Chapter 2: সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট Social Work 1st Paper

HSC Social Work 1st Paper এর Chapter 2: সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৫৪৯

প্রশ্ন

Social Work 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের সাথে সাথে সুস্থ-সবল ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরাও ভিক্ষা করছে। এক এলাকার মানুষ আরেক এলাকায় গিয়ে ভিক্ষা করে। বাংলাদেশে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য এবং সুস্থ-সবল ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, সংশোধন, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধকরণের জন্যে ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় ভবঘুরে আইন প্রবর্তন করা হয়েছিল।

Rajshahi · 2017

ক
NASW-এর পূর্ণরূপ লিখ।

উত্তর

NASW-এর পূর্ণরূপ National Association of Social Workers.
খ
পঞ্চদৈত্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

পঞ্চদৈত্য বলতে ১৯৪২ সালে পেশকৃত বিভারিজ রিপোর্টে উল্লিখিত পাঁচটি সমস্যা- অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতাকে বোঝায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধজনিত আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ স্যার উইলিয়াম বিভারিজ একটি সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্টে তিনি উপর্যুক্ত পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত করেন। তার মতে, তৎকালীন দারিদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে এই পাঁচটি সমস্যা অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে রেখেছিল। এই সমস্যাগুলোই পঞ্চদৈত্য নামে পরিচিতি পায়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে ইংল্যান্ড কোন আইন প্রবর্তন করেছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইংল্যান্ডে ১৬০১ সালে এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন প্রবর্তিত হয়েছিল। প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ড দারিদ্র্য ও নানা ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল। সে সময় ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য সমস্যা সমাধান, ভিক্ষা- বৃত্তি, ভবঘুরে সমস্যা, বেকারত্ব রোধ এবং দুস্থদের সহায়তায় বিভিন্ন আইন প্রণীত হয়। এ সকল আইনের মধ্যে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হিসেবে স্বীকৃত। উদ্দীপকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা ভিক্ষাবৃত্তির নানা দিক উপস্থাপিত হেেছ। এই সমস্যা সমাধানে ১৯৪৩ সালের বঙ্গীয় ভবঘুরে আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সুস্থ- সবল ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, সংশোধন, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধকরণের ব্যবস্থা গৃহীত হয়। ইংল্যান্ডে সৃষ্ট অনুরূপ সমস্যার প্রেক্ষিতেই ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন প্রবর্তিত হয়েছিল। উক্ত আইন ইংল্যান্ডের দরিদ্র জনগণের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ও আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। বিশেষ করে ভিক্ষুকদের শ্রেণিকরণ করে তাদের পুনর্বাসন, সংশোধন এবং সার্বিক সহায়তায় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মাধ্যমে সরকারিভাবে দায়িত্ব গৃহীত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উদ্দীপকে উল্লিখিত আইন এবং আলোচ্য ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের মতো ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত আইন কি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে কোনো সুপারিশ করেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের ন্যায় ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট বিধান সন্নিবেশিত হয়েছিল। ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যার সাথে কয়েক ধরনের মানুষ জড়িত থাকে। যেমন- এক শ্রেণির ভিক্ষুকেরা সবল ও কর্মক্ষম, অন্য শ্রেণির ভিক্ষুকেরা প্রকৃতপক্ষেই কাজ করতে অক্ষম। আরেক শ্রেণির ভিক্ষুকদের মধ্যে রয়েছে এতিম ও পরিত্যক্ত শিশুরা। আলোচ্য দুটি আইনেই এই তিন শ্রেণির জন্য ভিন্ন ভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছিল। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের বিধানমতে, সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদেরকে ভিক্ষা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এই শ্রেণির ভিক্ষুকদেরকে সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কেউ অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ বা কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতো। অন্যদিকে অক্ষম দরিদ্র পর্যায়ভুক্ত অর্থাৎ যারা কাজ করতে সক্ষম ছিল না তাদেরকে দরিদ্রাগারে রাখার বিধান ছিল। সেখানে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ দেওয়া হতো। কারো যদি আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে তাদেরকে সেখানে রেখে Overseer (ওভারসিয়ার)- এর মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো। আর তৃতীয় শ্রেণির ভিক্ষুকদেরকে অর্থাৎ এতিম শিশুদেরকে কোনো নাগরিকের নিকট বিনা খরচে দত্তক দেওয়া হতো। ছেলেদের ২৪ বছর এবং মেয়েদেরকে ২১ বছর বা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত মনিবের বাড়িতে থাকতে হতো। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যা সমাধানে সুবিন্যস্ত ও কার্যকর সুপারিশ পেশ করা হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলাদেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের সাথে সাথে সুস্থ-সবল ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরাও ভিক্ষা করছে। এক এলাকার মানুষ আরেক এলাকায় গিয়ে ভিক্ষা করে। বাংলাদেশে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য এবং সুস্থ-সবল ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, সংশোধন, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধকরণের জন্যে ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় ভবঘুরে আইন প্রবর্তন করা হয়েছিল।

Rajshahi · 2017

ক
NASW-এর পূর্ণরূপ লিখ।

উত্তর

NASW-এর পূর্ণরূপ National Association of Social Workers.
খ
পঞ্চদৈত্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

পঞ্চদৈত্য বলতে ১৯৪২ সালে পেশকৃত বিভারিজ রিপোর্টে উল্লিখিত পাঁচটি সমস্যা- অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতাকে বোঝায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধজনিত আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ স্যার উইলিয়াম বিভারিজ একটি সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্টে তিনি উপর্যুক্ত পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত করেন। তার মতে, তৎকালীন দারিদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে এই পাঁচটি সমস্যা অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে রেখেছিল। এই সমস্যাগুলোই পঞ্চদৈত্য নামে পরিচিতি পায়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে ইংল্যান্ড কোন আইন প্রবর্তন করেছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইংল্যান্ডে ১৬০১ সালে এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন প্রবর্তিত হয়েছিল। প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ড দারিদ্র্য ও নানা ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল। সে সময় ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য সমস্যা সমাধান, ভিক্ষা- বৃত্তি, ভবঘুরে সমস্যা, বেকারত্ব রোধ এবং দুস্থদের সহায়তায় বিভিন্ন আইন প্রণীত হয়। এ সকল আইনের মধ্যে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হিসেবে স্বীকৃত। উদ্দীপকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা ভিক্ষাবৃত্তির নানা দিক উপস্থাপিত হেেছ। এই সমস্যা সমাধানে ১৯৪৩ সালের বঙ্গীয় ভবঘুরে আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সুস্থ- সবল ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, সংশোধন, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধকরণের ব্যবস্থা গৃহীত হয়। ইংল্যান্ডে সৃষ্ট অনুরূপ সমস্যার প্রেক্ষিতেই ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন প্রবর্তিত হয়েছিল। উক্ত আইন ইংল্যান্ডের দরিদ্র জনগণের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ও আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। বিশেষ করে ভিক্ষুকদের শ্রেণিকরণ করে তাদের পুনর্বাসন, সংশোধন এবং সার্বিক সহায়তায় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মাধ্যমে সরকারিভাবে দায়িত্ব গৃহীত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উদ্দীপকে উল্লিখিত আইন এবং আলোচ্য ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের মতো ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত আইন কি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে কোনো সুপারিশ করেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের ন্যায় ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট বিধান সন্নিবেশিত হয়েছিল। ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যার সাথে কয়েক ধরনের মানুষ জড়িত থাকে। যেমন- এক শ্রেণির ভিক্ষুকেরা সবল ও কর্মক্ষম, অন্য শ্রেণির ভিক্ষুকেরা প্রকৃতপক্ষেই কাজ করতে অক্ষম। আরেক শ্রেণির ভিক্ষুকদের মধ্যে রয়েছে এতিম ও পরিত্যক্ত শিশুরা। আলোচ্য দুটি আইনেই এই তিন শ্রেণির জন্য ভিন্ন ভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছিল। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের বিধানমতে, সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদেরকে ভিক্ষা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এই শ্রেণির ভিক্ষুকদেরকে সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কেউ অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ বা কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতো। অন্যদিকে অক্ষম দরিদ্র পর্যায়ভুক্ত অর্থাৎ যারা কাজ করতে সক্ষম ছিল না তাদেরকে দরিদ্রাগারে রাখার বিধান ছিল। সেখানে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ দেওয়া হতো। কারো যদি আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে তাদেরকে সেখানে রেখে Overseer (ওভারসিয়ার)- এর মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো। আর তৃতীয় শ্রেণির ভিক্ষুকদেরকে অর্থাৎ এতিম শিশুদেরকে কোনো নাগরিকের নিকট বিনা খরচে দত্তক দেওয়া হতো। ছেলেদের ২৪ বছর এবং মেয়েদেরকে ২১ বছর বা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত মনিবের বাড়িতে থাকতে হতো। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যা সমাধানে সুবিন্যস্ত ও কার্যকর সুপারিশ পেশ করা হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

করিম তার বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করেন। সম্প্রতি তাঁকে কুড়িগ্রামে বদলি করা হয়। ফলে তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কুড়িগ্রাম চলে যান। তার বাবা-মা কুমিল্লার বাসায় নিরাপত্তাহীনভাবে বসবাস করেন।

Dhaka · 2017

ক
নগরায়ণ কী?

উত্তর

নগরায়ণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক পেশা বা জীবনব্যবস্থা হতে মানুষ অকৃষিভিত্তিক পেশা বা জীবন পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়।
খ
শিল্পবিপ্লবের ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

শিল্পবিপ্লবের ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় মানুষের মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। শিল্পবিপ্লবের পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। বিশেষ করে সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতির স্থান দখল করে নেয় আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের টীকা আবিষ্কৃত হয় এবং অস্ত্রোপচার ও ঔষধশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। এছাড়া স্বাস্থ্য সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতাও বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে শিল্প-বিপ্লবোত্তর সময়ে মানুষের মৃত্যুহার হ্রাস পায়।
গ
উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের কোন নেতিবাচক দিকের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে সামাজিক ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। শিল্পবিপ্লবের ফলে সমাজজীবনে যে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তার সাথে নানা অবাঞ্ছিত ও অস্বস্তিকর অবস্থারও সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে গিয়ে সামাজিক দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজজীবনে নানা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকে একটি যৌথ পরিবারের ভাঙনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। করিম সাহেব বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে চাকরির কারণে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কুড়িগ্রামে বাস করছেন। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে তার বাবা-মা কুমিল্লার বাসায় নিরাপত্তাহীনভাবে বসবাস করছেন। এ ধরনের ঘটনা বর্তমানে সারাবিশ্বেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আকর্ষণে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহর ও শিল্পাঞ্চলে গমন করছে। এর ফলে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আত্মিক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। ফলে যৌথ পরিবারের বৃদ্ধ, অক্ষম, বিধবা ও এতিমদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উদ্দীপকের ঘটনাটিই তার বাস্তব প্রমাণ।
ঘ
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা যায়। শিল্পবিপ্লবের ফলে সৃষ্ট নানা ধরনের জটিল সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার প্রয়োজনেই পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভব হয়। পেশাদার সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের জ্ঞান ও পদ্ধতিসমূহ কাজে লাগিয়ে নানা সমস্যা সমাধান করেন। উদ্দীপকে নির্দেশিত শিল্পবিপ্লবের নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব থেকে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও তাই সমাজকর্মের বিকল্প নেই। উদ্দীপকে করিমের বাবা-মা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে পেশাদার সমাজকর্ম বিশ্বাস করে যে, ব্যক্তি নিজের সমস্যা নিজেই সমাধানের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীগণ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তির বিকাশ এবং নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে পরিবার কাঠামোর পরিবর্তন, পারিবারিক দূরত্ব বৃদ্ধি, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতা ও সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে। আর এ প্রেক্ষিতেই পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে। তাই এ সকল সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ পন্থা বলা যায়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, পেশাদার সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির সমন্বয়ে উদ্দীপকে নির্দেশিত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

করিম তার বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করেন। সম্প্রতি তাঁকে কুড়িগ্রামে বদলি করা হয়। ফলে তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কুড়িগ্রাম চলে যান। তার বাবা-মা কুমিল্লার বাসায় নিরাপত্তাহীনভাবে বসবাস করেন।

Dhaka · 2017

ক
নগরায়ণ কী?

উত্তর

নগরায়ণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক পেশা বা জীবনব্যবস্থা হতে মানুষ অকৃষিভিত্তিক পেশা বা জীবন পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়।
খ
শিল্পবিপ্লবের ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

শিল্পবিপ্লবের ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় মানুষের মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। শিল্পবিপ্লবের পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। বিশেষ করে সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতির স্থান দখল করে নেয় আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের টীকা আবিষ্কৃত হয় এবং অস্ত্রোপচার ও ঔষধশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। এছাড়া স্বাস্থ্য সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতাও বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে শিল্প-বিপ্লবোত্তর সময়ে মানুষের মৃত্যুহার হ্রাস পায়।
গ
উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের কোন নেতিবাচক দিকের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে সামাজিক ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। শিল্পবিপ্লবের ফলে সমাজজীবনে যে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তার সাথে নানা অবাঞ্ছিত ও অস্বস্তিকর অবস্থারও সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে গিয়ে সামাজিক দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজজীবনে নানা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকে একটি যৌথ পরিবারের ভাঙনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। করিম সাহেব বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে চাকরির কারণে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কুড়িগ্রামে বাস করছেন। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে তার বাবা-মা কুমিল্লার বাসায় নিরাপত্তাহীনভাবে বসবাস করছেন। এ ধরনের ঘটনা বর্তমানে সারাবিশ্বেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আকর্ষণে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহর ও শিল্পাঞ্চলে গমন করছে। এর ফলে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আত্মিক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। ফলে যৌথ পরিবারের বৃদ্ধ, অক্ষম, বিধবা ও এতিমদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উদ্দীপকের ঘটনাটিই তার বাস্তব প্রমাণ।
ঘ
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা যায়। শিল্পবিপ্লবের ফলে সৃষ্ট নানা ধরনের জটিল সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার প্রয়োজনেই পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভব হয়। পেশাদার সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের জ্ঞান ও পদ্ধতিসমূহ কাজে লাগিয়ে নানা সমস্যা সমাধান করেন। উদ্দীপকে নির্দেশিত শিল্পবিপ্লবের নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব থেকে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও তাই সমাজকর্মের বিকল্প নেই। উদ্দীপকে করিমের বাবা-মা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে পেশাদার সমাজকর্ম বিশ্বাস করে যে, ব্যক্তি নিজের সমস্যা নিজেই সমাধানের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীগণ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তির বিকাশ এবং নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে পরিবার কাঠামোর পরিবর্তন, পারিবারিক দূরত্ব বৃদ্ধি, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতা ও সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে। আর এ প্রেক্ষিতেই পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে। তাই এ সকল সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ পন্থা বলা যায়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, পেশাদার সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির সমন্বয়ে উদ্দীপকে নির্দেশিত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. 'X′X^{\prime} একজন সমাজকর্মী। তাঁকে তাঁর গ্রামের সমস্যা চিহ্নিতকরণের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি গ্রামের সকল শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের নিকট একটি রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্টে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী পাঁচটি প্রতিবন্ধকতার নাম উল্লেখ করেন।

Dhaka · 2017

ক
আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত কোন দেশে হয়?

উত্তর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত হয়।
খ
কোন আইনে অক্ষম দরিদ্রদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে অক্ষম দরিদ্রদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, বধির, অন্ধ ও সন্তানাদিসহ বিধবা প্রমুখ যারা কাজ করতে সক্ষম নন, তারাই অক্ষম দরিদ্রদের পর্যায়ভুক্ত। অক্ষম দরিদ্রদেরকে দরিদ্রাগারে রেখে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকত তাদের জন্য ওভারসিয়ারের মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো।
গ
মি. 'X′X^{\prime} এর রিপোর্টের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রিপোর্টের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মি. 'X′X^{\prime} এর রিপোর্টের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বিভারিজ রিপোর্টের মিল রয়েছে। আধুনিক ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তনে ১৯৪২ সালের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্যার উইলিয়াম বিভারিজের সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট অনুযায়ী এই কর্মসূচি গৃহীত হয়। উদ্দীপকটিতেও অনুরূপ একটি রিপোর্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের মি. 'X′X^{\prime} তাঁর গ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করেছেন। এই রিপোর্টে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী পাঁচটি প্রতিবন্ধকের নাম উল্লেখ করেন। আলোচ্য বিভারিজ রিপোর্টেও অনুরূপ পাঁচটি প্রতিবন্ধকতার উল্লেখ ছিল। বিভারিজের রিপোর্ট অনুসারে তৎকালীন দারিদ্রদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে পঞ্চদৈত্য অক্টোপাসের ন্যায় জড়িয়ে রেখেছিল। এই পঞ্চদৈত্য হলো- অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতা। বিভারিজের মতে, এই পঞ্চদৈত্য বা পাঁচটি সমস্যাই ছিল ইংল্যান্ডের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় বা প্রতিবন্ধক। এজন্য তিনি এই সমস্যা সমাধানে সুপারিশ প্রদান করেছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে আলোচিত রিপোর্ট এবং বিভারিজ রিপোর্টের মাঝে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রিপোর্টই যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিভারিজ রিপোর্ট যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে আছে। বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশগুলো যুক্তরাজ্যে সমাজসেবার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এবং বাস্তবমুখী নতুন ধারা প্রবর্তন করে। এ সুপারিশ অনুসারেই যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং এ পরিকল্পনার মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত সামাজিক বিমা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এভাবে রিপোর্টটি যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তাকে সুসংহত করেছে। বিভারিজ রিপোর্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সর্বপ্রথম সকল স্তরের জনগণের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তনের সুপারিশ করে। এই রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী পারিবারিক ভাতা আইন ১৯৪৫, বিমা আইন-১৯৪৬, জাতীয় সাহায্য আইন-১৯৪৮, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা আইন-১৯৪৬ প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তামূলক আইন প্রণীত হয়েছিল। এ আইনগুলো সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ কার্যকর ছিল। বিশেষত সামাজিক বিমা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যের জনগণের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা, বার্ধক্য ও পঙ্গু বিমা, বেকার বিমা, বিবাহ, জন্ম ও মৃত্যুর জন্য বিশেষ বিমা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি সুবিধা প্রদান করা হয়। এককথায় বলা যায়, বিভারিজ রিপোর্ট যুক্তরাজ্যে আধুনিক সমাজকল্যাণমূলক আইনের ভিত্তি রচনা করে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বিভারিজ রিপোর্ট সম্পর্কিত প্রশ্নোত্ত বক্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. 'X′X^{\prime} একজন সমাজকর্মী। তাঁকে তাঁর গ্রামের সমস্যা চিহ্নিতকরণের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি গ্রামের সকল শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের নিকট একটি রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্টে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী পাঁচটি প্রতিবন্ধকতার নাম উল্লেখ করেন।

Dhaka · 2017

ক
আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত কোন দেশে হয়?

উত্তর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত হয়।
খ
কোন আইনে অক্ষম দরিদ্রদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে অক্ষম দরিদ্রদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, বধির, অন্ধ ও সন্তানাদিসহ বিধবা প্রমুখ যারা কাজ করতে সক্ষম নন, তারাই অক্ষম দরিদ্রদের পর্যায়ভুক্ত। অক্ষম দরিদ্রদেরকে দরিদ্রাগারে রেখে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকত তাদের জন্য ওভারসিয়ারের মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো।
গ
মি. 'X′X^{\prime} এর রিপোর্টের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রিপোর্টের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মি. 'X′X^{\prime} এর রিপোর্টের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বিভারিজ রিপোর্টের মিল রয়েছে। আধুনিক ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তনে ১৯৪২ সালের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্যার উইলিয়াম বিভারিজের সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট অনুযায়ী এই কর্মসূচি গৃহীত হয়। উদ্দীপকটিতেও অনুরূপ একটি রিপোর্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের মি. 'X′X^{\prime} তাঁর গ্রামের সমস্যা চিহ্নিত করে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করেছেন। এই রিপোর্টে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী পাঁচটি প্রতিবন্ধকের নাম উল্লেখ করেন। আলোচ্য বিভারিজ রিপোর্টেও অনুরূপ পাঁচটি প্রতিবন্ধকতার উল্লেখ ছিল। বিভারিজের রিপোর্ট অনুসারে তৎকালীন দারিদ্রদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে পঞ্চদৈত্য অক্টোপাসের ন্যায় জড়িয়ে রেখেছিল। এই পঞ্চদৈত্য হলো- অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতা। বিভারিজের মতে, এই পঞ্চদৈত্য বা পাঁচটি সমস্যাই ছিল ইংল্যান্ডের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় বা প্রতিবন্ধক। এজন্য তিনি এই সমস্যা সমাধানে সুপারিশ প্রদান করেছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে আলোচিত রিপোর্ট এবং বিভারিজ রিপোর্টের মাঝে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রিপোর্টই যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিভারিজ রিপোর্ট যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে আছে। বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশগুলো যুক্তরাজ্যে সমাজসেবার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এবং বাস্তবমুখী নতুন ধারা প্রবর্তন করে। এ সুপারিশ অনুসারেই যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং এ পরিকল্পনার মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত সামাজিক বিমা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এভাবে রিপোর্টটি যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তাকে সুসংহত করেছে। বিভারিজ রিপোর্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সর্বপ্রথম সকল স্তরের জনগণের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তনের সুপারিশ করে। এই রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী পারিবারিক ভাতা আইন ১৯৪৫, বিমা আইন-১৯৪৬, জাতীয় সাহায্য আইন-১৯৪৮, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা আইন-১৯৪৬ প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তামূলক আইন প্রণীত হয়েছিল। এ আইনগুলো সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ কার্যকর ছিল। বিশেষত সামাজিক বিমা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যের জনগণের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা, বার্ধক্য ও পঙ্গু বিমা, বেকার বিমা, বিবাহ, জন্ম ও মৃত্যুর জন্য বিশেষ বিমা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি সুবিধা প্রদান করা হয়। এককথায় বলা যায়, বিভারিজ রিপোর্ট যুক্তরাজ্যে আধুনিক সমাজকল্যাণমূলক আইনের ভিত্তি রচনা করে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বিভারিজ রিপোর্ট সম্পর্কিত প্রশ্নোত্ত বক্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো