HSCIslamic History 2nd paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও শোষিত না হলে কখনো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে না। ইংরেজরা ভারতীয়দের ওপর যে রাজস্বনীতি গ্রহণ করেছিল তাতে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়ে। ফলে কৃষকরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এছাড়া খাজনা বৃদ্ধি, পথকর ও জলকর প্রভৃতি কর আরোপের কারণে ভারতীয়রা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
ক
১৮৫৭ সালে কত তারিখে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়?
উত্তর
১৮৫৭ সালে ২৯ মার্চ সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়।
খ
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সামরিক কারণ ব্যাখ্যা কর
উত্তর
ইংরেজ ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে আকাশ-পাতাল বৈষম্য ছিল।। আর এ বৈষম্যের কারণে দেশীয় সৈন্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করেছিল। যখন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তীব্র আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল তখন সামরিক বাহিনীর অসন্তোষই বিদ্রোহের দাবালন সৃষ্টি করে।
গ
উদ্দীপকে ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের যে কারণটির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও
উত্তর
উদ্দীপকের ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের যে কারণটির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো অর্থনৈতিক কারণ।
ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ভারতীয় অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। ইংরেজদের ক্ষমতা দখলের পর ভূমি রাজস্ব নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। এ আইন প্রয়োগের ফলে বহু বনেদি জমিদার, অভিজাত ও উচ্চপদে অধিষ্ঠিত রাজকর্মচারী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। দরিদ্র কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয় এবং কারণে-অকারণে অত্যাচার করা হয়। পণ্যের বাজার দখলের নামে ইংরেজরা পরিকল্পিকভাবে স্থানীয় শিল্প ধ্বংস করে। এছাড়া ভারত হতে সোনা, রূপা প্রভৃতি মূল্যবান ধাতু ইংল্যান্ডে প্রেরণ করে, বিলাতি শিল্পজাত দ্রব্যাদির আমদানি ইত্যাদি কর্মকান্ডের কারণে এদেশে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পায়।
খাজনা বৃদ্ধি, চৌকিদারি কর বৃদ্ধি, পথকর ও জলকর স্থাপন, যানবাহনের ওপর কর ধার্য ইত্যাদি কর্মকাণ্ড ভারতীয় জনগণ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
ঘ
নানা কারণে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ নানা কারণে ব্যর্থ হয়। যেমন-
প্রথমত, বিদ্রোহীদের পূর্ব পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য না থাকায় এটা উত্তর প্রদেশ, রোহিলাখণ্ড, অযোধ্যা, দিল্লি, বাংলা এবং বিহারে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বিদ্রোহমুক্ত এলাকার জনগণ ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন করে বিপ্লবকে ব্যাহত করে।
দ্বিতীয়ত, এ মহাবিদ্রোহে ঝাঁসির রানি, অযোধ্যার বেগম এবং অপর কয়েকজন ক্ষুদ্ররাজ্যের রাজা, তালুকদার এবং জমিদার ছাড়া অপর কেউই অংশগ্রহণ করেনি। অপরপক্ষে নেপালের বাহাদুর জঙ্গ, ভূপালের বেগম, যোধপুরের রাজা প্রমুখর বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকারকে সাহায্য করেছিল। ফলে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তৃতীয়ত, বিদ্রোহীদের মধ্যে সংহতি ও আদর্শের অভাব তাদের বিফলতার অন্যতম কার। নেতৃবর্গের মধ্যে আদর্শ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকায় সমগ্র ভারতে একই নীতি এবং কর্মপন্থা অনুসৃত হয়নি। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ, মারাঠা নেতা নানাসাহেব এবং ঝাঁসির রানি নিজ নিজ এলাকায় ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে সঠিক নির্দেশনার অভাবে এ বিদ্রোহ দ্বিধাগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। সেজন্য এটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
চতুর্থত, সিপাহীদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল সমগ্র ভারতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো তাদের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ছিল না।
পঞ্চমত, ভারতীয়দের তুলনায় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী উন্নত এবং সুসজ্জিত ছিল। ভারতীয় সিপাহীদের পুরাতন গাদা বন্দুকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হওয়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল।
ষষ্ঠত, ভারতীয় নেতৃবর্গের তুলনায় ইংরেজ সেনাপতিগণ ছিলেন অধিকতর সমরকুশলী এবং নিষ্ঠাবান। লরেন্স আউটরন, নিকলসন বা নিল-এর মতো নির্ভীক ও সমরকুশলী যোদ্ধা বিদ্রোহীদের মধ্যে খুব একটা ছিল না।
সপ্তমত, বিদ্রোহীদের কোনোরূপ কেন্দ্রীয় সংগঠন বা কেন্দ্রীয় নেতা না থাকায় সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি
অষ্টমত, লর্ড ক্যানিং ছিলেন বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ শাসক। তিনি বিদ্রোহীদের প্রতি কঠোর এবং দমনমূলক নীতি গ্রহণ না করে বরং উদার এবং শান্তির নীতি অবলম্বন করেন। ফলে শীঘ্রই বিদ্রোহ প্রশমিত হয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো