HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। দুটি রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেটির ভূমিকা প্রশংসনীয়।
Comilla · 2017
ক
উড্রো উইলসন কে ছিলেন?
উত্তর
উড্রো উইলসন ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
খ
নিরাপত্তা পরিষদের কাজ লেখ।
উত্তর
নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
জাতিসংঘ সনদের ২৪ ধারা অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। শান্তি স্থাপনের জন্য আলোচনা, মধ্যস্থতা, আপস মীমাংসা অথবা যে কোনো উপায়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেওয়া এ পরিষদের অন্যতম কাজ। এছাড়াও সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত কোনো রাষ্ট্রকে সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার, সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ, নতুন সদস্য গ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ সুপারিশ করে থাকে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান কোনটি? পরিচয় দাও।
উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা অবলোকন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জাতিসংঘের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিবদমান রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করে সকল রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করা। দুটি দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত বেধে গেলে জাতিসংঘ তা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বাতলে দেয় এবং যুদ্ধাহত দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করে। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশ নিজ দেশে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ও অন্য দেশের সাথে বিরোধ মীমাংসায় এর নিকট সাহায্য চাইতে বা হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। দুটো রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। উদ্দীপকে উক্ত বৃহৎ প্রতিষ্ঠান দ্বারা জাতিসংঘকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ।
ঘ
উত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড কমবেশি সফল হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উক্ত প্রতিষ্ঠানের তথা জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড কমবেশি সফল হয়েছে অর্থাৎ অনেকাংশই সফল হয়েছে।
যে সকল মহান আদর্শকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সবটা না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের ভূমিকা ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে, তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ব একাধিকবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়। আর এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও শৃঙ্খল্য স্থাপনে ১৯৪৮ সাল থেকে সক্রিয় ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল বিরোধ মীমাংসা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, লেবানন সংকট সমাধান এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধসহ প্রভৃতি কাজে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ' ক্ষমতার কারণে জাতিসংঘ প্রায়ই তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তথাপি জন্মের পর। থেকে জাতিসংঘ বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাত সমাধানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অনেক ক্ষেত্রই সফল হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো