HSCLogic 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
মামুন সাহেবের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন, আপনি ডায়োবেটিসে আক্রান্ত। আপনাকে সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন-নিয়ম করে ত্রিশ মিনিট হাঁটতে হবে। পুষ্টিকর এবং নির্ধারিত খাবার খেতে হবে। এভাবেই আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মামুন সাহেব। বললেন, ধন্যবাদ, আমি অবশ্যই আপনার কথা অনুসরণ করব, কারণ আপনার কথায় যুক্তি আছে।
[রংপুর সরকারি কলেজ]
ক
যুক্তিবিদ্যার প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কী?
উত্তর
যুক্তিবিদ্যার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সত্যকে অর্জন করা।
খ
দর্শন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়'- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
দর্শন সমগ্র জগৎ ও জীবনের সাথে যুক্ত। জগৎ বলতে অনেকে পরিদৃশ্যমান জগৎ বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎকে বুঝিয়ে থাকেন কিন্তু দর্শনের বিষয়বস্তুর দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এখানে এমন কতকগুলো বিষয় আছে, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরে। বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয় যেমন- আত্মা, ঈশ্বর, পরকাল ইত্যাদি বিষয়গুলো "পরিদৃশ্যমান জগতের বাইরে। এছাড়া এমন অনেক বিষয় আছে 'যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরে। যেহেতু দর্শন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরের বিষয় নিয়েও আলোচনা করে, তাই বলা যায়, দর্শন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
গ
মামুন সাহেবের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যুক্তিবিদ্যা যেভাবে ভূমিকা রাখে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের মামুন সাহেবের ডায়াবেটিস নিডন্ত্রণে যুক্তিবিদ্যার ভূমিকা আছে। কেননা মামুন সাহেবের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কিছু যুক্তিসংগত নিয়মকানুন ভূমিকা রাখবে।
যুক্তিবিদ্যা যুক্তিসংক্রান্ত বিদ্যা। যুক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। এছাড়া যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়মকানুন প্রণয়ন করে। আর শুদ্ধ যুক্তি প্রদানের জন্য যুক্তির নিয়মগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করে যুক্তি প্রদান করতে হয়। তাহলেই শুদ্ধ বা যথার্থ যুক্তি প্রদান করা সম্ভব হয়। উদ্দীপকের মামুন সাহেবের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ম অনুযায়ী হাঁটলে, খাবার খেলে ও 'অন্যান্য কাজকর্ম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেননা ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা সুনির্দিষ্ট নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চললে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই দেখা যাচ্ছে যে, যুক্তিবিদ্যার সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যুক্তি প্রদান করার সময়ও সংশ্লিষ্ট যুক্তির নিয়মগুলো ভালোভাবে অনুসরণ করতে হয়। আর উদ্দীপকের মামুন সাহেবের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণও সুনির্দিষ্ট নিয়মশৃঙ্খলার ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, মামুন সাহেবের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যুক্তির ভূমিকা আছে।
ঘ
উদ্দীপকের আলোকে কী এটাই প্রতীয়মান হয়? 'আমাদের জীবনের সার্বিক দিকে যুক্তিবিদ্যার ব্যবহার লক্ষণীয়'- উত্তরের সপক্ষে তোমার মত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকে আমাদের বাস্তব জীবনে যুক্তির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বলা যায়, "আমাদের জীবনের সার্বিক দিয়ে যুক্তিবিদ্যার ব্যবহার লক্ষণীয়"।
আমরা আমাদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করে কাজ করে থাকি। বিভিন্ন কাজের এসব নিয়মকানুনের মধ্যে যুক্তির প্রয়োগ রয়েছে। আমরা আমাদের কাজগুলো যৌক্তিক প্রক্রিয়ায়ই সম্পন্ন করি। যৌক্তিক এবং বৌদ্ধিক চিন্তা আমাদের বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস হতে মুক্ত হতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় যৌক্তিক নিয়মে কাজ করে। যেকোনো গবেষণাও যৌক্তিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। বর্তমান বিশ্বের খুবই প্রয়োজনীয় যন্ত্র কম্পিউটার যৌক্তিক নিয়মে কাজ করে। যুক্তির ব্যবহার দ্বারা মানুষ তার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আর অবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারলে মানুষ সঠিক কাজটি করতে পারে এবং ভুল কম হয়। মানুষের সুস্থ থাকার জন্য খাবার, ব্যায়াম ও বিশ্রামের জন্য যৌক্তিকভাবে নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। উদ্দীপকের মামুন সাহেবের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডাক্তার যে পরামর্শ দিয়েছে সেখানেও যৌক্তিকভাবে নিয়ম পালনের কথা বলা হয়েছে। আর মামুন সাহেব ডাক্তারের পরামর্শ পালন করতে সম্মত হয়েছেন কারণ তিনি মনে করেন ডাক্তারের কথায় যুক্তি আছে। অর্থাৎ, যুক্তির কারণেই ডাক্তারের পরামর্শ মামুন সাহেবের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এছাড়াও আমরা যৌক্তিক কারণেই বিভিন্ন বিষয়কে সমর্থন করি এবং বিভিন্ন কাজ করে থাকি।
তাই বলা যায়, আমাদের জীবনের সার্বিক দিকে যুক্তিবিদ্যার ব্যবহার লক্ষণীয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো