Chapter 1: শিল্প বিপ্লব (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 1: শিল্প বিপ্লব (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৬০

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রফিক সাহের একজন বড় শিল্পপতি। সরকারের ওপর তার যথেষ্ট। প্রভাব। ঢাকা ও খুলনায় তার বড় বড় কারখানা রয়েছে। তার বিত্ত। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তিনি পর্যায়ক্রমে তার শিল্পসমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অধিক মুনাফা অর্জন।
ক
আর্থার ইয়াং কে ছিলেন?

উত্তর

ইংল্যান্ডের আর্থার ইয়াং ছিলেন একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ।
খ
রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে ঘটার কারণ সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর

রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হওয়ার কারণ হিসেবে তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, সার্ফপ্রথা ও সরকারের রক্ষণশীল নীতিকে দায়ী করা যেতে পারে। ওইসময় রাশিয়ায় অধিকাংশ মানুষ ভূমিদাসের জীবন অতিবাহিত করত। এদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। অন্যদিকে, সরকারও ভারী কোনো শিল্প গঠনে অনীহা প্রকাশ করায় রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব ঘটেনি। রাশিয়ায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় নিরক্ষরতার হারও বেশি ছিল। এসময় মানুষের হাতেও কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকত না যে তা দিয়ে সে উদ্যোগী হয়ে শিল্পকারখানা তৈরি করবে। মূলত এসব কারণেই রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হয়।
গ
উদ্দীপকের বিত্তশালী রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের কাজটির সাথে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার তুলনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের বিত্তশালী রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের কাজটির সাথে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশ প্রতিষ্ঠার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে রফিক সাহেব একজন বড় শিল্পপতি। সরকারের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব। ঢাকা ও খুলনায় তার বড় বড় কারখানা রয়েছে। তার বিত্ত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই তিনি পর্যায়ক্রমে তার শিল্প সমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অধিক মুনাফা অর্জন। উদ্দীপকের রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের সাথে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ স্থাপনের তুলনা করা যেতে পারে। শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড ক্রমাগতভাবে আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ সব অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করতে থাকে। তারা প্রথমে ইউরোপে তাদের বাজার খুঁজে পায়। ইংল্যান্ডকে উপনিবেশিক আমলে তার দেশে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল সংগ্রহ করার জন্য উপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহে ধর্না দিতে হয়েছে। অতঃপর কাঁচামাল সংগ্রহের পর শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্যও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়েছে। এভাবে ইংল্যান্ড সারা পৃথিবীতে তার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ড প্রথমদিকে বাজার দখলের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলেও পরবর্তীতে ওইসব দেশসমূহে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ড তার প্রভৃত্ব কায়েম করে। মূলত এসব কারণেই রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হয়।
ঘ
রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড 'ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নম্নরূপ'- পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড ঔনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্নরূপ। উক্তিটি যথার্থ। ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে অন্য জনগণের ভূখণ্ড দখল করে সেখানে পরদেশি শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সতেরো আঠারো শতক বা তার পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বেশকিছু দেশ প্রথমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমে তারা সেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এমনকি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও আধিপত্য বিস্তার করে এবং ধ্বংস করে দেয় ঔপনিবেশিক দেশসমূহের দেশীয় শিল্পসমূহ। এভাবে উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক দেশসমূহের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়ে তাদের নিজের দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে থাকে। উদ্দীপকে রফিক সাহেবের কর্মকান্ডের মধ্যেও আমরা তারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। কারণ রফিক সারা দেশেই তার ব্যবসায়কে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার অর্থ হচ্ছে ওইসব অঞ্চলের বাজার দখল করে স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীকে পথে বসানো। বাজার দখলে সফল হবার পর তিনি যেসব অঞ্চলের রাজনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রেও নগ্ন হস্তক্ষেপের চেষ্টা করবেন। তাই বলা যায়, রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড 'ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্নরূপ।'

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রফিক সাহের একজন বড় শিল্পপতি। সরকারের ওপর তার যথেষ্ট। প্রভাব। ঢাকা ও খুলনায় তার বড় বড় কারখানা রয়েছে। তার বিত্ত। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তিনি পর্যায়ক্রমে তার শিল্পসমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অধিক মুনাফা অর্জন।
ক
আর্থার ইয়াং কে ছিলেন?

উত্তর

ইংল্যান্ডের আর্থার ইয়াং ছিলেন একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ।
খ
রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে ঘটার কারণ সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর

রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হওয়ার কারণ হিসেবে তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, সার্ফপ্রথা ও সরকারের রক্ষণশীল নীতিকে দায়ী করা যেতে পারে। ওইসময় রাশিয়ায় অধিকাংশ মানুষ ভূমিদাসের জীবন অতিবাহিত করত। এদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। অন্যদিকে, সরকারও ভারী কোনো শিল্প গঠনে অনীহা প্রকাশ করায় রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব ঘটেনি। রাশিয়ায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় নিরক্ষরতার হারও বেশি ছিল। এসময় মানুষের হাতেও কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকত না যে তা দিয়ে সে উদ্যোগী হয়ে শিল্পকারখানা তৈরি করবে। মূলত এসব কারণেই রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হয়।
গ
উদ্দীপকের বিত্তশালী রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের কাজটির সাথে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার তুলনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের বিত্তশালী রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের কাজটির সাথে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশ প্রতিষ্ঠার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে রফিক সাহেব একজন বড় শিল্পপতি। সরকারের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব। ঢাকা ও খুলনায় তার বড় বড় কারখানা রয়েছে। তার বিত্ত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই তিনি পর্যায়ক্রমে তার শিল্প সমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অধিক মুনাফা অর্জন। উদ্দীপকের রফিক সাহেবের ব্যবসায় সম্প্রসারণের সাথে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ স্থাপনের তুলনা করা যেতে পারে। শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড ক্রমাগতভাবে আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ সব অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করতে থাকে। তারা প্রথমে ইউরোপে তাদের বাজার খুঁজে পায়। ইংল্যান্ডকে উপনিবেশিক আমলে তার দেশে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল সংগ্রহ করার জন্য উপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহে ধর্না দিতে হয়েছে। অতঃপর কাঁচামাল সংগ্রহের পর শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্যও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়েছে। এভাবে ইংল্যান্ড সারা পৃথিবীতে তার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ড প্রথমদিকে বাজার দখলের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলেও পরবর্তীতে ওইসব দেশসমূহে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ড তার প্রভৃত্ব কায়েম করে। মূলত এসব কারণেই রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব দেরিতে সংঘটিত হয়।
ঘ
রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড 'ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নম্নরূপ'- পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।

উত্তর

উদ্দীপকে রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড ঔনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্নরূপ। উক্তিটি যথার্থ। ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে অন্য জনগণের ভূখণ্ড দখল করে সেখানে পরদেশি শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সতেরো আঠারো শতক বা তার পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বেশকিছু দেশ প্রথমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমে তারা সেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এমনকি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও আধিপত্য বিস্তার করে এবং ধ্বংস করে দেয় ঔপনিবেশিক দেশসমূহের দেশীয় শিল্পসমূহ। এভাবে উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক দেশসমূহের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়ে তাদের নিজের দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে থাকে। উদ্দীপকে রফিক সাহেবের কর্মকান্ডের মধ্যেও আমরা তারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। কারণ রফিক সারা দেশেই তার ব্যবসায়কে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার অর্থ হচ্ছে ওইসব অঞ্চলের বাজার দখল করে স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীকে পথে বসানো। বাজার দখলে সফল হবার পর তিনি যেসব অঞ্চলের রাজনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রেও নগ্ন হস্তক্ষেপের চেষ্টা করবেন। তাই বলা যায়, রফিক সাহেবের এরূপ কর্মকান্ড 'ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নগ্নরূপ।'

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এস. সাহেব ক্লাসে বলেন, "মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজে ভূস্বামীদের। প্রভাব ছিল অধিক। ভূমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। পুঁজিই হয় উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার স্থলে পুঁজিবাদী সমাজের সূচনা হয়। ভূস্বামীরা হয়ে যায় বড় বড় কারখানার মালিক। সমাজে মজুর শ্রেণির উদ্ভব হয়। ধনী-গরিবের বৈয়ম্য বাড়তে থাকে।"
ক
দরিদ্র আইন' কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর

ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ 'দরিদ্র আইন' প্রবর্তন করেন।
খ
"ইংল্যান্ডের কৃষিবিপ্লবই শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ইংল্যান্ডে কৃষি বিপ্লবের ফলে কৃষির উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে শ্রমিকদের কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়। কৃষিতে খাদ্য উৎপাদন বেশি হওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে আসা শ্রমিকদের খাদ্য সরবরাহে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তাছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধি পাবার ফলে কৃষকেরাও অল্প সময়ের মধ্যেই সচ্ছল হয়ে ওঠে এবং শিল্পপণ্য কিনতে সক্ষম হয়। এর ফলে দেশের মধ্যেই শিল্পের বাজার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, ইংল্যান্ডে কৃষি বিপ্লবই শিল্প বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে।
গ
উদ্দীপকের এস. সাহেবের বর্ণনায় পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত রয়েছে তার আলোকে তোমার পাঠ্যবইয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের এস সাহেবের বর্ণনায় শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার প্রভাবকেই ইঙ্গিত করেছে। উদ্দীপকে এস. সাহেষ বলেন, মধ্য যুগে সামন্তবাদী সমাজে ভূস্বামীদের প্রভাব ছিল অধিক। ভূমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। পুঁজিই। হয় উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার স্থলে পুঁজিবাদী সমাজের সূচনা হয়। ভূস্বামীরা হয়ে যান বড় বড় কারখানার মালিক। সমাজে মজুর শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়তে থাকে। উদ্দীপকে এস. সাহেব শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট পুঁজিবাদী। অর্থব্যবস্থার প্রভাবকেই বুঝিয়েছেন। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ফলে শ্রমিক ও মালিকের দূরত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। উৎপাদন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পুঁজিপতিদের হাতে। তারা চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করে এবং শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়ে তোলে। এভাবে ধনী-গরিবদের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়তে থাকে। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের কারণে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার বিকাশ ঘটে যা। গোটা সমাজব্যবস্থাকে শ্রমিক ও মালিক এ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে এবং ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে।
ঘ
তুমি কি মনে কর উক্ত পরিবর্তন শুধু সুফল বয়ে আনেনি, কুফলও এনেছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তন শুধুই সুফল বয়ে আনেনি বরং শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সমাজব্যবস্থায় কিছু কুফলও বয়ে এনেছিল। উদ্দীপকে সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থায় তুমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের ফলে সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা পুঁজিবাদী সমাজে রূপ নেয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের সুফল, কুফল দুই রয়েছে। শিল্প বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। পরিবর্তিত হয়ে যন্ত্র নির্ভর ও নগর কেন্দ্রিক সভ্যতার সৃষ্টি হয়। মানুষের কায়িক পরিশ্রম কমে আসে। প্রকৃতির অন্তর্নিহিত বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে মানুষ যন্ত্র চালনার কাজে যন্ত্রশক্তিকে ব্যবহার করতে শেখে। এসব ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি শিল্প বিপ্লব 'সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে জটিলতা ও সংকটও সৃষ্টি করে। সমাজে শ্রমিক ও মালিক নামে দুটি শ্রেণির সৃষ্টি করে। শহরগুলোতে হঠাৎ লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি সরবরাহ এবং বাসস্থান ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সমস্যা দেখা দেয়। পারিবারিক। স্বাস্থ্যরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এবং শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় বস্তিগুলো ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে চলে যায়। যন্ত্রের দ্বারা উৎপাদন শুরু হলে যেসব কারিগর নিজ হাতে শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করত তারা বেকার হয়ে পড়ে। এছাড়াও শিল্প বিপ্লবের ফলে কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, শিশুশ্রম বৃদ্ধি পায়, বুর্জোয়া শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, গ্রাম শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে, মালিক-শ্রমিক ও ধনী-গরিবের ব্যবধান ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের উদ্ভব ঘটে। তাই মনে করি শিল্প বিপ্লব শুধু সুফল বয়ে আনেনি, কুফলও বয়ে এনেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এস. সাহেব ক্লাসে বলেন, "মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজে ভূস্বামীদের। প্রভাব ছিল অধিক। ভূমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। পুঁজিই হয় উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার স্থলে পুঁজিবাদী সমাজের সূচনা হয়। ভূস্বামীরা হয়ে যায় বড় বড় কারখানার মালিক। সমাজে মজুর শ্রেণির উদ্ভব হয়। ধনী-গরিবের বৈয়ম্য বাড়তে থাকে।"
ক
দরিদ্র আইন' কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর

ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ 'দরিদ্র আইন' প্রবর্তন করেন।
খ
"ইংল্যান্ডের কৃষিবিপ্লবই শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ইংল্যান্ডে কৃষি বিপ্লবের ফলে কৃষির উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে শ্রমিকদের কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়। কৃষিতে খাদ্য উৎপাদন বেশি হওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে আসা শ্রমিকদের খাদ্য সরবরাহে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তাছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধি পাবার ফলে কৃষকেরাও অল্প সময়ের মধ্যেই সচ্ছল হয়ে ওঠে এবং শিল্পপণ্য কিনতে সক্ষম হয়। এর ফলে দেশের মধ্যেই শিল্পের বাজার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, ইংল্যান্ডে কৃষি বিপ্লবই শিল্প বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে।
গ
উদ্দীপকের এস. সাহেবের বর্ণনায় পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত রয়েছে তার আলোকে তোমার পাঠ্যবইয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থাটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের এস সাহেবের বর্ণনায় শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার প্রভাবকেই ইঙ্গিত করেছে। উদ্দীপকে এস. সাহেষ বলেন, মধ্য যুগে সামন্তবাদী সমাজে ভূস্বামীদের প্রভাব ছিল অধিক। ভূমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। পুঁজিই। হয় উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার স্থলে পুঁজিবাদী সমাজের সূচনা হয়। ভূস্বামীরা হয়ে যান বড় বড় কারখানার মালিক। সমাজে মজুর শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়তে থাকে। উদ্দীপকে এস. সাহেব শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট পুঁজিবাদী। অর্থব্যবস্থার প্রভাবকেই বুঝিয়েছেন। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ফলে শ্রমিক ও মালিকের দূরত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। উৎপাদন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পুঁজিপতিদের হাতে। তারা চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করে এবং শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়ে তোলে। এভাবে ধনী-গরিবদের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়তে থাকে। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের কারণে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার বিকাশ ঘটে যা। গোটা সমাজব্যবস্থাকে শ্রমিক ও মালিক এ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে এবং ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে।
ঘ
তুমি কি মনে কর উক্ত পরিবর্তন শুধু সুফল বয়ে আনেনি, কুফলও এনেছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তন শুধুই সুফল বয়ে আনেনি বরং শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সমাজব্যবস্থায় কিছু কুফলও বয়ে এনেছিল। উদ্দীপকে সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থায় তুমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের ফলে সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা পুঁজিবাদী সমাজে রূপ নেয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের সুফল, কুফল দুই রয়েছে। শিল্প বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। পরিবর্তিত হয়ে যন্ত্র নির্ভর ও নগর কেন্দ্রিক সভ্যতার সৃষ্টি হয়। মানুষের কায়িক পরিশ্রম কমে আসে। প্রকৃতির অন্তর্নিহিত বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে মানুষ যন্ত্র চালনার কাজে যন্ত্রশক্তিকে ব্যবহার করতে শেখে। এসব ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি শিল্প বিপ্লব 'সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে জটিলতা ও সংকটও সৃষ্টি করে। সমাজে শ্রমিক ও মালিক নামে দুটি শ্রেণির সৃষ্টি করে। শহরগুলোতে হঠাৎ লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি সরবরাহ এবং বাসস্থান ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সমস্যা দেখা দেয়। পারিবারিক। স্বাস্থ্যরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এবং শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় বস্তিগুলো ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে চলে যায়। যন্ত্রের দ্বারা উৎপাদন শুরু হলে যেসব কারিগর নিজ হাতে শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করত তারা বেকার হয়ে পড়ে। এছাড়াও শিল্প বিপ্লবের ফলে কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, শিশুশ্রম বৃদ্ধি পায়, বুর্জোয়া শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, গ্রাম শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে, মালিক-শ্রমিক ও ধনী-গরিবের ব্যবধান ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের উদ্ভব ঘটে। তাই মনে করি শিল্প বিপ্লব শুধু সুফল বয়ে আনেনি, কুফলও বয়ে এনেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

লোকমান সাহেবের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর তুলা উৎপাদিত হতো। এ তুলার ওপর ভিত্তি করে তার দেশে প্রচুর পরিমাণ বস্তুশিল্প গড়ে ওঠে। তবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে অল্পদিনের মধ্যেই এ শিল্পে ধস নামতে শুরু করে।
ক
ইংল্যান্ডে কখন শিল্প বিপ্লব ঘটে?

উত্তর

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ঘটে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শেষ ভাগে।
খ
শিল্প বিপ্লব-পূর্ববর্তী ইংল্যান্ডের সামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শিল্প বিপ্লবের পূর্বে ব্রিটেনের সমাজ ছিল সামন্তবাদী। সতের শতকের প্রথমভাগে দেশের পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করত। কৃষিই ছিল তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। এছাড়া বাড়িতে তাঁতের কাজ, পরিজনসহ ভেড়ার চাষ ও লোম সংগ্রহ, শীত নিবারণের পোশাক তৈরি ইত্যাদি কাজে অনেকেই জড়িত ছিল। দেশের বেশিরভাগ জমির কর্তৃত্ব করতেন মাত্র কয়েক হাজার জমিদার। জমির এক অংশ থাকত স্বাধীন কৃষকদের হাতে, বাকি অংশ ভূমিদাসদের দিয়ে চাষ করানো হতো।
গ
লোকমান সাহেবের দেশে বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে কোন দেশের বস্ত্র শিল্পের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্র শিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্র শিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের আলোচনায় বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশে প্রচুর তুলা উৎপাদিত হতো। এ তুলার ওপর ভিত্তি করে দেশে প্রচুর পরিমাণ বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠে। তবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে অল্পদিনের মধ্যেই এ শিল্প মার খেতে শুরু করে। লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার এ ঘটনার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে বস্ত্র খাতে। ইংল্যান্ডে আবহাওয়াগত কারণে বস্ত্র উৎপাদনের ব্যাপক তাগিদ ছিল। তাই সুতাকাটা ও বয়নের জন্য প্রথম যন্ত্রের ব্যবহার ঘটে। একটির পর একটি আবিষ্কার অল্পদিনের মধ্যেই বস্ত্রশিল্পে যথার্থ বিপ্লব ঘটাতে থাকে। শুধু যন্ত্রের আবিষ্কারই নয়, উৎপাদনে তা প্রয়োগের ফলে কারখানার প্রসার ঘটে বেশ দ্রুত। ইংল্যান্ডে অসংখ্য শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় যুক্ত হয়। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবার ফলে কারখানাগুলো দেশীয় চাহিদা পূরণ করে। অতিরিক্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতেও সক্ষম হয়। উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, লোকমান সাহেবের দেশ ও ইংল্যান্ডের বস্ত্র শিল্পের উদ্ভব একই প্রক্রিয়ায় ঘটে। সুতরাং বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশে বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
ঘ
"সাদৃশ্য থাকলেও উল্লিখিত দুই দেশের বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যতের ৩ মধ্যে বৈপরীত্য আছে"- যুক্তি দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে সাদৃশ্য থাকলেও দুই দেশের বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যতের মধ্যে বৈপরীত্য আছে। দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে লোকমান সাহে বের দেশের বস্ত্রশিল্প অল্পদিনের মধ্যে মার খেলেও ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধান পায়। বস্ত্র খাতেই ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে। ইংল্যান্ডে আবহাওয়াগত কারণে বস্তু উৎপাদনের ব্যাপক তাগিদ ছিল। তাই সূতাকাটা ও বয়নের জন্য প্রথম। যন্ত্রের ব্যবহার ঘটে। একটির পর একটি আবিষ্কার অল্পদিনের মধ্যেই বস্তুপিয়ে যথার্থ বিপ্লব ঘটাতে থাকে। ১৭৩৩ সালে জন কে কর্তৃক 'উড়ন্ত মাকু' আবিষ্কার, ১৭৬৪ সালে জেমস হারগ্রিভস কর্তৃক 'সুতাকাটা জেনি' আবিষ্কার, ১৭৬৮ সালে রিচার্ড আর্করাইট কর্তৃক 'ওয়াটার ফ্রেম' আবিষ্কার এবং এডমান্ড কাটরাইটের 'পাওয়ার লুম' আবিষ্কার বয়ন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধু যন্ত্রের আবিষ্কারই নয়, উৎপাদনে তা প্রয়োগের ফলে কারখানার প্রসার ঘটে বেশ দ্রুত। তাছাড়া মাত্র ৩৫ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ১০ লাখ পাওয়ার লুমে ৯৩ লাখ ৩০ হাজারটি সুতা কাটার মাকু যুক্ত হওয়ায় কাঁচামাল উৎপাদনে শ্রমশক্তির ওপর চাপ ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ফলে ১৮৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের কাঁচা তুলার আমদানি আটগুণ বৃদ্ধি পায় এবং পরিশোধিত তুলার রপ্তানি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার "সাদৃশ্য থাকলেও দু দেশের বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যতের মধ্যে বৈপরীত্য আছে।"

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

লোকমান সাহেবের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর তুলা উৎপাদিত হতো। এ তুলার ওপর ভিত্তি করে তার দেশে প্রচুর পরিমাণ বস্তুশিল্প গড়ে ওঠে। তবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে অল্পদিনের মধ্যেই এ শিল্পে ধস নামতে শুরু করে।
ক
ইংল্যান্ডে কখন শিল্প বিপ্লব ঘটে?

উত্তর

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ঘটে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শেষ ভাগে।
খ
শিল্প বিপ্লব-পূর্ববর্তী ইংল্যান্ডের সামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

শিল্প বিপ্লবের পূর্বে ব্রিটেনের সমাজ ছিল সামন্তবাদী। সতের শতকের প্রথমভাগে দেশের পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করত। কৃষিই ছিল তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। এছাড়া বাড়িতে তাঁতের কাজ, পরিজনসহ ভেড়ার চাষ ও লোম সংগ্রহ, শীত নিবারণের পোশাক তৈরি ইত্যাদি কাজে অনেকেই জড়িত ছিল। দেশের বেশিরভাগ জমির কর্তৃত্ব করতেন মাত্র কয়েক হাজার জমিদার। জমির এক অংশ থাকত স্বাধীন কৃষকদের হাতে, বাকি অংশ ভূমিদাসদের দিয়ে চাষ করানো হতো।
গ
লোকমান সাহেবের দেশে বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে কোন দেশের বস্ত্র শিল্পের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্র শিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্র শিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের আলোচনায় বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশে প্রচুর তুলা উৎপাদিত হতো। এ তুলার ওপর ভিত্তি করে দেশে প্রচুর পরিমাণ বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠে। তবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে অল্পদিনের মধ্যেই এ শিল্প মার খেতে শুরু করে। লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার এ ঘটনার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে বস্ত্র খাতে। ইংল্যান্ডে আবহাওয়াগত কারণে বস্ত্র উৎপাদনের ব্যাপক তাগিদ ছিল। তাই সুতাকাটা ও বয়নের জন্য প্রথম যন্ত্রের ব্যবহার ঘটে। একটির পর একটি আবিষ্কার অল্পদিনের মধ্যেই বস্ত্রশিল্পে যথার্থ বিপ্লব ঘটাতে থাকে। শুধু যন্ত্রের আবিষ্কারই নয়, উৎপাদনে তা প্রয়োগের ফলে কারখানার প্রসার ঘটে বেশ দ্রুত। ইংল্যান্ডে অসংখ্য শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় যুক্ত হয়। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবার ফলে কারখানাগুলো দেশীয় চাহিদা পূরণ করে। অতিরিক্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতেও সক্ষম হয়। উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, লোকমান সাহেবের দেশ ও ইংল্যান্ডের বস্ত্র শিল্পের উদ্ভব একই প্রক্রিয়ায় ঘটে। সুতরাং বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশে বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
ঘ
"সাদৃশ্য থাকলেও উল্লিখিত দুই দেশের বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যতের ৩ মধ্যে বৈপরীত্য আছে"- যুক্তি দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে সাদৃশ্য থাকলেও দুই দেশের বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যতের মধ্যে বৈপরীত্য আছে। দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে লোকমান সাহে বের দেশের বস্ত্রশিল্প অল্পদিনের মধ্যে মার খেলেও ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধান পায়। বস্ত্র খাতেই ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে। ইংল্যান্ডে আবহাওয়াগত কারণে বস্তু উৎপাদনের ব্যাপক তাগিদ ছিল। তাই সূতাকাটা ও বয়নের জন্য প্রথম। যন্ত্রের ব্যবহার ঘটে। একটির পর একটি আবিষ্কার অল্পদিনের মধ্যেই বস্তুপিয়ে যথার্থ বিপ্লব ঘটাতে থাকে। ১৭৩৩ সালে জন কে কর্তৃক 'উড়ন্ত মাকু' আবিষ্কার, ১৭৬৪ সালে জেমস হারগ্রিভস কর্তৃক 'সুতাকাটা জেনি' আবিষ্কার, ১৭৬৮ সালে রিচার্ড আর্করাইট কর্তৃক 'ওয়াটার ফ্রেম' আবিষ্কার এবং এডমান্ড কাটরাইটের 'পাওয়ার লুম' আবিষ্কার বয়ন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধু যন্ত্রের আবিষ্কারই নয়, উৎপাদনে তা প্রয়োগের ফলে কারখানার প্রসার ঘটে বেশ দ্রুত। তাছাড়া মাত্র ৩৫ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ১০ লাখ পাওয়ার লুমে ৯৩ লাখ ৩০ হাজারটি সুতা কাটার মাকু যুক্ত হওয়ায় কাঁচামাল উৎপাদনে শ্রমশক্তির ওপর চাপ ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ফলে ১৮৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের কাঁচা তুলার আমদানি আটগুণ বৃদ্ধি পায় এবং পরিশোধিত তুলার রপ্তানি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার "সাদৃশ্য থাকলেও দু দেশের বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যতের মধ্যে বৈপরীত্য আছে।"

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো