Chapter 4 : জনসংখ্যা, মানবসম্পদ এবং আত্মকর্মসংস্থান Economics 2nd Paper

HSC Economics 2nd Paper এর Chapter 4 : জনসংখ্যা, মানবসম্পদ এবং আত্মকর্মসংস্থান অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১,২৩৫

প্রশ্ন

Economics 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুজন ও সুমন বাল্যবন্ধু। ছাত্রজীবন শেষে সুজন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে এবং সুমন অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে একদিন তাদের মধ্যে তর্ক হয়। সুজন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ, কৃষিজমির পরিমাণ এসব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। অন্যদিকে, সুমন মনে করেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবসময় অভিশাপ নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

Dhaka · 2017

ক
আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

নিজস্ব অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
খ
কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (০)'- কীভাবে সম্ভব?

উত্তর

স্থূল জন্মহার ও স্থূল মৃত্যুহার সমান হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হয়। কোনো দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহারের পার্থক্যকে শতকরায় প্রকাশ করলে ঐ দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার পাওয়া যায়। জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার = জন্মহার−মৃত্যুহার১০০০×১০০\frac{জন্মহার - মৃত্যুহার}{১০০০}× ১০০ এখন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে যদি একটি দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তাহলে ঐ দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হবে। তাই বলা যায়, কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হতে পারে।
গ
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সুজনের মতামত ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিসংখ্যানিক উপাত্তের ভিত্তিতে সুজনের মতে, বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। যে জনসংখ্যার দ্বারা জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। বাংলাদেশে কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে বেশি জনসংখ্যা বিদ্যমান। আর এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাবে দেশে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও সমাজিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। উদ্দীপকে সুজন বিভিন্ন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। কেননা বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১০৩ জন যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার থেকে অনেকই বঞ্চিত হচ্ছে। আবার, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বর্ধিত আবাসন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আবাদি জমিতে ঘর-বাড়ি গড়ে উঠছে। ফলে কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। ফলে দিন দিন বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, এইসব দিক বিবেচনা করে সুজন বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপস্বরূপ বলে মনে করেন।
ঘ
কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের বাল্যবন্ধু সুমনের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যেতে পারে। কোনো দেশের জনসংখ্যাকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, দক্ষ মানবগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে। আর একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়। বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তাদের দক্ষতা ও উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। কিন্তু নানা ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা থাকার জন্য তারা ঘরের বাইরে যেতে পারেন না। তাই, নারীকে সম-অধিকার প্রদান ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন করা উচিত। অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে শ্রমের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের প্রসার ঘটবে। অর্থাৎ প্রশিক্ষিত শ্রমিক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। কাজেই উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুজন ও সুমন বাল্যবন্ধু। ছাত্রজীবন শেষে সুজন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে এবং সুমন অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে একদিন তাদের মধ্যে তর্ক হয়। সুজন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ, কৃষিজমির পরিমাণ এসব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। অন্যদিকে, সুমন মনে করেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবসময় অভিশাপ নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

Dhaka · 2017

ক
আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

নিজস্ব অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
খ
কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (০)'- কীভাবে সম্ভব?

উত্তর

স্থূল জন্মহার ও স্থূল মৃত্যুহার সমান হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হয়। কোনো দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহারের পার্থক্যকে শতকরায় প্রকাশ করলে ঐ দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার পাওয়া যায়। জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার = জন্মহার−মৃত্যুহার১০০০×১০০\frac{জন্মহার - মৃত্যুহার}{১০০০}× ১০০ এখন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে যদি একটি দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তাহলে ঐ দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হবে। তাই বলা যায়, কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হতে পারে।
গ
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সুজনের মতামত ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিসংখ্যানিক উপাত্তের ভিত্তিতে সুজনের মতে, বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। যে জনসংখ্যার দ্বারা জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। বাংলাদেশে কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে বেশি জনসংখ্যা বিদ্যমান। আর এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাবে দেশে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও সমাজিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। উদ্দীপকে সুজন বিভিন্ন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। কেননা বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১০৩ জন যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার থেকে অনেকই বঞ্চিত হচ্ছে। আবার, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বর্ধিত আবাসন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আবাদি জমিতে ঘর-বাড়ি গড়ে উঠছে। ফলে কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। ফলে দিন দিন বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, এইসব দিক বিবেচনা করে সুজন বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপস্বরূপ বলে মনে করেন।
ঘ
কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের বাল্যবন্ধু সুমনের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যেতে পারে। কোনো দেশের জনসংখ্যাকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, দক্ষ মানবগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে। আর একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়। বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তাদের দক্ষতা ও উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। কিন্তু নানা ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা থাকার জন্য তারা ঘরের বাইরে যেতে পারেন না। তাই, নারীকে সম-অধিকার প্রদান ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন করা উচিত। অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে শ্রমের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের প্রসার ঘটবে। অর্থাৎ প্রশিক্ষিত শ্রমিক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। কাজেই উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুজন ও সুমন বাল্যবন্ধু। ছাত্রজীবন শেষে সুজন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে এবং সুমন অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে একদিন তাদের মধ্যে তর্ক হয়। সুজন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ, কৃষি জমির পরিমাণ এসব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। অন্যদিকে, সুমন মনে করেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবসময় অভিশাপ নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

Barisal · 2017

ক
আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

নিজস্ব অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
খ
'কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (০)'- কীভাবে সম্ভব?

উত্তর

স্থূল জন্মহার ও স্থূল মৃত্যুহার সমান হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হয়। কোনো দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহারের পার্থক্যকে শতকরায় প্রকাশ করলে ঐ দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার পাওয়া যায়। question image এখন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে যদি একটি দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তাহলে ঐ দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হবে। তাই বলা যায়, কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হতে পারে।
গ
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সুজনের মতামত ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিসংখ্যানিক উপাত্তের ভিত্তিতে সুজনের মতে, বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। যে জনসংখ্যার দ্বারা জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। বাংলাদেশে কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে বেশি জনসংখ্যা বিদ্যমান। আর এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাবে দেশে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যেমন- বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০৬৩ জন যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার থেকে অনেকই বঞ্চিত হচ্ছে। আবার, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বর্ধিত আবাসন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আবাদি জমিতে ঘর-বাড়ি গড়ে উঠছে। ফলে কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। ফলে দিন দিন বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, এইসব দিক বিবেচনা করে সুজন বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপস্বরূপ মনে করেন।
ঘ
কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের বাল্যবন্ধু সুমনের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যেতে পারে। কোনো দেশের জনসংখ্যাকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, দক্ষ মানবগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে। আর একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান: বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তাদের দক্ষতা ও উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নারীর ক্ষমতা ও সম-অধিকার: বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই, নারীকে সম-অধিকার প্রদান ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন করা সম্ভব। মানবসম্পদ রপ্তানি: অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে শ্রমের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের প্রসার ঘটবে। অর্থাৎ প্রশিক্ষিত শ্রমিক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। কাজেই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুজন ও সুমন বাল্যবন্ধু। ছাত্রজীবন শেষে সুজন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে এবং সুমন অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে একদিন তাদের মধ্যে তর্ক হয়। সুজন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ, কৃষি জমির পরিমাণ এসব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। অন্যদিকে, সুমন মনে করেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবসময় অভিশাপ নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

Barisal · 2017

ক
আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

নিজস্ব অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
খ
'কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (০)'- কীভাবে সম্ভব?

উত্তর

স্থূল জন্মহার ও স্থূল মৃত্যুহার সমান হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হয়। কোনো দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহারের পার্থক্যকে শতকরায় প্রকাশ করলে ঐ দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার পাওয়া যায়। question image এখন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে যদি একটি দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তাহলে ঐ দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হবে। তাই বলা যায়, কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হতে পারে।
গ
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সুজনের মতামত ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিসংখ্যানিক উপাত্তের ভিত্তিতে সুজনের মতে, বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। যে জনসংখ্যার দ্বারা জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। বাংলাদেশে কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে বেশি জনসংখ্যা বিদ্যমান। আর এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাবে দেশে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যেমন- বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০৬৩ জন যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার থেকে অনেকই বঞ্চিত হচ্ছে। আবার, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বর্ধিত আবাসন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আবাদি জমিতে ঘর-বাড়ি গড়ে উঠছে। ফলে কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। ফলে দিন দিন বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, এইসব দিক বিবেচনা করে সুজন বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপস্বরূপ মনে করেন।
ঘ
কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের বাল্যবন্ধু সুমনের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যেতে পারে। কোনো দেশের জনসংখ্যাকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, দক্ষ মানবগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে। আর একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান: বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তাদের দক্ষতা ও উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নারীর ক্ষমতা ও সম-অধিকার: বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই, নারীকে সম-অধিকার প্রদান ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন করা সম্ভব। মানবসম্পদ রপ্তানি: অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে শ্রমের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের প্রসার ঘটবে। অর্থাৎ প্রশিক্ষিত শ্রমিক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। কাজেই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে আশীর্বাদে পরিণত করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. জাকির বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যান। তিনি সেখানে দেখতে পান যে, শীতপ্রধান ইউরোপে জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং গড় আয়ুষ্কাল বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে খাদ্যাভ্যাস, আবহাওয়া, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি এবং জীবনযাত্রার মান নিম্ন। বর্তমানে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস করেছে। উপরন্তু কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এতে মাথাপিছু আয় বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও হচ্ছে।

Barisal · 2017

ক
কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের সূত্রটি লেখ।

উত্তর

অধ্যাপক ডালটন কাম্য জনসংখ্যা সূত্রটি প্রদান করেন। M=A−OO\mathrm{M}=\frac{\mathrm{A}-\mathrm{O}}{\mathrm{O}} যেখানে, M = অসামঞ্জস্যের পরিমাণ ০ = কাম্য জনসংখ্যা, A = প্রকৃত জনসংখ্যা।
খ
শিক্ষা কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে?

উত্তর

শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। শিক্ষা হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটলে মানুষ নিজেকে সম্পদে পরিণত করার বিভিন্ন কৌশল ও সৃজনী ক্ষমতা অর্জন করে। মানুষ নিজেকে এবং রাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এভাবেই শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণসমূহ হলো ১. খাদ্যাভ্যাস, ২. আবহাওয়া, ৩. বাল্যবিবাহ ইত্যাদি। নিচে এগুলো ব্যাখ্যা করা হলো- ১. খাদ্যাভ্যাস বাংলাদেশের উচ্চ জন্মহারের একটি অন্যতম কারণ। কেননা, বাংলাদেশের লোকেরা বেশি পরিমাণে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে এবং আমিষ জাতীয় খাদ্য খুবই কম ভক্ষণ করে। আর শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণে প্রজনন ক্ষমতা কমে। ২. জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর জন্ম হার নির্ভর করে। বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। এরূপ জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা অল্প বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয় এবং প্রজনন ক্ষমতা লাভ করে। ফলে তারা অল্প বয়সেই বিবাহ করে সন্তানের জন্ম দেয়। ৩. বাংলাদেশে উচ্চ জন্মহারের অন্যতম কারণ হলো বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ। নানা কারণে সন্তান-সন্ততিদেরকে অতি অল্প বয়সে বিবাহ দেয়া হয়। ফলে সন্তান উৎপাদন বেশি হয়। বাল্যবিবাহ ছাড়াও আমাদের দেশে বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এ প্রথা অনুযায়ী, পুরুষরা একই সময়ে বহুবিবাহ করতে পারে। বস্তুত বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা আমাদের দেশে উচ্চ জন্মহারের অন্যতম কারণ। এসব কারণে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রা অত্যন্ত নিম্নমানের। শিক্ষার অভাবে উচ্চ জীবনযাত্রার মান সম্বন্ধে জনসাধারণের কোনো ধারণা নেই। তাই সন্তান প্রতিপালনে ব্যয় খুব বেশি নয় বলে অধিক সন্তান জন্ম দিতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রদর্শিত কারণগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
ঘ
জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আরো কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্তমানে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস করেছে। তাছাড়া জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আরো যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে সেগুলো হলো- শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সুদূরপ্রসারী কৌশল হচ্ছে দেশে শিক্ষার হার বাড়ানো ও মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটানো। সে লক্ষ্যে সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করেছে। সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শতকরা ২০ ভাগের অধিক হারে ব্যয় করছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) অর্জনের লক্ষ্যে সরকার উপবৃত্তি প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি- ৩), রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্প, দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, শহরে কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা প্রকল্পসহ (২য় পর্যায়) আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০১১-১৬ মেয়াদে সমন্বিত স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উন্নয়ন সেক্টর কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ অনুমোদিত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনে মানবসম্পদ উন্নয়নসহ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার কমিউনিটি আইএমসিআই এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা এবং পরিবার পরিকল্পনার অপূরণকৃত চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা বিভাগের ১৫,১৫৩ জন মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে নগর এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভিটামিন এ খাওয়ানোসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগ ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ১২,২৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মহিলা বিষয়ক বিভাগ: এ বিভাগের মাধ্যমেও সরকার পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক শিক্ষা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়: এ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে পরিবার পরিকল্পনার আবশ্যকতা ও জনসংখ্যা সমস্যার বিভিন্ন দিক প্রচার করছে। সরকারের জনসংখ্যা বিভাগ ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের সাহায্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. জাকির বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যান। তিনি সেখানে দেখতে পান যে, শীতপ্রধান ইউরোপে জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং গড় আয়ুষ্কাল বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে খাদ্যাভ্যাস, আবহাওয়া, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি এবং জীবনযাত্রার মান নিম্ন। বর্তমানে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস করেছে। উপরন্তু কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এতে মাথাপিছু আয় বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও হচ্ছে।

Barisal · 2017

ক
কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের সূত্রটি লেখ।

উত্তর

অধ্যাপক ডালটন কাম্য জনসংখ্যা সূত্রটি প্রদান করেন। M=A−OO\mathrm{M}=\frac{\mathrm{A}-\mathrm{O}}{\mathrm{O}} যেখানে, M = অসামঞ্জস্যের পরিমাণ ০ = কাম্য জনসংখ্যা, A = প্রকৃত জনসংখ্যা।
খ
শিক্ষা কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে?

উত্তর

শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। শিক্ষা হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটলে মানুষ নিজেকে সম্পদে পরিণত করার বিভিন্ন কৌশল ও সৃজনী ক্ষমতা অর্জন করে। মানুষ নিজেকে এবং রাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এভাবেই শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণসমূহ হলো ১. খাদ্যাভ্যাস, ২. আবহাওয়া, ৩. বাল্যবিবাহ ইত্যাদি। নিচে এগুলো ব্যাখ্যা করা হলো- ১. খাদ্যাভ্যাস বাংলাদেশের উচ্চ জন্মহারের একটি অন্যতম কারণ। কেননা, বাংলাদেশের লোকেরা বেশি পরিমাণে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে এবং আমিষ জাতীয় খাদ্য খুবই কম ভক্ষণ করে। আর শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণে প্রজনন ক্ষমতা কমে। ২. জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর জন্ম হার নির্ভর করে। বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। এরূপ জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা অল্প বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয় এবং প্রজনন ক্ষমতা লাভ করে। ফলে তারা অল্প বয়সেই বিবাহ করে সন্তানের জন্ম দেয়। ৩. বাংলাদেশে উচ্চ জন্মহারের অন্যতম কারণ হলো বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ। নানা কারণে সন্তান-সন্ততিদেরকে অতি অল্প বয়সে বিবাহ দেয়া হয়। ফলে সন্তান উৎপাদন বেশি হয়। বাল্যবিবাহ ছাড়াও আমাদের দেশে বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এ প্রথা অনুযায়ী, পুরুষরা একই সময়ে বহুবিবাহ করতে পারে। বস্তুত বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা আমাদের দেশে উচ্চ জন্মহারের অন্যতম কারণ। এসব কারণে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রা অত্যন্ত নিম্নমানের। শিক্ষার অভাবে উচ্চ জীবনযাত্রার মান সম্বন্ধে জনসাধারণের কোনো ধারণা নেই। তাই সন্তান প্রতিপালনে ব্যয় খুব বেশি নয় বলে অধিক সন্তান জন্ম দিতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রদর্শিত কারণগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
ঘ
জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আরো কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্তমানে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস করেছে। তাছাড়া জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আরো যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে সেগুলো হলো- শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সুদূরপ্রসারী কৌশল হচ্ছে দেশে শিক্ষার হার বাড়ানো ও মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটানো। সে লক্ষ্যে সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করেছে। সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শতকরা ২০ ভাগের অধিক হারে ব্যয় করছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) অর্জনের লক্ষ্যে সরকার উপবৃত্তি প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি- ৩), রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্প, দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, শহরে কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা প্রকল্পসহ (২য় পর্যায়) আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০১১-১৬ মেয়াদে সমন্বিত স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উন্নয়ন সেক্টর কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ অনুমোদিত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনে মানবসম্পদ উন্নয়নসহ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার কমিউনিটি আইএমসিআই এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা এবং পরিবার পরিকল্পনার অপূরণকৃত চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা বিভাগের ১৫,১৫৩ জন মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে নগর এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভিটামিন এ খাওয়ানোসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগ ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ১২,২৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মহিলা বিষয়ক বিভাগ: এ বিভাগের মাধ্যমেও সরকার পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক শিক্ষা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়: এ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে পরিবার পরিকল্পনার আবশ্যকতা ও জনসংখ্যা সমস্যার বিভিন্ন দিক প্রচার করছে। সরকারের জনসংখ্যা বিভাগ ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের সাহায্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো