Chapter 4: সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয় Social Work 1st Paper

HSC Social Work 1st Paper এর Chapter 4: সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয় অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৬৮৭

প্রশ্ন

Social Work 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শিল্প বিপ্লব মানুষকে যেমন দিয়েছে প্রাচুর্য ও বিলাসিতা, ঠিক তেমনি দিয়েছে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব ও অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা। আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র সামাজিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঐ সমস্ত লোকদের প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আবার নাগরিকগণ তাদের অসহায় ও বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিজেরাও পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচির আওতায় আসে।

Rajshahi · 2017

ক
এতিমখানা কী?

উত্তর

এতিমখানা হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে পিতৃহীন বা পিতৃ-মাতৃহীন এবং নির্ভরশীল, দুস্থ ও অসহায় শিশুদেরকে লালন- পালন, ভরণ-পোষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
খ
বায়তুল মাল কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর

রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বায়তুল মাল গঠিত হয়েছিল। বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা সরকারি তহবিলকে বোঝায়। এটি মূলত জনকল্যাণের লক্ষ্যে গঠিত একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান। খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় থেকে বায়তুল মালের অর্থ ও সম্পদ দুস্থ, নিরাশ্রয় ও বিপন্ন জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হতো এবং পঙ্গু, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিদের বিশেষ ভাতা প্রদান করা হতো। তাই বলা যায়, জনকল্যাণই ছিল বায়তুল মাল গঠনের মূল লক্ষ্য।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির মাধ্যমে কোন কল্যাণমূলক কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজসেবা কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আধুনিক সমাজে জীবনের সাধারণ ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবনযাপনের সাধারণ ঝুঁকির মধ্যে আকস্মিক দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রত্যেক সদস্যেরই কোনো না কোনো সময়ে এসব ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিপর্যয় মোকাবিলা করে জীবন ধারণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তিত হয়েছে। উদ্দীপকে আমাদের সমাজের অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা প্রভৃতি সমস্যার কথা বলা হয়েছে, এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার বা রাষ্ট্র কর্তৃক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। আর এ ধরনের কর্মসূচি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্যই গৃহীত হয়। সামাজিক নিরাপত্তার সংজ্ঞার্থ বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী, আধুনিক শিল্প সমাজের অসুস্থতা, বেকারত্ব বার্ধক্যজনিত নির্ভরশীলতা, পেশাগত দুর্ঘটনা প্রভৃতি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বহির্ভূত বিপর্যয় মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচিই সামাজিক নিরাপত্তা। সুতরাং উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কর্মসূচি সামাজিক নিরাপত্তার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকগণ নিজেরা কীভাবে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবেলা করে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।

উত্তর

পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে একটি দেশের নাগরিকদেরকে আকস্মিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা। রাষ্ট্র কর্তৃক এই কর্মসূচি গৃহীত হলেও সকল নাগরিকের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং নিজেদেরকে পরিকল্পিত কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা। যেকোনো দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আধুনিক শিল্প সমাজে যে সকল আকস্মিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় পরিলক্ষিত হয় সেগুলো থেকে বাঁচতে নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নানা ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রচলিত রয়েছে। এ সকল কর্মসূচি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করা প্রত্যেক নাগরিকেরই উচিত। নিজেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন না হলে এবং তার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি না রাখলে দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সে অনুযায়ী পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলায় অনস্বীকার্য। পরিশেষে বলা যায়, নাগরিকগণ সচেতন হলে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করলে খুব সহজেই আলোচ্য বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শিল্প বিপ্লব মানুষকে যেমন দিয়েছে প্রাচুর্য ও বিলাসিতা, ঠিক তেমনি দিয়েছে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব ও অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা। আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র সামাজিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঐ সমস্ত লোকদের প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আবার নাগরিকগণ তাদের অসহায় ও বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিজেরাও পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচির আওতায় আসে।

Rajshahi · 2017

ক
এতিমখানা কী?

উত্তর

এতিমখানা হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে পিতৃহীন বা পিতৃ-মাতৃহীন এবং নির্ভরশীল, দুস্থ ও অসহায় শিশুদেরকে লালন- পালন, ভরণ-পোষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
খ
বায়তুল মাল কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর

রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বায়তুল মাল গঠিত হয়েছিল। বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা সরকারি তহবিলকে বোঝায়। এটি মূলত জনকল্যাণের লক্ষ্যে গঠিত একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান। খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় থেকে বায়তুল মালের অর্থ ও সম্পদ দুস্থ, নিরাশ্রয় ও বিপন্ন জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হতো এবং পঙ্গু, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিদের বিশেষ ভাতা প্রদান করা হতো। তাই বলা যায়, জনকল্যাণই ছিল বায়তুল মাল গঠনের মূল লক্ষ্য।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির মাধ্যমে কোন কল্যাণমূলক কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজসেবা কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আধুনিক সমাজে জীবনের সাধারণ ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবনযাপনের সাধারণ ঝুঁকির মধ্যে আকস্মিক দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রত্যেক সদস্যেরই কোনো না কোনো সময়ে এসব ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিপর্যয় মোকাবিলা করে জীবন ধারণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তিত হয়েছে। উদ্দীপকে আমাদের সমাজের অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বেকারত্ব, অক্ষমতাজনিত নির্ভরশীলতা প্রভৃতি সমস্যার কথা বলা হয়েছে, এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার বা রাষ্ট্র কর্তৃক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। আর এ ধরনের কর্মসূচি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্যই গৃহীত হয়। সামাজিক নিরাপত্তার সংজ্ঞার্থ বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী, আধুনিক শিল্প সমাজের অসুস্থতা, বেকারত্ব বার্ধক্যজনিত নির্ভরশীলতা, পেশাগত দুর্ঘটনা প্রভৃতি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বহির্ভূত বিপর্যয় মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচিই সামাজিক নিরাপত্তা। সুতরাং উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কর্মসূচি সামাজিক নিরাপত্তার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকগণ নিজেরা কীভাবে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবেলা করে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।

উত্তর

পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে একটি দেশের নাগরিকদেরকে আকস্মিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা। রাষ্ট্র কর্তৃক এই কর্মসূচি গৃহীত হলেও সকল নাগরিকের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং নিজেদেরকে পরিকল্পিত কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা। যেকোনো দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আধুনিক শিল্প সমাজে যে সকল আকস্মিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় পরিলক্ষিত হয় সেগুলো থেকে বাঁচতে নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নানা ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রচলিত রয়েছে। এ সকল কর্মসূচি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করা প্রত্যেক নাগরিকেরই উচিত। নিজেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন না হলে এবং তার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি না রাখলে দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সে অনুযায়ী পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দুর্যোগ বা বিপর্যয় মোকাবিলায় অনস্বীকার্য। পরিশেষে বলা যায়, নাগরিকগণ সচেতন হলে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করলে খুব সহজেই আলোচ্য বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সৈয়দ মোঃ নাসিম আলী পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলিম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর আগে উইল করে তার সম্পত্তি তিন ভাগ করেন। একভাগ জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য, আরেক ভাগ তার বংশধরদের দান করেন এবং বাকি অংশ ধর্মীয় কাজে দান করেন। এই দানকৃত সম্পত্তির আয় দ্বারা দুঃস্থ, এতিম অসহায়দের ভরণ- পোষণ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে।

Rajshahi · 2017

ক
যাকাত কোন শব্দ?

উত্তর

যাকাত আরবি শব্দ।
খ
ধর্মগোলা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

ধর্মগোলা বলতে ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে দুর্ভিক্ষজনিত পরিস্থিতিতে গৃহীত এক ধরনের কল্যাণমূলক প্রচেষ্টাকে বোঝায়। ধর্মগোলা মূলত খাদ্যশস্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের নিকট থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে ধর্মগোলায় সংরক্ষণ করা হতো। পরবর্তীতে দুর্ভিক্ষের সময় সেখান থেকে কৃষকদের বিনাসুদে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হতো। দুর্ভিক্ষ ছাড়াও ধর্মগোলা থেকে অভাবের সময় কৃষকদের বিনাসুদে ঋণ দেওয়া হতো। মূলত দরিদ্র কৃষকদের সহযোগিতা করা ছিল ধর্মগোলা গঠনের মূল কারণ।
গ
সৈয়দ মোঃ নাসিম আলীর 'সম্পত্তি দান' কার্যক্রম কোন সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সৈয়দ মোঃ নাসিম আলীর 'সম্পত্তি দান' কার্যক্রম সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ওয়াক্ফের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ওয়াক্ফ বলতে ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক কাজে কোনো মুসলমানের সম্পূর্ণ বা আংশিক সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ বা দান করাকে বোঝায়। এটি ইসলাম ধর্মে প্রচলিত জনহিতকর কাজে সম্পত্তি দানের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। এর সুপ্রতিষ্ঠিত আইনগত ভিত্তি রয়েছে। উদ্দীপকে নাসিম আলী তার সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে উক্ত আইনগত ভিত্তিই অনুসরণ করেছেন। মোঃ নাসিম আলী তার সম্পত্তি উইল করে তিন ভাগে ভাগ করেন। একভাগ জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য, আরেকভাগ তার বংশধরদের দান করেন এবং বাকি অংশ ধর্মীয় কাজে দান করেন। তার এই তিন ভাগকে যথাক্রমে ওয়াক্ফ্ফ-ই খায়রি, ওয়াকফ-ই-আহলি এবং ওয়াক্ফ্ফ- ই-লিল্লাহ বলা যায়। যখন কোনো মুসলমান তার সম্পত্তি বা সম্পত্তির আয় জনহিতকর কাজে দান করে, তখন তাকে ওয়াকফ-ই-খায়রি বলে। অন্যদিকে, যখন কোনো দাতা ও ওয়াক্তকারী নিজ বংশধর বা তার আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণে সম্পূর্ণ বা আংশিক সম্পত্তি দান করে তখন তাকে ওয়াক্ফ্ফ-ই-আহলি বলে। আর এই দান যদি কোনো ধর্মীয় কাজে করা হয় তবে তাকে বলা হয় ওয়াল্ফ-ই-লিল্লাহ। উদ্দীপকে এ তিন ধরনের ওয়াক্ত সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। এ প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সৈয়দ মোঃ নাসিম আলীর কাজের সাথে ওয়াফ্ফের সাদৃশ্য আছে।
ঘ
দানকৃত সম্পত্তি কীভাবে উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ওয়াক্ফের মাধ্যমে দানকৃত সম্পত্তি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজসেবায় ওয়াক্ফের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়াক্ফ মানবকল্যাণের লক্ষ্যে বৈষয়িক সহায়তা ও দানকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয়। অর্থাৎ ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম- শৃঙ্খলা মাফিক সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। এর ফলে সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়। উদ্দীপকে মোঃ নাসিম আলীর ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির আয় দ্বারা দুঃস্থ, এতিম ও অসহায়দের ভরণ-পোষণ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ আরও অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অবশ্যই প্রভাবিত হবে। প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেমন- দাতব্য চিকিৎসালয়, এতিমখানা, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ প্রভৃতি স্থাপনে ওয়াক্ফের ভূমিকা অনবদ্য। ওয়াকফকৃত সম্পদ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অসহায় ও দরিদ্রদের দান-খয়রাত করার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদানেও ওয়াক্ফের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এর ফলে সমাজের দুস্থ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধিত হয়। আর এভাবেই সমাজের সামগ্রিক আর্থ- সামাজিক অবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণের নানা পথ উন্মোচনের মাধ্যমেই ওয়াক্ফ সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সৈয়দ মোঃ নাসিম আলী পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলিম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর আগে উইল করে তার সম্পত্তি তিন ভাগ করেন। একভাগ জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য, আরেক ভাগ তার বংশধরদের দান করেন এবং বাকি অংশ ধর্মীয় কাজে দান করেন। এই দানকৃত সম্পত্তির আয় দ্বারা দুঃস্থ, এতিম অসহায়দের ভরণ- পোষণ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে।

Rajshahi · 2017

ক
যাকাত কোন শব্দ?

উত্তর

যাকাত আরবি শব্দ।
খ
ধর্মগোলা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

ধর্মগোলা বলতে ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে দুর্ভিক্ষজনিত পরিস্থিতিতে গৃহীত এক ধরনের কল্যাণমূলক প্রচেষ্টাকে বোঝায়। ধর্মগোলা মূলত খাদ্যশস্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের নিকট থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে ধর্মগোলায় সংরক্ষণ করা হতো। পরবর্তীতে দুর্ভিক্ষের সময় সেখান থেকে কৃষকদের বিনাসুদে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হতো। দুর্ভিক্ষ ছাড়াও ধর্মগোলা থেকে অভাবের সময় কৃষকদের বিনাসুদে ঋণ দেওয়া হতো। মূলত দরিদ্র কৃষকদের সহযোগিতা করা ছিল ধর্মগোলা গঠনের মূল কারণ।
গ
সৈয়দ মোঃ নাসিম আলীর 'সম্পত্তি দান' কার্যক্রম কোন সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সৈয়দ মোঃ নাসিম আলীর 'সম্পত্তি দান' কার্যক্রম সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ওয়াক্ফের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ওয়াক্ফ বলতে ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক কাজে কোনো মুসলমানের সম্পূর্ণ বা আংশিক সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ বা দান করাকে বোঝায়। এটি ইসলাম ধর্মে প্রচলিত জনহিতকর কাজে সম্পত্তি দানের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। এর সুপ্রতিষ্ঠিত আইনগত ভিত্তি রয়েছে। উদ্দীপকে নাসিম আলী তার সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে উক্ত আইনগত ভিত্তিই অনুসরণ করেছেন। মোঃ নাসিম আলী তার সম্পত্তি উইল করে তিন ভাগে ভাগ করেন। একভাগ জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য, আরেকভাগ তার বংশধরদের দান করেন এবং বাকি অংশ ধর্মীয় কাজে দান করেন। তার এই তিন ভাগকে যথাক্রমে ওয়াক্ফ্ফ-ই খায়রি, ওয়াকফ-ই-আহলি এবং ওয়াক্ফ্ফ- ই-লিল্লাহ বলা যায়। যখন কোনো মুসলমান তার সম্পত্তি বা সম্পত্তির আয় জনহিতকর কাজে দান করে, তখন তাকে ওয়াকফ-ই-খায়রি বলে। অন্যদিকে, যখন কোনো দাতা ও ওয়াক্তকারী নিজ বংশধর বা তার আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণে সম্পূর্ণ বা আংশিক সম্পত্তি দান করে তখন তাকে ওয়াক্ফ্ফ-ই-আহলি বলে। আর এই দান যদি কোনো ধর্মীয় কাজে করা হয় তবে তাকে বলা হয় ওয়াল্ফ-ই-লিল্লাহ। উদ্দীপকে এ তিন ধরনের ওয়াক্ত সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। এ প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সৈয়দ মোঃ নাসিম আলীর কাজের সাথে ওয়াফ্ফের সাদৃশ্য আছে।
ঘ
দানকৃত সম্পত্তি কীভাবে উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ওয়াক্ফের মাধ্যমে দানকৃত সম্পত্তি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজসেবায় ওয়াক্ফের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়াক্ফ মানবকল্যাণের লক্ষ্যে বৈষয়িক সহায়তা ও দানকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয়। অর্থাৎ ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম- শৃঙ্খলা মাফিক সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। এর ফলে সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়। উদ্দীপকে মোঃ নাসিম আলীর ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির আয় দ্বারা দুঃস্থ, এতিম ও অসহায়দের ভরণ-পোষণ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ আরও অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অবশ্যই প্রভাবিত হবে। প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেমন- দাতব্য চিকিৎসালয়, এতিমখানা, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ প্রভৃতি স্থাপনে ওয়াক্ফের ভূমিকা অনবদ্য। ওয়াকফকৃত সম্পদ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অসহায় ও দরিদ্রদের দান-খয়রাত করার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদানেও ওয়াক্ফের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এর ফলে সমাজের দুস্থ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধিত হয়। আর এভাবেই সমাজের সামগ্রিক আর্থ- সামাজিক অবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণের নানা পথ উন্মোচনের মাধ্যমেই ওয়াক্ফ সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আলী আহমদ সাহেব সম্প্রতি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি অনেক টাকা পেনশন পান। এ টাকাই তার বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সম্বল।

Dhaka · 2017

ক
বায়তুল মাল কী?

উত্তর

বায়তুল মাল বলতে ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে বিভিন্ন উৎস হতে জমাকৃত অর্থ ও সম্পদ রাষ্ট্রের ব্যয়ভারসহ জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর কাজে ব্যয় করা হয়।
খ
সামাজিক বিমা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

সামাজিক বিমা বলতে কোনো ব্যক্তির স্বীয় সামর্থ্য ও দূরদৃষ্টির সাহায্যে নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে নিজের ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের প্রাক্কালে আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকে বোঝায়। সামাজিক বিমা ব্যক্তিকে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। সামাজিক বিমার মধ্যে রয়েছে শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, স্বাস্থ্য বিমা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, যৌথ বিমা ইত্যাদি। বর্তমানে সারাবিশ্বে এ ধরনের বিমা বেশ জনপ্রিয়।
গ
আলী আহমদ সাহেবের পেনশন লাভ সমাজকর্মের কোন প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আলী আহমদ সাহেবের পেনশন লাভ সমাজকর্মের অন্যতম প্রত্যয় সামাজিক নিরাপত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আধুনিক সময়কালে কল্যাণরাষ্ট্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক নিরাপত্তা। বর্তমানে কল্যাণরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান যেমন রাষ্ট্রীয় কর্তব্য তেমনি এরূপ নিরাপত্তা লাভ নাগরিকের অধিকারও বটে। উদ্দীপকের আলী আহমদ এ নিরাপত্তাই লাভ করেছেন। প্রত্যেক মানুষকেই জীবনের শেষ পর্যায়ে বার্ধক্যের মুখোমুখি হতে হয়। তখন মানুষের কর্মক্ষমতা লোপ পাওয়ায় জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের আলী আহমদও বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। তবে তাকে নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হয়নি। কারণ তিনি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাকরি শেষ হবার পরও পেনশন লাভ করছেন। এটি মূলত সামাজিক নিরাপত্তার একটি প্রকারভেদ সামাজিক বিমার অন্তর্ভুক্ত। চাকরিজীবীদের জন্য সরকারিভাবেই সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এরূপ পেনশন প্রদানের বিধান রয়েছে; যাতে বার্ধক্যে তারা স্বচ্ছল জীবন কাটাতে পারে। আলী আহমদ সামাজিক বিমার এ সুবিধা ভোগ করছেন এবং বৃদ্ধ বয়সে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
ঘ
মানুষের জীবনে উক্ত প্রত্যয়ের ভূমিকা বর্ণনা কর।

উত্তর

মানুষের জীবনে উক্ত প্রত্যয়ের অর্থাৎ সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে আধুনিক সমাজজীবনের বিভিন্ন বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র কর্তৃক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গৃহীত হয়। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন, বিমা, শিশুকল্যাণ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মানুষের জীবনে এক ধরনের নিশ্চয়তা বিধান করছে। আধুনিক শিল্প-সমাজে জীবনের সাধারণ ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক জীবনযাপনের সাধারণ ঝুঁকির মধ্যে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, প্রতিবন্ধিত্ব, বেকারত্ব, বার্ধক্য ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রত্যেক সদস্যকেই কোনো না কোনো সময়ে আকস্মিকভাবে এসব ঝুঁকির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ অক্ষম ও কর্মহীন হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করছে। এসব আকস্মিক ও শোচনীয় অবস্থা মোকাবিলা করে জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। প্রকৃতপক্ষে সামাজিক নিরাপত্তা কেবল ব্যক্তিবিশেষের আর্থিক নিরাপত্তা বিধানের উপায় নয়, এটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার ও অন্যতম পূর্বশর্ত। পরিশেষে বলা যায়, মানুষের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অপরিসীম।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আলী আহমদ সাহেব সম্প্রতি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি অনেক টাকা পেনশন পান। এ টাকাই তার বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সম্বল।

Dhaka · 2017

ক
বায়তুল মাল কী?

উত্তর

বায়তুল মাল বলতে ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে বিভিন্ন উৎস হতে জমাকৃত অর্থ ও সম্পদ রাষ্ট্রের ব্যয়ভারসহ জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর কাজে ব্যয় করা হয়।
খ
সামাজিক বিমা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

সামাজিক বিমা বলতে কোনো ব্যক্তির স্বীয় সামর্থ্য ও দূরদৃষ্টির সাহায্যে নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে নিজের ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের প্রাক্কালে আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকে বোঝায়। সামাজিক বিমা ব্যক্তিকে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। সামাজিক বিমার মধ্যে রয়েছে শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, স্বাস্থ্য বিমা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, যৌথ বিমা ইত্যাদি। বর্তমানে সারাবিশ্বে এ ধরনের বিমা বেশ জনপ্রিয়।
গ
আলী আহমদ সাহেবের পেনশন লাভ সমাজকর্মের কোন প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আলী আহমদ সাহেবের পেনশন লাভ সমাজকর্মের অন্যতম প্রত্যয় সামাজিক নিরাপত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আধুনিক সময়কালে কল্যাণরাষ্ট্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক নিরাপত্তা। বর্তমানে কল্যাণরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান যেমন রাষ্ট্রীয় কর্তব্য তেমনি এরূপ নিরাপত্তা লাভ নাগরিকের অধিকারও বটে। উদ্দীপকের আলী আহমদ এ নিরাপত্তাই লাভ করেছেন। প্রত্যেক মানুষকেই জীবনের শেষ পর্যায়ে বার্ধক্যের মুখোমুখি হতে হয়। তখন মানুষের কর্মক্ষমতা লোপ পাওয়ায় জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের আলী আহমদও বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। তবে তাকে নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হয়নি। কারণ তিনি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাকরি শেষ হবার পরও পেনশন লাভ করছেন। এটি মূলত সামাজিক নিরাপত্তার একটি প্রকারভেদ সামাজিক বিমার অন্তর্ভুক্ত। চাকরিজীবীদের জন্য সরকারিভাবেই সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এরূপ পেনশন প্রদানের বিধান রয়েছে; যাতে বার্ধক্যে তারা স্বচ্ছল জীবন কাটাতে পারে। আলী আহমদ সামাজিক বিমার এ সুবিধা ভোগ করছেন এবং বৃদ্ধ বয়সে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
ঘ
মানুষের জীবনে উক্ত প্রত্যয়ের ভূমিকা বর্ণনা কর।

উত্তর

মানুষের জীবনে উক্ত প্রত্যয়ের অর্থাৎ সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে আধুনিক সমাজজীবনের বিভিন্ন বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র কর্তৃক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গৃহীত হয়। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন, বিমা, শিশুকল্যাণ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মানুষের জীবনে এক ধরনের নিশ্চয়তা বিধান করছে। আধুনিক শিল্প-সমাজে জীবনের সাধারণ ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক জীবনযাপনের সাধারণ ঝুঁকির মধ্যে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, প্রতিবন্ধিত্ব, বেকারত্ব, বার্ধক্য ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রত্যেক সদস্যকেই কোনো না কোনো সময়ে আকস্মিকভাবে এসব ঝুঁকির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ অক্ষম ও কর্মহীন হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করছে। এসব আকস্মিক ও শোচনীয় অবস্থা মোকাবিলা করে জীবনধারণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। প্রকৃতপক্ষে সামাজিক নিরাপত্তা কেবল ব্যক্তিবিশেষের আর্থিক নিরাপত্তা বিধানের উপায় নয়, এটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার ও অন্যতম পূর্বশর্ত। পরিশেষে বলা যায়, মানুষের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অপরিসীম।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো