HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি- বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন সংগঠন 'হামাস' একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে, ফিলিস্তিন মনে করে, ইসরায়েল পৃথিবীর সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দু'রাষ্ট্রের স্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত।
Dhaka · 2017
ক
Cold শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেছেন?
উত্তর
'Cold শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন আমেরিকান ব্যবসায়ী বার্নাড বাবুচ (Bernard Baruch)।
খ
পেরেস্ত্রোইকা কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
পেরেস্ত্রোইকা বলতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচিকে বোঝায়।
আশির দশকের মাঝামাঝি নাগাদ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। এ পরিবর্তনে মিখাইল গর্বাচেভের সংস্কারধর্মী চিন্তাচেতনা ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সর্বক্ষেত্রে উদারনৈতিক নীতি গ্রহণ করে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন রোধ করতে চেয়েছিলেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার উদারনৈতিক কর্মসূচিই পেরেস্ত্রোইকা নামে পরিচিত।
গ
উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তা হলো স্নায়ুযুদ্ধ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাইল-ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দুটির দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ দু রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে আজ বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। এরূপ অবস্থাকে পাঠ্যবইয়ের আলোকে স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। কেননা, স্নায়ুযুদ্ধ বলতে এমন এক প্রকার যুদ্ধাবস্থাকে নির্দেশ করে, যা যুদ্ধও নয় আবার শান্তিও নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থাকে স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়। এ স্নায়ুযুদ্ধ উদ্ভবের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। তবে এর মূল কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ইরান দখল করায় যুদ্ধের পর ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অন্যদিকে ইয়াল্টা চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জাপানে যুদ্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে সে সুযোগ না দিয়ে আনবিক বোমা ফেলে জাপান দখল করে নিলে রাশিয়া এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এছাড়া গ্রিসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে ট্রুম্যান ডকট্রিন ঘোষণা করা হলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে মার্কিন দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়। তাছাড়া স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল তুর্কি বিদ্রোহ। এ সকল কারণ ছাড়াও চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতা, তৃতীয় বিশ্বে শূন্যতা সৃষ্টি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়া প্রভৃতির ফলে স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব ঘটে।
সুতরাং বলা যায়, উপর্যুক্ত কারণে স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) এর সূচনা হয়।
ঘ
দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের মূল কারণ- মতামত দাও।
উত্তর
দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের তথা স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ- এ উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি।
স্নায়ুযুদ্ধের পেছনে অনেক কারণ বিদ্যমান থাকলেও এর মূল কারণ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আদর্শিক স্বন্দ্ব।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক মতবাদকে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী বলে মনে করে। অপরপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মডেলকে ধনীদের শোষণের হাতিয়ার এবং সাম্যবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। অপরদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের
সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি অর্জন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ রাষ্ট্র দুটি মিত্রপক্ষে যোগ দিয়ে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে একসাথে লড়াই করলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই পারস্পারিক স্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। এ দুটি দেশের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোও বিভক্ত হয়ে দুই শিবিরে যোগ দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এ দুই পরাশক্তি সতত বিরোধিতা অব্যাহত রাখলে প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়ায়। কিন্তু উভয় দেশই সযত্নে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে।
মূলত পুঁজিবাদের অবাধ বিচরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ধাঁচের গণতন্ত্র বিকাশের জন্য দেশে দেশে প্রচেষ্টা চালায়। অপরদিকে, দরিদ্র দেশগুলোতে 'সাম্যবাদ' প্রচারের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন তার নিজস্ব ধাঁচের কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। এ আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণেই স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব হয়েছিল।
সুতরাং বলা যায়, রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার আদর্শগত দ্বন্দ্বই স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো