HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
নিচের ছকটি দেখ এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:-


Rajshahi · 2017
ক
সমষ্টি উন্নয়ন কী?
উত্তর
সমষ্টি উন্নয়ন হলো সমাজকর্মের নীতি ও কর্মকৌশল যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমষ্টি জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের পদ্ধতি।
খ
গ্রহণ নীতি বলতে কী বোঝ?
উত্তর
গ্রহণ নীতি বলতে ব্যক্তি সমাজকর্মে একজন সমাজকর্মী কর্তৃক সাহায্যার্থীকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণের নীতিকে বোঝায়।
সমাজকর্মী সাহায্যার্থীকে কীভাবে গ্রহণ করবে সমস্যা সমাধান তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। কারণ সমাজকর্মী যদি আন্তরিকতা ও সহানুভূতির সাথে সাহায্যার্থীকে গ্রহণ না করে তবে তার প্রতি সাহায্যার্থীর বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই সাহায্যার্থী যে শ্রেণিরই হোক না কেন তাকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করতে হবে। এটাই গ্রহণ নীতির মূলকথা।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের যে ধরনের পদ্ধতির ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতির ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিসমূহকে বাস্তব ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ এবং লক্ষ্যার্জনে যে পদ্ধতি বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে তাকে সহায়ক পদ্ধতি বলে। সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতিগুলো হলো- সমাজকর্ম প্রশাসন, সমাজকর্ম গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রম। এই শ্রেণিবিভাগটিই উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে।
সমাজকর্ম প্রশাসন পদ্ধতিটি সমাজকর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সমাজকর্মের এমন একটি কৌশল ও প্রক্রিয়া যা সামাজিক নীতিকে সামাজিক সেবায় পরিণত করে এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক পরিকল্পনা ও কর্মসূচিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করে। অন্যদিকে, সমাজকর্ম গবেষণা এমন একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান যার মাধ্যমে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে যথার্থ এবং সুসংহত করে তোলা হয়। এই পদ্ধতি সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সহায়তা করে। সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতির তৃতীয়টি হলো সামাজিক কার্যক্রম। সমাজব্যবস্থায় যে সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত অবস্থা বিরাজ করে তা সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই হলো সামাজিক কার্যক্রম। উদ্দীপকে ছকের মাধ্যমে এ তিনটি পদ্ধতিই উপস্থাপিত হয়েছে।
ঘ
উক্ত পদ্ধতি সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে কি যথেষ্ট? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উক্ত পদ্ধতি অর্থাৎ সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
সমাজকর্ম পদ্ধতি মৌলিক ও সহায়ক এ দুটি অংশে বিভক্ত। পৃথক পৃথক ভাবে এ পদ্ধতিগুলো আলোচিত হলেও এগুলো পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। সমাজকর্মে কোনো সমস্যার সমাধানে এই দুই শ্রেণির পদ্ধতির সমন্বয় ঘটানো হয়। অর্থাৎ কেবল মৌলিক বা কেবল সহায়ক পদ্ধতি সমস্যা সমাধানে শতভাগ কার্যকর নয়।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এটি মূলত সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে কাজ করে। এ প্রেক্ষিতেই সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমাজকর্ম এ তিনটি পদ্ধতি সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। যেকোনো সমস্যার বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি অনুসারে এই তিনটির মধ্য থেকে উপযুক্ত পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে এগুলোর পাশাপাশি সহায়ক পদ্ধতিরও প্রয়োজন আছে। সহায়ক পদ্ধতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৌলিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের উপায় বা প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। আর এ দুই ধরনের পদ্ধতির সমন্বয়েই সমাজকর্মের আওতাধীন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, সমাজকর্মের মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগেই যেকোনো সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো