HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
অনেকগুলো পাঠ্য বিষয় নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ গঠিত। সব পাঠ্য বিষয়ই তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও সাহায্যকারী পেশা নয়। তবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এমন একটা পঠিত বিষয় আছে যেটি তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক এবং উন্নত দেশগুলোতে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও বিষয়টি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর্যায়ে রয়েছে। এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কাজের সাথে সাথে সচেতনতা সৃষ্টি ও মানব সম্পদ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।
Rajshahi · 2017
ক
' শব্দটি কোন শব্দ থেকে উৎপত্তি?
উত্তর
"Industry" শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Industria থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
খ
বহুমুখী সমস্যার সমাধান বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
বহুমুখী সমস্যার সমাধান বলতে সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য সমাজের নানা ধরনের সমস্যা দূরীকরণের বিষয়কে বোঝায়।
সমাজকর্ম একটি মানব উন্নয়নমূলক পেশা। সমাজের মানুষের নানা ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজকর্ম বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। শহর সমাজসেবা, গ্রামীণ সমাজসেবা, বিদ্যালয় সমাজকর্ম, হাসপাতাল সমাজকর্ম, মনোচিকিৎসা সমাজকর্ম, শিশুকল্যাণ প্রভৃতি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ সকল কর্মসূচি সমাজের সৃষ্ট নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গ
উদ্দীপকে সামাজিক অনুষদের কোন বিষয়ের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্যতম প্রায়োগিক শাখা সমাজকর্মের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা। আধুনিক সমাজের বিভিন্ন জটিল আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানে সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজকর্ম সমাজ এবং মানুষের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে সামাজিক বিজ্ঞানের এমন একটি শাখার কথা বলা হয়েছে যেটি তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক এবং উন্নত দেশগুলোতে পেশা হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশেও বিষয়টি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর্যায়ে রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য অনুসারে বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কাজের সাথে সাথে সচেতনতা সৃষ্টি ও মানব সম্পদ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। এ সকল বৈশিষ্ট্যের বিচারে বলা যায়, বিষয়টি সমাজকর্মকেই নির্দেশ করে। সমাজকর্মের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংজ্ঞা অনুযায়ী সমাজকর্ম হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর এমন একটি সাহায্যকারী পেশা যা সমাজস্থ ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে সহায়তা করে। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি সমাজকর্মের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভূমিকা পালনের মধ্যেই কি বিষয়টি সীমাবদ্ধ? তোমার মতামত দাও।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মের ভূমিকা পালনের বিষয়টির মধ্য দিয়ে সমাজকর্মের গুরুত্বের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে।
সমাজকর্ম একটি প্রায়োগিক সামাজিক বিজ্ঞান। এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করে। সমাজের নানা সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ করাই সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে সমাজকর্ম ভূমিকা রাখে। আর এ বিষয়গুলোই উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে।
আধুনিক সমাজের বিভিন্ন জটিল আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানে সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করে সমস্যা চিহ্নিত করা হয় এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, যেমন- দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি প্রভৃতি মোকাবিলায় সমাজকর্ম প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। পাশাপাশি সমাজকর্ম সকল স্তরের জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম সভা-সমিতি, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজকর্মের উপর্যুক্ত ভূমিকাই সরলীকরণের মাধ্যমে এক বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সমাজকর্ম উক্ত ভূমিকা পালনে ব্যাপক কর্মক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো