HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সকল দেশেই সরকারের এমন একটি বিভাগ রয়েছে, যা বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। কিন্তু সুজনের দেশে এ বিভাগটি স্বাধীন নয়।
Barisal · 2017
ক
আইন বিভাগের মূল কাজ কী?
উত্তর
আইন বিভাগের মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা।
খ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে সরকারের অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ মুক্ত থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
বিচারকগণের বাহ্যিক শক্তির চাপমুক্ত থেকে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বাস্তব ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ।
গ
বর্ণিত বিভাগটির কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ।
সরকারের যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনভঙ্গকারীকে শান্তিপ্রদান করে তাকে বিচার বিভাগ বলে। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির বা ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের বিরোধ দেখা দিলে তার মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিচার বিভাগের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকেও এ বিভাগটির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে সরকারের এমন একটি বিভাগের কথা বলা হয়েছে যা দেশের বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। এখানে মূলত বিচার বিভাগের কথা বলা হয়েছে। আইন প্রয়োগ করা বিচার বিভাগের প্রধান কাজ। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করে। বিচারকগণ যদি আইনসভা প্রণীত কিংবা প্রথাগত আইনের ভাষাকে অস্পষ্ট বা পরস্পর বিরোধী বলে মনে করেন তাহলে বিচার বিভাগ তার ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গ রাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে। প্রয়োজনে বিচারকগণ ন্যায়বোধ ও সুবিবেচনা প্রয়োগ করে আইনের ব্যাখ্যা প্রদান কিংবা নতুন আইন তৈরি করে মামলার নিষ্পত্তি করেন। বিচার বিভাগ ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে। এছাড়াও বিচার বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, পরামর্শ দান, তদন্তসংক্রান্ত কাজ প্রভৃতি করে থাকে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশে সরকারের বিভাগসমূহ কীভাবে কাজ করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশের সরকারের বিভাগসমূহের মধ্যে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করে, শাসন বিভাগ শাসনকার্য পরিচালনা করে এবং বিচার বিভাগ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে।
সুজনের সরকারের মতো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব নির্ভর করে আইনসভার আস্থা-অনাস্থার ওপর। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, অবসর প্রদান, তাদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ ও প্রদান, প্রশাসনিক নিয়মাবলি প্রণয়ন, জরুরি আইন, অধ্যাদেশ জারি প্রভৃতি কাজ করে থাকে। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও এগুলোর সদস্যপদ গ্রহণ এবং সেখানে প্রতিনিধি প্রেরণ করা শাসন বিভাগের কাজ। এমনকি শাসন বিভাগ কিছু কিছু আইন প্রণয়নসংকান্ত কাজও করে থাকে। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিসভা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে। কেননা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণ আইনসভারই সদস্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের সাথে সরকারের অন্য দুটি বিভাগের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। অনেক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগ ন্যায়নীতির মাধ্যমে অনেক সময় আইন প্রণয়ন করে। একাধিক আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিচারকগণ নতুন নতুন আইন সৃষ্টি করেন। সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ যেকোনো আইন বাতিল করতে পারে। এভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সরকারের কোনো বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পরে না।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো