HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সুজন 'ক' দেশের নাগরিক। সেই দেশে তাদের জনগোষ্ঠী নাগরিকতার মর্যাদা হতে বঞ্চিত। সম্প্রতি সে দেশের সেনাবাহিনী তাদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন চালালে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। তারা এখন কোনো দেশের নাগরিক নয়। উক্ত নাগরিকদের নাগরিকত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
Barisal · 2017
ক
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তর
প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
খ
নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি যে মর্যাদা ও সম্মান পেয়ে থাকে তাকে নাগরিকতা বলে। নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন: ক. জন্মসূত্র ও খ. অনুমোদন সূত্র। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনে জন্মনীতি ও জন্মস্থাননীতি অনুসরণ করা হয়। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনে দেশভেদে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
গ
সুজনের দেশের জনগোষ্ঠীকে কী কী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে? বর্ণনা করো।
উত্তর
সুজনের দেশের জনগোষ্ঠীকে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সর্বোপরি মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
যেসব অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকেই রাজনৈতিক অধিকার বলে। আর মানবাধিকার হলো এমন কতগুলো অধিকার যা নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য জাতি- ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকলের একান্ত প্রয়োজন। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সুজনের দেশের জনগোষ্ঠী সে দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাশ্ববর্তী দেশে চলে যায়। তারা এখন আর কোনো দেশের নাগরিক নয়। এর ফলে তারা ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমানাধিকারের মতো সামাজিক অধিকার, স্থায়ীভাবে বসবাস করার মতো রাজনৈতিক অধিকার পাচ্ছে না। এমনকি এই দুর্দশায় পতিত জনগোষ্ঠী ন্যূনতম মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদেরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নাগরিকতা প্রদানের দ্বারা কীসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাগরিকদের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাধ্যমে নাগরিকতা প্রদানের দ্বারা জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত মৌলিক মানবাধিকারসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ব্যক্তি সমাজ জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হতে পারে না, তাই মানবাধিকার। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। জাতি, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে এমন কতগুলো অধিকার মানুষের ভোগ করা উচিত যা তার নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য একান্ত প্রয়োজন। এসব অধিকারই মৌলিক মানবাধিকার। জাতিসংঘ এর মতে, মানবজীবনের যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবীদার হয় এবং যা ছাড়া ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না, সেগুলোই হলো মানবাধিকার। জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারের ১৪নং ধারায় বলা হয়েছে, "নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে কোনো ব্যক্তির নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণের অধিকার আছে।"
উদ্দীপকে আমরা সুজনের জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে দেখি। উক্ত নাগরিকদের নাগরিকত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা জাতিসংঘ ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকারের ১৪নং ধারার সদৃশ্য। সুতরাং এর মাধ্যমে মানবাধিকারকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো