HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
শিল্প বিপ্লব মানুষকে যেমন দিয়েছে প্রাচুর্য ও বিলাসিতা, ঠিক তেমনি দিয়েছে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব ও অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা। আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র সামাজিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঐ সমস্ত লোকদের প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আবার নাগরিকগণ তাদের অসহায় ও বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিজেরাও পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচির আওতায় আসে।
Rajshahi · 2017
ক
এতিমখানা কী?
উত্তর
এতিমখানা হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে পিতৃহীন বা পিতৃ-মাতৃহীন এবং নির্ভরশীল, দুস্থ ও অসহায় শিশুদেরকে লালন- পালন, ভরণ-পোষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
খ
বায়তুল মাল কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর
রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বায়তুল মাল গঠিত হয়েছিল।
বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা সরকারি তহবিলকে বোঝায়। এটি মূলত জনকল্যাণের লক্ষ্যে গঠিত একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান। খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় থেকে বায়তুল মালের অর্থ ও সম্পদ দুস্থ, নিরাশ্রয় ও বিপন্ন জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হতো এবং পঙ্গু, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিদের বিশেষ ভাতা প্রদান করা হতো। তাই বলা যায়, জনকল্যাণই ছিল বায়তুল মাল গঠনের মূল লক্ষ্য।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির মাধ্যমে কোন কল্যাণমূলক কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজসেবা কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
আধুনিক সমাজে জীবনের সাধারণ ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবনযাপনের সাধারণ ঝুঁকির মধ্যে আকস্মিক দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রত্যেক সদস্যেরই কোনো না কোনো সময়ে এসব ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিপর্যয় মোকাবিলা করে জীবন ধারণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আমাদের সমাজের অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা প্রভৃতি সমস্যার কথা বলা হয়েছে, এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার বা রাষ্ট্র কর্তৃক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। আর এ ধরনের কর্মসূচি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্যই গৃহীত হয়। সামাজিক নিরাপত্তার সংজ্ঞার্থ বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী, আধুনিক শিল্প সমাজের অসুস্থতা, বেকারত্ব বার্ধক্যজনিত নির্ভরশীলতা, পেশাগত দুর্ঘটনা প্রভৃতি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বহির্ভূত বিপর্যয় মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচিই সামাজিক নিরাপত্তা। সুতরাং উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কর্মসূচি সামাজিক নিরাপত্তার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকগণ নিজেরা কীভাবে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবেলা করে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর
পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে একটি দেশের নাগরিকদেরকে আকস্মিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা। রাষ্ট্র কর্তৃক এই কর্মসূচি গৃহীত হলেও সকল নাগরিকের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং নিজেদেরকে পরিকল্পিত কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা।
যেকোনো দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আধুনিক শিল্প সমাজে যে সকল আকস্মিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় পরিলক্ষিত হয় সেগুলো থেকে বাঁচতে নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নানা ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রচলিত রয়েছে। এ সকল কর্মসূচি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করা প্রত্যেক নাগরিকেরই উচিত। নিজেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন না হলে এবং তার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি না রাখলে দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সে অনুযায়ী পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলায় অনস্বীকার্য।
পরিশেষে বলা যায়, নাগরিকগণ সচেতন হলে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করলে খুব সহজেই আলোচ্য বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো