অধ্যায় ৪: বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) Islamic History 2nd paper

HSC Islamic History 2nd paper এর অধ্যায় ৪: বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৭০২

প্রশ্ন

Islamic History 2nd paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও শোষিত না হলে কখনো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে না। ইংরেজরা ভারতীয়দের ওপর যে রাজস্বনীতি গ্রহণ করেছিল তাতে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়ে। ফলে কৃষকরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এছাড়া খাজনা বৃদ্ধি, পথকর ও জলকর প্রভৃতি কর আরোপের কারণে ভারতীয়রা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
ক
১৮৫৭ সালে কত তারিখে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়?

উত্তর

১৮৫৭ সালে ২৯ মার্চ সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়।
খ
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সামরিক কারণ ব্যাখ্যা কর

উত্তর

ইংরেজ ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে আকাশ-পাতাল বৈষম্য ছিল।। আর এ বৈষম্যের কারণে দেশীয় সৈন্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করেছিল। যখন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তীব্র আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল তখন সামরিক বাহিনীর অসন্তোষই বিদ্রোহের দাবালন সৃষ্টি করে।
গ
উদ্দীপকে ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের যে কারণটির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও

উত্তর

উদ্দীপকের ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের যে কারণটির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো অর্থনৈতিক কারণ। ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ভারতীয় অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। ইংরেজদের ক্ষমতা দখলের পর ভূমি রাজস্ব নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। এ আইন প্রয়োগের ফলে বহু বনেদি জমিদার, অভিজাত ও উচ্চপদে অধিষ্ঠিত রাজকর্মচারী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। দরিদ্র কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয় এবং কারণে-অকারণে অত্যাচার করা হয়। পণ্যের বাজার দখলের নামে ইংরেজরা পরিকল্পিকভাবে স্থানীয় শিল্প ধ্বংস করে। এছাড়া ভারত হতে সোনা, রূপা প্রভৃতি মূল্যবান ধাতু ইংল্যান্ডে প্রেরণ করে, বিলাতি শিল্পজাত দ্রব্যাদির আমদানি ইত্যাদি কর্মকান্ডের কারণে এদেশে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পায়। খাজনা বৃদ্ধি, চৌকিদারি কর বৃদ্ধি, পথকর ও জলকর স্থাপন, যানবাহনের ওপর কর ধার্য ইত্যাদি কর্মকাণ্ড ভারতীয় জনগণ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
ঘ
নানা কারণে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় - বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ নানা কারণে ব্যর্থ হয়। যেমন- প্রথমত, বিদ্রোহীদের পূর্ব পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য না থাকায় এটা উত্তর প্রদেশ, রোহিলাখণ্ড, অযোধ্যা, দিল্লি, বাংলা এবং বিহারে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বিদ্রোহমুক্ত এলাকার জনগণ ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন করে বিপ্লবকে ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, এ মহাবিদ্রোহে ঝাঁসির রানি, অযোধ্যার বেগম এবং অপর কয়েকজন ক্ষুদ্ররাজ্যের রাজা, তালুকদার এবং জমিদার ছাড়া অপর কেউই অংশগ্রহণ করেনি। অপরপক্ষে নেপালের বাহাদুর জঙ্গ, ভূপালের বেগম, যোধপুরের রাজা প্রমুখর বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকারকে সাহায্য করেছিল। ফলে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তৃতীয়ত, বিদ্রোহীদের মধ্যে সংহতি ও আদর্শের অভাব তাদের বিফলতার অন্যতম কার। নেতৃবর্গের মধ্যে আদর্শ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকায় সমগ্র ভারতে একই নীতি এবং কর্মপন্থা অনুসৃত হয়নি। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ, মারাঠা নেতা নানাসাহেব এবং ঝাঁসির রানি নিজ নিজ এলাকায় ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে সঠিক নির্দেশনার অভাবে এ বিদ্রোহ দ্বিধাগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। সেজন্য এটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। চতুর্থত, সিপাহীদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল সমগ্র ভারতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো তাদের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ছিল না। পঞ্চমত, ভারতীয়দের তুলনায় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী উন্নত এবং সুসজ্জিত ছিল। ভারতীয় সিপাহীদের পুরাতন গাদা বন্দুকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হওয়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল। ষষ্ঠত, ভারতীয় নেতৃবর্গের তুলনায় ইংরেজ সেনাপতিগণ ছিলেন অধিকতর সমরকুশলী এবং নিষ্ঠাবান। লরেন্স আউটরন, নিকলসন বা নিল-এর মতো নির্ভীক ও সমরকুশলী যোদ্ধা বিদ্রোহীদের মধ্যে খুব একটা ছিল না। সপ্তমত, বিদ্রোহীদের কোনোরূপ কেন্দ্রীয় সংগঠন বা কেন্দ্রীয় নেতা না থাকায় সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি অষ্টমত, লর্ড ক্যানিং ছিলেন বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ শাসক। তিনি বিদ্রোহীদের প্রতি কঠোর এবং দমনমূলক নীতি গ্রহণ না করে বরং উদার এবং শান্তির নীতি অবলম্বন করেন। ফলে শীঘ্রই বিদ্রোহ প্রশমিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও শোষিত না হলে কখনো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে না। ইংরেজরা ভারতীয়দের ওপর যে রাজস্বনীতি গ্রহণ করেছিল তাতে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়ে। ফলে কৃষকরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এছাড়া খাজনা বৃদ্ধি, পথকর ও জলকর প্রভৃতি কর আরোপের কারণে ভারতীয়রা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
ক
১৮৫৭ সালে কত তারিখে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়?

উত্তর

১৮৫৭ সালে ২৯ মার্চ সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়।
খ
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সামরিক কারণ ব্যাখ্যা কর

উত্তর

ইংরেজ ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে আকাশ-পাতাল বৈষম্য ছিল।। আর এ বৈষম্যের কারণে দেশীয় সৈন্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করেছিল। যখন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তীব্র আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল তখন সামরিক বাহিনীর অসন্তোষই বিদ্রোহের দাবালন সৃষ্টি করে।
গ
উদ্দীপকে ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের যে কারণটির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও

উত্তর

উদ্দীপকের ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের যে কারণটির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো অর্থনৈতিক কারণ। ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ভারতীয় অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। ইংরেজদের ক্ষমতা দখলের পর ভূমি রাজস্ব নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। এ আইন প্রয়োগের ফলে বহু বনেদি জমিদার, অভিজাত ও উচ্চপদে অধিষ্ঠিত রাজকর্মচারী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। দরিদ্র কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয় এবং কারণে-অকারণে অত্যাচার করা হয়। পণ্যের বাজার দখলের নামে ইংরেজরা পরিকল্পিকভাবে স্থানীয় শিল্প ধ্বংস করে। এছাড়া ভারত হতে সোনা, রূপা প্রভৃতি মূল্যবান ধাতু ইংল্যান্ডে প্রেরণ করে, বিলাতি শিল্পজাত দ্রব্যাদির আমদানি ইত্যাদি কর্মকান্ডের কারণে এদেশে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পায়। খাজনা বৃদ্ধি, চৌকিদারি কর বৃদ্ধি, পথকর ও জলকর স্থাপন, যানবাহনের ওপর কর ধার্য ইত্যাদি কর্মকাণ্ড ভারতীয় জনগণ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
ঘ
নানা কারণে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় - বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ নানা কারণে ব্যর্থ হয়। যেমন- প্রথমত, বিদ্রোহীদের পূর্ব পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য না থাকায় এটা উত্তর প্রদেশ, রোহিলাখণ্ড, অযোধ্যা, দিল্লি, বাংলা এবং বিহারে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বিদ্রোহমুক্ত এলাকার জনগণ ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন করে বিপ্লবকে ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, এ মহাবিদ্রোহে ঝাঁসির রানি, অযোধ্যার বেগম এবং অপর কয়েকজন ক্ষুদ্ররাজ্যের রাজা, তালুকদার এবং জমিদার ছাড়া অপর কেউই অংশগ্রহণ করেনি। অপরপক্ষে নেপালের বাহাদুর জঙ্গ, ভূপালের বেগম, যোধপুরের রাজা প্রমুখর বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকারকে সাহায্য করেছিল। ফলে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তৃতীয়ত, বিদ্রোহীদের মধ্যে সংহতি ও আদর্শের অভাব তাদের বিফলতার অন্যতম কার। নেতৃবর্গের মধ্যে আদর্শ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকায় সমগ্র ভারতে একই নীতি এবং কর্মপন্থা অনুসৃত হয়নি। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ, মারাঠা নেতা নানাসাহেব এবং ঝাঁসির রানি নিজ নিজ এলাকায় ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে সঠিক নির্দেশনার অভাবে এ বিদ্রোহ দ্বিধাগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। সেজন্য এটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। চতুর্থত, সিপাহীদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল সমগ্র ভারতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো তাদের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ছিল না। পঞ্চমত, ভারতীয়দের তুলনায় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী উন্নত এবং সুসজ্জিত ছিল। ভারতীয় সিপাহীদের পুরাতন গাদা বন্দুকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হওয়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল। ষষ্ঠত, ভারতীয় নেতৃবর্গের তুলনায় ইংরেজ সেনাপতিগণ ছিলেন অধিকতর সমরকুশলী এবং নিষ্ঠাবান। লরেন্স আউটরন, নিকলসন বা নিল-এর মতো নির্ভীক ও সমরকুশলী যোদ্ধা বিদ্রোহীদের মধ্যে খুব একটা ছিল না। সপ্তমত, বিদ্রোহীদের কোনোরূপ কেন্দ্রীয় সংগঠন বা কেন্দ্রীয় নেতা না থাকায় সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি অষ্টমত, লর্ড ক্যানিং ছিলেন বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ শাসক। তিনি বিদ্রোহীদের প্রতি কঠোর এবং দমনমূলক নীতি গ্রহণ না করে বরং উদার এবং শান্তির নীতি অবলম্বন করেন। ফলে শীঘ্রই বিদ্রোহ প্রশমিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

যশোরের অভয়নগর উপজেলাটি আয়তনে বিশাল এবং এর জনসংখ্যাও অনেক। যার ফলশ্রুতিতে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজে এটি ভেঙে দুটি উপজেলা করার দাবি ওঠে। সরকার ন্যায্য দাবি মনে করে উপজেলাটিকে দু অংশে ভাগ করে দুটি উপজেলা ঘোষণা করে। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ নিজেদের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের জন্য, অখণ্ডতার দাবির পক্ষে জোরালো আবেদন করে। এতে করে সরকার পুনরায় দু উপজেলাকে একটি উপজেলায় পরিণত করে। যার ফলে অত্র অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ স্থায়ী ক্ষতির মুখে পতিত হয়।
ক
বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল কোথায়?

উত্তর

বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল কলকাতায়।
খ
হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে থাকে কেন?

উত্তর

বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলিম কৃষক-শ্রমিক শ্রেণি অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও নবজাগরণ দেখা দেবে বলে হিন্দুরা এর বিরোধিতা করতে থাকে। ভারতবর্ষের হিন্দুরা কখনো চায়নি যে, মুসলমানরা শিক্ষিত হোক কিংবা তারা সুন্দর জীবনযাপনের সুযোগ পাক।
গ
উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলার ইতিহাসের কোন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলার ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। লর্ড কার্জনের শাসনকালে বঙ্গভঙ্গ সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বঙ্গ প্রদেশটি বিহার, উড়িষ্যা ও আসাম নিয়ে ছিল; কিন্তু পর্যায়ক্রমে এ সুবিশাল ভূভাগ পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে শাসনব্যবস্থার সুবিধা এবং উন্নতিকল্পে এ বিশাল বঙ্গদেশকে দুভাগে বিভক্ত করে পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হয়। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা। অপরদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়। এ প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকায়। সারাদেশে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে। মুসলমান নেতৃবৃন্দ সরকারকে স্বাগত জানালেও বঙ্গভঙ্গ দ্বারা হিন্দুদের স্বার্থহানি ঘটেছে মনে করে হিন্দুরা ঘোরতর আন্দোলন পুরু করে। যার ফলে ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। তেমনি আমরা উদ্দীপকটিতে লক্ষ করি, যশোরের অভয়নগর উপজেলাটি আয়তনে বিশাল ও এর জনসংখ্যা অত্যধিক। ফলে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজে এটি ভেঙে দুটি উপজেলা করার দাবি ওঠে। সরকার ন্যায্য দাবি মনে করে, এটি ভেঙে দুটি উপজেলা ঘোষণা করেন। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অখন্ডতার দাবির পক্ষে জোরালো আবেদন করেন। যার ফলে সরকার আবার দুটি উপজেলাকে একটি উপজেলায় পরিণত করে। এতে অত্র অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতির মুখে পতিত হয়। অতএব উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
ঘ
বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা লাভবান হয়; আবার এটি রদের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো বঙ্গভঙ্গ। এর ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা লাভবান হয়। আবার রদের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়। বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গভঙ্গ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার্থে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা লাভবান হয়। বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনাটি কার্যকর করায় পূর্ব বাংলার মুসলমানরা খুশি হন। রাজধানী ঢাকায় হওয়াতে তাদের আর বিভিন্ন কাজে কলকাতা যেতে হবে না। কিন্তু হিন্দুরা নিজেদের স্বার্থহানি ঘটেছে মনে করে সারাদেশ জুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রহিত করতে বাধ্য হয়। এতে মুসলমানরা ক্ষতির মুখে পতিত হয়। অতএব, বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের জীবনে কল্যাণ ও আনন্দের বন্যা প্রবাহিত হয়। ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হওয়ায় এখানে হাইকোর্ট, আইন পরিষদ ভবন, সচিবালয় এবং আরও অনেক সুরম্য প্রাসাদ তৈরি হয়। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রহিত করা হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ক্ষতি হয়। তাই বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা লাভবান হয়। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রহিত করা হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ক্ষতি হয়। তাই বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানগণ লাভ হয় আবার এটি রদের ফলে পর্ব বাংলার মুসলমানদের অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

যশোরের অভয়নগর উপজেলাটি আয়তনে বিশাল এবং এর জনসংখ্যাও অনেক। যার ফলশ্রুতিতে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজে এটি ভেঙে দুটি উপজেলা করার দাবি ওঠে। সরকার ন্যায্য দাবি মনে করে উপজেলাটিকে দু অংশে ভাগ করে দুটি উপজেলা ঘোষণা করে। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ নিজেদের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের জন্য, অখণ্ডতার দাবির পক্ষে জোরালো আবেদন করে। এতে করে সরকার পুনরায় দু উপজেলাকে একটি উপজেলায় পরিণত করে। যার ফলে অত্র অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ স্থায়ী ক্ষতির মুখে পতিত হয়।
ক
বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল কোথায়?

উত্তর

বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল কলকাতায়।
খ
হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে থাকে কেন?

উত্তর

বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলিম কৃষক-শ্রমিক শ্রেণি অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও নবজাগরণ দেখা দেবে বলে হিন্দুরা এর বিরোধিতা করতে থাকে। ভারতবর্ষের হিন্দুরা কখনো চায়নি যে, মুসলমানরা শিক্ষিত হোক কিংবা তারা সুন্দর জীবনযাপনের সুযোগ পাক।
গ
উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলার ইতিহাসের কোন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলার ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। লর্ড কার্জনের শাসনকালে বঙ্গভঙ্গ সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বঙ্গ প্রদেশটি বিহার, উড়িষ্যা ও আসাম নিয়ে ছিল; কিন্তু পর্যায়ক্রমে এ সুবিশাল ভূভাগ পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে শাসনব্যবস্থার সুবিধা এবং উন্নতিকল্পে এ বিশাল বঙ্গদেশকে দুভাগে বিভক্ত করে পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হয়। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা। অপরদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়। এ প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকায়। সারাদেশে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে। মুসলমান নেতৃবৃন্দ সরকারকে স্বাগত জানালেও বঙ্গভঙ্গ দ্বারা হিন্দুদের স্বার্থহানি ঘটেছে মনে করে হিন্দুরা ঘোরতর আন্দোলন পুরু করে। যার ফলে ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। তেমনি আমরা উদ্দীপকটিতে লক্ষ করি, যশোরের অভয়নগর উপজেলাটি আয়তনে বিশাল ও এর জনসংখ্যা অত্যধিক। ফলে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজে এটি ভেঙে দুটি উপজেলা করার দাবি ওঠে। সরকার ন্যায্য দাবি মনে করে, এটি ভেঙে দুটি উপজেলা ঘোষণা করেন। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অখন্ডতার দাবির পক্ষে জোরালো আবেদন করেন। যার ফলে সরকার আবার দুটি উপজেলাকে একটি উপজেলায় পরিণত করে। এতে অত্র অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতির মুখে পতিত হয়। অতএব উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
ঘ
বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা লাভবান হয়; আবার এটি রদের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো বঙ্গভঙ্গ। এর ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা লাভবান হয়। আবার রদের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়। বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গভঙ্গ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার্থে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা লাভবান হয়। বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনাটি কার্যকর করায় পূর্ব বাংলার মুসলমানরা খুশি হন। রাজধানী ঢাকায় হওয়াতে তাদের আর বিভিন্ন কাজে কলকাতা যেতে হবে না। কিন্তু হিন্দুরা নিজেদের স্বার্থহানি ঘটেছে মনে করে সারাদেশ জুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রহিত করতে বাধ্য হয়। এতে মুসলমানরা ক্ষতির মুখে পতিত হয়। অতএব, বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের জীবনে কল্যাণ ও আনন্দের বন্যা প্রবাহিত হয়। ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হওয়ায় এখানে হাইকোর্ট, আইন পরিষদ ভবন, সচিবালয় এবং আরও অনেক সুরম্য প্রাসাদ তৈরি হয়। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রহিত করা হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ক্ষতি হয়। তাই বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা লাভবান হয়। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রহিত করা হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ক্ষতি হয়। তাই বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানগণ লাভ হয় আবার এটি রদের ফলে পর্ব বাংলার মুসলমানদের অপরিমেয় ক্ষতি সাধিত হয়- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ঝিনাইদহ জেলার শংকরপুর ইউনিয়ন একটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। হরিশচন্দ্র দেব ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সে এলাকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালাত এবং মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যাদিতে বাধা প্রদান করত। শংকরপুরের মুসলমানদেরকে অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে রক্ষার তাগিদে আমজাদ আলী এগিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন ধর্মভীরু ও সমাজ সংস্কারক। তিনি হিন্দু চেয়ারম্যানের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং তাদের নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার এ আন্দোলন মুসলমানদের ওপর নির্যাতন রক্ষার্থে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। এ মহৎ কাজের জন্য সমাজের মানুষের কাছে তিনি অমর হয়ে আছেন।
ক
ভারত কত তারিখে স্বাধীনতা লাভ করে?

উত্তর

ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে।
খ
রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় দাও।

উত্তর

রবার্ট ক্লাইভ ১৭২৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কেরানি হিসেবে যোগদান করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মাদ্রাজ। কিছুদিন পরে তিনি কেরানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে কোম্পানির সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোম্পানির ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান। তার রণনৈপুণ্য, সাহস ও বিচক্ষণতায় ইংরেজরা ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করেন।
গ
উদ্দীপকের আমজাদ আলীর আন্দোলনের সাথে ভারতের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? বর্ণনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত আমজাদ আলী ঝিনাইদহ জেলার হরিশচন্দ্র চেয়ারম্যানের অন্যায়-অত্যাচার ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তার এ আন্দোলনের সাথে হাজি শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। হাজি শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব সংস্কারবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল ফরায়েজি আন্দোলন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রথমদিকে এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও পরবর্তীতে তা সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি এটি ছিল কৃষক আন্দোলন। ফরায়েজি আন্দোলন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু হলেও এটি শুধু মুসলমান জনগণকে সংঘবন্ধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেনি, স্থানীয় হিন্দু কৃষকদের এক বিরাট অংশকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু- মুসলমানদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে এ আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরবর্তীকালে এ আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন এদেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। আর এ ঐক্যই এদেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নবজাগরণের সৃষ্টি করে এবং এটি শেষপর্যন্ত স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ পরিগ্রহ করে। ফলে মুসলমানগণ সে সময়ের হিন্দু জমিদার ও ইংরেজদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা পায়।
ঘ
আমজাদ আলীর আন্দোলন শংকরপুরের মুসলমানদের ওপর অত্যাচার থেকে রক্ষার্থে যে ভূমিকা পালন করেছিল তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত হরিশচন্দ্র দেব শংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে বাধা ও তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। চেয়ারম্যানের অত্যাচার নিপীড়ন থেকে রক্ষার জন্য আমজাদ আলী এগিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন ধর্মভীরু ও সমাজ সংস্কারক। তিনি হিন্দু চেয়ারম্যানের অত্যাচার থেকে মুসলমানদের রক্ষার জন্য শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার এ আন্দোলন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার থেকে রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। প্রথমদিকে এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও পরবর্তীতে তা সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি এটি ছিল কৃষক আন্দোলন। ফরায়েজি আন্দোলন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু হলেও এটি শুধু মুসলমান জনগণকে সংঘবদ্ধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেনি, স্থানীয় হিন্দু কৃষকদের এক বিরাট অংশকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে এ আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরবর্তীকালে এ আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন এদেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। আর এ ঐক্যই এদেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নবজাগরণের সৃষ্টি করে এবং এটি শেষপর্যন্ত স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ পরিগ্রহ করে। ফলে মুসলমানগণ সে সময়ের হিন্দু জমিদার ও ইংরেজদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা পায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ঝিনাইদহ জেলার শংকরপুর ইউনিয়ন একটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। হরিশচন্দ্র দেব ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সে এলাকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালাত এবং মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যাদিতে বাধা প্রদান করত। শংকরপুরের মুসলমানদেরকে অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে রক্ষার তাগিদে আমজাদ আলী এগিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন ধর্মভীরু ও সমাজ সংস্কারক। তিনি হিন্দু চেয়ারম্যানের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং তাদের নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার এ আন্দোলন মুসলমানদের ওপর নির্যাতন রক্ষার্থে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। এ মহৎ কাজের জন্য সমাজের মানুষের কাছে তিনি অমর হয়ে আছেন।
ক
ভারত কত তারিখে স্বাধীনতা লাভ করে?

উত্তর

ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে।
খ
রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় দাও।

উত্তর

রবার্ট ক্লাইভ ১৭২৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কেরানি হিসেবে যোগদান করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মাদ্রাজ। কিছুদিন পরে তিনি কেরানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে কোম্পানির সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোম্পানির ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান। তার রণনৈপুণ্য, সাহস ও বিচক্ষণতায় ইংরেজরা ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করেন।
গ
উদ্দীপকের আমজাদ আলীর আন্দোলনের সাথে ভারতের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? বর্ণনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত আমজাদ আলী ঝিনাইদহ জেলার হরিশচন্দ্র চেয়ারম্যানের অন্যায়-অত্যাচার ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তার এ আন্দোলনের সাথে হাজি শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। হাজি শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব সংস্কারবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল ফরায়েজি আন্দোলন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রথমদিকে এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও পরবর্তীতে তা সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি এটি ছিল কৃষক আন্দোলন। ফরায়েজি আন্দোলন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু হলেও এটি শুধু মুসলমান জনগণকে সংঘবন্ধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেনি, স্থানীয় হিন্দু কৃষকদের এক বিরাট অংশকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু- মুসলমানদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে এ আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরবর্তীকালে এ আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন এদেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। আর এ ঐক্যই এদেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নবজাগরণের সৃষ্টি করে এবং এটি শেষপর্যন্ত স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ পরিগ্রহ করে। ফলে মুসলমানগণ সে সময়ের হিন্দু জমিদার ও ইংরেজদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা পায়।
ঘ
আমজাদ আলীর আন্দোলন শংকরপুরের মুসলমানদের ওপর অত্যাচার থেকে রক্ষার্থে যে ভূমিকা পালন করেছিল তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত হরিশচন্দ্র দেব শংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে বাধা ও তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। চেয়ারম্যানের অত্যাচার নিপীড়ন থেকে রক্ষার জন্য আমজাদ আলী এগিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন ধর্মভীরু ও সমাজ সংস্কারক। তিনি হিন্দু চেয়ারম্যানের অত্যাচার থেকে মুসলমানদের রক্ষার জন্য শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার এ আন্দোলন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার থেকে রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। প্রথমদিকে এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও পরবর্তীতে তা সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি এটি ছিল কৃষক আন্দোলন। ফরায়েজি আন্দোলন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু হলেও এটি শুধু মুসলমান জনগণকে সংঘবদ্ধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেনি, স্থানীয় হিন্দু কৃষকদের এক বিরাট অংশকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে এ আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরবর্তীকালে এ আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন এদেশের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। আর এ ঐক্যই এদেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নবজাগরণের সৃষ্টি করে এবং এটি শেষপর্যন্ত স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ পরিগ্রহ করে। ফলে মুসলমানগণ সে সময়ের হিন্দু জমিদার ও ইংরেজদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা পায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো