Chapter 6: জাতিসংঘ এবং বিশ্বশান্তি History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 6: জাতিসংঘ এবং বিশ্বশান্তি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৫২

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। দুটি রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেটির ভূমিকা প্রশংসনীয়।

Comilla · 2017

ক
উড্রো উইলসন কে ছিলেন?

উত্তর

উড্রো উইলসন ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
খ
নিরাপত্তা পরিষদের কাজ লেখ।

উত্তর

নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জাতিসংঘ সনদের ২৪ ধারা অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। শান্তি স্থাপনের জন্য আলোচনা, মধ্যস্থতা, আপস মীমাংসা অথবা যে কোনো উপায়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেওয়া এ পরিষদের অন্যতম কাজ। এছাড়াও সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত কোনো রাষ্ট্রকে সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার, সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ, নতুন সদস্য গ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ সুপারিশ করে থাকে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান কোনটি? পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা অবলোকন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জাতিসংঘের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিবদমান রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করে সকল রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করা। দুটি দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত বেধে গেলে জাতিসংঘ তা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বাতলে দেয় এবং যুদ্ধাহত দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করে। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশ নিজ দেশে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ও অন্য দেশের সাথে বিরোধ মীমাংসায় এর নিকট সাহায্য চাইতে বা হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। দুটো রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। উদ্দীপকে উক্ত বৃহৎ প্রতিষ্ঠান দ্বারা জাতিসংঘকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ।
ঘ
উত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড কমবেশি সফল হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উক্ত প্রতিষ্ঠানের তথা জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড কমবেশি সফল হয়েছে অর্থাৎ অনেকাংশই সফল হয়েছে। যে সকল মহান আদর্শকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সবটা না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের ভূমিকা ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে, তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ব একাধিকবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়। আর এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও শৃঙ্খল্য স্থাপনে ১৯৪৮ সাল থেকে সক্রিয় ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল বিরোধ মীমাংসা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, লেবানন সংকট সমাধান এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধসহ প্রভৃতি কাজে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো 'Veto′Veto^{\prime} ক্ষমতার কারণে জাতিসংঘ প্রায়ই তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তথাপি জন্মের পর। থেকে জাতিসংঘ বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাত সমাধানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অনেক ক্ষেত্রই সফল হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। দুটি রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেটির ভূমিকা প্রশংসনীয়।

Comilla · 2017

ক
উড্রো উইলসন কে ছিলেন?

উত্তর

উড্রো উইলসন ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
খ
নিরাপত্তা পরিষদের কাজ লেখ।

উত্তর

নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জাতিসংঘ সনদের ২৪ ধারা অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। শান্তি স্থাপনের জন্য আলোচনা, মধ্যস্থতা, আপস মীমাংসা অথবা যে কোনো উপায়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেওয়া এ পরিষদের অন্যতম কাজ। এছাড়াও সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত কোনো রাষ্ট্রকে সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার, সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ, নতুন সদস্য গ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ সুপারিশ করে থাকে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান কোনটি? পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা অবলোকন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জাতিসংঘের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিবদমান রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করে সকল রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করা। দুটি দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত বেধে গেলে জাতিসংঘ তা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বাতলে দেয় এবং যুদ্ধাহত দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করে। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশ নিজ দেশে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ও অন্য দেশের সাথে বিরোধ মীমাংসায় এর নিকট সাহায্য চাইতে বা হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। দুটো রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। উদ্দীপকে উক্ত বৃহৎ প্রতিষ্ঠান দ্বারা জাতিসংঘকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ।
ঘ
উত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড কমবেশি সফল হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উক্ত প্রতিষ্ঠানের তথা জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড কমবেশি সফল হয়েছে অর্থাৎ অনেকাংশই সফল হয়েছে। যে সকল মহান আদর্শকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সবটা না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের ভূমিকা ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে, তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ব একাধিকবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়। আর এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও শৃঙ্খল্য স্থাপনে ১৯৪৮ সাল থেকে সক্রিয় ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল বিরোধ মীমাংসা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, লেবানন সংকট সমাধান এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধসহ প্রভৃতি কাজে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো 'Veto′Veto^{\prime} ক্ষমতার কারণে জাতিসংঘ প্রায়ই তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তথাপি জন্মের পর। থেকে জাতিসংঘ বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাত সমাধানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অনেক ক্ষেত্রই সফল হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের চিন্তাভাবনা করে চলেছে মানুষ। মাত্র দুই দশক সময়ের ব্যবধানে দু'টি মানবসভ্যতা বিধ্বংসী যুদ্ধ মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল। ফলে বিশ শতকের মধ্যভাগে একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্ম হয়।

Dhaka · 2017

ক
রুজভেল্ট কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?

উত্তর

বুজভেন্ট (Franklin Delano Roosevelt) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
খ
ভেটো কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ভেটো (Veto) হচ্ছে একপক্ষীয়ভাবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশের মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক কোনো সিদ্ধান্ত বা আইনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা। ভেটো শব্দটি ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ 'আমি মানি না'। অবশ্যম্ভাবী শব্দ হিসেবে ভেটো শব্দটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও এটি বৈশ্বিকভাবে বিরাট প্রভাব বিস্তার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স- এই পাঁচটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তারা প্রত্যেকেই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী। ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো একটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যে কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন অনুমোদনে বাধা প্রদান করতে পারে।
গ
উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে জাতিসংঘের (United Nations) কথা বলা হয়েছে। কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই বিশ শতকের মধ্যভাগে অর্থাৎ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘের জন্ম হয়। জাতিসংঘ ৬টি অঙ্গ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত। এ অঙ্গ সংগঠনগুলো হলো: ১. সাধারণ পরিষদ (General Assembly) ২. নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (Economic and Social Council) ৪. অছি পরিষদ (Trusteeship Council) ৫. আন্তর্জাতিক আদালত (International Court of Justice) এবং ৬. সচিবালয় (Secretariat)। জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র অর্থাৎ ১৯৩টি রাষ্ট্র সাধারণ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশের ৫ জন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত। কিন্তু ভোটের ক্ষেত্রে প্রত্যেক রাষ্ট্র ১টি করে ভোট প্রদান করতে পারে। প্রতি বছর একবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আহৃত হয়। জাতিসংঘের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পরিষদ হলো নিরাপত্তা পরিষদ। এ পরিষদ ১০টি অস্থায়ী ও ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্র হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র দুই বছরের জন্য সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়। বিশ্বের সর্বত্র মানবজাতির জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এবং মানব অধিকারসমূহ কার্যকর করার জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ গঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশেষ বিবদমান রাষ্ট্র বা অঞ্চলসমূহের প্রশাসনিক বিন্যাস, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা অছি পরিষদের দায়িত্ব। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যবর্গ ও সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে আছি পরিষদ গঠিত হয়। জাতিসংঘের প্রধান বিচারালয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচারালয়। মোট ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারালয় গঠিত। আর জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় বা জাতিসংঘ দপ্তর আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
ঘ
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত বৃহৎ সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উত্ত বৃহৎ সংস্থা অর্থাৎ জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন চলেছে। যে সকল মহান আদর্শকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সবটা না হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের ভূমিকা ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়। আর এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা। শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল বিরোধ মীমাংসা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, লেবানন সংকট সমাধান এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধসহ এমন অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের চিন্তাভাবনা করে চলেছে মানুষ। মাত্র দুই দশক সময়ের ব্যবধানে দু'টি মানবসভ্যতা বিধ্বংসী যুদ্ধ মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল। ফলে বিশ শতকের মধ্যভাগে একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্ম হয়।

Dhaka · 2017

ক
রুজভেল্ট কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?

উত্তর

বুজভেন্ট (Franklin Delano Roosevelt) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
খ
ভেটো কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ভেটো (Veto) হচ্ছে একপক্ষীয়ভাবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশের মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক কোনো সিদ্ধান্ত বা আইনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা। ভেটো শব্দটি ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ 'আমি মানি না'। অবশ্যম্ভাবী শব্দ হিসেবে ভেটো শব্দটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও এটি বৈশ্বিকভাবে বিরাট প্রভাব বিস্তার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স- এই পাঁচটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তারা প্রত্যেকেই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী। ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো একটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যে কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন অনুমোদনে বাধা প্রদান করতে পারে।
গ
উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার কথা বলা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে জাতিসংঘের (United Nations) কথা বলা হয়েছে। কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই বিশ শতকের মধ্যভাগে অর্থাৎ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘের জন্ম হয়। জাতিসংঘ ৬টি অঙ্গ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত। এ অঙ্গ সংগঠনগুলো হলো: ১. সাধারণ পরিষদ (General Assembly) ২. নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (Economic and Social Council) ৪. অছি পরিষদ (Trusteeship Council) ৫. আন্তর্জাতিক আদালত (International Court of Justice) এবং ৬. সচিবালয় (Secretariat)। জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র অর্থাৎ ১৯৩টি রাষ্ট্র সাধারণ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশের ৫ জন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত। কিন্তু ভোটের ক্ষেত্রে প্রত্যেক রাষ্ট্র ১টি করে ভোট প্রদান করতে পারে। প্রতি বছর একবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আহৃত হয়। জাতিসংঘের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পরিষদ হলো নিরাপত্তা পরিষদ। এ পরিষদ ১০টি অস্থায়ী ও ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্র হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র দুই বছরের জন্য সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়। বিশ্বের সর্বত্র মানবজাতির জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এবং মানব অধিকারসমূহ কার্যকর করার জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ গঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশেষ বিবদমান রাষ্ট্র বা অঞ্চলসমূহের প্রশাসনিক বিন্যাস, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা অছি পরিষদের দায়িত্ব। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যবর্গ ও সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে আছি পরিষদ গঠিত হয়। জাতিসংঘের প্রধান বিচারালয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচারালয়। মোট ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারালয় গঠিত। আর জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় বা জাতিসংঘ দপ্তর আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
ঘ
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত বৃহৎ সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উত্ত বৃহৎ সংস্থা অর্থাৎ জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন চলেছে। যে সকল মহান আদর্শকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সবটা না হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের ভূমিকা ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়। আর এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা। শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল বিরোধ মীমাংসা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, লেবানন সংকট সমাধান এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধসহ এমন অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকত। এতে বিভিন্ন গোত্র যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো তেমনি অনেক প্রাণহানি ঘটত। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শত্রুতা লেগেই থাকত। হযরত মোহাম্মদ (সা.) এ সংঘর্ষ হতে বিরত রাখার জন্য তৈরি করলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামক একটি শান্তি সংঘ ৷

Combined · 2018

ক
আন্তর্জাতিক আদালত কোথায় অবস্থিত?

উত্তর

আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত।
খ
ভেটো ক্ষমতা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

ভেটো (Veto) একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ আমি এটা মানি না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের এ ভেটো (Veto) ক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব গ্রহণ করার পূর্বে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের সম্মতির প্রয়োজন হয়। যদি কোনো রাষ্ট্র কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ঐকমত্যে না আসতে পারে তখন ওই রাষ্ট্র এ ভেটো (Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত হিলফুল ফুজুল এর সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত হিলফুল ফুজুল-এর সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের জাতিসংঘের মিল রয়েছে। জাতিসংঘ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত করে তুললে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভব করেন। ইতোপূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিপুঞ্জ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এ জাতিপুঞ্জের গঠনতন্ত্রে কতিপয় ত্রুটি এবং বৃহৎ শক্তিবর্গের পারস্পরিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন মানতে না চাওয়ার ফলে এ সংস্থাটির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় এবং বিশ্ব আরেকটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করে। এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ মানব ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে উঠেছিল সেসব সংগঠনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বের সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের সম্মেলনের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতিসংঘ (United Nations Organization) সে উদ্যোগের ফসল। প্রায় সাত দশক ধরে (১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ-বর্তমান) এ সংস্থাটি বিশ্বকে সংঘাতের কবল থেকে মুক্ত রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘ
“সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”— তোমার মতামত দাও ।

উত্তর

সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তথা জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অন্যতম একটি অঙ্গ হলো নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতিসংঘ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। যা জাতিসংঘের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। তারপরও বলা যায়, জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। বহু হতাশা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও এ সংস্থাটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নির্যাতন ও দুর্ভাগ্যের হাত থেকে মুক্তির জন্য মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বিরাজ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি ও বিরামহীন আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে শান্তিরক্ষা করা সংস্থার একটি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম সবচেয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘ শুধু শান্তিরক্ষা ও সংঘাত নিরসনেই কাজ করছে না, এর অঙ্গ সংগঠনগুলো বিশ্বের মানুষের সেবার জন্য বিশেষ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু ও নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবাধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও শিক্ষাখাতের উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, আণবিক জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ইত্যাদি। তাই বলা যায়, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতে না দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির একটি অন্যতম সফলতা, তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকত। এতে বিভিন্ন গোত্র যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো তেমনি অনেক প্রাণহানি ঘটত। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শত্রুতা লেগেই থাকত। হযরত মোহাম্মদ (সা.) এ সংঘর্ষ হতে বিরত রাখার জন্য তৈরি করলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামক একটি শান্তি সংঘ ৷

Combined · 2018

ক
আন্তর্জাতিক আদালত কোথায় অবস্থিত?

উত্তর

আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত।
খ
ভেটো ক্ষমতা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

ভেটো (Veto) একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ আমি এটা মানি না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের এ ভেটো (Veto) ক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব গ্রহণ করার পূর্বে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের সম্মতির প্রয়োজন হয়। যদি কোনো রাষ্ট্র কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ঐকমত্যে না আসতে পারে তখন ওই রাষ্ট্র এ ভেটো (Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত হিলফুল ফুজুল এর সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত হিলফুল ফুজুল-এর সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের জাতিসংঘের মিল রয়েছে। জাতিসংঘ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত করে তুললে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভব করেন। ইতোপূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিপুঞ্জ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এ জাতিপুঞ্জের গঠনতন্ত্রে কতিপয় ত্রুটি এবং বৃহৎ শক্তিবর্গের পারস্পরিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন মানতে না চাওয়ার ফলে এ সংস্থাটির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় এবং বিশ্ব আরেকটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করে। এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ মানব ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে উঠেছিল সেসব সংগঠনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বের সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের সম্মেলনের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতিসংঘ (United Nations Organization) সে উদ্যোগের ফসল। প্রায় সাত দশক ধরে (১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ-বর্তমান) এ সংস্থাটি বিশ্বকে সংঘাতের কবল থেকে মুক্ত রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘ
“সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”— তোমার মতামত দাও ।

উত্তর

সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তথা জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অন্যতম একটি অঙ্গ হলো নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতিসংঘ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। যা জাতিসংঘের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। তারপরও বলা যায়, জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। বহু হতাশা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও এ সংস্থাটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নির্যাতন ও দুর্ভাগ্যের হাত থেকে মুক্তির জন্য মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বিরাজ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি ও বিরামহীন আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে শান্তিরক্ষা করা সংস্থার একটি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম সবচেয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘ শুধু শান্তিরক্ষা ও সংঘাত নিরসনেই কাজ করছে না, এর অঙ্গ সংগঠনগুলো বিশ্বের মানুষের সেবার জন্য বিশেষ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু ও নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবাধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও শিক্ষাখাতের উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, আণবিক জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ইত্যাদি। তাই বলা যায়, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতে না দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির একটি অন্যতম সফলতা, তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো