Chapter 9: বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 9: বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৯৬

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

কুসংস্কার, অশিক্ষা ও অন্যায়ের বিরদ্ধে সমসময়ই প্রতিবাদী এবং সোচ্চার জামান সাহেব। কিন্তু তার প্রতিবাদের ধরন ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি সহজভাবে অনেক বিষয়ের সমাধান করতেন। এমনকি তিনি অন্যায়কারীর সাথেও বিরোধ মীমাংসা অস্ত্রের ব্যবহার সমর্থন। করতেন না। বিরোধ মীমাংসায় তার এ অহিংস পদ্ধতি প্রশংসার দাবিদার। [সকল বোর্ড, ২০১৬]
ক
নেলসন ম্যান্ডেলা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর

নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের উমতাতুর মভেজু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
খ
ডেসমন্ড টুটুকে 'দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডেসমন্ড টুটু। তিনি ছিলেন অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী। সশস্ত্র পথের আন্দোলনকে তিনি কখনই সমর্থন করেননি। নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বাইবেল পড়া সকলের জন্য উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার দৃষ্টিতে ধর্মীয় গ্রন্থ মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে। তাঁর আন্দোলন শুধু বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি আন্দোলন করছেন এইডসের বিরুদ্ধে, দরিদ্রতার বিরুদ্ধে, যৌনতার বিরুদ্ধে। এ কারণে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহাত্মা গান্ধীর কর্মপদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে জামান সাহেব সমাজে অশিক্ষা, অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদী এবং সোচ্চার। তবে তিনি বিরোধ মীমাংসায় অস্ত্রের ব্যবহার না করে অহিংস পদ্ধতি অনুসরণ করেন। জামান সাহেবের এ চরিত্রের সাথে মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। মহাত্মা গান্ধীর জীবনের লক্ষ্যই ছিল জনসেবা ও গঠনমূলক কাজ। জামান সাহেবের মতো মহাত্মা গান্ধীও অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি ইংরেজদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে 'স্বরাজ' আদায়ের লক্ষ্যে তিনি অসহযোগ আন্দোলন, (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) করেন। দাবি আদায়ের ইতিহাসে 'হরতাল' তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবর্তন করেন। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক। বিরোধ মীমাংসায় তাঁর অহিংস নীতি অধিকাংশ দেশে আজ অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে বিরাজমান।
ঘ
উল্লিখিত কর্মপদ্ধতি তাকে একজন সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করেছিল মতামত দাও।

উত্তর

মহাত্মা গান্ধীর সমাজসেবামূলক কাজ এবং অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার অহিংস আন্দোলন তাকে সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করে তোলে। মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। 'মহাত্মা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক উপাধি। তার সত্যিকার নাম আজ হারিয়ে গেছে এ বিশাল উপাধির উজ্জ্বলতায়। আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে যারা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন তাদের মধ্যে অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী একজন। ২১ বছর আফ্রিকায় অবস্থান করে ১৯১৪ খ্রি. ভারতে এসে তিনি সবরমতি নামক স্থানে একটি আশ্রম স্থাপন করে জনসেবা ও গঠনমূলক কাজে মনোনিবেশ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে তিনি অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) সহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আহমেদাবাদে কংগ্রেসের নেতত্বে আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনার প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সারা ভারতবাসী মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ব্রিটিশদের শাসন-শোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতব্যাপী যে জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক। উপরিউক্ত আলোচনায় প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজনীতিতে তার অসামান্য অবদানের কারণেই তিনি সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিচিতি পান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

কুসংস্কার, অশিক্ষা ও অন্যায়ের বিরদ্ধে সমসময়ই প্রতিবাদী এবং সোচ্চার জামান সাহেব। কিন্তু তার প্রতিবাদের ধরন ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি সহজভাবে অনেক বিষয়ের সমাধান করতেন। এমনকি তিনি অন্যায়কারীর সাথেও বিরোধ মীমাংসা অস্ত্রের ব্যবহার সমর্থন। করতেন না। বিরোধ মীমাংসায় তার এ অহিংস পদ্ধতি প্রশংসার দাবিদার। [সকল বোর্ড, ২০১৬]
ক
নেলসন ম্যান্ডেলা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর

নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের উমতাতুর মভেজু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
খ
ডেসমন্ড টুটুকে 'দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডেসমন্ড টুটু। তিনি ছিলেন অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী। সশস্ত্র পথের আন্দোলনকে তিনি কখনই সমর্থন করেননি। নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বাইবেল পড়া সকলের জন্য উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার দৃষ্টিতে ধর্মীয় গ্রন্থ মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে। তাঁর আন্দোলন শুধু বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি আন্দোলন করছেন এইডসের বিরুদ্ধে, দরিদ্রতার বিরুদ্ধে, যৌনতার বিরুদ্ধে। এ কারণে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহাত্মা গান্ধীর কর্মপদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে জামান সাহেব সমাজে অশিক্ষা, অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদী এবং সোচ্চার। তবে তিনি বিরোধ মীমাংসায় অস্ত্রের ব্যবহার না করে অহিংস পদ্ধতি অনুসরণ করেন। জামান সাহেবের এ চরিত্রের সাথে মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। মহাত্মা গান্ধীর জীবনের লক্ষ্যই ছিল জনসেবা ও গঠনমূলক কাজ। জামান সাহেবের মতো মহাত্মা গান্ধীও অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি ইংরেজদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে 'স্বরাজ' আদায়ের লক্ষ্যে তিনি অসহযোগ আন্দোলন, (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) করেন। দাবি আদায়ের ইতিহাসে 'হরতাল' তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবর্তন করেন। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক। বিরোধ মীমাংসায় তাঁর অহিংস নীতি অধিকাংশ দেশে আজ অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে বিরাজমান।
ঘ
উল্লিখিত কর্মপদ্ধতি তাকে একজন সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করেছিল মতামত দাও।

উত্তর

মহাত্মা গান্ধীর সমাজসেবামূলক কাজ এবং অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার অহিংস আন্দোলন তাকে সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করে তোলে। মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। 'মহাত্মা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক উপাধি। তার সত্যিকার নাম আজ হারিয়ে গেছে এ বিশাল উপাধির উজ্জ্বলতায়। আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে যারা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন তাদের মধ্যে অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী একজন। ২১ বছর আফ্রিকায় অবস্থান করে ১৯১৪ খ্রি. ভারতে এসে তিনি সবরমতি নামক স্থানে একটি আশ্রম স্থাপন করে জনসেবা ও গঠনমূলক কাজে মনোনিবেশ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে তিনি অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) সহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আহমেদাবাদে কংগ্রেসের নেতত্বে আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনার প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সারা ভারতবাসী মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ব্রিটিশদের শাসন-শোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতব্যাপী যে জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক। উপরিউক্ত আলোচনায় প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজনীতিতে তার অসামান্য অবদানের কারণেই তিনি সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিচিতি পান।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভারতে পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে। [সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
ডেসমন্ড টুটু কে ছিলেন?

উত্তর

ডেসমন্ড টুটু ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের । এক অবিসংবাদিত নেতা।
খ
মহাত্মা গান্ধী কী উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গমন করেন?

উত্তর

১৮৯৩ সালে মহাত্মা গান্ধী জনৈক এক মুসলমান ব্যবসায়ীর মামলাপরিচালনার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার গমন করেন। কিন্তু সেখানকার বর্ণবৈষম্যে তিনি ব্যথিত হন এবং বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
গ
উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের কোন সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণবাদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারতে পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য বিরাজ করত। ট্রামে, বাসে, স্কুলে, কলেজে, পথে-ঘাটে, চাকরিতে সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ছিল শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা। সর্বক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার ভোগ করত। তখন আমেরিকার দক্ষিণ অালের অধিকাংশ রাজ্যেই বাসের সামনের দিকে বসবার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। সমস্ত বাসুই সুরক্ষিত থাকত শ্বেতাঙ্গদের জন্য। বহু অঙ্গরাজ্যে নিগ্রোদের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। সরকারি উচ্চপদে আসীন হওয়ার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্ররা শ্বেতাঙ্গ ছাত্রদের সাথে একই সাথে বসে খাবার খাওয়ার অধিকার পেত না। কোনো কোনো দোকানের ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো খাবার অধিকার ছিল না। এভাবে আমেরিকাতে বিশ শতকে নিগ্রোরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয় বর্ণবাদ প্রচলিত থাকায়। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণভেদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
তুমি কি মনে কর, আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং-এর। আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল। মার্টিন লুথার কিং বাল্যকাল থেকেই তার চারপাশের জগতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য অবলোকন করে ব্যথিত হন। এ বৈষম্য গভীরভাবে বিচলিত করত কিংকে। তাই মার্টিন লুথার ছাত্রজীবন থেকেই নিগ্রোদের দ্বারা পরিচালিত বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। ধর্মযাজক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তিনি সরাসরি এ আন্দোলনের প্রতি যুক্ত হন। তিনি নিগ্রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে তাদের মধ্যে সাহস যুগিয়েছেন ও শক্তির সৃষ্টি করেছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গরা সোচ্চার হয়ে ওঠে। কিন্তু কোনো ভয়ভীতি তাকে পিছু হটাতে পারেনি। কিছুদিনের মধ্যে মার্টিন লুথার কিং নিগ্রোদের কাছে প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেন। এসময় শ্বেতাঙ্গরা তাকে বিদুপ করে বলত নিগ্রো ধর্মগুরু। তিনি আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রচার করেন যে, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য সমস্ত নিগ্রোর কাছে আহ্বান জানাতে থাকেন। ফলে ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। মার্টিন লুথার কিং আমেরিকায় সকল নিগ্রো মানুষের অবিসংবাদী নেতায় পরিণত হন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করায় একসময় তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর শ্বেতাঙ্গরা হিংস্রভাবে আক্রমণ করে সামান্যের জন্য রক্ষা পান মার্টিন লুথার কিং। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলাই অধিক যুক্তিসংগত যে, আমেরিকায় মার্কিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভারতে পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে। [সকল বোর্ড ২০১৫]
ক
ডেসমন্ড টুটু কে ছিলেন?

উত্তর

ডেসমন্ড টুটু ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের । এক অবিসংবাদিত নেতা।
খ
মহাত্মা গান্ধী কী উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গমন করেন?

উত্তর

১৮৯৩ সালে মহাত্মা গান্ধী জনৈক এক মুসলমান ব্যবসায়ীর মামলাপরিচালনার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার গমন করেন। কিন্তু সেখানকার বর্ণবৈষম্যে তিনি ব্যথিত হন এবং বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
গ
উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের কোন সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণবাদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারতে পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য বিরাজ করত। ট্রামে, বাসে, স্কুলে, কলেজে, পথে-ঘাটে, চাকরিতে সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ছিল শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা। সর্বক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার ভোগ করত। তখন আমেরিকার দক্ষিণ অালের অধিকাংশ রাজ্যেই বাসের সামনের দিকে বসবার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। সমস্ত বাসুই সুরক্ষিত থাকত শ্বেতাঙ্গদের জন্য। বহু অঙ্গরাজ্যে নিগ্রোদের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। সরকারি উচ্চপদে আসীন হওয়ার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্ররা শ্বেতাঙ্গ ছাত্রদের সাথে একই সাথে বসে খাবার খাওয়ার অধিকার পেত না। কোনো কোনো দোকানের ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো খাবার অধিকার ছিল না। এভাবে আমেরিকাতে বিশ শতকে নিগ্রোরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয় বর্ণবাদ প্রচলিত থাকায়। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণভেদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
তুমি কি মনে কর, আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং-এর। আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল। মার্টিন লুথার কিং বাল্যকাল থেকেই তার চারপাশের জগতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য অবলোকন করে ব্যথিত হন। এ বৈষম্য গভীরভাবে বিচলিত করত কিংকে। তাই মার্টিন লুথার ছাত্রজীবন থেকেই নিগ্রোদের দ্বারা পরিচালিত বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। ধর্মযাজক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তিনি সরাসরি এ আন্দোলনের প্রতি যুক্ত হন। তিনি নিগ্রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে তাদের মধ্যে সাহস যুগিয়েছেন ও শক্তির সৃষ্টি করেছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গরা সোচ্চার হয়ে ওঠে। কিন্তু কোনো ভয়ভীতি তাকে পিছু হটাতে পারেনি। কিছুদিনের মধ্যে মার্টিন লুথার কিং নিগ্রোদের কাছে প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেন। এসময় শ্বেতাঙ্গরা তাকে বিদুপ করে বলত নিগ্রো ধর্মগুরু। তিনি আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রচার করেন যে, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য সমস্ত নিগ্রোর কাছে আহ্বান জানাতে থাকেন। ফলে ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। মার্টিন লুথার কিং আমেরিকায় সকল নিগ্রো মানুষের অবিসংবাদী নেতায় পরিণত হন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করায় একসময় তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর শ্বেতাঙ্গরা হিংস্রভাবে আক্রমণ করে সামান্যের জন্য রক্ষা পান মার্টিন লুথার কিং। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলাই অধিক যুক্তিসংগত যে, আমেরিকায় মার্কিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে যত অন্যায়, অবিচার তা দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না-এটিই ছিল তার বাসনা।
ক
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে কেন মহাত্মা গান্ধী বলা হয়?

উত্তর

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সততা, আদর্শ এবং অহিংস ও মহতী কর্মকান্ডের জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'মহাত্মা' বিশেষণে ভূষিত করেন। এজন্য তারপর থেকেই তাঁকে মহাত্মা গান্ধী বলা হয়।
খ
'The Black Act′Act^{\prime} কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'The Black Act′Act^{\prime} হচ্ছে একটি কালো আইন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকার 'এশিয়াটিক ল অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স' নামে যে আইন পাস করে তা ভারতীয়দের কাছে 'The Black Act′Act^{\prime} বা কালো আইন নামে পরিচিত। এ আইন পাস হলে মহাত্মা গান্ধী এ ঘৃণ্য আইন বাতিলের জন্য দৃঢ় সংকল্প নেন।
গ
উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের যে চরিত্রের মিল আছে, তার শিক্ষাজীবনের বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত মার্টিন লুথার কিং-এর চরিত্রের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায়, অবিচার দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না-এটিই ছিল তার বাসনা। উক্ত ঘটনার সাথে মার্টিন লুথার কিং- এর মিল লক্ষ করা যায়। বাল্যকাল থেকেই মার্টিন লুথার কিং ছিলেন ধীর, শান্ত ও মেধাবী। স্বাভাবিক চেতনা জন্ম নিতেই তিনি অনুভব করলেন, চারপাশের জগতে রয়েছে বৈষম্য আর ঘৃণা। আটলান্টা পাবলিক স্কুল থেকে পাস করার পর তিনি মোর হাউস কলেজে ভর্তি হন। কলেজ থেকে পাস করার পর ১৯৪৮ সালে ১৯ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ক্লোজার থিওলজিক্যাল সেমিনারিতে ভর্তি হন। এখানে শ্বেতাঙ্গ ও নিগ্রোদের কোনো পার্থক্য ছিল না। এখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করার পর তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র অবস্থায় থেকে তার নিগ্রো আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ছিল।
ঘ
"মহারাজজির বাসনা আজ স্বপ্ন নয় বাস্তব।" পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত মার্টিন লুথার কিং-এর চরিত্রের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায়, অবিচার দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না- এটিই ছিল তার বাসনা। অনুরূপ ঘটনা মার্টিন লুথার কিং-এর ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। বাল্যকাল থেকেই মার্টিন লুথার কিং তার চারপাশের জগতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য অবলোকন করে ব্যথিত হন। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন শোষণ- নির্যাতন ও বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৩ সালের ২৭ আগস্ট ওয়াশিংটনে প্রায় আড়াই লাখ জনতার সামনে তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, "আমি স্বপ্ন দেখেছি।" ১৯৬৪ সালে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবিস্মরণীয় অবদান রাখার জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নৌবেল পুরস্কারের সব অর্থ তিনি নিগ্রোদের মুক্তি আন্দোলনে দান করলেন। প্রেসিডেন্ট জনসন মার্টিন লুথারের আন্দোলনের অনেক দাবি মেনে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল নিগ্রোদের ভোটাধিকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। তাই বলা যায়, লুখারের বাসনাসমূহ আজ আর স্বপ্ন নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে যত অন্যায়, অবিচার তা দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না-এটিই ছিল তার বাসনা।
ক
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে কেন মহাত্মা গান্ধী বলা হয়?

উত্তর

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সততা, আদর্শ এবং অহিংস ও মহতী কর্মকান্ডের জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'মহাত্মা' বিশেষণে ভূষিত করেন। এজন্য তারপর থেকেই তাঁকে মহাত্মা গান্ধী বলা হয়।
খ
'The Black Act′Act^{\prime} কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'The Black Act′Act^{\prime} হচ্ছে একটি কালো আইন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকার 'এশিয়াটিক ল অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স' নামে যে আইন পাস করে তা ভারতীয়দের কাছে 'The Black Act′Act^{\prime} বা কালো আইন নামে পরিচিত। এ আইন পাস হলে মহাত্মা গান্ধী এ ঘৃণ্য আইন বাতিলের জন্য দৃঢ় সংকল্প নেন।
গ
উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের যে চরিত্রের মিল আছে, তার শিক্ষাজীবনের বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত মার্টিন লুথার কিং-এর চরিত্রের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায়, অবিচার দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না-এটিই ছিল তার বাসনা। উক্ত ঘটনার সাথে মার্টিন লুথার কিং- এর মিল লক্ষ করা যায়। বাল্যকাল থেকেই মার্টিন লুথার কিং ছিলেন ধীর, শান্ত ও মেধাবী। স্বাভাবিক চেতনা জন্ম নিতেই তিনি অনুভব করলেন, চারপাশের জগতে রয়েছে বৈষম্য আর ঘৃণা। আটলান্টা পাবলিক স্কুল থেকে পাস করার পর তিনি মোর হাউস কলেজে ভর্তি হন। কলেজ থেকে পাস করার পর ১৯৪৮ সালে ১৯ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ক্লোজার থিওলজিক্যাল সেমিনারিতে ভর্তি হন। এখানে শ্বেতাঙ্গ ও নিগ্রোদের কোনো পার্থক্য ছিল না। এখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করার পর তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র অবস্থায় থেকে তার নিগ্রো আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ছিল।
ঘ
"মহারাজজির বাসনা আজ স্বপ্ন নয় বাস্তব।" পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত মার্টিন লুথার কিং-এর চরিত্রের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায়, অবিচার দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না- এটিই ছিল তার বাসনা। অনুরূপ ঘটনা মার্টিন লুথার কিং-এর ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। বাল্যকাল থেকেই মার্টিন লুথার কিং তার চারপাশের জগতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য অবলোকন করে ব্যথিত হন। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন শোষণ- নির্যাতন ও বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৩ সালের ২৭ আগস্ট ওয়াশিংটনে প্রায় আড়াই লাখ জনতার সামনে তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, "আমি স্বপ্ন দেখেছি।" ১৯৬৪ সালে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবিস্মরণীয় অবদান রাখার জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নৌবেল পুরস্কারের সব অর্থ তিনি নিগ্রোদের মুক্তি আন্দোলনে দান করলেন। প্রেসিডেন্ট জনসন মার্টিন লুথারের আন্দোলনের অনেক দাবি মেনে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল নিগ্রোদের ভোটাধিকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। তাই বলা যায়, লুখারের বাসনাসমূহ আজ আর স্বপ্ন নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো