Chapter 8: মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব History 1st Paper

HSC History 1st Paper এর Chapter 8: মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৭২

প্রশ্ন

History 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অন্ত সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করে। অবশেষে প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা স্বীকার করে ব্রিটিশরা আমেরিকা ত্যাগ করে।

Rajshahi · 2017

ক
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

উত্তর

মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
খ
শহিদ মিনার নির্মাণ প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।

উত্তর

ভাষা শহিদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেলের সামনে প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে হামিদুর রহমানের নকশায় একটি শহীদ মিনার নির্মিত হলেও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিনারটি ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭২ সালে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পুনরায় শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু করে। দ্রুততার সাথে নির্মাণের স্বার্থে হামিদুর রহমান প্রণীত নকশার কিছুটা পরিবর্তন করে ১৯৮৩ সালে শহীদ মিনারের আরো কিছু অংশ নির্মাণ করে বর্তমান রূপ দেয়া হয়।
গ
উদ্দীপকের অনুরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দেশটির অবদানের বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের অনুরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দেশটি হচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয় নীতির প্রথম এপ্রিলের শেষ নাগাদ বাঙালি যুবকদের ট্রেনিং দেয়া শুরু হয় ভারতের মাটিতে। এছাড়া ভারত এ সময় হালকা অস্ত্রও সরবরাহ করে। মে মাসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হয় "মুজিব বাহিনী" ভারতীয় নীতির দ্বিতীয় পর্যায়ে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার কাজে আত্মনিয়োগ করে। তৃতীয় পর্যায়ে ৩ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালে চূড়ান্ত পর্যায়ের যুদ্ধ শুরু হয়। ভারত স্থল, নৌ ও বিমান পথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতীয় মিত্র ও বাঙালি মুক্তিবাহিনী সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করে। ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর অধিনায়ক লে. জে. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী যৌথ বাহিনীর অধিনায়ক লে. জে. জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। উদ্দীপকে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স অস্ত্র, রসদ সরবরাহ করে স্থল, নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করে। এক পর্যায়ে ব্রিটিশরা আমেরিকার স্বাধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে অনুরূপ সহযোগিতা করে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত করে। ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান অপরিসীম।
ঘ
'শুধু সামরিক সাহায্য নয়, মানবিক সাহয্যের ক্ষেত্রের দেশটির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য'- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

"শুধু সামরিক সাহায্য নয়, মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য"- উক্তিটি যথার্থ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অর্তকিত হামলা চালালে ভারত তাৎক্ষনাৎ তার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়। ভারতের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল: "বাঙালি নিধনযজ্ঞের মুখে বিশ্ববিবেক নীরব দর্শকের ভূমিকা নিতে পারে না। (Robert Jackson, South Asia Crisis, New Delhi, 1974. p.150)। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও শরণার্থীদের আশ্রয়, খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে সর্বস্তরের ভারতীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলো। বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত রবি শংকর (Ravi Shankar) লস এঞ্জেলসে 'Concert for Bangladesh′−Bangladesh^{\prime}-এর আয়োজন করে ১০ লক্ষ ডলার শরনার্থী শিশুদের জন্য দান করেন। পশ্চিমবঙ্গের জনগণ 'বাংলাদেশ সেবা সংঘ' 'স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম সহায়ক সমিতি'-র মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারত সরকার কর্তৃক আরোপিত 'শরণার্থী কর' তারা নির্দিধায় প্রদান করে যা বাংলাদেশের প্রতি তাদের মমতার বহিঃপ্রকাশ। উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়, "বাংলাদেশকে কেবল সামরিক সাহায্যই নয়, মানবিক দিক থেকে সাহায্যের ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য"- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অন্ত সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করে। অবশেষে প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা স্বীকার করে ব্রিটিশরা আমেরিকা ত্যাগ করে।

Rajshahi · 2017

ক
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

উত্তর

মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
খ
শহিদ মিনার নির্মাণ প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।

উত্তর

ভাষা শহিদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেলের সামনে প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে হামিদুর রহমানের নকশায় একটি শহীদ মিনার নির্মিত হলেও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিনারটি ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭২ সালে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পুনরায় শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু করে। দ্রুততার সাথে নির্মাণের স্বার্থে হামিদুর রহমান প্রণীত নকশার কিছুটা পরিবর্তন করে ১৯৮৩ সালে শহীদ মিনারের আরো কিছু অংশ নির্মাণ করে বর্তমান রূপ দেয়া হয়।
গ
উদ্দীপকের অনুরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দেশটির অবদানের বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের অনুরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী দেশটি হচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয় নীতির প্রথম এপ্রিলের শেষ নাগাদ বাঙালি যুবকদের ট্রেনিং দেয়া শুরু হয় ভারতের মাটিতে। এছাড়া ভারত এ সময় হালকা অস্ত্রও সরবরাহ করে। মে মাসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হয় "মুজিব বাহিনী" ভারতীয় নীতির দ্বিতীয় পর্যায়ে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার কাজে আত্মনিয়োগ করে। তৃতীয় পর্যায়ে ৩ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালে চূড়ান্ত পর্যায়ের যুদ্ধ শুরু হয়। ভারত স্থল, নৌ ও বিমান পথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতীয় মিত্র ও বাঙালি মুক্তিবাহিনী সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করে। ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর অধিনায়ক লে. জে. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী যৌথ বাহিনীর অধিনায়ক লে. জে. জগজিৎ সিং আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। উদ্দীপকে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স অস্ত্র, রসদ সরবরাহ করে স্থল, নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করে। এক পর্যায়ে ব্রিটিশরা আমেরিকার স্বাধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে অনুরূপ সহযোগিতা করে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত করে। ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান অপরিসীম।
ঘ
'শুধু সামরিক সাহায্য নয়, মানবিক সাহয্যের ক্ষেত্রের দেশটির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য'- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

"শুধু সামরিক সাহায্য নয়, মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য"- উক্তিটি যথার্থ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অর্তকিত হামলা চালালে ভারত তাৎক্ষনাৎ তার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়। ভারতের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল: "বাঙালি নিধনযজ্ঞের মুখে বিশ্ববিবেক নীরব দর্শকের ভূমিকা নিতে পারে না। (Robert Jackson, South Asia Crisis, New Delhi, 1974. p.150)। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও শরণার্থীদের আশ্রয়, খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে সর্বস্তরের ভারতীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলো। বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত রবি শংকর (Ravi Shankar) লস এঞ্জেলসে 'Concert for Bangladesh′−Bangladesh^{\prime}-এর আয়োজন করে ১০ লক্ষ ডলার শরনার্থী শিশুদের জন্য দান করেন। পশ্চিমবঙ্গের জনগণ 'বাংলাদেশ সেবা সংঘ' 'স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম সহায়ক সমিতি'-র মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারত সরকার কর্তৃক আরোপিত 'শরণার্থী কর' তারা নির্দিধায় প্রদান করে যা বাংলাদেশের প্রতি তাদের মমতার বহিঃপ্রকাশ। উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়, "বাংলাদেশকে কেবল সামরিক সাহায্যই নয়, মানবিক দিক থেকে সাহায্যের ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য"- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মধ্যপ্রাচ্যে আইএস হুমকি ও হত্যাযজ্ঞের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়াবাসী শরণার্থী হিসেবে প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছে। তুরষ্ক সরকার তাদের জন্য সাধ্যমত শরণার্থী শিবির স্থাপন করে সহযোগিতা করছে। অধিকন্তু সিরিয়ার বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো সাহায্য ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

Dhaka · 2017

ক
"কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তর

"কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে।
খ
মুক্তিযুদ্ধে সাত নং সেক্টরের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সাত নম্বর সেক্টর গঠিত ছিল দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া জেলা নিয়ে। ২০০০ নিয়মিত এবং ২০০০ গেরিলাসহ মোট ৪০০০ সদস্য নিয়ে গঠিত ছিল এ সেক্টর।
গ
উদ্দীপকের মত মুক্তিযুদ্ধে কোন দেশ বাংলাদেশকে অনুরূপ সহযোগিতা করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের মত মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে অনুরূপ সহযোগিতা করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সাহায্য করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে আতঙ্কিত মানুষ ভারতীয় সীমান্তের দিকে ধাবিত হয়। এ আকস্মিক মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে ভারত তৎক্ষণাৎ তার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়। ভারতের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল এরূপ: "বাঙালি নিধনযজ্ঞের মুখে বিশ্ববিবেক নিরব দর্শকের ভূমিকা নিতে পারে না" (Robert Jackson, South Asia Crisis, New Delhi 1974, P 150)। ২৫ মার্চের পর প্রতিদিন গড়ে ২০- ৪৫ হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই আশ্রয়গ্রহণকারীর সংখ্যা কোটিতে গিয়ে পৌঁছে। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর ব্যয় নির্বাহে পশ্চিম বঙ্গের জনগণ 'বাংলাদেশ সেবা সংঘ' 'স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম সহায়ক সমিতি' নামে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারত সরকার ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে শরণার্থী কর আরোপ করে। উদ্দীপকে লক্ষণীয় আইএস হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়াবাসী শরণার্থী হিসেবে প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে অবস্থান নেয়। তুরস্ক তাদের সাধ্যমত সাহায্য করে। এ বিষয়টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিই স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ
উক্ত দেশের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের বিজয়কে নিশ্চিত করে পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।

উত্তর

উক্ত দেশ অর্থাৎ ভারতের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের বিজয়কে নিশ্চিত করে উক্তিটি যথার্থ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারত একপর্যায়ে তার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়, বাংলাদেশ সরকারকে অবাধে ভারতীয় এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দেয়। অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে। শরণার্থী শিবির স্থাপনের পাশাপাশি মে মাসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত হয় 'মুজিব বাহিনী'। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং, প্রবাসী সরকার গঠন ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সহায়তা করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে এই ন্যায়যুদ্ধে সর্বাত্মক সহানুভূতি ও সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, " This house wishes to assure them that their struggle and sacrifices will receive the whole-hearted sympathy and support of the people of India" পাকিস্তান তার সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাত্মক শক্তিমত্তা নিয়োগ করে। ভারতীয় ৮ ডিভিশন, ৩ বিগ্রেডের বিপরীতে পাকিস্তানের ছিল ৩ ডিভিশন ও ১টি বিগ্রেড। পাশাপাশি বাংলাদেশের ১ লক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বেচ্ছাসেবক ছিল। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী একযোগে যে আক্রমণ চালায়, তার বিপরীতে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রেক্ষিতে বলা যায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিজয়কে নিশ্চিত করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মধ্যপ্রাচ্যে আইএস হুমকি ও হত্যাযজ্ঞের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়াবাসী শরণার্থী হিসেবে প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছে। তুরষ্ক সরকার তাদের জন্য সাধ্যমত শরণার্থী শিবির স্থাপন করে সহযোগিতা করছে। অধিকন্তু সিরিয়ার বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো সাহায্য ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

Dhaka · 2017

ক
"কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তর

"কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে।
খ
মুক্তিযুদ্ধে সাত নং সেক্টরের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সাত নম্বর সেক্টর গঠিত ছিল দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া জেলা নিয়ে। ২০০০ নিয়মিত এবং ২০০০ গেরিলাসহ মোট ৪০০০ সদস্য নিয়ে গঠিত ছিল এ সেক্টর।
গ
উদ্দীপকের মত মুক্তিযুদ্ধে কোন দেশ বাংলাদেশকে অনুরূপ সহযোগিতা করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের মত মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে অনুরূপ সহযোগিতা করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সাহায্য করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে আতঙ্কিত মানুষ ভারতীয় সীমান্তের দিকে ধাবিত হয়। এ আকস্মিক মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে ভারত তৎক্ষণাৎ তার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়। ভারতের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল এরূপ: "বাঙালি নিধনযজ্ঞের মুখে বিশ্ববিবেক নিরব দর্শকের ভূমিকা নিতে পারে না" (Robert Jackson, South Asia Crisis, New Delhi 1974, P 150)। ২৫ মার্চের পর প্রতিদিন গড়ে ২০- ৪৫ হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই আশ্রয়গ্রহণকারীর সংখ্যা কোটিতে গিয়ে পৌঁছে। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর ব্যয় নির্বাহে পশ্চিম বঙ্গের জনগণ 'বাংলাদেশ সেবা সংঘ' 'স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম সহায়ক সমিতি' নামে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারত সরকার ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে শরণার্থী কর আরোপ করে। উদ্দীপকে লক্ষণীয় আইএস হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়াবাসী শরণার্থী হিসেবে প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে অবস্থান নেয়। তুরস্ক তাদের সাধ্যমত সাহায্য করে। এ বিষয়টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিই স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ
উক্ত দেশের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের বিজয়কে নিশ্চিত করে পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।

উত্তর

উক্ত দেশ অর্থাৎ ভারতের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের বিজয়কে নিশ্চিত করে উক্তিটি যথার্থ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারত একপর্যায়ে তার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়, বাংলাদেশ সরকারকে অবাধে ভারতীয় এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দেয়। অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে। শরণার্থী শিবির স্থাপনের পাশাপাশি মে মাসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত হয় 'মুজিব বাহিনী'। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং, প্রবাসী সরকার গঠন ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সহায়তা করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে এই ন্যায়যুদ্ধে সর্বাত্মক সহানুভূতি ও সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, " This house wishes to assure them that their struggle and sacrifices will receive the whole-hearted sympathy and support of the people of India" পাকিস্তান তার সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাত্মক শক্তিমত্তা নিয়োগ করে। ভারতীয় ৮ ডিভিশন, ৩ বিগ্রেডের বিপরীতে পাকিস্তানের ছিল ৩ ডিভিশন ও ১টি বিগ্রেড। পাশাপাশি বাংলাদেশের ১ লক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বেচ্ছাসেবক ছিল। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী একযোগে যে আক্রমণ চালায়, তার বিপরীতে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রেক্ষিতে বলা যায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিজয়কে নিশ্চিত করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মায়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ও সামরিক জান্তা সরকার 'নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায় । শত শত নারী-পুরুষ প্রাণের ভয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলে। বিশ্বের অনেক দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ৷

Rajshahi · 2018

ক
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।
খ
মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক সহানুভূতি প্রদর্শন করে। ব্রিটেনের বিবিসি মুক্তিযুদ্ধের খবর নিয়মিত প্রচার করত এবং পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ তুলে ধরত। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী: জর্জ হ্যারিসন কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখে। তাছাড়া মুজিবনগর সরকারের বহির্বিশ্বে পরিচালিত সকল কার্যক্রম কেন্দ্রস্থল হিসেবে লন্ডন শহরকে ব্যবহার করে। এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্রিটেন বিভিন্নভাবে সহানুভূতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে।
গ
উদ্দীপকের ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থীর আশ্রয় নেওয়া এবং ভারত সরকারের অকৃত্রিম সহযোগিতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির বীভৎস হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী নয় মাস ধরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যে নারকীয় --গণহত্যা লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, ভারত তা বিশ্ববাসীর নিকট সার্থকভাবে তুলে ধরে। এর ফলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়। লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, অস্ত্র সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। ভারত ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী 'যৌথ 'কমান্ড গড়ে তোলে। যৌথ বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের ফলে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনাসহ নিঃশর্তে যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। ভারতের বহু সৈন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারান। উদ্দীপকে বাংলাদেশ যেমন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যারা প্রাণ ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে ভারতও তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।
ঘ
“মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো”—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো। উক্তিটি যথার্থ। কেননা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত শরণার্থীদের আশ্রয়, খাদ্য ও বস্ত্ৰ সহায়তা এবং শেষ পর্যায়ে সামরিক বাহিনী সরবরাহ করে সাহায্য করে। ভারতের জনগণ স্বেচ্ছায় শরণার্থী কর প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন, বর্তমান রাশিয়া। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান তিনি ইয়াহিয়াকে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির সহায়তা করে। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে তা বাতিল করে দেয় কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়। এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর সহায়তার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন অতি দ্রুতই বাস্তবে পরিণত হয়। নচেৎ তা অনেক বেশি বিলম্বিত হতো তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মায়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ও সামরিক জান্তা সরকার 'নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায় । শত শত নারী-পুরুষ প্রাণের ভয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলে। বিশ্বের অনেক দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ৷

Rajshahi · 2018

ক
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।
খ
মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক সহানুভূতি প্রদর্শন করে। ব্রিটেনের বিবিসি মুক্তিযুদ্ধের খবর নিয়মিত প্রচার করত এবং পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ তুলে ধরত। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী: জর্জ হ্যারিসন কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখে। তাছাড়া মুজিবনগর সরকারের বহির্বিশ্বে পরিচালিত সকল কার্যক্রম কেন্দ্রস্থল হিসেবে লন্ডন শহরকে ব্যবহার করে। এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্রিটেন বিভিন্নভাবে সহানুভূতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে।
গ
উদ্দীপকের ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থীর আশ্রয় নেওয়া এবং ভারত সরকারের অকৃত্রিম সহযোগিতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির বীভৎস হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী নয় মাস ধরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যে নারকীয় --গণহত্যা লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, ভারত তা বিশ্ববাসীর নিকট সার্থকভাবে তুলে ধরে। এর ফলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়। লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, অস্ত্র সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। ভারত ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী 'যৌথ 'কমান্ড গড়ে তোলে। যৌথ বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের ফলে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনাসহ নিঃশর্তে যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। ভারতের বহু সৈন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারান। উদ্দীপকে বাংলাদেশ যেমন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যারা প্রাণ ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে ভারতও তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।
ঘ
“মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো”—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো। উক্তিটি যথার্থ। কেননা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত শরণার্থীদের আশ্রয়, খাদ্য ও বস্ত্ৰ সহায়তা এবং শেষ পর্যায়ে সামরিক বাহিনী সরবরাহ করে সাহায্য করে। ভারতের জনগণ স্বেচ্ছায় শরণার্থী কর প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন, বর্তমান রাশিয়া। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান তিনি ইয়াহিয়াকে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির সহায়তা করে। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে তা বাতিল করে দেয় কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়। এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর সহায়তার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন অতি দ্রুতই বাস্তবে পরিণত হয়। নচেৎ তা অনেক বেশি বিলম্বিত হতো তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো