Chapter 7 : সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ Civics 1st Paper

HSC Civics 1st Paper এর Chapter 7 : সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১,৫০১

প্রশ্ন

Civics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সকল দেশেই সরকারের এমন একটি বিভাগ রয়েছে, যা বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। কিন্তু সুজনের দেশে এ বিভাগটি স্বাধীন নয়।

Barisal · 2017

ক
আইন বিভাগের মূল কাজ কী?

উত্তর

আইন বিভাগের মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা।
খ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে সরকারের অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ মুক্ত থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে বোঝায়। বিচারকগণের বাহ্যিক শক্তির চাপমুক্ত থেকে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বাস্তব ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ।
গ
বর্ণিত বিভাগটির কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ। সরকারের যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনভঙ্গকারীকে শান্তিপ্রদান করে তাকে বিচার বিভাগ বলে। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির বা ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের বিরোধ দেখা দিলে তার মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিচার বিভাগের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকেও এ বিভাগটির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে সরকারের এমন একটি বিভাগের কথা বলা হয়েছে যা দেশের বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। এখানে মূলত বিচার বিভাগের কথা বলা হয়েছে। আইন প্রয়োগ করা বিচার বিভাগের প্রধান কাজ। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করে। বিচারকগণ যদি আইনসভা প্রণীত কিংবা প্রথাগত আইনের ভাষাকে অস্পষ্ট বা পরস্পর বিরোধী বলে মনে করেন তাহলে বিচার বিভাগ তার ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গ রাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে। প্রয়োজনে বিচারকগণ ন্যায়বোধ ও সুবিবেচনা প্রয়োগ করে আইনের ব্যাখ্যা প্রদান কিংবা নতুন আইন তৈরি করে মামলার নিষ্পত্তি করেন। বিচার বিভাগ ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে। এছাড়াও বিচার বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, পরামর্শ দান, তদন্তসংক্রান্ত কাজ প্রভৃতি করে থাকে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশে সরকারের বিভাগসমূহ কীভাবে কাজ করে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশের সরকারের বিভাগসমূহের মধ্যে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করে, শাসন বিভাগ শাসনকার্য পরিচালনা করে এবং বিচার বিভাগ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে। সুজনের সরকারের মতো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব নির্ভর করে আইনসভার আস্থা-অনাস্থার ওপর। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, অবসর প্রদান, তাদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ ও প্রদান, প্রশাসনিক নিয়মাবলি প্রণয়ন, জরুরি আইন, অধ্যাদেশ জারি প্রভৃতি কাজ করে থাকে। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও এগুলোর সদস্যপদ গ্রহণ এবং সেখানে প্রতিনিধি প্রেরণ করা শাসন বিভাগের কাজ। এমনকি শাসন বিভাগ কিছু কিছু আইন প্রণয়নসংকান্ত কাজও করে থাকে। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিসভা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে। কেননা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণ আইনসভারই সদস্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের সাথে সরকারের অন্য দুটি বিভাগের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। অনেক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগ ন্যায়নীতির মাধ্যমে অনেক সময় আইন প্রণয়ন করে। একাধিক আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিচারকগণ নতুন নতুন আইন সৃষ্টি করেন। সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ যেকোনো আইন বাতিল করতে পারে। এভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সরকারের কোনো বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পরে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সকল দেশেই সরকারের এমন একটি বিভাগ রয়েছে, যা বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। কিন্তু সুজনের দেশে এ বিভাগটি স্বাধীন নয়।

Barisal · 2017

ক
আইন বিভাগের মূল কাজ কী?

উত্তর

আইন বিভাগের মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা।
খ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে সরকারের অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ মুক্ত থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে বোঝায়। বিচারকগণের বাহ্যিক শক্তির চাপমুক্ত থেকে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বাস্তব ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ।
গ
বর্ণিত বিভাগটির কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ। সরকারের যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনভঙ্গকারীকে শান্তিপ্রদান করে তাকে বিচার বিভাগ বলে। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির বা ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের বিরোধ দেখা দিলে তার মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিচার বিভাগের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকেও এ বিভাগটির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে সরকারের এমন একটি বিভাগের কথা বলা হয়েছে যা দেশের বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। এখানে মূলত বিচার বিভাগের কথা বলা হয়েছে। আইন প্রয়োগ করা বিচার বিভাগের প্রধান কাজ। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করে। বিচারকগণ যদি আইনসভা প্রণীত কিংবা প্রথাগত আইনের ভাষাকে অস্পষ্ট বা পরস্পর বিরোধী বলে মনে করেন তাহলে বিচার বিভাগ তার ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গ রাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে। প্রয়োজনে বিচারকগণ ন্যায়বোধ ও সুবিবেচনা প্রয়োগ করে আইনের ব্যাখ্যা প্রদান কিংবা নতুন আইন তৈরি করে মামলার নিষ্পত্তি করেন। বিচার বিভাগ ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে। এছাড়াও বিচার বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, পরামর্শ দান, তদন্তসংক্রান্ত কাজ প্রভৃতি করে থাকে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশে সরকারের বিভাগসমূহ কীভাবে কাজ করে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশের সরকারের বিভাগসমূহের মধ্যে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করে, শাসন বিভাগ শাসনকার্য পরিচালনা করে এবং বিচার বিভাগ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে। সুজনের সরকারের মতো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব নির্ভর করে আইনসভার আস্থা-অনাস্থার ওপর। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, অবসর প্রদান, তাদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ ও প্রদান, প্রশাসনিক নিয়মাবলি প্রণয়ন, জরুরি আইন, অধ্যাদেশ জারি প্রভৃতি কাজ করে থাকে। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও এগুলোর সদস্যপদ গ্রহণ এবং সেখানে প্রতিনিধি প্রেরণ করা শাসন বিভাগের কাজ। এমনকি শাসন বিভাগ কিছু কিছু আইন প্রণয়নসংকান্ত কাজও করে থাকে। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিসভা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে। কেননা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণ আইনসভারই সদস্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের সাথে সরকারের অন্য দুটি বিভাগের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। অনেক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগ ন্যায়নীতির মাধ্যমে অনেক সময় আইন প্রণয়ন করে। একাধিক আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিচারকগণ নতুন নতুন আইন সৃষ্টি করেন। সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ যেকোনো আইন বাতিল করতে পারে। এভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সরকারের কোনো বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পরে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পিটার তার বন্ধু দীনেশকে জানায় তাদের সরকার দীনেশদের সরকারের মত আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।

Barisal · 2017

ক
কক্ষের ভিত্তিতে আইনসভা কত প্রকার?

উত্তর

কক্ষের ভিত্তিতে আইনসভা দুই প্রকার। যথা: উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ।
খ
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা কাকে বলে?

উত্তর

বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা এমন এক পদ্ধতি বিশেষ, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগ দেশের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের দ্বারা গৃহীত কার্যব্যবস্থার সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণ করে। এরূপ কার্যব্যবস্থা সাংবিধানিক বিধানাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় আদালত এগুলো অবৈধ ও অকার্যকর বলে ঘোষণা করে এবং এগুলো কার্যকরী করতে অস্বীকার করে। সুতরাং বিচার বিভাগ সংবিধান ব্যাখ্যা করে কোনো আইন বা প্রশাসনিক বিধি-বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা স্থির করার যে ক্ষমতা ভোগ করে তাকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলে।
গ
পিটারের রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান? এ সরকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ।

উত্তর

পিটারের দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক সরকারের একটি প্রধান রূপ হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে এমন শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং রাষ্ট্রপতি সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না। বরং তাদের দায়বদ্ধতা জনগণের নিকট। উদ্দীপকেও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, পিটারের দেশের সরকার আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। অর্থাৎ পিটারের দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এরূপ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হন। এ সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। এ সরকার ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আইনসভা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। কেবল বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব। সাধারণত তিনি আইনসভার নিকট দায়ী নন। আবার তিনি আইনসভাকে ভেঙ্গে দিতে পারেন না। এই সরকার ব্যবস্থায় সরকার স্থিতিশীল হয়। অভিশংসন প্রস্তাব ছাড়া আইনসভা রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। তাছাড়া এ সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর থাকায় বিচার বিভাগের প্রধান্য থাকে। পিটারের দেশের সরকার ব্যবস্থায় অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় এসকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার কোন ধরনের সরকার? গণতান্ত্রিক উন্নয়নে এ সরকার জরুরি- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। এ সরকারের শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকে। প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রিসভা অতিসহজেই আইন পরিষদে আইন পাস করে নিতে পারে। কেননা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্য। শাসন বিভাগ তাদের স্থায়িত্ব এবং কার্যকালের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। ফলে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে। বিকল্প সরকার হিসেবে বিরোধী দল গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা দ্বারা সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরে। ফলে সরকার কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। শাসন বিভাগকে তাদের গৃহীতনীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন সভার নিকট দায়ী থাকতে হয়। ফলে শাসন বিভাগ স্বৈরাচারী হতে পারে না। সংসদীয় সরকার প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়ায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে সরকার গঠিত হয়। ফলে নীতিগ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। এ শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিজেদেরকে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অন্যান্য রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে অপেক্ষাকৃত উত্তম। সুতরাং, গণতান্ত্রিক উন্নয়নে এ সরকার জরুরি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পিটার তার বন্ধু দীনেশকে জানায় তাদের সরকার দীনেশদের সরকারের মত আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।

Barisal · 2017

ক
কক্ষের ভিত্তিতে আইনসভা কত প্রকার?

উত্তর

কক্ষের ভিত্তিতে আইনসভা দুই প্রকার। যথা: উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ।
খ
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা কাকে বলে?

উত্তর

বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা এমন এক পদ্ধতি বিশেষ, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগ দেশের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের দ্বারা গৃহীত কার্যব্যবস্থার সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণ করে। এরূপ কার্যব্যবস্থা সাংবিধানিক বিধানাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় আদালত এগুলো অবৈধ ও অকার্যকর বলে ঘোষণা করে এবং এগুলো কার্যকরী করতে অস্বীকার করে। সুতরাং বিচার বিভাগ সংবিধান ব্যাখ্যা করে কোনো আইন বা প্রশাসনিক বিধি-বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা স্থির করার যে ক্ষমতা ভোগ করে তাকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলে।
গ
পিটারের রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান? এ সরকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ।

উত্তর

পিটারের দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক সরকারের একটি প্রধান রূপ হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে এমন শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং রাষ্ট্রপতি সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না। বরং তাদের দায়বদ্ধতা জনগণের নিকট। উদ্দীপকেও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, পিটারের দেশের সরকার আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। অর্থাৎ পিটারের দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এরূপ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হন। এ সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। এ সরকার ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আইনসভা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। কেবল বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব। সাধারণত তিনি আইনসভার নিকট দায়ী নন। আবার তিনি আইনসভাকে ভেঙ্গে দিতে পারেন না। এই সরকার ব্যবস্থায় সরকার স্থিতিশীল হয়। অভিশংসন প্রস্তাব ছাড়া আইনসভা রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। তাছাড়া এ সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর থাকায় বিচার বিভাগের প্রধান্য থাকে। পিটারের দেশের সরকার ব্যবস্থায় অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় এসকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার কোন ধরনের সরকার? গণতান্ত্রিক উন্নয়নে এ সরকার জরুরি- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। এ সরকারের শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকে। প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রিসভা অতিসহজেই আইন পরিষদে আইন পাস করে নিতে পারে। কেননা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্য। শাসন বিভাগ তাদের স্থায়িত্ব এবং কার্যকালের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। ফলে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে। বিকল্প সরকার হিসেবে বিরোধী দল গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা দ্বারা সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরে। ফলে সরকার কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। শাসন বিভাগকে তাদের গৃহীতনীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন সভার নিকট দায়ী থাকতে হয়। ফলে শাসন বিভাগ স্বৈরাচারী হতে পারে না। সংসদীয় সরকার প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়ায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে সরকার গঠিত হয়। ফলে নীতিগ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। এ শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিজেদেরকে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অন্যান্য রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে অপেক্ষাকৃত উত্তম। সুতরাং, গণতান্ত্রিক উন্নয়নে এ সরকার জরুরি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গৌরনদী হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাত শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা ঐ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গৌরনদী থানার ওসি কামরুল সাহেব অভিযুক্তকে বিধি মোতাবেক গ্রেফতার করেন। জেলা জজ শফিকুল ইসলাম সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ডাক্তারকে শাস্তি প্রদান করেন।

Jessore · 2017

ক
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবস্তা কে?

উত্তর

ফরাসি দার্শনিক মন্টেল্ক (Montesquieu) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা।
খ
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংবিধানের ভিত্তিতে ক্ষমতা বণ্টনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রের জাতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করে এবং প্রাদেশিক সরকার স্বাধীনভাবে স্থানীয় বা প্রাদেশিক বিষয়সমূহ পরিচালনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
গ
জনাব কামরুল সরকারের কোন বিভাগের সদস্য? উক্ত বিভাগের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জনাব কামরুল সরকারের শাসন বিভাগের সদস্য। রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব যে বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে তাকে শাসন বিভাগ বলে। আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনকে বাস্তবে প্রয়োগ করাই শাসন বিভাগের কাজ। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শাসন বিভাগের কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে শাসন বিভাগের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো- ১. অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনা: শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, অবসর প্রদান, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ ও প্রদান; প্রশাসনিক নিয়মাবলি প্রণয়ন, জরুরি আইন, অধ্যাদেশ প্রভৃতি প্রণয়ন করে থাকে। ২. পররাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যাবলি; বর্তমান সময়ে প্রত্যেক রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে এবং অন্য দেশ কর্তৃক নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন বা সদস্যপদ গ্রহণ ও সেখানে নিজ দেশের প্রতিনিধি প্রেরণ করে। এসব কাজকে কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কাজ বলে। এসব কাজের দায়িত্ব পালন করে শাসন বিভাগের অন্তর্গত 'পররাষ্ট্র দপ্তর'। ৩. সামরিক কার্যাবলি; যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়টি অনেক সময় আইন বিভাগের সম্মতির ওপর নির্ভর করলেও যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব এককভাবে শাসন বিভাগের। ৪. বিচারসংক্রান্ত কার্যাবলি: অনেক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতিদেরকে নিয়োগ করে থাকেন। বিচারালয় কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তিনি ক্ষমা প্রদর্শন, কিংবা তার দণ্ড হ্রাস করতে পারেন।
ঘ
তুমি কি মনে কর, জনাব শফিকের বিভাগের স্বাধীনতা আইনের শাসন নিশ্চিত করে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

হ্যাঁ, জনাব শফিকের বিভাগ তথা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আইনের শাসন নিশ্চিত করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান এবং বিচার কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদের স্বাধীন ও মত প্রকাশের ক্ষমতা বা স্বাধীনতা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি দেশের শাসনব্যবস্থার উৎকর্ষ নির্ণয়ের জন্য বিচার বিভাগের দক্ষতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিচার বিভাগের অস্তিত্ব ছাড়া সুসভ্য সামাজিক জীবন কল্পনা করা যায় না। সমাজজীবনে সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার নির্যাতন, নিপীড়ন প্রভৃতি প্রতিরোধের প্রধান শক্তি হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ আছে বলেই একটি দেশের সরকার সংবিধানের নির্দেশিত পথে চলতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো আইনের শাসন। আইনের শাসনের অর্থ হলো- (ক) আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান, (খ) সকলের জন্য একই ধরনের আইন থাকবে, (গ) বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না, (ঘ) বিনা বিচারে কাউকে আটক করা যাবে না, (ঙ) অভিযুক্তকারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে এবং (চ) সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যথার্থ আইনের শাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা আইনের শাসন না থাকলে যেমন অনাচার সৃষ্টি হয় তেমনি আইন না মানলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। এজন্যই বলা হয় যে, যথার্থ আইনের শাসন না থাকলে নাগরিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অধিকার ও সাম্য কিছুই থাকে না। তবে আইনের শাসন কথাটি শুধু মুখে মুখে স্বীকার বা সংবিধানে সন্নিবেশিত করলেই হবে না, এর বাস্তব প্রয়োগও ঘটাতে হবে। তাহলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ গড়ে তোলার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গৌরনদী হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাত শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা ঐ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গৌরনদী থানার ওসি কামরুল সাহেব অভিযুক্তকে বিধি মোতাবেক গ্রেফতার করেন। জেলা জজ শফিকুল ইসলাম সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ডাক্তারকে শাস্তি প্রদান করেন।

Jessore · 2017

ক
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবস্তা কে?

উত্তর

ফরাসি দার্শনিক মন্টেল্ক (Montesquieu) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা।
খ
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংবিধানের ভিত্তিতে ক্ষমতা বণ্টনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রের জাতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করে এবং প্রাদেশিক সরকার স্বাধীনভাবে স্থানীয় বা প্রাদেশিক বিষয়সমূহ পরিচালনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
গ
জনাব কামরুল সরকারের কোন বিভাগের সদস্য? উক্ত বিভাগের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জনাব কামরুল সরকারের শাসন বিভাগের সদস্য। রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব যে বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে তাকে শাসন বিভাগ বলে। আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনকে বাস্তবে প্রয়োগ করাই শাসন বিভাগের কাজ। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শাসন বিভাগের কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে শাসন বিভাগের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো- ১. অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনা: শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, অবসর প্রদান, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ ও প্রদান; প্রশাসনিক নিয়মাবলি প্রণয়ন, জরুরি আইন, অধ্যাদেশ প্রভৃতি প্রণয়ন করে থাকে। ২. পররাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যাবলি; বর্তমান সময়ে প্রত্যেক রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে এবং অন্য দেশ কর্তৃক নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন বা সদস্যপদ গ্রহণ ও সেখানে নিজ দেশের প্রতিনিধি প্রেরণ করে। এসব কাজকে কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কাজ বলে। এসব কাজের দায়িত্ব পালন করে শাসন বিভাগের অন্তর্গত 'পররাষ্ট্র দপ্তর'। ৩. সামরিক কার্যাবলি; যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়টি অনেক সময় আইন বিভাগের সম্মতির ওপর নির্ভর করলেও যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব এককভাবে শাসন বিভাগের। ৪. বিচারসংক্রান্ত কার্যাবলি: অনেক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতিদেরকে নিয়োগ করে থাকেন। বিচারালয় কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তিনি ক্ষমা প্রদর্শন, কিংবা তার দণ্ড হ্রাস করতে পারেন।
ঘ
তুমি কি মনে কর, জনাব শফিকের বিভাগের স্বাধীনতা আইনের শাসন নিশ্চিত করে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

হ্যাঁ, জনাব শফিকের বিভাগ তথা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আইনের শাসন নিশ্চিত করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান এবং বিচার কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদের স্বাধীন ও মত প্রকাশের ক্ষমতা বা স্বাধীনতা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি দেশের শাসনব্যবস্থার উৎকর্ষ নির্ণয়ের জন্য বিচার বিভাগের দক্ষতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিচার বিভাগের অস্তিত্ব ছাড়া সুসভ্য সামাজিক জীবন কল্পনা করা যায় না। সমাজজীবনে সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার নির্যাতন, নিপীড়ন প্রভৃতি প্রতিরোধের প্রধান শক্তি হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ আছে বলেই একটি দেশের সরকার সংবিধানের নির্দেশিত পথে চলতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো আইনের শাসন। আইনের শাসনের অর্থ হলো- (ক) আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান, (খ) সকলের জন্য একই ধরনের আইন থাকবে, (গ) বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না, (ঘ) বিনা বিচারে কাউকে আটক করা যাবে না, (ঙ) অভিযুক্তকারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে এবং (চ) সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যথার্থ আইনের শাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা আইনের শাসন না থাকলে যেমন অনাচার সৃষ্টি হয় তেমনি আইন না মানলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। এজন্যই বলা হয় যে, যথার্থ আইনের শাসন না থাকলে নাগরিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অধিকার ও সাম্য কিছুই থাকে না। তবে আইনের শাসন কথাটি শুধু মুখে মুখে স্বীকার বা সংবিধানে সন্নিবেশিত করলেই হবে না, এর বাস্তব প্রয়োগও ঘটাতে হবে। তাহলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ গড়ে তোলার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো