Chapter 5 : নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার Civics 1st Paper

HSC Civics 1st Paper এর Chapter 5 : নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৮৫১

প্রশ্ন

Civics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুজন 'ক' দেশের নাগরিক। সেই দেশে তাদের জনগোষ্ঠী নাগরিকতার মর্যাদা হতে বঞ্চিত। সম্প্রতি সে দেশের সেনাবাহিনী তাদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন চালালে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। তারা এখন কোনো দেশের নাগরিক নয়। উক্ত নাগরিকদের নাগরিকত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Barisal · 2017

ক
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে পালিত হয়?

উত্তর

প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
খ
নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে। নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন: ক. জন্মসূত্র ও খ. অনুমোদন সূত্র। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনে জন্মনীতি ও জন্মস্থাননীতি অনুসরণ করা হয়। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনে দেশভেদে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
গ
সুজনের দেশের জনগোষ্ঠীকে কী কী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে? বর্ণনা করো।

উত্তর

সুজনের দেশের জনগোষ্ঠীকে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সর্বোপরি মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যেসব অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকেই রাজনৈতিক অধিকার বলে। আর মানবাধিকার হলো এমন কতগুলো অধিকার যা নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য জাতি- ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকলের একান্ত প্রয়োজন। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সুজনের দেশের জনগোষ্ঠী সে দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাশ্ববর্তী দেশে চলে যায়। তারা এখন আর কোনো দেশের নাগরিক নয়। এর ফলে তারা ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমানাধিকারের মতো সামাজিক অধিকার, স্থায়ীভাবে বসবাস করার মতো রাজনৈতিক অধিকার পাচ্ছে না। এমনকি এই দুর্দশায় পতিত জনগোষ্ঠী ন্যূনতম মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদেরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নাগরিকতা প্রদানের দ্বারা কীসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নাগরিকতা প্রদানের দ্বারা জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত মৌলিক মানবাধিকারসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ব্যক্তি সমাজ জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হতে পারে না, তাই মানবাধিকার। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। জাতি, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে এমন কতগুলো অধিকার মানুষের ভোগ করা উচিত যা তার নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য একান্ত প্রয়োজন। এসব অধিকারই মৌলিক মানবাধিকার। জাতিসংঘ এর মতে, মানবজীবনের যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবীদার হয় এবং যা ছাড়া ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না, সেগুলোই হলো মানবাধিকার। জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারের ১৪নং ধারায় বলা হয়েছে, "নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে কোনো ব্যক্তির নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণের অধিকার আছে।" উদ্দীপকে আমরা সুজনের জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে দেখি। উক্ত নাগরিকদের নাগরিকত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারের ১৪নং ধারার সদৃশ্য। সুতরাং এর মাধ্যমে মানবাধিকারকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুজন 'ক' দেশের নাগরিক। সেই দেশে তাদের জনগোষ্ঠী নাগরিকতার মর্যাদা হতে বঞ্চিত। সম্প্রতি সে দেশের সেনাবাহিনী তাদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন চালালে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। তারা এখন কোনো দেশের নাগরিক নয়। উক্ত নাগরিকদের নাগরিকত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Barisal · 2017

ক
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে পালিত হয়?

উত্তর

প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
খ
নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে। নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন: ক. জন্মসূত্র ও খ. অনুমোদন সূত্র। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনে জন্মনীতি ও জন্মস্থাননীতি অনুসরণ করা হয়। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনে দেশভেদে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
গ
সুজনের দেশের জনগোষ্ঠীকে কী কী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে? বর্ণনা করো।

উত্তর

সুজনের দেশের জনগোষ্ঠীকে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সর্বোপরি মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যেসব অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকেই রাজনৈতিক অধিকার বলে। আর মানবাধিকার হলো এমন কতগুলো অধিকার যা নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য জাতি- ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকলের একান্ত প্রয়োজন। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সুজনের দেশের জনগোষ্ঠী সে দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাশ্ববর্তী দেশে চলে যায়। তারা এখন আর কোনো দেশের নাগরিক নয়। এর ফলে তারা ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমানাধিকারের মতো সামাজিক অধিকার, স্থায়ীভাবে বসবাস করার মতো রাজনৈতিক অধিকার পাচ্ছে না। এমনকি এই দুর্দশায় পতিত জনগোষ্ঠী ন্যূনতম মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদেরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নাগরিকতা প্রদানের দ্বারা কীসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নাগরিকতা প্রদানের দ্বারা জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত মৌলিক মানবাধিকারসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ব্যক্তি সমাজ জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হতে পারে না, তাই মানবাধিকার। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। জাতি, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে এমন কতগুলো অধিকার মানুষের ভোগ করা উচিত যা তার নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য একান্ত প্রয়োজন। এসব অধিকারই মৌলিক মানবাধিকার। জাতিসংঘ এর মতে, মানবজীবনের যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবীদার হয় এবং যা ছাড়া ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না, সেগুলোই হলো মানবাধিকার। জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারের ১৪নং ধারায় বলা হয়েছে, "নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে কোনো ব্যক্তির নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণের অধিকার আছে।" উদ্দীপকে আমরা সুজনের জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে দেখি। উক্ত নাগরিকদের নাগরিকত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারের ১৪নং ধারার সদৃশ্য। সুতরাং এর মাধ্যমে মানবাধিকারকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্প্রতি A ও B দেশের দীর্ঘদিনের ছিটমহল বিরোধ সমস্যার সমাধান হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ছিটমহলবাসীরা তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পেল। কয়েক মাস আগে B দেশের ছিটমহলবাসীরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে তারা মহাখুশি।

Jessore · 2017

ক
মানবাধিকার কী?

উত্তর

মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তি যে অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা লাভ করে তাই মানবাধিকার।
খ
সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে বোঝায়, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সমাজের সকলের প্রতি বিচারের মানদণ্ড হবে এক ও অভিন্ন। আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলের সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'B′B^{\prime} দেশের ছিটমহলবাসীরা ভোট প্রদানের পর কোন অধিকার ফিরে পেল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত 'B′B^{\prime} দেশের ছিটমহলবাসীরা ভোট প্রদানের পর রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেল। যে সকল অধিকার একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয় সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- ভোট দানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি। এই অধিকারগুলো নাগরিককে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। রাজনৈতিক অধিকার সংবিধান অথবা আইনের দ্বারা স্বীকৃত। রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অধিকার কেবল নাগরিকগণই ভোগ করতে পারেন। বিদেশিরা এ অধিকার ভোগ করতে পারে না। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে A ও B দেশের দীর্ঘদিনের ছিটমহলবিরোধ সমস্যার সমাধান হয়েছে। ফলে B দেশের ছিটমহলবাসীরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। এ ভোটদান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কেননা সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত। আর এ অধিকার বলেই একজন নাগরিক সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকের B রাষ্ট্রের ছিটমহলবাসীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন পর হলেও তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
ঘ
"স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে ছিটমহলবাসীকে অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্যও পালন করতে হবে।" বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে ছিটমহলবাসীদেরকে অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্যও পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের নিকট নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, অনুরূপ রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকের কর্তব্য রয়েছে। কর্তব্য পালন ব্যতীত শুধু অধিকার ভোগ করা প্রত্যাশিত নয়। একমাত্র কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই নাগরিক অধিকার উপভোগ করা যায়। আর রাষ্ট্রের অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবন বিকশিত হয়। তাই বলা যায় অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করে। তার বিনিময়ে তাদের কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মান্য করা, কর প্রদান করা ইত্যাদি কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করা যায়। সমাজের সদস্য হিসেবে শিক্ষালাভের অধিকার এবং সমাজের কল্যাণে আমাদের অর্জিত শিক্ষাকে প্রয়োগ করে সমাজের উন্নয়ন করা নাগরিকের কর্তব্য। উদ্দীপকের B দেশের ছিটমহলবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পেরেছে। এজন্য নাগরিক হিসেবে তাদের বিভিন্ন কর্তব্যও পালন করতে হবে। কেননা অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। মূলত অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি ভোগ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্প্রতি A ও B দেশের দীর্ঘদিনের ছিটমহল বিরোধ সমস্যার সমাধান হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ছিটমহলবাসীরা তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পেল। কয়েক মাস আগে B দেশের ছিটমহলবাসীরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে তারা মহাখুশি।

Jessore · 2017

ক
মানবাধিকার কী?

উত্তর

মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তি যে অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা লাভ করে তাই মানবাধিকার।
খ
সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে বোঝায়, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সমাজের সকলের প্রতি বিচারের মানদণ্ড হবে এক ও অভিন্ন। আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলের সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত 'B′B^{\prime} দেশের ছিটমহলবাসীরা ভোট প্রদানের পর কোন অধিকার ফিরে পেল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত 'B′B^{\prime} দেশের ছিটমহলবাসীরা ভোট প্রদানের পর রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেল। যে সকল অধিকার একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয় সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- ভোট দানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি। এই অধিকারগুলো নাগরিককে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। রাজনৈতিক অধিকার সংবিধান অথবা আইনের দ্বারা স্বীকৃত। রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অধিকার কেবল নাগরিকগণই ভোগ করতে পারেন। বিদেশিরা এ অধিকার ভোগ করতে পারে না। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে A ও B দেশের দীর্ঘদিনের ছিটমহলবিরোধ সমস্যার সমাধান হয়েছে। ফলে B দেশের ছিটমহলবাসীরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। এ ভোটদান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কেননা সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত। আর এ অধিকার বলেই একজন নাগরিক সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকের B রাষ্ট্রের ছিটমহলবাসীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন পর হলেও তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
ঘ
"স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে ছিটমহলবাসীকে অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্যও পালন করতে হবে।" বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে ছিটমহলবাসীদেরকে অধিকার ভোগের পাশাপাশি কর্তব্যও পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের নিকট নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, অনুরূপ রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকের কর্তব্য রয়েছে। কর্তব্য পালন ব্যতীত শুধু অধিকার ভোগ করা প্রত্যাশিত নয়। একমাত্র কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই নাগরিক অধিকার উপভোগ করা যায়। আর রাষ্ট্রের অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবন বিকশিত হয়। তাই বলা যায় অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করে। তার বিনিময়ে তাদের কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মান্য করা, কর প্রদান করা ইত্যাদি কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করা যায়। সমাজের সদস্য হিসেবে শিক্ষালাভের অধিকার এবং সমাজের কল্যাণে আমাদের অর্জিত শিক্ষাকে প্রয়োগ করে সমাজের উন্নয়ন করা নাগরিকের কর্তব্য। উদ্দীপকের B দেশের ছিটমহলবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পেরেছে। এজন্য নাগরিক হিসেবে তাদের বিভিন্ন কর্তব্যও পালন করতে হবে। কেননা অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। মূলত অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি ভোগ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্প্রতি M দেশের একটি গোষ্ঠী ও সংস্থা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করছে। উক্ত সম্প্রদায়ের লোকেরা আত্মরক্ষার্থে B ও C দেশে আশ্রয় লাভের চেষ্টা করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো M দেশকে এ সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিচ্ছে।

Sylhet · 2017

ক
নৈতিক কর্তব্য কী?

উত্তর

নাগরিকের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
খ
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

আমলাতন্ত্রের একটি বড় ত্রুটি হলো লালফিতার দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। আমলাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পদসোপানভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা সময়সাপেক্ষ। এতে নাগরিকের মানবিক দিক উপেক্ষিত হয় এবং হয়রানি বেড়ে যায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় কোন কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার তথা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। একজন মানুষ সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা লাভ করে তাই মানবাধিকার। আবার নাগরিক হিসেবে যেসব অধিকার ছাড়া ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে সামাজিক জীবন যাপন করতে পারে না সেগুলোকে সামাজিক অধিকার বলা হয়। এ অধিকার মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। স্বাধীন-জীবন ধারণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ শিক্ষা লাভ, আইনের চোখে সমানাধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকার। আবার রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার লাভ করে তাই রাজনৈতিক অধিকার। এ অধিকার ভোগের মাধ্যমেই একজন নাগরিক নিজেকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। ভোট দান, নির্বাচন করা, সরকারের সমালোচনা করা, সরকারি চাকরি লাভ প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার। অর্থনৈতিক অধিকার হলো অভাব ও দারিদ্রদ্র্য থেকে মুক্ত হয়ে একজন ব্যক্তির অর্থনৈতিক জীবনে নিরাপত্তা লাভ। কর্মের অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভ, অবকাশ লাভ প্রভৃতি এধরনের অধিকার। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে M দেশের একটি গোষ্ঠী ও সংস্থা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করছে। ফলে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার; সর্বোপরি মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর M রাষ্ট্রের আচরণ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর 'M′M^{\prime} দেশে একটি গোষ্ঠী ও সংস্থা অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবিক মান-মর্যাদা সংরক্ষণের জন্য যেসব অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান অপরিহার্য সেগুলোই মানবাধিকার। জাতিসংঘ 'মানবাধিকার' বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে: 'মানুষ তার জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবিদার এবং যেগুলো ব্যতীত তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না সেগুলোই হলো মানবাধিকার।' জাতিসংঘের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবাধিকার ভোগের বেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র, নির্বিশেষে নাগরিকতার দৃষ্টিতে সকলেই সমান। এক্ষেত্রে কোনো রকম পার্থক্য বা ভেদাভেদ করা হবে না। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (General Assembly) মানুষের মৌলিক মানবাধিকারগুলো ঘোষিত হয়। যেখানে জাতিসংঘ সনদের ৩ থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রায় ২৮ টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ যেসব মানবাধিকারের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সবই রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। তারা নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। তারা ভোটাধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার ও আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত। রোহিঙ্গারা সে দেশের সামরিক বাহিনী ও একটি গোষ্ঠী দ্বারা প্রতিনিয়ত অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এসব অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভের জন্য এবং আত্মরক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় উল্লিখিত ঘটনার স্বারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সম্প্রতি M দেশের একটি গোষ্ঠী ও সংস্থা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করছে। উক্ত সম্প্রদায়ের লোকেরা আত্মরক্ষার্থে B ও C দেশে আশ্রয় লাভের চেষ্টা করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো M দেশকে এ সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিচ্ছে।

Sylhet · 2017

ক
নৈতিক কর্তব্য কী?

উত্তর

নাগরিকের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
খ
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

আমলাতন্ত্রের একটি বড় ত্রুটি হলো লালফিতার দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। আমলাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পদসোপানভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা সময়সাপেক্ষ। এতে নাগরিকের মানবিক দিক উপেক্ষিত হয় এবং হয়রানি বেড়ে যায়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় কোন কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার তথা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। একজন মানুষ সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা লাভ করে তাই মানবাধিকার। আবার নাগরিক হিসেবে যেসব অধিকার ছাড়া ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে সামাজিক জীবন যাপন করতে পারে না সেগুলোকে সামাজিক অধিকার বলা হয়। এ অধিকার মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। স্বাধীন-জীবন ধারণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ শিক্ষা লাভ, আইনের চোখে সমানাধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকার। আবার রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার লাভ করে তাই রাজনৈতিক অধিকার। এ অধিকার ভোগের মাধ্যমেই একজন নাগরিক নিজেকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। ভোট দান, নির্বাচন করা, সরকারের সমালোচনা করা, সরকারি চাকরি লাভ প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার। অর্থনৈতিক অধিকার হলো অভাব ও দারিদ্রদ্র্য থেকে মুক্ত হয়ে একজন ব্যক্তির অর্থনৈতিক জীবনে নিরাপত্তা লাভ। কর্মের অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভ, অবকাশ লাভ প্রভৃতি এধরনের অধিকার। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে M দেশের একটি গোষ্ঠী ও সংস্থা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করছে। ফলে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার; সর্বোপরি মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর M রাষ্ট্রের আচরণ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর 'M′M^{\prime} দেশে একটি গোষ্ঠী ও সংস্থা অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবিক মান-মর্যাদা সংরক্ষণের জন্য যেসব অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান অপরিহার্য সেগুলোই মানবাধিকার। জাতিসংঘ 'মানবাধিকার' বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে: 'মানুষ তার জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবিদার এবং যেগুলো ব্যতীত তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না সেগুলোই হলো মানবাধিকার।' জাতিসংঘের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবাধিকার ভোগের বেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র, নির্বিশেষে নাগরিকতার দৃষ্টিতে সকলেই সমান। এক্ষেত্রে কোনো রকম পার্থক্য বা ভেদাভেদ করা হবে না। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (General Assembly) মানুষের মৌলিক মানবাধিকারগুলো ঘোষিত হয়। যেখানে জাতিসংঘ সনদের ৩ থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রায় ২৮ টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ যেসব মানবাধিকারের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সবই রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। তারা নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। তারা ভোটাধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার ও আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত। রোহিঙ্গারা সে দেশের সামরিক বাহিনী ও একটি গোষ্ঠী দ্বারা প্রতিনিয়ত অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এসব অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভের জন্য এবং আত্মরক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় উল্লিখিত ঘটনার স্বারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো