HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
কুসংস্কার, অশিক্ষা ও অন্যায়ের বিরদ্ধে সমসময়ই প্রতিবাদী এবং সোচ্চার জামান সাহেব। কিন্তু তার প্রতিবাদের ধরন ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি সহজভাবে অনেক বিষয়ের সমাধান করতেন। এমনকি তিনি অন্যায়কারীর সাথেও বিরোধ মীমাংসা অস্ত্রের ব্যবহার সমর্থন। করতেন না। বিরোধ মীমাংসায় তার এ অহিংস পদ্ধতি প্রশংসার দাবিদার।
[সকল বোর্ড, ২০১৬]
ক
নেলসন ম্যান্ডেলা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর
নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের উমতাতুর মভেজু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
খ
ডেসমন্ড টুটুকে 'দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডেসমন্ড টুটু। তিনি ছিলেন অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী। সশস্ত্র পথের আন্দোলনকে তিনি কখনই সমর্থন করেননি। নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বাইবেল পড়া সকলের জন্য উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার দৃষ্টিতে ধর্মীয় গ্রন্থ মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে। তাঁর আন্দোলন শুধু বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি আন্দোলন করছেন এইডসের বিরুদ্ধে, দরিদ্রতার বিরুদ্ধে, যৌনতার বিরুদ্ধে। এ কারণে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহাত্মা গান্ধীর কর্মপদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচ্য উদ্দীপকে জামান সাহেব সমাজে অশিক্ষা, অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদী এবং সোচ্চার। তবে তিনি বিরোধ মীমাংসায় অস্ত্রের ব্যবহার না করে অহিংস পদ্ধতি অনুসরণ করেন। জামান সাহেবের এ চরিত্রের সাথে মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। মহাত্মা গান্ধীর জীবনের লক্ষ্যই ছিল জনসেবা ও গঠনমূলক কাজ। জামান সাহেবের মতো মহাত্মা গান্ধীও অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি ইংরেজদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে 'স্বরাজ' আদায়ের লক্ষ্যে তিনি অসহযোগ আন্দোলন, (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) করেন। দাবি আদায়ের ইতিহাসে 'হরতাল' তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবর্তন করেন। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক। বিরোধ মীমাংসায় তাঁর অহিংস নীতি অধিকাংশ দেশে আজ অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে বিরাজমান।
ঘ
উল্লিখিত কর্মপদ্ধতি তাকে একজন সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করেছিল মতামত দাও।
উত্তর
মহাত্মা গান্ধীর সমাজসেবামূলক কাজ এবং অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার অহিংস আন্দোলন তাকে সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করে তোলে।
মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। 'মহাত্মা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক উপাধি। তার সত্যিকার নাম আজ হারিয়ে গেছে এ বিশাল উপাধির উজ্জ্বলতায়। আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে যারা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন তাদের মধ্যে অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী একজন। ২১ বছর আফ্রিকায় অবস্থান করে ১৯১৪ খ্রি. ভারতে এসে তিনি সবরমতি নামক স্থানে একটি আশ্রম স্থাপন করে জনসেবা ও গঠনমূলক কাজে মনোনিবেশ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে তিনি অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) সহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আহমেদাবাদে কংগ্রেসের নেতত্বে আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনার প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সারা ভারতবাসী মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ব্রিটিশদের শাসন-শোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতব্যাপী যে জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক।
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজনীতিতে তার অসামান্য অবদানের কারণেই তিনি সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিচিতি পান।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো