HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
মুরাদ সাহেব ঢাকার কাওরান বাজারে রাতে মাছ কিনতে যেয়ে দেখেন মাছগুলো সব তাজা ও সতেজ। তিনি মাছওয়ালাকে প্রশ্ন করলেন মাছগুলো কবের ধরা হয়েছে? মাছওয়ালা উত্তর দিল গতকাল। তিনি ফলবাজারে গিয়ে দেখলেন তাজা তাজা আম যেন এখন গাছ থেকে পোড়া। কিন্তু তিনি ভাবলেন এখন তো আমের সময় না। তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন ।
ক
নিরাপদ খাদ্য কী?
উত্তর
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ এবং ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত খাদ্য হলো নিরাপদ খাদ্য ।
খ
খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর
খাদ্য একটা পচনশীল দ্রব্য। সঠিকভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করা না হলে খাদ্য নষ্ট হয়ে যায়, পুষ্টিগুণ থাকে না । তাই খাদ্য নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা, পুষ্টিগুণ ধরে রাখা এসব কারণে খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ।
গ
মুরাদ সাহেব কেন মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন? ব্যাখ্যা কর ।
উত্তর
উদ্দীপকের মুরাদ সাহেব খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে মাছ ও ফল না কিনেই বাড়ি ফিরলেন ।
এক খাদ্যের সাথে অন্য খাদ্যের মিশ্রণ, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যে মেশানো, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যবহার, খাদ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে রং প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয় একত্রে খাদ্যে ভেজাল বলে পরিচিত। এসব খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। উদ্দীপকের মুরাদ সাহেব ঢাকার কাওরান বাজারে রাতে মাছ কিনতে গিয়ে দেখেন যে, মাছগুলো সব তাজা ও সতেজ। তিনি মাছওয়ালাকে প্রশ্ন করলেন মাছগুলো কবে ধরা হয়েছে? মাছওয়ালা উত্তর দিল গতকাল। ফলবাজারে গিয়েও তিনি দেখলেন যে, তাজা তাজা আম যেন এখন গাছ থেকে পাড়া হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে মাছ ও ফল এত টাটকা থাকার কথা নয়। তার মনে খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কিত সন্দেহ কাজ করায় তিনি এগুলো না কিনেই বাড়ি ফিরলেন। বর্তমানে শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে ফলমূল, শাক- সবজি, মাছ-মাংস, দুধ, মিষ্টি ইত্যাদি প্রায় সব ধরনের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। এসব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে রয়েছে— ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কাপড়ের রং, কীটনাশক ইত্যাদি। এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে খাবারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয় এবং খাদ্যদ্রব্যকে কৃত্রিম উপায়ে সতেজ রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়। এ ধরনের খাবার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সুস্থ থাকতে হলে এসব ভেজাল খাবার পরিহার করা আবশ্যক ।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? মতামত দাও ৷
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভেজাল খাদ্য সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের ভূমিকা সচেতন ও কার্যকরী হওয়া উচিত । মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের অবস্থান সর্বাগ্রে। কিন্তু এ খাদ্যে- ভেজাল মিশিয়ে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী । খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের ভেজাল খাবার পরিহার করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। উদ্দীপকের মুরাদ সাহেব ঢাকার কাওরান বাজারে রাতে মাছ কিনতে গিয়ে দেখেন মাছগুলো সব তাজা ও সতেজ। তিনি মাছওয়ালাকে প্রশ্ন করলেন যে, মাছগুলো কবে ধরা হয়েছে? মাছওয়ালা উত্তর দিল গতকাল। আবার, ফল বাজারে গিয়ে দেখলেন তাজা তাজা আম যেন এখন গাছ থেকে পাড়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ভাবলেন এখন তো আমের সময় না । তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হওয়ায় তিনি মাছ ও ফল না কিনেই বাড়ি ফিরলেন। খাদ্যে ভেজালের এ সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উচিত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে BSTI-কে আরও গতিশীল করা, ভ্ৰাম্যমাণ আদালত গঠন করে একে সক্রিয় করা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা বৃদ্ধি করা, পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার স্থাপন করা এবং ভেজাল মেশানোর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শণাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা। ব্যবসায়ী মহলেরও এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। নৈতিক মূল্যবোধ ও বিবেকের বিবেচনায় অসৎপথ পরিহার করে সঠিক পথ অবলম্বন করে চলা উচিত। আর জনসাধারণকেও ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। জনগণ যদি ভেজাল খাদ্য পরিহার করে কিংবা সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে অবগত করে তবে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ অনেকাংশে নিশ্চিত হবে ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো