Chapter 3: সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা Social Work 1st Paper

HSC Social Work 1st Paper এর Chapter 3: সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৯৪

প্রশ্ন

Social Work 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিবেদিতা চৌধুরী তিন বছর নার্সিং কলেজে শিক্ষানবিশ হিসেবে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন। রোগীরা তাকে অনেক পছন্দ করে। তাকে বিশ্বাস করে। রোগীদের সেবা করার ক্ষেত্রে তিনি কখনই আবেগতাড়িত হন না। তবে বিশেষ কিছু নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলেন। তিনি এই সেবার মাধ্যমেই পরিবারের ভরণ-পোষণ ও জীবিকা নির্বাহ করেন।

Rajshahi · 2017

ক
বিভারিজ রিপোর্ট কত সালে পেশ করা হয়?

উত্তর

১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট পেশ করা হয়।
খ
শিল্পবিপ্লব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

শিল্পবিপ্লব বলতে সে সকল প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের সমষ্টিকে বোঝায় যার প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয়েছিল। শিল্পবিপ্লব মূলত শিল্প এবং বিপ্লব এ দুটি পৃথক শব্দের সমষ্টি। এর দ্বারা শিল্প সংক্রান্ত বিপ্লবকে নির্দেশ করা হয়। অর্থাৎ এর ফলে কায়িক শ্রমনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তে যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে। শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয় ইংল্যান্ডে, যা পরবর্তীতে অতি দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়েই সারা বিশ্বের কৃষিনির্ভর সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়।
গ
উল্লিখিত নিবেদিতা চৌধুরীর কাজটি কোন ধরনের অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত নিবেদিতা চৌধুরীর কাজ প্রকৃতি, ধরন ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় পেশার অন্তর্ভুক্ত। জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, দক্ষতা, নৈপুণ্য, তত্ত্বনির্ভর সুশৃঙ্খল জ্ঞান, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং ব্যবহারিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে পেশা বলা হয়। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার অর্জিত জ্ঞানকে স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করে জীবিকা অর্জন করতে পারে। নিবেদিতা চৌধুরীর কাজটিও এ ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। নিবেদিতা চৌধুরী একজন সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য তাকে পড়াশোনার মাধ্যমে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছে। তিনি তিন বছর নার্সিং কলেজে শিক্ষানবিস হিসেবে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এভাবে তিনি তার কাজের জন্য দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জন করেছেন। তাছাড়া তিনি রোগীদের সেবা করার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলেন। এই নীতি ও মূল্যবোধসমূহ তার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি কখনোই আবেগতাড়িত হয়ে কাজ করেন না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, পরিবারের ভরণপোষণ এবং জীবিকা নির্বাহে নিবেদিতা চৌধুরী যে অর্থনৈতিক কাজটি বেছে নিয়েছেন সেটিতে পেশার সকল মৌলিক বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তার কাজটি জীবিকা নির্বাহের বিশেষ পন্থা পেশাকেই ইঙ্গিত করে।
ঘ
উদ্দীপকে কি এমন কোনো বৈশিষ্ট্য আছে যার আলোকে নিবেদিতার সেবার কাজটিকে শুধু জীবিকা নির্বাহের উপায় বলা যায়? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে নিবেদিতার সেবার কাজটিকে শুধু জীবিকা নির্বাহের উপায় বলা যাবে না। জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষ যে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সেগুলোকে বৃত্তি ও পেশা এ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। বৃত্তি বলতে জীবনধারণের জন্য যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। কিন্তু যখন কোনো বৃত্তির সাথে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা প্রভৃতি যুক্ত হয় তখন তা পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। নিবেদিতার কাজটিও পেশার অন্তর্ভুক্ত। নিবেদিতা রোগীদের সেবা প্রদানের কাজে একজন সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন। এই কাজের মাধ্যমেই তিনি তার পরিবারের ভরণ-পোষণ করেন। এ দিকটি বিবেচনায় তার কাজটিকে বৃত্তি বলা যায়। কিন্তু তার কাজটি কেবল জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ তার কাজটির জন্য তাকে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছে, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে। তাছাড়া সেবাধর্মী কাজটিতে তিনি সংশ্লিষ্ট মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দ্বারা পরিচালিত হন এবং তার কাজের জন্য এক ধরনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার বিষয় রয়েছে। এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে নিবেদিতার কাজটি কেবল বৃত্তি বা জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং পেশা হিসেবে চিহ্নিত হবে। পরিশেষে বলা যায়, নিবেদিতার কাজটি বৃত্তি অপেক্ষা বিস্তৃত এবং তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেশার ধারণার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিবেদিতা চৌধুরী তিন বছর নার্সিং কলেজে শিক্ষানবিশ হিসেবে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন। রোগীরা তাকে অনেক পছন্দ করে। তাকে বিশ্বাস করে। রোগীদের সেবা করার ক্ষেত্রে তিনি কখনই আবেগতাড়িত হন না। তবে বিশেষ কিছু নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলেন। তিনি এই সেবার মাধ্যমেই পরিবারের ভরণ-পোষণ ও জীবিকা নির্বাহ করেন।

Rajshahi · 2017

ক
বিভারিজ রিপোর্ট কত সালে পেশ করা হয়?

উত্তর

১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট পেশ করা হয়।
খ
শিল্পবিপ্লব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

শিল্পবিপ্লব বলতে সে সকল প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের সমষ্টিকে বোঝায় যার প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয়েছিল। শিল্পবিপ্লব মূলত শিল্প এবং বিপ্লব এ দুটি পৃথক শব্দের সমষ্টি। এর দ্বারা শিল্প সংক্রান্ত বিপ্লবকে নির্দেশ করা হয়। অর্থাৎ এর ফলে কায়িক শ্রমনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তে যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে। শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয় ইংল্যান্ডে, যা পরবর্তীতে অতি দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়েই সারা বিশ্বের কৃষিনির্ভর সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়।
গ
উল্লিখিত নিবেদিতা চৌধুরীর কাজটি কোন ধরনের অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত নিবেদিতা চৌধুরীর কাজ প্রকৃতি, ধরন ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় পেশার অন্তর্ভুক্ত। জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, দক্ষতা, নৈপুণ্য, তত্ত্বনির্ভর সুশৃঙ্খল জ্ঞান, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং ব্যবহারিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে পেশা বলা হয়। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার অর্জিত জ্ঞানকে স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করে জীবিকা অর্জন করতে পারে। নিবেদিতা চৌধুরীর কাজটিও এ ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। নিবেদিতা চৌধুরী একজন সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য তাকে পড়াশোনার মাধ্যমে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছে। তিনি তিন বছর নার্সিং কলেজে শিক্ষানবিস হিসেবে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এভাবে তিনি তার কাজের জন্য দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জন করেছেন। তাছাড়া তিনি রোগীদের সেবা করার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলেন। এই নীতি ও মূল্যবোধসমূহ তার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি কখনোই আবেগতাড়িত হয়ে কাজ করেন না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, পরিবারের ভরণপোষণ এবং জীবিকা নির্বাহে নিবেদিতা চৌধুরী যে অর্থনৈতিক কাজটি বেছে নিয়েছেন সেটিতে পেশার সকল মৌলিক বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তার কাজটি জীবিকা নির্বাহের বিশেষ পন্থা পেশাকেই ইঙ্গিত করে।
ঘ
উদ্দীপকে কি এমন কোনো বৈশিষ্ট্য আছে যার আলোকে নিবেদিতার সেবার কাজটিকে শুধু জীবিকা নির্বাহের উপায় বলা যায়? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে নিবেদিতার সেবার কাজটিকে শুধু জীবিকা নির্বাহের উপায় বলা যাবে না। জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষ যে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সেগুলোকে বৃত্তি ও পেশা এ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। বৃত্তি বলতে জীবনধারণের জন্য যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। কিন্তু যখন কোনো বৃত্তির সাথে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা প্রভৃতি যুক্ত হয় তখন তা পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। নিবেদিতার কাজটিও পেশার অন্তর্ভুক্ত। নিবেদিতা রোগীদের সেবা প্রদানের কাজে একজন সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন। এই কাজের মাধ্যমেই তিনি তার পরিবারের ভরণ-পোষণ করেন। এ দিকটি বিবেচনায় তার কাজটিকে বৃত্তি বলা যায়। কিন্তু তার কাজটি কেবল জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ তার কাজটির জন্য তাকে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছে, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে। তাছাড়া সেবাধর্মী কাজটিতে তিনি সংশ্লিষ্ট মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দ্বারা পরিচালিত হন এবং তার কাজের জন্য এক ধরনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার বিষয় রয়েছে। এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে নিবেদিতার কাজটি কেবল বৃত্তি বা জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং পেশা হিসেবে চিহ্নিত হবে। পরিশেষে বলা যায়, নিবেদিতার কাজটি বৃত্তি অপেক্ষা বিস্তৃত এবং তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেশার ধারণার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রীমা ও সীমা ঢাকা মেডিকেল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করে। সীমা একটি হাসপাতালে রোগী দেখেন এবং রীমা কসমেটিক্স এর ব্যবসা করেন।

Dhaka · 2017

ক
NASW কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর

NASW ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ
"সামাজিক স্বীকৃতি পেশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জীবিকা নির্বাহের কার্যাবলি বা বৃত্তিকে পরিপূর্ণ পেশার মর্যাদা অর্জন করতে হলে রাষ্ট্র বা সমাজের স্বীকৃতি আবশ্যক। জীবিকা নির্বাহের উপায় বা কাজকে পেশা বলা যায় না। পেশার সুনিদিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক স্বীকৃতি অন্যতম। যেমন- আমাদের সমাজে ডাক্তারি, শিক্ষকতা, নার্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি কাজের সামাজিক স্বীকৃতি রয়েছে। এজন্য এগুলো পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং সামাজিক স্বীকৃতি পেশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
গ
রীমা জীবিকা অর্জনের কোন উপায়টি বেছে নিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রীমা জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে কসমেটিক্স এর ব্যবসা শুরু করেছেন, যা বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত। জীবিকা অর্জনের জন্য মানুষকে কোনো না কোনো কাজ করতে হয়। এ সকল কাজকে বৃত্তি ও পেশা এ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সাধারণভাবে বলা যায়, যেকোনো জীবিকা অর্জনের উপায়ই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বৃত্তি হলো জীবন ধারণ ও নির্বাহের জন্য যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কার্যাবলি। উদ্দীপকে রীমার কাজটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, কসমেটিক্স-এর ব্যবসার জন্য তাকে তত্ত্বনির্ভর সুশৃঙ্খল জ্ঞান বা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়নি। দ্বিতীয়ত, আলোচ্য কাজের জন্য রীমাকে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলাদা কোনো নৈপুণ্য বা দক্ষতা অর্জন করতে হয়নি। তৃতীয়ত, তার কাজটি এমন যেক্ষেত্রে কোনো সুনিদিষ্ট মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদণ্ড প্রয়োজন হয় না। চতুর্থত, রীমা তার ব্যবসা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। পঞ্চমত, রীমার কাজটি জনকল্যাণমূলক নয়, বরং এটি কেবল তার জীবিকা অর্জনের উপায়। এ সকল বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, রীমা জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে বৃত্তিকে বেছে নিয়েছে।
ঘ
রীমা ও সীমার জীবিকা অর্জনের উপায় দু'টির বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।

উত্তর

রীমা ও সীমার জীবিকা অর্জনের উপায় দুটি যথাক্রমে বৃত্তি ও পেশা নামে পরিচিত। এ দুয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। অনেকেই বৃত্তি ও পেশাকে প্রায় একই অর্থে ব্যবহার করে থাকে। বৃত্তি মূলত জীবনধারণের জন্য যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কাজকে বোঝায়। পক্ষান্তরে, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনই পেশার মূল দিক। প্রতিটি পেশারই কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা পেশাকে বৃত্তি থেকে পৃথক সত্তা দান করে। রীমার কাজটির জন্য তাকে কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়নি। কিন্তু সীমার ডাক্তারি পেশার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। শুধু তাই নয়, এজন্য সীমাকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও গ্রহণ করতে হয়েছে। রীমার ক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য এরূপ কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়নি। সীমার পেশার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কিছু মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদণ্ড রয়েছে, যা তার আচার-আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। তার কাজের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তাকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয় এবং এক্ষেত্রে তার জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পক্ষান্তরে রীমার ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা প্রভৃতি অনুপস্থিত। এক্ষেত্রে সে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। সর্বশেষ বলা যায়, সীমার পেশাটি সমাজে উচ্চ মর্যাদার এবং এটি জনকল্যাণমূলক। কিন্তু রীমার কাজটি এরূপ নয়। উপর্যুক্ত আলোচনায় বৃত্তি ও পেশার মধ্যে পার্থক্যসমূহ সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হায়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রীমা ও সীমা ঢাকা মেডিকেল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করে। সীমা একটি হাসপাতালে রোগী দেখেন এবং রীমা কসমেটিক্স এর ব্যবসা করেন।

Dhaka · 2017

ক
NASW কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর

NASW ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ
"সামাজিক স্বীকৃতি পেশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জীবিকা নির্বাহের কার্যাবলি বা বৃত্তিকে পরিপূর্ণ পেশার মর্যাদা অর্জন করতে হলে রাষ্ট্র বা সমাজের স্বীকৃতি আবশ্যক। জীবিকা নির্বাহের উপায় বা কাজকে পেশা বলা যায় না। পেশার সুনিদিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক স্বীকৃতি অন্যতম। যেমন- আমাদের সমাজে ডাক্তারি, শিক্ষকতা, নার্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি কাজের সামাজিক স্বীকৃতি রয়েছে। এজন্য এগুলো পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং সামাজিক স্বীকৃতি পেশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
গ
রীমা জীবিকা অর্জনের কোন উপায়টি বেছে নিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রীমা জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে কসমেটিক্স এর ব্যবসা শুরু করেছেন, যা বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত। জীবিকা অর্জনের জন্য মানুষকে কোনো না কোনো কাজ করতে হয়। এ সকল কাজকে বৃত্তি ও পেশা এ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সাধারণভাবে বলা যায়, যেকোনো জীবিকা অর্জনের উপায়ই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বৃত্তি হলো জীবন ধারণ ও নির্বাহের জন্য যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কার্যাবলি। উদ্দীপকে রীমার কাজটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, কসমেটিক্স-এর ব্যবসার জন্য তাকে তত্ত্বনির্ভর সুশৃঙ্খল জ্ঞান বা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়নি। দ্বিতীয়ত, আলোচ্য কাজের জন্য রীমাকে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলাদা কোনো নৈপুণ্য বা দক্ষতা অর্জন করতে হয়নি। তৃতীয়ত, তার কাজটি এমন যেক্ষেত্রে কোনো সুনিদিষ্ট মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদণ্ড প্রয়োজন হয় না। চতুর্থত, রীমা তার ব্যবসা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। পঞ্চমত, রীমার কাজটি জনকল্যাণমূলক নয়, বরং এটি কেবল তার জীবিকা অর্জনের উপায়। এ সকল বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, রীমা জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে বৃত্তিকে বেছে নিয়েছে।
ঘ
রীমা ও সীমার জীবিকা অর্জনের উপায় দু'টির বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।

উত্তর

রীমা ও সীমার জীবিকা অর্জনের উপায় দুটি যথাক্রমে বৃত্তি ও পেশা নামে পরিচিত। এ দুয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। অনেকেই বৃত্তি ও পেশাকে প্রায় একই অর্থে ব্যবহার করে থাকে। বৃত্তি মূলত জীবনধারণের জন্য যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কাজকে বোঝায়। পক্ষান্তরে, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনই পেশার মূল দিক। প্রতিটি পেশারই কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা পেশাকে বৃত্তি থেকে পৃথক সত্তা দান করে। রীমার কাজটির জন্য তাকে কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়নি। কিন্তু সীমার ডাক্তারি পেশার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। শুধু তাই নয়, এজন্য সীমাকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও গ্রহণ করতে হয়েছে। রীমার ক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য এরূপ কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়নি। সীমার পেশার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কিছু মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদণ্ড রয়েছে, যা তার আচার-আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। তার কাজের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তাকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয় এবং এক্ষেত্রে তার জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পক্ষান্তরে রীমার ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা প্রভৃতি অনুপস্থিত। এক্ষেত্রে সে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। সর্বশেষ বলা যায়, সীমার পেশাটি সমাজে উচ্চ মর্যাদার এবং এটি জনকল্যাণমূলক। কিন্তু রীমার কাজটি এরূপ নয়। উপর্যুক্ত আলোচনায় বৃত্তি ও পেশার মধ্যে পার্থক্যসমূহ সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হায়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শাহেদ এবং কবির বাল্যবন্ধু। শাহেদ জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটি শাখায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর সেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। অপরদিকে দুর্ভাগা কবিরকে হঠাৎ করে বাবা মারা যাবার কারণে লেখাপড়া ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। বসত বাড়িটি ছাড়া বাবা আর কোনো সম্পত্তিই রেখে যেতে পারেননি । উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে কবির জীবিকার জন্য অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজে লেগে গেল।

Rajshahi · 2018

ক
'The Value Base of Social Work′Work^{\prime} গ্রন্থের লেখক কে?

উত্তর

'The Value Base of Social Work′Work^{\prime} গ্রন্থটির লেখক হলেন চার্লস এস লেভি (Charles S. Levy)
খ
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার (Right of Self-determination) বলতে ব্যক্তির স্বকীয়তা বজায় রেখে যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে আত্মোন্নয়নের (Self-determination) সুযোগকে বোঝায়। আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সমাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ একটি মূল্যবোধ। ব্যক্তির পছন্দ, চাহিদা, সামর্থ্য এবং ক্ষমতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অধিকার ব্যক্তির আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।
গ
উদ্দীপকে কবিরের জীবিকার্জনের উপায়টির বৈশিষ্ট্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো ।

উত্তর

উদ্দীপক কবিরের জীবিকার্জনের উপায়টি হচ্ছে বৃত্তি। মানুষ তার জীবনধারণের জন্য যে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকে তাকে বৃত্তি বলা হয়। বৃত্তির কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন— বৃত্তির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শিক্ষা বা যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদণ্ড থাকে না । বৃত্তির জন্য পেশাগত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক নয়। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তেমন কোনো দায়িত্বও থাকে না। এখানে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে। বৃত্তি যেহেতু ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে তাই এখানে জবাবদিহিতা বিশেষভাবে অনুপস্থিত। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়াও বৃত্তির অনুশীলন হয় এবং সেক্ষেত্রে এটি জনকল্যাণমূলক নাও হতে পারে। উদ্দীপকে বাবা মারা যাওয়ার কারণে কবির সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ কারণে লেখাপড়া ছেড়ে সে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। বসতবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো সম্পত্তি না থাকায় সে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে। কবিরের জীবিকার্জনের এ কাজটি বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত। কারণ বৃত্তির বৈশিষ্ট্যগুলো তার এ কাজে উপস্থিত রয়েছে।
ঘ
শাহেদের জীবিকার্জনের পন্থাটি কবিরের জীবিকার্জনের পন্থা থেকে আলাদা- এ বিষয়ে তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

উত্তর

শাহেদের জীবিকার্জনের পন্থাটি কবিরের জীবিকার্জনের পন্থাটি থেকে আলাদা— এ বিষয়টির সাথে আমি একমত। বৃত্তি বলতে জীবনধারণের জন্য যেকোনো রকমের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বোঝায় । অন্যদিকে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনই পেশা । প্রতিটি পেশারই কতগুলো বৈশিষ্ট্য ও মূল্যবোধ থাকে যা পেশাকে বৃত্তি থেকে পৃথক সত্তা দান করে। উদ্দীপকের শাহেদ জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটি শাখায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছে। পরবর্তী সময়ে সেই জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে সে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। শাহেদের জীবিকার্জনের পন্থাটি পেশার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে কবির বৃত্তির মাধ্যমে জীবিকার্জন করছে। শাহেদকে জীবিকার্জনের জন্য সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু কবিরকে এরকম কোনো সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে হয়নি। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে শাহেদকে তার পেশাগত কাজ সম্পর্কে বিশেষ নৈপুণ্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু কবিরকে তার কাজের জন্য কোনো ধরনের নৈপুণ্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়নি। একজন পেশাদার হিসেবে শাহেদকে অবশ্যই তার পেশার মূল্যবোধগুলো মেনে চলতে হয়। কিন্তু কবিরকে তার কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো মূল্যবোধ মেনে চলতে হয় না। শাহেদের পেশার সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য পেশাগত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু কবিরের বৃত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই । শাহেদের পেশাকে অবশ্যই জনগণ ও সমাজের স্বীকৃতি অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু কবিরের বৃত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, শাহেদ ও কবিরের জীবিকার্জনের পন্থা সম্পূর্ণ আলাদা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শাহেদ এবং কবির বাল্যবন্ধু। শাহেদ জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটি শাখায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর সেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। অপরদিকে দুর্ভাগা কবিরকে হঠাৎ করে বাবা মারা যাবার কারণে লেখাপড়া ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। বসত বাড়িটি ছাড়া বাবা আর কোনো সম্পত্তিই রেখে যেতে পারেননি । উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে কবির জীবিকার জন্য অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজে লেগে গেল।

Rajshahi · 2018

ক
'The Value Base of Social Work′Work^{\prime} গ্রন্থের লেখক কে?

উত্তর

'The Value Base of Social Work′Work^{\prime} গ্রন্থটির লেখক হলেন চার্লস এস লেভি (Charles S. Levy)
খ
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার (Right of Self-determination) বলতে ব্যক্তির স্বকীয়তা বজায় রেখে যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে আত্মোন্নয়নের (Self-determination) সুযোগকে বোঝায়। আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সমাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ একটি মূল্যবোধ। ব্যক্তির পছন্দ, চাহিদা, সামর্থ্য এবং ক্ষমতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অধিকার ব্যক্তির আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।
গ
উদ্দীপকে কবিরের জীবিকার্জনের উপায়টির বৈশিষ্ট্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো ।

উত্তর

উদ্দীপক কবিরের জীবিকার্জনের উপায়টি হচ্ছে বৃত্তি। মানুষ তার জীবনধারণের জন্য যে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকে তাকে বৃত্তি বলা হয়। বৃত্তির কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন— বৃত্তির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শিক্ষা বা যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মূল্যবোধ ও নৈতিক মানদণ্ড থাকে না । বৃত্তির জন্য পেশাগত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক নয়। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তেমন কোনো দায়িত্বও থাকে না। এখানে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে। বৃত্তি যেহেতু ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে তাই এখানে জবাবদিহিতা বিশেষভাবে অনুপস্থিত। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়াও বৃত্তির অনুশীলন হয় এবং সেক্ষেত্রে এটি জনকল্যাণমূলক নাও হতে পারে। উদ্দীপকে বাবা মারা যাওয়ার কারণে কবির সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ কারণে লেখাপড়া ছেড়ে সে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। বসতবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো সম্পত্তি না থাকায় সে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে। কবিরের জীবিকার্জনের এ কাজটি বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত। কারণ বৃত্তির বৈশিষ্ট্যগুলো তার এ কাজে উপস্থিত রয়েছে।
ঘ
শাহেদের জীবিকার্জনের পন্থাটি কবিরের জীবিকার্জনের পন্থা থেকে আলাদা- এ বিষয়ে তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

উত্তর

শাহেদের জীবিকার্জনের পন্থাটি কবিরের জীবিকার্জনের পন্থাটি থেকে আলাদা— এ বিষয়টির সাথে আমি একমত। বৃত্তি বলতে জীবনধারণের জন্য যেকোনো রকমের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বোঝায় । অন্যদিকে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনই পেশা । প্রতিটি পেশারই কতগুলো বৈশিষ্ট্য ও মূল্যবোধ থাকে যা পেশাকে বৃত্তি থেকে পৃথক সত্তা দান করে। উদ্দীপকের শাহেদ জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটি শাখায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছে। পরবর্তী সময়ে সেই জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে সে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। শাহেদের জীবিকার্জনের পন্থাটি পেশার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে কবির বৃত্তির মাধ্যমে জীবিকার্জন করছে। শাহেদকে জীবিকার্জনের জন্য সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু কবিরকে এরকম কোনো সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে হয়নি। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে শাহেদকে তার পেশাগত কাজ সম্পর্কে বিশেষ নৈপুণ্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু কবিরকে তার কাজের জন্য কোনো ধরনের নৈপুণ্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়নি। একজন পেশাদার হিসেবে শাহেদকে অবশ্যই তার পেশার মূল্যবোধগুলো মেনে চলতে হয়। কিন্তু কবিরকে তার কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো মূল্যবোধ মেনে চলতে হয় না। শাহেদের পেশার সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য পেশাগত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু কবিরের বৃত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই । শাহেদের পেশাকে অবশ্যই জনগণ ও সমাজের স্বীকৃতি অর্জন করতে হয়েছে। কিন্তু কবিরের বৃত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, শাহেদ ও কবিরের জীবিকার্জনের পন্থা সম্পূর্ণ আলাদা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো