Chapter 4: বলশেভিক বিপ্লব History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 4: বলশেভিক বিপ্লব অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৩৪

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'নাহার' নামক একটি কারখানায় শ্রমিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। ফলে শ্রমিকরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে উঠে। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়।

Comilla · 2017

ক
লেনিন কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর

লেনিন রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
খ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দু'টি কারণ সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি কারণ হলো উগ্র জাতীয়তাবাদ ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ। ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদ। আর এই জাতীয়তাবাদই ছিল ১৯১৪ সালের বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ। অন্যদিকে, আঠারো শতকে ইউরোপে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লব উনিশ শতকে চরম উৎকর্ষ লাভ করে। এর ফলে ইউরোপীয় শক্তিবর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম আকার ধারণ করে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।
গ
উদ্দীপকের পরিবর্তন কি রুশ বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হ্যাঁ, উদ্দীপকের পরিবর্তন রুশ বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এ বিপ্লব রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক জীবনে এক গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের সূচনা করে। তবে রুশ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার কৃষক শ্রমিক শ্রেণি ছিল নির্যাতিত ও শোষিত। তাদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা বা সুবিধা ভোগ এবং শিক্ষার অধিকার ছিল না। সর্বদাই তারা জমিদারদের অত্যাচার এবং নির্যাতন সহ্য করে সমাজে বসবাস করতো। সে সময়ে বলশেভিক দল শ্রমিকদের মধ্যে গোপন প্রচার চালিয়ে শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ করে বিপ্লবমুখী করে তোলে। এর ফলে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক 'বলশেভিক বিপ্লব'। এ বিপ্লবকে রুশ বিপ্লব বা অক্টোবর বিপ্লবও বলা হয়। এ বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার জারতন্ত্রের অবসান হয়, ধনী ও দারিদ্রের মাঝে বৈষম্য দূর হয় এবং শ্রমিকরা শিক্ষালাভসহ বিভিন্ন অধিকার ভোগ করার সুযোগ পায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'নাহার' কারখানায় শ্রমিক বিপ্লব সংঘটিত হওয়ায় শ্রমিকরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে উঠে এবং ধনী-গরীবের বৈষম্য দূর হয়। নাহার কারখানার বিপ্লব পরবর্তী এ চিত্রটি বলশেভিক বিপ্লব পরবর্তী রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক অবস্থার। সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, 'নাহার' কারখানায় সংঘটিত বিপ্লবের সাথে রুশ বা বলেশিভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
উল্লিখিত পরিবর্তন রাশিয়ায় কি ধরনের প্রভাব ফেলেছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।

উত্তর

উল্লিখিত পরিবর্তন অর্থাৎ বলশেভিক বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তন রাশিয়ায় নানা ধরনের প্রভাব ফেলেছিল বলে আমি মনে করি। বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। এ বিপ্লবের ফলে রাশিয়া থেকে জারতন্ত্র ও বুঙ্গেয়া গণতন্ত্র উচ্ছেদ হয়। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শ্রেণিভিত্তিক সমাজের পরিবর্তে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু হয়। এ বিপ্লব বিদ্যমান বৈষম্য ও শোষণ ব্যবস্থা উচ্ছেদের লক্ষ্যে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনে। ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ ক্রমেই উন্নত জীবনে প্রবেশ করে। বিপ্লবের পর দেশের সকল নাগরিক ও জাতিসত্তার শিক্ষা-সংস্কৃতির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গণশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। খুব অল্প সময়ে বুশ জাতি ছাড়াও অন্যান্য জাতি শিক্ষিত হয়ে ওঠে। বিপ্লবের পর রাষ্ট্র তার প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে মানুষের ন্যূনতম মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া এ বিপ্লবের ফলে পুরনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয় এবং সংবিধান সভা ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় সোভিয়েত দেশগুলোকে। এ বিপ্লবের ফলে বলশেভিক সরকার সকল নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া তা 'White terror′terror^{\prime} বা শ্বেত সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করে। সর্বোপরি এ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ার সমাজতন্ত্রের যে ভিত্তি নির্মিত হয়, তার ওপর নির্ভর করে সেদেশের কৃষক শ্রেণি সাম্যবাদী সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ হয়। তাই বলা যায়, রাশিয়ার সমাজ পরিবর্তনে বলশেভিক বিপ্লবের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'নাহার' নামক একটি কারখানায় শ্রমিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। ফলে শ্রমিকরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে উঠে। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়।

Comilla · 2017

ক
লেনিন কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর

লেনিন রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
খ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দু'টি কারণ সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি কারণ হলো উগ্র জাতীয়তাবাদ ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ। ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদ। আর এই জাতীয়তাবাদই ছিল ১৯১৪ সালের বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ। অন্যদিকে, আঠারো শতকে ইউরোপে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লব উনিশ শতকে চরম উৎকর্ষ লাভ করে। এর ফলে ইউরোপীয় শক্তিবর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম আকার ধারণ করে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।
গ
উদ্দীপকের পরিবর্তন কি রুশ বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হ্যাঁ, উদ্দীপকের পরিবর্তন রুশ বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এ বিপ্লব রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক জীবনে এক গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের সূচনা করে। তবে রুশ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার কৃষক শ্রমিক শ্রেণি ছিল নির্যাতিত ও শোষিত। তাদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা বা সুবিধা ভোগ এবং শিক্ষার অধিকার ছিল না। সর্বদাই তারা জমিদারদের অত্যাচার এবং নির্যাতন সহ্য করে সমাজে বসবাস করতো। সে সময়ে বলশেভিক দল শ্রমিকদের মধ্যে গোপন প্রচার চালিয়ে শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ করে বিপ্লবমুখী করে তোলে। এর ফলে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক 'বলশেভিক বিপ্লব'। এ বিপ্লবকে রুশ বিপ্লব বা অক্টোবর বিপ্লবও বলা হয়। এ বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার জারতন্ত্রের অবসান হয়, ধনী ও দারিদ্রের মাঝে বৈষম্য দূর হয় এবং শ্রমিকরা শিক্ষালাভসহ বিভিন্ন অধিকার ভোগ করার সুযোগ পায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'নাহার' কারখানায় শ্রমিক বিপ্লব সংঘটিত হওয়ায় শ্রমিকরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে উঠে এবং ধনী-গরীবের বৈষম্য দূর হয়। নাহার কারখানার বিপ্লব পরবর্তী এ চিত্রটি বলশেভিক বিপ্লব পরবর্তী রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক অবস্থার। সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, 'নাহার' কারখানায় সংঘটিত বিপ্লবের সাথে রুশ বা বলেশিভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
উল্লিখিত পরিবর্তন রাশিয়ায় কি ধরনের প্রভাব ফেলেছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।

উত্তর

উল্লিখিত পরিবর্তন অর্থাৎ বলশেভিক বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তন রাশিয়ায় নানা ধরনের প্রভাব ফেলেছিল বলে আমি মনে করি। বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। এ বিপ্লবের ফলে রাশিয়া থেকে জারতন্ত্র ও বুঙ্গেয়া গণতন্ত্র উচ্ছেদ হয়। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শ্রেণিভিত্তিক সমাজের পরিবর্তে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু হয়। এ বিপ্লব বিদ্যমান বৈষম্য ও শোষণ ব্যবস্থা উচ্ছেদের লক্ষ্যে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনে। ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ ক্রমেই উন্নত জীবনে প্রবেশ করে। বিপ্লবের পর দেশের সকল নাগরিক ও জাতিসত্তার শিক্ষা-সংস্কৃতির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গণশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। খুব অল্প সময়ে বুশ জাতি ছাড়াও অন্যান্য জাতি শিক্ষিত হয়ে ওঠে। বিপ্লবের পর রাষ্ট্র তার প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে মানুষের ন্যূনতম মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া এ বিপ্লবের ফলে পুরনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয় এবং সংবিধান সভা ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় সোভিয়েত দেশগুলোকে। এ বিপ্লবের ফলে বলশেভিক সরকার সকল নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া তা 'White terror′terror^{\prime} বা শ্বেত সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করে। সর্বোপরি এ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ার সমাজতন্ত্রের যে ভিত্তি নির্মিত হয়, তার ওপর নির্ভর করে সেদেশের কৃষক শ্রেণি সাম্যবাদী সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ হয়। তাই বলা যায়, রাশিয়ার সমাজ পরিবর্তনে বলশেভিক বিপ্লবের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পাকিস্তান আমলে বাংলার শ্রমিক-কৃষকসহ সকল স্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান এই যুদ্ধে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

Comilla · 2017

ক
ভার্সাই নগরী কোথায়?

উত্তর

ভাসাই নগরী ফ্রান্সে অবস্থিত।
খ
নাৎসিবাদ কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

নাৎসিবাদ হলো হিটলারের সর্বাত্মকবাদী মতবাদ। নাৎসিবাদ বলতে হিটলার ও তার দল নাৎসি পার্টি কর্তৃক প্রণীত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। জার্মানিতে নাৎসি পার্টি ক্ষমতা দখল করে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়। এই সময় হিটলার এক স্বৈরতান্ত্রিক নাৎসি শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা নাৎসিবাদ নামে পরিচিত। নাৎসিবাদের মূল লক্ষ্যই ছিল উগ্র-জার্মান জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা। নাৎসি তত্ত্বে বলা হয় জার্মানরা আর্য জাতির বংশধর। আর্যদের মধ্যে নর্ডিকগণই শ্রেষ্ঠ। বর্তমান বিশ্বে এ মতবাদ তথা নাৎসিবাদ একটি ঘৃণ্য মতবাদ।
গ
উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ইউরোপের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ইউরোপের বলশেভিক বিপ্লবের মিল রয়েছে। বিশ শতকের পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার সাধারণ মানুষেরা যুগ যুগ ধরে জারদের ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক এবং কৃষক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো অধিকার ছিল না। এ অসহনীয় অবস্থা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য লেনিন ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল হিসেবে "সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি" গঠন করেন। বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য দলকে দ্রুত প্রস্তুত করেন। যার ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা অংশ এবং সচেতন মহলের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণেই ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের মাধ্যমে বুর্জোয়া সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সরকার। ফলে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং সাম্যবাদ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে বাংলার শ্রমিক-কৃষকসহ সকল স্তরের জনগণের অংশগ্রহণে একটি সম্মিলিত জনযুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। এ যুদ্ধের সাথে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের পটভূমি সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় বলশেভিক বিপ্লবের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকের নেতৃত্বের ন্যায় উক্ত ঘটনার নায়কের ভূমিকা লেখ।

উত্তর

উদ্দীপকের নেতৃত্বের তথা বজ্যবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক লেনিনের ভূমিকা সাদৃশ্যপূর্ণ। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অধিকার রক্ষায় ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার সাথে বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক লেনিনের ভূমিকার মিল রয়েছে। রুশ বিপ্লবের ইতিহাসে লেনিনের নাম সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। ১৯১৭ সালে কেরোনস্কি শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে একটি স্মরণীয় অধ্যায় সংযোজন করেন। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি কার্ল মার্কসের সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কথা চিন্তা করতেন। এজন্য তিনি রুশ শ্রমিকদের মধ্যে মার্কসীয় তত্ত্ব প্রচার দ্বারা তাদের শ্রেণি চেতনা জাগরণের ওপর জোর দেন। ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লবের পর সোশ্যাল ডেমোক্রেট যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিল, তখন লেনিন রাশিয়ায় ফিরে এপ্রিল থিসিসের মাধ্যমে বিপ্লবের উপযুক্ত সময় ও কর্মকৌশল সম্পর্কে এ দলকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ফলে দ্রুত বুর্জোয়া বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে ধাবিত হয়। অতঃপর লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা সংগঠিত হতে থাকে। এ সময় লেনিন বলেন, "জারতন্ত্রের পতন বুর্জোয়ারা ঘটায়নি বরং কমিউনিস্ট শ্রমিক সংগঠনের অব্যাহত ধর্মঘটের ফলে জার সরকারের পতন ঘটে।" সুতরাং ন্যায্যভাবে জারের পতনের পর বলশেভিকদেরই ক্ষমতা পাওয়া উচিত। অতপর ত্রুটি, জমি ও শান্তি এই তিন ধ্বনি নিয়ে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা নভেম্বর বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়লে শিকড়বিহীন অসহায় প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটে এবং বিপ্লব জয়যুক্ত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পাকিস্তান আমলে বাংলার শ্রমিক-কৃষকসহ সকল স্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান এই যুদ্ধে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

Comilla · 2017

ক
ভার্সাই নগরী কোথায়?

উত্তর

ভাসাই নগরী ফ্রান্সে অবস্থিত।
খ
নাৎসিবাদ কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

নাৎসিবাদ হলো হিটলারের সর্বাত্মকবাদী মতবাদ। নাৎসিবাদ বলতে হিটলার ও তার দল নাৎসি পার্টি কর্তৃক প্রণীত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। জার্মানিতে নাৎসি পার্টি ক্ষমতা দখল করে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়। এই সময় হিটলার এক স্বৈরতান্ত্রিক নাৎসি শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা নাৎসিবাদ নামে পরিচিত। নাৎসিবাদের মূল লক্ষ্যই ছিল উগ্র-জার্মান জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা। নাৎসি তত্ত্বে বলা হয় জার্মানরা আর্য জাতির বংশধর। আর্যদের মধ্যে নর্ডিকগণই শ্রেষ্ঠ। বর্তমান বিশ্বে এ মতবাদ তথা নাৎসিবাদ একটি ঘৃণ্য মতবাদ।
গ
উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ইউরোপের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ইউরোপের বলশেভিক বিপ্লবের মিল রয়েছে। বিশ শতকের পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার সাধারণ মানুষেরা যুগ যুগ ধরে জারদের ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক এবং কৃষক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো অধিকার ছিল না। এ অসহনীয় অবস্থা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য লেনিন ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল হিসেবে "সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি" গঠন করেন। বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য দলকে দ্রুত প্রস্তুত করেন। যার ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা অংশ এবং সচেতন মহলের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণেই ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের মাধ্যমে বুর্জোয়া সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সরকার। ফলে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং সাম্যবাদ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে বাংলার শ্রমিক-কৃষকসহ সকল স্তরের জনগণের অংশগ্রহণে একটি সম্মিলিত জনযুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। এ যুদ্ধের সাথে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের পটভূমি সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় বলশেভিক বিপ্লবের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকের নেতৃত্বের ন্যায় উক্ত ঘটনার নায়কের ভূমিকা লেখ।

উত্তর

উদ্দীপকের নেতৃত্বের তথা বজ্যবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক লেনিনের ভূমিকা সাদৃশ্যপূর্ণ। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অধিকার রক্ষায় ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার সাথে বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক লেনিনের ভূমিকার মিল রয়েছে। রুশ বিপ্লবের ইতিহাসে লেনিনের নাম সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। ১৯১৭ সালে কেরোনস্কি শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে একটি স্মরণীয় অধ্যায় সংযোজন করেন। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি কার্ল মার্কসের সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কথা চিন্তা করতেন। এজন্য তিনি রুশ শ্রমিকদের মধ্যে মার্কসীয় তত্ত্ব প্রচার দ্বারা তাদের শ্রেণি চেতনা জাগরণের ওপর জোর দেন। ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লবের পর সোশ্যাল ডেমোক্রেট যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিল, তখন লেনিন রাশিয়ায় ফিরে এপ্রিল থিসিসের মাধ্যমে বিপ্লবের উপযুক্ত সময় ও কর্মকৌশল সম্পর্কে এ দলকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ফলে দ্রুত বুর্জোয়া বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে ধাবিত হয়। অতঃপর লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা সংগঠিত হতে থাকে। এ সময় লেনিন বলেন, "জারতন্ত্রের পতন বুর্জোয়ারা ঘটায়নি বরং কমিউনিস্ট শ্রমিক সংগঠনের অব্যাহত ধর্মঘটের ফলে জার সরকারের পতন ঘটে।" সুতরাং ন্যায্যভাবে জারের পতনের পর বলশেভিকদেরই ক্ষমতা পাওয়া উচিত। অতপর ত্রুটি, জমি ও শান্তি এই তিন ধ্বনি নিয়ে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা নভেম্বর বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়লে শিকড়বিহীন অসহায় প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটে এবং বিপ্লব জয়যুক্ত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়। জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার জন্য অনেক সাঁওতাল জীবন বিসর্জন দেয়। অবশেষে ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের পক্ষে বৈষম্যহীন আইন পাস করতে বাধ্য হয়। সাঁওতালরা সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে নতুন শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হয়।

Dhaka · 2017

ক
'নিহিলিজম' কী?

উত্তর

নিহিলিজম একটি দার্শনিক মতবাদ যার অর্থ ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস বা নাস্তিকতাবাদ।
খ
'এপ্রিল থিসিস' সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

এপ্রিল থিসিস হলো বলশেভিক নেতা লেনিন (Vladimir Ilyich Ulyanov Lenin) প্রদত্ত দিকনির্দেশক প্রতিপাদ্য। বলশেভিক বিপ্লবের নেতা লেনিন ১৯১৭ সালের ৩ এপ্রিল তার বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিস' ঘোষণা করেন। এপ্রিল থিসিসে বলা হয়- ১. ফেব্রুয়ারি বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণির জয় হয়েছে এতে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই: ২. বুর্জোয়া বিপ্লব ও শ্রমিক বিপ্লব একসাথে চলতে থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা ক্ষমতা দখল করবে; তিনি বলেন, বুর্জোয়ারা প্রকৃতপক্ষে কোন বিপ্লব করতে পারবে না। তাদের বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে দিলে বুর্জোয়ারা পুঁজিবাদকে দৃঢ় করে ফেলবে। সুতরাং, বুর্জোয়ারা শিকড় ছড়ানোর পূর্বেই তাদের উপড়ে ফেলতে হবে।
গ
উদ্দীপকে সাঁওতালদের সংগ্রামের সাথে বিশ শতকের প্রথম দিকের কোন সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে সাঁওতালদের সংগ্রামের সাথে রাশিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে। বিশ শতকের শুরুতে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব (১৯১৭ সাল)। এ বিপ্লবের অন্যতম কারণ ছিল ভূমিদাস শ্রেণির অসন্তোষ ও শ্রমিক আন্দোলন। তৎকালীন পশ্চিম ইউরোপে ভূমিদাস শ্রেণি স্বাধীন কৃষকে পরিণত হলেও রাশিয়ায় তা হয়নি। রাশিয়ার সমাজে ভূমিদাস শ্রেণির দুর্দশা, তাদের ওপর অত্যাচার এবং রাজপরিবার ও অভিজাত শ্রেণি কর্তৃক জমি দখল প্রভৃতি কারণে সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া শিল্প বিপ্লবের পর রাশিয়ায় ভূমিদাস শ্রেণি শ্রমিক শ্রেণিতে পরিণত হয়। এ সময় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান ছিল খুবই নিম্নমানের। তারা অভিজাত ও রাজপরিবার কর্তৃক নির্যাতিত হতো। সমাজে ভূমিদাস ও শ্রমিক শ্রেণির এই অসন্তোষ বলশেভিক বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করেছিল। এ বিপ্লব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হলেও রাষ্ট্রশক্তি দ্বারা বিপ্লবী শক্তি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর সংগ্রাম সশস্ত্র রূপ ধারণ করে। মূলত এ বিপ্লবই মানুষকে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, জমিদার, মহাজন ও ইংরেজদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের পক্ষে বৈষম্যহীন আইন পাস করতে বাধ্য হয়। এভাবে সাঁওতালরা সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে। সাঁওতালদের এ আন্দোলনের সাথে বলশেভিক বিপ্লব তথা রাশিয়ার ভূমিহীন ও কৃষকদের আন্দোলন সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত সংগ্রামের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সংগ্রাম তথা বলশেভিক বিপ্লবের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে এ বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। এ বিপ্লব পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর ভীষণভাবে আঘাত করে। বলশেভিক বিপ্লবের ফলেই মানব সভ্যতা সমাজ থেকে সমাজতন্ত্রে প্রবেশ করে। এ বিপ্লবের পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যেমন চীন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, ভেনিজুয়েলা প্রভৃতি রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এছাড়া বুশ বিপ্লবের প্রভাব পড়েছিল ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এ মতবাদে প্রভাবিত হয়েই এসব দেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এক কথায় পৃথিবীর সকল দেশ ও জাতি বলশেভিক বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে উপনিবেশবাদ ভেঙে পড়ে এবং এ বিপ্লবের মর্মবাণী ধারণ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কল্যাণকামী রাষ্ট্রের বিস্তার ঘটে। মোটকথা পৃথিবীর সব দেশ ও জাতি বলশেভিক বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বলশেভিক বিপ্লব শুধু রাশিয়াতে নয়; বরং পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের শোষিত ও অবহেলিত মানুষকে দারুণভাবে উদ্বেলিত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়। জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার জন্য অনেক সাঁওতাল জীবন বিসর্জন দেয়। অবশেষে ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের পক্ষে বৈষম্যহীন আইন পাস করতে বাধ্য হয়। সাঁওতালরা সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে নতুন শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হয়।

Dhaka · 2017

ক
'নিহিলিজম' কী?

উত্তর

নিহিলিজম একটি দার্শনিক মতবাদ যার অর্থ ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস বা নাস্তিকতাবাদ।
খ
'এপ্রিল থিসিস' সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

এপ্রিল থিসিস হলো বলশেভিক নেতা লেনিন (Vladimir Ilyich Ulyanov Lenin) প্রদত্ত দিকনির্দেশক প্রতিপাদ্য। বলশেভিক বিপ্লবের নেতা লেনিন ১৯১৭ সালের ৩ এপ্রিল তার বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিস' ঘোষণা করেন। এপ্রিল থিসিসে বলা হয়- ১. ফেব্রুয়ারি বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণির জয় হয়েছে এতে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই: ২. বুর্জোয়া বিপ্লব ও শ্রমিক বিপ্লব একসাথে চলতে থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা ক্ষমতা দখল করবে; তিনি বলেন, বুর্জোয়ারা প্রকৃতপক্ষে কোন বিপ্লব করতে পারবে না। তাদের বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে দিলে বুর্জোয়ারা পুঁজিবাদকে দৃঢ় করে ফেলবে। সুতরাং, বুর্জোয়ারা শিকড় ছড়ানোর পূর্বেই তাদের উপড়ে ফেলতে হবে।
গ
উদ্দীপকে সাঁওতালদের সংগ্রামের সাথে বিশ শতকের প্রথম দিকের কোন সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে সাঁওতালদের সংগ্রামের সাথে রাশিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে। বিশ শতকের শুরুতে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব (১৯১৭ সাল)। এ বিপ্লবের অন্যতম কারণ ছিল ভূমিদাস শ্রেণির অসন্তোষ ও শ্রমিক আন্দোলন। তৎকালীন পশ্চিম ইউরোপে ভূমিদাস শ্রেণি স্বাধীন কৃষকে পরিণত হলেও রাশিয়ায় তা হয়নি। রাশিয়ার সমাজে ভূমিদাস শ্রেণির দুর্দশা, তাদের ওপর অত্যাচার এবং রাজপরিবার ও অভিজাত শ্রেণি কর্তৃক জমি দখল প্রভৃতি কারণে সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া শিল্প বিপ্লবের পর রাশিয়ায় ভূমিদাস শ্রেণি শ্রমিক শ্রেণিতে পরিণত হয়। এ সময় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান ছিল খুবই নিম্নমানের। তারা অভিজাত ও রাজপরিবার কর্তৃক নির্যাতিত হতো। সমাজে ভূমিদাস ও শ্রমিক শ্রেণির এই অসন্তোষ বলশেভিক বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করেছিল। এ বিপ্লব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হলেও রাষ্ট্রশক্তি দ্বারা বিপ্লবী শক্তি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর সংগ্রাম সশস্ত্র রূপ ধারণ করে। মূলত এ বিপ্লবই মানুষকে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, জমিদার, মহাজন ও ইংরেজদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের পক্ষে বৈষম্যহীন আইন পাস করতে বাধ্য হয়। এভাবে সাঁওতালরা সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে। সাঁওতালদের এ আন্দোলনের সাথে বলশেভিক বিপ্লব তথা রাশিয়ার ভূমিহীন ও কৃষকদের আন্দোলন সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত সংগ্রামের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সংগ্রাম তথা বলশেভিক বিপ্লবের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে এ বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। এ বিপ্লব পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর ভীষণভাবে আঘাত করে। বলশেভিক বিপ্লবের ফলেই মানব সভ্যতা সমাজ থেকে সমাজতন্ত্রে প্রবেশ করে। এ বিপ্লবের পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যেমন চীন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, ভেনিজুয়েলা প্রভৃতি রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এছাড়া বুশ বিপ্লবের প্রভাব পড়েছিল ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এ মতবাদে প্রভাবিত হয়েই এসব দেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এক কথায় পৃথিবীর সকল দেশ ও জাতি বলশেভিক বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে উপনিবেশবাদ ভেঙে পড়ে এবং এ বিপ্লবের মর্মবাণী ধারণ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কল্যাণকামী রাষ্ট্রের বিস্তার ঘটে। মোটকথা পৃথিবীর সব দেশ ও জাতি বলশেভিক বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বলশেভিক বিপ্লব শুধু রাশিয়াতে নয়; বরং পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের শোষিত ও অবহেলিত মানুষকে দারুণভাবে উদ্বেলিত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো