকুলের পূর্বের অবস্থা অনুমেয়। কিন্তু বর্তমানে সে মেধাতালিকায় স্থান করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে তার সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এখন সে ডাক্তার হয়ে দারিদ্র্য ঘুচাতে পারবে, মায়ের চিকিৎসা করতে পারবে, বাসস্থানের সংকট দূর করতে সমর্থ হবে, পরিবারের সবার জন্য ভালো কাপড় এবং চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থাও করতে পারবে। অর্থাৎ সফিকুল মৌলিক মানবিক চাহিদাসমূহ পূরণের মাধ্যমে সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারবে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচি কি মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্যতম মৌলিক মানবিক চাহিদা খাদ্যের অভাব পূরণে সরকারের 'দশ টাকা কেজি চাল' কর্মসূচির উল্লেখ করা হয়েছে। মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে কেবল এই কর্মসূচিটি যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি আরও পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে দেশের মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনে সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন প্রতিটি খাতেই সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অনাহার ও অর্ধাহার থেকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। 'দশ টাকা কেজি চাল' এ ধরনেরই একটি কর্মসূচি। এই কর্মসূচির ফলে উদ্দীপকের সফিকুলের পরিবারের ন্যায় অনেক দরিদ্র পরিবার উপকৃত হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো- এই কর্মসূচিটি কেবল খাদ্যের চাহিদা পূরণের সাথে সম্পৃক্ত। খাদ্য ছাড়াও বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদনের চাহিদা পূরণের জন্যও নানা ধরনের কর্মসূচি প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া দেশের মানুষের বস্ত্রের চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি, বাসস্থান সমস্যার সমাধানে প্রকল্প গ্রহণ প্রভৃতিও অত্যাবশ্যক। বর্তমান সরকার উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির পাশাপাশি উপরে আলোচিত খাতগুলোতেও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে; যা মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পঞ্চগড়ের সফিকুলের নাম দেশবাসীর মুখে মুখে। কারণ এবার ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। অথচ কখনও দুবেলা দুমুঠো পেট ভরে খাবার পায়নি। এক কাপড়ে কেটেছে, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়েছে বার বার। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে গাদাগাদি করে জরাজীর্ণ ঘরে রাত কাটাতো। অবশ্য পরিবারটি 'দশ টাকা কেজি চাল' কর্মসূচির আওতায় ছিল। আর এর মধ্যেই স্বপ্ন দেখতো সে ডাক্তার হবে, অসুস্থ মাকে সুস্থ করে তুলবে, সাথে সাথে গ্রামবাসীর সেবা করবে।

Dhaka · 2017

ক
মৌলিক মানবিক চাহিদা কয়টি?

উত্তর

মৌলিক মানবিক চাহিদা ছয়টি।
খ
বস্তুকে কেন মানবিক চাহিদা বলা হয়?

উত্তর

মানুষের পক্ষে বস্ত্র ছাড়া সভ্য সমাজে বসবাস করা সম্ভব নয়। এ কারণে বস্তুকে মানবিক চাহিদা বলা হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রযোজ্য চাহিদাগুলোই মানবিক চাহিদা। সামাজিক পরিচিতি ও মর্যাদা রক্ষার জন্য মানবিক বা সামাজিক চাহিদার গুরুত্ব অপরিসীম। বস্ত্র এ ধরনেরই একটি সামাজিক চাহিদা। বস্ত্র ছাড়া মানুষের পক্ষে সভ্য সমাজে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বস্ত্র একদিকে লজ্জা নিবারণ করে মানুষকে সমাজে বাঁচতে সাহায্য করে, অন্যদিকে নানা রোগ থেকেও রক্ষা করে। এভাবে মানবিক চাহিদা হিসেবে বস্তু অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
গ
উদ্দীপকে সফিকুল কোন চাহিদা পূরণের স্বাক্ষর রেখেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে সফিকুল মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের দ্বাক্ষর রেখেছে। একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না হলে সভ্য সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকা যায় না। উদ্দীপকের সফিকুল এ সকল চাহিদা পূরণেই সক্ষম হয়েছে। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী চার্লট টোলে তাঁর Common Human Needs′Needs^{\prime} গ্রন্থে ছয়টি মৌলিক মানবিক চাহিদার উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিত্তবিনোদন। সমাজে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই ছয়টি চাহিদা পূরণ হওয়া অত্যাবশ্যক। এখন উদ্দীপকের সফিকুল কিছুদিন পূর্বেও এই মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো থেকে বঞ্চিত ছিল। পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, মায়ের চিকিৎসা করতে না পারা, জরাজীর্ণ ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করা প্রভৃতি থেকে সফিকুলের পূর্বের অবস্থা অনুমেয়। কিন্তু বর্তমানে সে মেধাতালিকায় স্থান করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে তার সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এখন সে ডাক্তার হয়ে দারিদ্র্য ঘুচাতে পারবে, মায়ের চিকিৎসা করতে পারবে, বাসস্থানের সংকট দূর করতে সমর্থ হবে, পরিবারের সবার জন্য ভালো কাপড় এবং চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থাও করতে পারবে। অর্থাৎ সফিকুল মৌলিক মানবিক চাহিদাসমূহ পূরণের মাধ্যমে সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারবে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচি কি মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্যতম মৌলিক মানবিক চাহিদা খাদ্যের অভাব পূরণে সরকারের 'দশ টাকা কেজি চাল' কর্মসূচির উল্লেখ করা হয়েছে। মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে কেবল এই কর্মসূচিটি যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি আরও পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে দেশের মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনে সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন প্রতিটি খাতেই সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অনাহার ও অর্ধাহার থেকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। 'দশ টাকা কেজি চাল' এ ধরনেরই একটি কর্মসূচি। এই কর্মসূচির ফলে উদ্দীপকের সফিকুলের পরিবারের ন্যায় অনেক দরিদ্র পরিবার উপকৃত হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো- এই কর্মসূচিটি কেবল খাদ্যের চাহিদা পূরণের সাথে সম্পৃক্ত। খাদ্য ছাড়াও বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদনের চাহিদা পূরণের জন্যও নানা ধরনের কর্মসূচি প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া দেশের মানুষের বস্ত্রের চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি, বাসস্থান সমস্যার সমাধানে প্রকল্প গ্রহণ প্রভৃতিও অত্যাবশ্যক। বর্তমান সরকার উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির পাশাপাশি উপরে আলোচিত খাতগুলোতেও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে; যা মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বিগত বছরে হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যায় কৃষকের প্রধান ফসল ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকে। জরুরি চিকিৎসা সেবায়ও সংকট দেখা দেয়। আয়-রোজগার না থাকায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি মেরামত করতে পারেনি।

Rajshahi · 2018

ক
'Common Human Needs′Needs^{\prime} গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

উত্তর

মার্কিন সমাজকর্মী শার্লট টোলে 'Common Human Needs ' গ্রন্থটি রচনা করেন।
খ
শিক্ষাকে কেন মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়?

উত্তর

সামাজিকভাবে উন্নত জীবনযাপনের জন্য মানুষকে যেসব চাহিদা পূরণ করতে হয় শিক্ষা তার অন্যতম। তাই একে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। শিক্ষার মাধ্যমেই একজন মানুষ তার জীবন ও জগৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে। এটি মনুষ্যত্ব অর্জনের একমাত্র উপায়। শিক্ষাই পারে মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব গঠন, মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। এ কারণে শিক্ষাকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে কোন মৌল মানবিক চাহিদার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বস্ত্র, চিত্তবিনোদন ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌল মানবিক চাহিদার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। সমাজে বাস করার জন্য মানুষকে কিছু চাহিদা পূরণ করতে হয়। এগুলো পূরণের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হয়। এসব চাহিদা পূরণ ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা বা উন্নত জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। এগুলো হলো— খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদন ও সামাজিক নিরাপত্তা। এর মধ্যে উদ্দীপকে তিনটি চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়নি। উদ্দীপকে দেখা যায়, হাওর অঞ্চলের বন্যায় মানুষের ফসলহানি ঘটেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ থাকছে, চিকিৎসাসেবায় সংকট দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারছে না। কিন্তু খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান ছাড়াও মানুষের আরো কিছু মৌল মানবিক চাহিদা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো বস্ত্র। এটি দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয় ছাড়াও সভ্যতার অন্যতম প্রতীক। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সভ্য সমাজে থাকতে পারে না। আবার চিত্তবিনোদন হলো মানুষের মনের খোরাক। সুস্থ বিনোদন মানুষকে কাজ করার শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। এর অভাবে মানুষ স্বাভাবিক কর্মশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ইদানীং সামাজিক নিরাপত্তাকেও মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা (বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বেকার ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি) পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা এবং চিত্তবিনোদন—এ মৌল মানবিক চাহিদাগুলোর ইঙ্গিত অনুপস্থিত।
ঘ
উদ্দীপকে অনুপস্থিত মানবজীবনের মৌল মানবিক চাহিদার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে অনুপস্থিত মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাৎ বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও চিত্তবিনোদনের তাৎপর্য অপরিসীম। মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মৌল মানবিক চাহিদা প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষের জন্য এসব চাহিদা পূরণ হওয়া জরুরি। বস্ত্র মানবজীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। সভ্যতার সূচনা থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সমাজে বাস করতে পারে না এবং এর অভাবে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বস্ত্র লজ্জা নিবারণ ছাড়াও মানুষকে অতি শৈত্য বা উষ্ণতা এবং নানা ধরনের সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। আবার খাদ্য যেমন দেহের বৃদ্ধি ঘটায়, তেমনি চিত্তবিনোদন মানুষের মনের খোরাক জোগায়। এর ফলে কাজে উদ্দীপনা আসে। কাজের ব্যস্ততার কারণে মানুষের জীবন মাঝে মাঝে একঘেয়ে হয়ে ওঠে। তখন চিত্তবিনোদনমূলক কাজ মানুষের মনকে চাঙ্গা করে। ক্লান্তি দূর করে কাজের প্রেরণা জোগায়। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই নয় শিশু, কিশোরদের ক্ষেত্রেও চিত্তবিনোদনের ইতিবাচক ভূমিকা বিদ্যমান। যান্ত্রিক ও ভোগবাদী এই যুগে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। তাই অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে এটি মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে বেকার, প্রতিবন্ধী, বিধবা, এতিম, প্রবীণসহ অসহায় ও দুস্থ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থানে পরিবর্তন আসছে। তাই সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায় বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও চিত্তবিনোদন মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বিগত বছরে হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যায় কৃষকের প্রধান ফসল ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকে। জরুরি চিকিৎসা সেবায়ও সংকট দেখা দেয়। আয়-রোজগার না থাকায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি মেরামত করতে পারেনি।

Rajshahi · 2018

ক
'Common Human Needs′Needs^{\prime} গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

উত্তর

মার্কিন সমাজকর্মী শার্লট টোলে 'Common Human Needs ' গ্রন্থটি রচনা করেন।
খ
শিক্ষাকে কেন মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়?

উত্তর

সামাজিকভাবে উন্নত জীবনযাপনের জন্য মানুষকে যেসব চাহিদা পূরণ করতে হয় শিক্ষা তার অন্যতম। তাই একে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। শিক্ষার মাধ্যমেই একজন মানুষ তার জীবন ও জগৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে। এটি মনুষ্যত্ব অর্জনের একমাত্র উপায়। শিক্ষাই পারে মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব গঠন, মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। এ কারণে শিক্ষাকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে কোন মৌল মানবিক চাহিদার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বস্ত্র, চিত্তবিনোদন ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌল মানবিক চাহিদার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। সমাজে বাস করার জন্য মানুষকে কিছু চাহিদা পূরণ করতে হয়। এগুলো পূরণের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হয়। এসব চাহিদা পূরণ ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা বা উন্নত জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। এগুলো হলো— খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদন ও সামাজিক নিরাপত্তা। এর মধ্যে উদ্দীপকে তিনটি চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়নি। উদ্দীপকে দেখা যায়, হাওর অঞ্চলের বন্যায় মানুষের ফসলহানি ঘটেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ থাকছে, চিকিৎসাসেবায় সংকট দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারছে না। কিন্তু খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান ছাড়াও মানুষের আরো কিছু মৌল মানবিক চাহিদা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো বস্ত্র। এটি দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয় ছাড়াও সভ্যতার অন্যতম প্রতীক। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সভ্য সমাজে থাকতে পারে না। আবার চিত্তবিনোদন হলো মানুষের মনের খোরাক। সুস্থ বিনোদন মানুষকে কাজ করার শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। এর অভাবে মানুষ স্বাভাবিক কর্মশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ইদানীং সামাজিক নিরাপত্তাকেও মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা (বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বেকার ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি) পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা এবং চিত্তবিনোদন—এ মৌল মানবিক চাহিদাগুলোর ইঙ্গিত অনুপস্থিত।
ঘ
উদ্দীপকে অনুপস্থিত মানবজীবনের মৌল মানবিক চাহিদার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে অনুপস্থিত মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাৎ বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও চিত্তবিনোদনের তাৎপর্য অপরিসীম। মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মৌল মানবিক চাহিদা প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষের জন্য এসব চাহিদা পূরণ হওয়া জরুরি। বস্ত্র মানবজীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। সভ্যতার সূচনা থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সমাজে বাস করতে পারে না এবং এর অভাবে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বস্ত্র লজ্জা নিবারণ ছাড়াও মানুষকে অতি শৈত্য বা উষ্ণতা এবং নানা ধরনের সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। আবার খাদ্য যেমন দেহের বৃদ্ধি ঘটায়, তেমনি চিত্তবিনোদন মানুষের মনের খোরাক জোগায়। এর ফলে কাজে উদ্দীপনা আসে। কাজের ব্যস্ততার কারণে মানুষের জীবন মাঝে মাঝে একঘেয়ে হয়ে ওঠে। তখন চিত্তবিনোদনমূলক কাজ মানুষের মনকে চাঙ্গা করে। ক্লান্তি দূর করে কাজের প্রেরণা জোগায়। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই নয় শিশু, কিশোরদের ক্ষেত্রেও চিত্তবিনোদনের ইতিবাচক ভূমিকা বিদ্যমান। যান্ত্রিক ও ভোগবাদী এই যুগে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। তাই অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে এটি মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে বেকার, প্রতিবন্ধী, বিধবা, এতিম, প্রবীণসহ অসহায় ও দুস্থ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থানে পরিবর্তন আসছে। তাই সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায় বস্ত্র, সামাজিক নিরাপত্তা ও চিত্তবিনোদন মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো