HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
রফিক সাহের একজন বড় শিল্পপতি। সরকারের ওপর তার যথেষ্ট। প্রভাব। ঢাকা ও খুলনায় তার বড় বড় কারখানা রয়েছে। তার বিত্ত। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তিনি পর্যায়ক্রমে তার শিল্পসমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অধিক মুনাফা অর্জন।
ক
আর্থার ইয়াং কে ছিলেন?
উত্তর
ইংল্যান্ডের আর্থার ইয়াং ছিলেন একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ।
খ
রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে ঘটার কারণ সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর
রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হওয়ার কারণ হিসেবে তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, সার্ফপ্রথা ও সরকারের রক্ষণশীল নীতিকে দায়ী করা যেতে পারে। ওইসময় রাশিয়ায় অধিকাংশ মানুষ ভূমিদাসের জীবন অতিবাহিত করত। এদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। অন্যদিকে, সরকারও ভারী কোনো শিল্প গঠনে অনীহা প্রকাশ করায় রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব ঘটেনি। রাশিয়ায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় নিরক্ষরতার হারও বেশি ছিল। এসময় মানুষের হাতেও কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকত না যে তা দিয়ে সে উদ্যোগী হয়ে শিল্পকারখানা তৈরি করবে। মূলত এসব কারণেই রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হয়।
গ
উদ্দীপকের বিত্তশালী রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের কাজটির সাথে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার তুলনা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের বিত্তশালী রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের কাজটির সাথে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশ প্রতিষ্ঠার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে রফিক সাহেব একজন বড় শিল্পপতি। সরকারের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব। ঢাকা ও খুলনায় তার বড় বড় কারখানা রয়েছে। তার বিত্ত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই তিনি পর্যায়ক্রমে তার শিল্প সমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অধিক মুনাফা অর্জন। উদ্দীপকের রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের সাথে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ স্থাপনের তুলনা করা যেতে পারে। শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড ক্রমাগতভাবে আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ সব অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করতে থাকে। তারা প্রথমে ইউরোপে তাদের বাজার খুঁজে পায়। ইংল্যান্ডকে উপনিবেশিক আমলে তার দেশে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল সংগ্রহ করার জন্য উপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহে ধর্না দিতে হয়েছে। অতঃপর কাঁচামাল সংগ্রহের পর শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্যও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়েছে। এভাবে ইংল্যান্ড সারা পৃথিবীতে তার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ড প্রথমদিকে বাজার দখলের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলেও পরবর্তীতে ওইসব দেশসমূহে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ড তার প্রভৃত্ব কায়েম করে। মূলত এসব কারণেই রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হয়।
ঘ
রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড 'ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নম্নরূপ'- পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর
উদ্দীপকে রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড ঔনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্নরূপ। উক্তিটি যথার্থ।
ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে অন্য জনগণের ভূখণ্ড দখল করে সেখানে পরদেশি শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সতেরো আঠারো শতক বা তার পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বেশকিছু দেশ প্রথমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমে তারা সেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এমনকি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও আধিপত্য বিস্তার করে এবং ধ্বংস করে দেয় ঔপনিবেশিক দেশসমূহের দেশীয় শিল্পসমূহ। এভাবে উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক দেশসমূহের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়ে তাদের নিজের দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে থাকে। উদ্দীপকে রফিক সাহেবের কর্মকান্ডের মধ্যেও আমরা তারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। কারণ রফিক সারা দেশেই তার ব্যবসায়কে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার অর্থ হচ্ছে ওইসব অঞ্চলের বাজার দখল করে স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীকে পথে বসানো। বাজার দখলে সফল হবার পর তিনি যেসব অঞ্চলের রাজনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রেও নগ্ন হস্তক্ষেপের চেষ্টা করবেন।
তাই বলা যায়, রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড 'ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্নরূপ।'
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো