Chapter 7: স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 7: স্নায়ুযুদ্ধ: পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৯৫

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি- বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন সংগঠন 'হামাস' একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে, ফিলিস্তিন মনে করে, ইসরায়েল পৃথিবীর সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দু'রাষ্ট্রের স্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত।

Dhaka · 2017

ক
Cold War′War^{\prime} শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেছেন?

উত্তর

'Cold War′War^{\prime} শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন আমেরিকান ব্যবসায়ী বার্নাড বাবুচ (Bernard Baruch)।
খ
পেরেস্ত্রোইকা কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

পেরেস্ত্রোইকা বলতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচিকে বোঝায়। আশির দশকের মাঝামাঝি নাগাদ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। এ পরিবর্তনে মিখাইল গর্বাচেভের সংস্কারধর্মী চিন্তাচেতনা ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সর্বক্ষেত্রে উদারনৈতিক নীতি গ্রহণ করে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন রোধ করতে চেয়েছিলেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার উদারনৈতিক কর্মসূচিই পেরেস্ত্রোইকা নামে পরিচিত।
গ
উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তা হলো স্নায়ুযুদ্ধ। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাইল-ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দুটির দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ দু রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে আজ বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। এরূপ অবস্থাকে পাঠ্যবইয়ের আলোকে স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। কেননা, স্নায়ুযুদ্ধ বলতে এমন এক প্রকার যুদ্ধাবস্থাকে নির্দেশ করে, যা যুদ্ধও নয় আবার শান্তিও নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থাকে স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়। এ স্নায়ুযুদ্ধ উদ্ভবের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। তবে এর মূল কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ইরান দখল করায় যুদ্ধের পর ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অন্যদিকে ইয়াল্টা চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জাপানে যুদ্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে সে সুযোগ না দিয়ে আনবিক বোমা ফেলে জাপান দখল করে নিলে রাশিয়া এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এছাড়া গ্রিসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে ট্রুম্যান ডকট্রিন ঘোষণা করা হলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে মার্কিন দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়। তাছাড়া স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল তুর্কি বিদ্রোহ। এ সকল কারণ ছাড়াও চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতা, তৃতীয় বিশ্বে শূন্যতা সৃষ্টি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়া প্রভৃতির ফলে স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব ঘটে। সুতরাং বলা যায়, উপর্যুক্ত কারণে স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) এর সূচনা হয়।
ঘ
দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের মূল কারণ- মতামত দাও।

উত্তর

দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের তথা স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ- এ উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি। স্নায়ুযুদ্ধের পেছনে অনেক কারণ বিদ্যমান থাকলেও এর মূল কারণ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আদর্শিক স্বন্দ্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক মতবাদকে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী বলে মনে করে। অপরপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মডেলকে ধনীদের শোষণের হাতিয়ার এবং সাম্যবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। অপরদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি অর্জন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ রাষ্ট্র দুটি মিত্রপক্ষে যোগ দিয়ে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে একসাথে লড়াই করলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই পারস্পারিক স্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। এ দুটি দেশের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোও বিভক্ত হয়ে দুই শিবিরে যোগ দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এ দুই পরাশক্তি সতত বিরোধিতা অব্যাহত রাখলে প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়ায়। কিন্তু উভয় দেশই সযত্নে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে। মূলত পুঁজিবাদের অবাধ বিচরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ধাঁচের গণতন্ত্র বিকাশের জন্য দেশে দেশে প্রচেষ্টা চালায়। অপরদিকে, দরিদ্র দেশগুলোতে 'সাম্যবাদ' প্রচারের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন তার নিজস্ব ধাঁচের কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। এ আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণেই স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব হয়েছিল। সুতরাং বলা যায়, রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার আদর্শগত দ্বন্দ্বই স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি- বিদেশি অনেক রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল মনে করে ফিলিস্তিন সংগঠন 'হামাস' একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরপক্ষে, ফিলিস্তিন মনে করে, ইসরায়েল পৃথিবীর সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এ দু'রাষ্ট্রের স্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত।

Dhaka · 2017

ক
Cold War′War^{\prime} শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেছেন?

উত্তর

'Cold War′War^{\prime} শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন আমেরিকান ব্যবসায়ী বার্নাড বাবুচ (Bernard Baruch)।
খ
পেরেস্ত্রোইকা কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

পেরেস্ত্রোইকা বলতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচিকে বোঝায়। আশির দশকের মাঝামাঝি নাগাদ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। এ পরিবর্তনে মিখাইল গর্বাচেভের সংস্কারধর্মী চিন্তাচেতনা ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সর্বক্ষেত্রে উদারনৈতিক নীতি গ্রহণ করে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন রোধ করতে চেয়েছিলেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার উদারনৈতিক কর্মসূচিই পেরেস্ত্রোইকা নামে পরিচিত।
গ
উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তা হলো স্নায়ুযুদ্ধ। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাইল-ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দুটির দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ দু রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে আজ বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। এরূপ অবস্থাকে পাঠ্যবইয়ের আলোকে স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। কেননা, স্নায়ুযুদ্ধ বলতে এমন এক প্রকার যুদ্ধাবস্থাকে নির্দেশ করে, যা যুদ্ধও নয় আবার শান্তিও নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থাকে স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়। এ স্নায়ুযুদ্ধ উদ্ভবের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। তবে এর মূল কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ইরান দখল করায় যুদ্ধের পর ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অন্যদিকে ইয়াল্টা চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জাপানে যুদ্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে সে সুযোগ না দিয়ে আনবিক বোমা ফেলে জাপান দখল করে নিলে রাশিয়া এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এছাড়া গ্রিসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে ট্রুম্যান ডকট্রিন ঘোষণা করা হলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে মার্কিন দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়। তাছাড়া স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল তুর্কি বিদ্রোহ। এ সকল কারণ ছাড়াও চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতা, তৃতীয় বিশ্বে শূন্যতা সৃষ্টি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়া প্রভৃতির ফলে স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব ঘটে। সুতরাং বলা যায়, উপর্যুক্ত কারণে স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) এর সূচনা হয়।
ঘ
দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের মূল কারণ- মতামত দাও।

উত্তর

দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মতাদর্শগত পার্থক্য উক্ত সংঘাতের তথা স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ- এ উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি। স্নায়ুযুদ্ধের পেছনে অনেক কারণ বিদ্যমান থাকলেও এর মূল কারণ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আদর্শিক স্বন্দ্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক মতবাদকে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী বলে মনে করে। অপরপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মডেলকে ধনীদের শোষণের হাতিয়ার এবং সাম্যবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। অপরদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি অর্জন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ রাষ্ট্র দুটি মিত্রপক্ষে যোগ দিয়ে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে একসাথে লড়াই করলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই পারস্পারিক স্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। এ দুটি দেশের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোও বিভক্ত হয়ে দুই শিবিরে যোগ দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এ দুই পরাশক্তি সতত বিরোধিতা অব্যাহত রাখলে প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়ায়। কিন্তু উভয় দেশই সযত্নে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে। মূলত পুঁজিবাদের অবাধ বিচরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ধাঁচের গণতন্ত্র বিকাশের জন্য দেশে দেশে প্রচেষ্টা চালায়। অপরদিকে, দরিদ্র দেশগুলোতে 'সাম্যবাদ' প্রচারের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন তার নিজস্ব ধাঁচের কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। এ আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণেই স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব হয়েছিল। সুতরাং বলা যায়, রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার আদর্শগত দ্বন্দ্বই স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্প্রতি কাশ্মির সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোও পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি।

Combined · 2018

ক
'NATO′−NATO^{\prime}-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর

'NATO′NATO^{\prime} এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization.
খ
'গ্লাসনস্ত' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিথাইল গর্ভাচেভ কর্তৃক প্রণীত গ্লাসনস্ত (খোলামেলা নীতি) একটি অন্যতম রাজনৈতিক সংস্কারের নাম। খোলামেলা নীতি তথা গ্লাসনস্তের ফলে রুশ জনগণ কমিউনিজমের ত্রুটিগুলো এবং এর ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা খোলামেলা আলোচনা ও মত প্রকাশের সুযোগ পায়। এর ফলে কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রুশ ও অন্যান্য রিপাবলিকের জনগণ জেগে ওঠে। জনতার অধিকতর স্বাধীনতার প্রত্যাশায় সোড়িয়েত ইউনিয়নের পতন ত্বরান্বিত হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে, আমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের মিল পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পরের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের ব্যাপক প্রসারে উদ্বিগ্ন হয়ে মিত্রপক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সকল বিভেদকে দূরে ঠেলে সোভিয়েত রাশিয়াকে মৈত্রী জোটে গ্রহণ - করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই রুজভেল্টের মৃত্যু এবং উইনস্টন চার্চিল ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে যথাক্রমে হ্যারি এস. ট্রম্যান ও এটলি ক্ষমতাসীন হন। এ দুজন পূর্বতন দুজন বিশ্ব নেতার চেয়ে অনেকটা অদূরদর্শী এবং অসহনশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফলে মিত্রপক্ষের বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে বিশ্বযুদ্ধকালীন যে সমঝোতা ছিল তা বিনষ্ট হয়। রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্ত পথে বরাবরই জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হুমকির মুখে ছিল। এজন্য ইয়াল্টা বৈঠকে (১৯৪৫ সালে) স্ট্যালিন উল্লেখ করেছিলেন যে পোল্যান্ড, রুমানিয়া তথা বাল্টিক সীমান্ত পথে রাশিয়া তার প্রতি মিত্রভাবাপন্ন সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারকে মেনে নেবে না। ঐতিহাসিক আইজাক ডয়েৎসের মতে, 'রাশিয়ার এ নীতি ছিল তার আত্মরক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।' এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেয়। রুশ বাহিনী পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কমিউনিস্ট দলগুলোকে সাহায্য করতে থাকে। এদিকে পেন্টাগনের সামরিক আমলাবর্গও পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের উদারনীতির প্রতি প্রসন্ন ছিলেন না। তারা নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতি কড়া নীতি প্রয়োগের জন্য প্ররোচিত করেন। এর ফলে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।
ঘ
“উক্ত বিষয়টি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে।” —উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

উক্ত বিষয়টি, অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে। ১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লেনিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরে এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করে। বিষয়টি মিত্রশক্তি অন্যান্য দেশ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনকে বেশ সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। লেনিনের দৃঢ় নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্রুতই আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটায়। পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক স্ট্যালিন বিশ্বের অন্যান্য দেশে ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেন। পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মিত্রশক্তি জয়লাভ করে। বৈশ্বিক শান্তি আনয়নে উক্ত দেশের নেতৃবর্গ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেন। এর মধ্যে ইয়াল্টা ও পোটসডাম . সম্মেলন অন্যতম। উক্ত দুই সম্মেলনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনেতাগণের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ জন্মে। জার্মানির বিভক্তি নিয়ে দুই রাষ্ট্র উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি এ দুই ভাগে বিভক্ত করে দখল করে রাখে। এরূপ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো বিশেষত আমেরিকা ও ব্রিটেন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী গণতন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। যাতে করে পূর্ব প্রসারমান সমাজতন্ত্র পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহকে আর গ্লাস করতে না পারে। এভাবে পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্র পারস্পরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদী দেশগুলোর নেতৃত্বে আর্সে আমেরিকা আর সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর নেতৃত্ব নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এভাবে পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রীকে ব্লক বিশ্বে দ্বিমেরুবাদের জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত উক্ত দুই ব্লকের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজমান ছিল। তাই বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের ঘটনা তখন সমগ্র বিশ্বকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করে। উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্প্রতি কাশ্মির সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোও পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি।

Combined · 2018

ক
'NATO′−NATO^{\prime}-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর

'NATO′NATO^{\prime} এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization.
খ
'গ্লাসনস্ত' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিথাইল গর্ভাচেভ কর্তৃক প্রণীত গ্লাসনস্ত (খোলামেলা নীতি) একটি অন্যতম রাজনৈতিক সংস্কারের নাম। খোলামেলা নীতি তথা গ্লাসনস্তের ফলে রুশ জনগণ কমিউনিজমের ত্রুটিগুলো এবং এর ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা খোলামেলা আলোচনা ও মত প্রকাশের সুযোগ পায়। এর ফলে কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রুশ ও অন্যান্য রিপাবলিকের জনগণ জেগে ওঠে। জনতার অধিকতর স্বাধীনতার প্রত্যাশায় সোড়িয়েত ইউনিয়নের পতন ত্বরান্বিত হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে, আমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের মিল পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পরের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের ব্যাপক প্রসারে উদ্বিগ্ন হয়ে মিত্রপক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সকল বিভেদকে দূরে ঠেলে সোভিয়েত রাশিয়াকে মৈত্রী জোটে গ্রহণ - করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই রুজভেল্টের মৃত্যু এবং উইনস্টন চার্চিল ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে যথাক্রমে হ্যারি এস. ট্রম্যান ও এটলি ক্ষমতাসীন হন। এ দুজন পূর্বতন দুজন বিশ্ব নেতার চেয়ে অনেকটা অদূরদর্শী এবং অসহনশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফলে মিত্রপক্ষের বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে বিশ্বযুদ্ধকালীন যে সমঝোতা ছিল তা বিনষ্ট হয়। রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্ত পথে বরাবরই জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হুমকির মুখে ছিল। এজন্য ইয়াল্টা বৈঠকে (১৯৪৫ সালে) স্ট্যালিন উল্লেখ করেছিলেন যে পোল্যান্ড, রুমানিয়া তথা বাল্টিক সীমান্ত পথে রাশিয়া তার প্রতি মিত্রভাবাপন্ন সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারকে মেনে নেবে না। ঐতিহাসিক আইজাক ডয়েৎসের মতে, 'রাশিয়ার এ নীতি ছিল তার আত্মরক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।' এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেয়। রুশ বাহিনী পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কমিউনিস্ট দলগুলোকে সাহায্য করতে থাকে। এদিকে পেন্টাগনের সামরিক আমলাবর্গও পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের উদারনীতির প্রতি প্রসন্ন ছিলেন না। তারা নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতি কড়া নীতি প্রয়োগের জন্য প্ররোচিত করেন। এর ফলে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।
ঘ
“উক্ত বিষয়টি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে।” —উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

উক্ত বিষয়টি, অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে। ১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লেনিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরে এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করে। বিষয়টি মিত্রশক্তি অন্যান্য দেশ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনকে বেশ সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। লেনিনের দৃঢ় নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্রুতই আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটায়। পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক স্ট্যালিন বিশ্বের অন্যান্য দেশে ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেন। পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মিত্রশক্তি জয়লাভ করে। বৈশ্বিক শান্তি আনয়নে উক্ত দেশের নেতৃবর্গ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেন। এর মধ্যে ইয়াল্টা ও পোটসডাম . সম্মেলন অন্যতম। উক্ত দুই সম্মেলনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনেতাগণের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ জন্মে। জার্মানির বিভক্তি নিয়ে দুই রাষ্ট্র উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি এ দুই ভাগে বিভক্ত করে দখল করে রাখে। এরূপ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো বিশেষত আমেরিকা ও ব্রিটেন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী গণতন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। যাতে করে পূর্ব প্রসারমান সমাজতন্ত্র পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহকে আর গ্লাস করতে না পারে। এভাবে পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্র পারস্পরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদী দেশগুলোর নেতৃত্বে আর্সে আমেরিকা আর সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর নেতৃত্ব নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এভাবে পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রীকে ব্লক বিশ্বে দ্বিমেরুবাদের জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত উক্ত দুই ব্লকের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজমান ছিল। তাই বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের ঘটনা তখন সমগ্র বিশ্বকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করে। উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায় । স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছিল। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী, অপরদিকে সুদীপ্ত এটাকে অপছন্দ করে। ফলে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

Combined · 2019

ক
কত সালে SEATO গঠিত হয়?

উত্তর

১৯৫৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর SEATO গঠিত হয়।
খ
চেকোশ্লোভাকিয়ায় কমিউনিস্ট শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর

স্নায়ুযুদ্ধকালীন চেকোশ্লোভাকিয়ায় কোয়ালিশন সরকারকে উৎখাত করে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। পূর্ব ইউরোপের চেকোশ্লোভাকিয়ায় (বর্তমানে দুটি দেশে বিভক্ত) তখন একটি কোয়ালিশন সরকার ছিল, যার সংখ্যালঘু অংশীদার ছিল কমিউনিস্ট পার্টি । চেক সরকার যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্যত হলে কমিউনিস্টরা অস্ট্রিয়া থেকে রুশ 'লালফৌজ' এনে সরকার উৎখাত করে কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
গ
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দুটি দেশের আদর্শের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত দুই বন্ধুর পছন্দের আদর্শের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশ দুটির অনুসৃত আদর্শের মিল রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ে দুটি পরাশক্তির উত্থান ঘটে। এ দুটি পরাশক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়ার পূর্বসূরি)। আদর্শগতভাবে এ দুটি রাষ্ট্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী। অপরদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে আদৌ গণতন্ত্র বলে স্বীকার করত না। কারণ তাদের মতে, ঐ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র হলো ধনীদের যন্ত্র এবং জনগণের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের সাম্যবাদকে দোষারোপ করে। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করত। ১৯৪৫ সালে রুশ নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের সমাজতন্ত্র, বিস্তারের নীতিকে কেন্দ্র করে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ অর্থাৎ 'ঠান্ডা লড়াই' এর সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা এ প্রচ্ছন্ন বৈরিতা কয়েকবার প্রায় যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছিল। উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী । অন্যদিকে তার বন্ধু সুদীপ্ত তা অপছন্দ করে। আদর্শিক পার্থক্য নিয়ে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্কের মধ্যে উদ্দীপকের এমন ঘটনার অনুরূপ চিত্রই দেখা যেত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত আদর্শের মিল রয়েছে।
ঘ
উক্ত দুটি দেশের আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে পৃথিবীতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে— তোমার যুক্তি দেখাও।

উত্তর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে একসময় বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা সৃষ্টিসহ অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এর উত্তরসূরি হওয়া রাশিয়াও সম্প্রতি নতুন করে শক্তি জাহির করার চেষ্টা করছে । সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বে শক্তির ভারসাম্য ছিল। পাশাপাশি প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ-বিগ্রহসহ অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করত। গত শতকের নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্মুখীন না হওয়ায় বিশ্বে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে। তবে কয়েক দশকের ব্যবধানে সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়া এখন আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে সামরিক প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাবের বিপরীতে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা ভারসাম্য আনলেও বিশ্বশান্তির জন্য তা সার্বিকভাবে সহায়ক নয়। কারণ এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ স্বার্থরক্ষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দ্বন্দ্বে লিপ্ত । এগুলো গৃহযুদ্ধ, ছায়াযুদ্ধ ইত্যাদির মাধ্যমে শান্তি বিপর্যস্ত করছে । তাই বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্বে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলেও রাশিয়া তার স্থান নেওয়ায় কিছুটা ভিন্ন ধরন ও সীমিত মাত্রায় হলেও আবার স্নায়ুযুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায় । স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছিল। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী, অপরদিকে সুদীপ্ত এটাকে অপছন্দ করে। ফলে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

Combined · 2019

ক
কত সালে SEATO গঠিত হয়?

উত্তর

১৯৫৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর SEATO গঠিত হয়।
খ
চেকোশ্লোভাকিয়ায় কমিউনিস্ট শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর

স্নায়ুযুদ্ধকালীন চেকোশ্লোভাকিয়ায় কোয়ালিশন সরকারকে উৎখাত করে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। পূর্ব ইউরোপের চেকোশ্লোভাকিয়ায় (বর্তমানে দুটি দেশে বিভক্ত) তখন একটি কোয়ালিশন সরকার ছিল, যার সংখ্যালঘু অংশীদার ছিল কমিউনিস্ট পার্টি । চেক সরকার যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্যত হলে কমিউনিস্টরা অস্ট্রিয়া থেকে রুশ 'লালফৌজ' এনে সরকার উৎখাত করে কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
গ
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দুটি দেশের আদর্শের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত দুই বন্ধুর পছন্দের আদর্শের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশ দুটির অনুসৃত আদর্শের মিল রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ে দুটি পরাশক্তির উত্থান ঘটে। এ দুটি পরাশক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়ার পূর্বসূরি)। আদর্শগতভাবে এ দুটি রাষ্ট্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী। অপরদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে আদৌ গণতন্ত্র বলে স্বীকার করত না। কারণ তাদের মতে, ঐ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র হলো ধনীদের যন্ত্র এবং জনগণের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের সাম্যবাদকে দোষারোপ করে। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করত। ১৯৪৫ সালে রুশ নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের সমাজতন্ত্র, বিস্তারের নীতিকে কেন্দ্র করে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ অর্থাৎ 'ঠান্ডা লড়াই' এর সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা এ প্রচ্ছন্ন বৈরিতা কয়েকবার প্রায় যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছিল। উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী । অন্যদিকে তার বন্ধু সুদীপ্ত তা অপছন্দ করে। আদর্শিক পার্থক্য নিয়ে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্কের মধ্যে উদ্দীপকের এমন ঘটনার অনুরূপ চিত্রই দেখা যেত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত আদর্শের মিল রয়েছে।
ঘ
উক্ত দুটি দেশের আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে পৃথিবীতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে— তোমার যুক্তি দেখাও।

উত্তর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে একসময় বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা সৃষ্টিসহ অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এর উত্তরসূরি হওয়া রাশিয়াও সম্প্রতি নতুন করে শক্তি জাহির করার চেষ্টা করছে । সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বে শক্তির ভারসাম্য ছিল। পাশাপাশি প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ-বিগ্রহসহ অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করত। গত শতকের নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্মুখীন না হওয়ায় বিশ্বে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে। তবে কয়েক দশকের ব্যবধানে সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়া এখন আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে সামরিক প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাবের বিপরীতে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা ভারসাম্য আনলেও বিশ্বশান্তির জন্য তা সার্বিকভাবে সহায়ক নয়। কারণ এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ স্বার্থরক্ষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দ্বন্দ্বে লিপ্ত । এগুলো গৃহযুদ্ধ, ছায়াযুদ্ধ ইত্যাদির মাধ্যমে শান্তি বিপর্যস্ত করছে । তাই বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্বে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলেও রাশিয়া তার স্থান নেওয়ায় কিছুটা ভিন্ন ধরন ও সীমিত মাত্রায় হলেও আবার স্নায়ুযুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো