Chapter 10 : দেশপ্রেম ও জাতীয়তা Civics 1st Paper

HSC Civics 1st Paper এর Chapter 10 : দেশপ্রেম ও জাতীয়তা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৬৬৯

প্রশ্ন

Civics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মানুষের নিপীড়ন তাকে দুঃখ দেয়। যখন শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর হতে এসে অসহায় মানুষকে আক্রমণ করে, তখন সে শপথ করে "আমি দেশকে মুক্ত করবো।" তাই মাতৃভাষাকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে সে যুদ্ধক্ষেত্রে গেল। দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু নাফিজ তার মায়ের কাছে ফিরে এলো না।

Jessore · 2017

ক
দেশপ্রেম কী?

উত্তর

দেশপ্রেম হলো এক ধরনের মানসিক অনুভূতি যা নিজ জন্মভূমির প্রতি আবেগপূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়।
খ
বংশগত ঐক্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যখন কোনো জনসমাজে অন্তর্গত প্রায় সকল লোকই নিজেদেরকে এক বংশোদ্ভূত বলে মনে করে তখন তাদের মধ্যে যে একাত্ববোধের সৃষ্টি হয় তাকে বংশগত ঐক্য বলা হয়। বর্তমান সময়ে বংশগত ঐক্যকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করা হয় না।
গ
উদ্দীপকে জাতীয়তার কোন কোন উপাদান কার্যকর ছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে জাতীয়তার তিনটি উপাদান তথা (১) ভৌগোলিক ঐক্য এবং (২) ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য (৩) অর্থনৈতিক ঐক্য কার্যকর ছিল। এ উপাদানগুলো সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো। ১. ভৌগোলিক ঐক্য: ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট ও সংলগ্ন ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়। জাতীয়তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভৌগোলিক ঐক্যের অভাবে একটি ভবঘুরে জনসমষ্টি জাতি বলে পরিগণিত হতে পারে না। ২. ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য: যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সকল লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাঁদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে। ৩ . অর্থনৈতিক ঐক্য: অর্থনৈতিক ঐক্যও জনগণকে জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত করে। অর্থনৈতিক দিক হতে যখন জনগণের মধ্যে সমতা বিরাজ করে তখন তারা একত্রে বসবাস করার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়। সকল জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ যখন এক ও অভিন্ন হয় তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর থেকে এসে নাফিজের দেশকে আক্রমণ করে। সে তার মাতৃভূমিকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। জাতীয়তাবাদের তিনটি উপাদান তথা ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য এবং অর্থনৈতিক ঐক্যই নাফিজকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত নাফিজের আত্মত্যাগের কারণটির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের নাফিজ দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় আত্মত্যাগ করেছিল, কারণ তার মধ্যে দেশপ্রেমের প্রবল অনুভূতি কাজ করেছে। দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক গভীর। জন্মভূমির মাটি, আলো- বাতাস, অন্ন-জলের প্রতি মানুষের মমত্ব অপরিসীম। দেশপ্রেমের এই ধারণা বা অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ। জাতীয়তার ধারণাকে এজন্যই এক প্রকার মানসিক ধারণা বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যতার সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সেই চেতনাকেই জাতীয়তা বলে। জাতীয়তার ভিত্তিতেই জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) উদ্ভব ঘটে। সাধারণত একটি জাতি রাষ্ট্রের নিজস্ব পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য থাকে। দেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতিতে তা আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী নেতাদের অনেকেই তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজ রাষ্ট্রকে গতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করে বিশ্ব দরবারে সুমহান মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয়তার চেতনা ও দেশপ্রেমের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, ভিয়েতনামের হো চি মিন, তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ রচনা করেছেন দেশপ্রেমের অমরগাঁথা। উপসংহারে বলা যায়, জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশপ্রেমের মূলেই রয়েছে জাতীয়তার চেতনা। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো উদ্দীপকের নাফিজ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মানুষের নিপীড়ন তাকে দুঃখ দেয়। যখন শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর হতে এসে অসহায় মানুষকে আক্রমণ করে, তখন সে শপথ করে "আমি দেশকে মুক্ত করবো।" তাই মাতৃভাষাকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে সে যুদ্ধক্ষেত্রে গেল। দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু নাফিজ তার মায়ের কাছে ফিরে এলো না।

Jessore · 2017

ক
দেশপ্রেম কী?

উত্তর

দেশপ্রেম হলো এক ধরনের মানসিক অনুভূতি যা নিজ জন্মভূমির প্রতি আবেগপূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়।
খ
বংশগত ঐক্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যখন কোনো জনসমাজে অন্তর্গত প্রায় সকল লোকই নিজেদেরকে এক বংশোদ্ভূত বলে মনে করে তখন তাদের মধ্যে যে একাত্ববোধের সৃষ্টি হয় তাকে বংশগত ঐক্য বলা হয়। বর্তমান সময়ে বংশগত ঐক্যকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করা হয় না।
গ
উদ্দীপকে জাতীয়তার কোন কোন উপাদান কার্যকর ছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে জাতীয়তার তিনটি উপাদান তথা (১) ভৌগোলিক ঐক্য এবং (২) ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য (৩) অর্থনৈতিক ঐক্য কার্যকর ছিল। এ উপাদানগুলো সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো। ১. ভৌগোলিক ঐক্য: ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট ও সংলগ্ন ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়। জাতীয়তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভৌগোলিক ঐক্যের অভাবে একটি ভবঘুরে জনসমষ্টি জাতি বলে পরিগণিত হতে পারে না। ২. ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য: যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সকল লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাঁদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে। ৩ . অর্থনৈতিক ঐক্য: অর্থনৈতিক ঐক্যও জনগণকে জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত করে। অর্থনৈতিক দিক হতে যখন জনগণের মধ্যে সমতা বিরাজ করে তখন তারা একত্রে বসবাস করার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়। সকল জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ যখন এক ও অভিন্ন হয় তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর থেকে এসে নাফিজের দেশকে আক্রমণ করে। সে তার মাতৃভূমিকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। জাতীয়তাবাদের তিনটি উপাদান তথা ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য এবং অর্থনৈতিক ঐক্যই নাফিজকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত নাফিজের আত্মত্যাগের কারণটির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের নাফিজ দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় আত্মত্যাগ করেছিল, কারণ তার মধ্যে দেশপ্রেমের প্রবল অনুভূতি কাজ করেছে। দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক গভীর। জন্মভূমির মাটি, আলো- বাতাস, অন্ন-জলের প্রতি মানুষের মমত্ব অপরিসীম। দেশপ্রেমের এই ধারণা বা অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ। জাতীয়তার ধারণাকে এজন্যই এক প্রকার মানসিক ধারণা বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যতার সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সেই চেতনাকেই জাতীয়তা বলে। জাতীয়তার ভিত্তিতেই জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) উদ্ভব ঘটে। সাধারণত একটি জাতি রাষ্ট্রের নিজস্ব পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য থাকে। দেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতিতে তা আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী নেতাদের অনেকেই তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজ রাষ্ট্রকে গতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করে বিশ্ব দরবারে সুমহান মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয়তার চেতনা ও দেশপ্রেমের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, ভিয়েতনামের হো চি মিন, তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ রচনা করেছেন দেশপ্রেমের অমরগাঁথা। উপসংহারে বলা যায়, জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশপ্রেমের মূলেই রয়েছে জাতীয়তার চেতনা। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো উদ্দীপকের নাফিজ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মানুষের নিপীড়ন তাকে দুঃখ দেয়। যখন শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর হতে এসে অসহায় মানুষকে আক্রমণ করে, তখন সে শপথ করে "আমি দেশকে মুক্ত করবো।" তাই মাতৃভাষাকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে সে যুদ্ধক্ষেত্রে গেল। দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু নাফিজ তার মায়ের কাছে ফিরে এলো না।

Sylhet · 2017

ক
দেশপ্রেম কী?

উত্তর

দেশপ্রেম হলো এক ধরনের মানসিক অনুভূতি যা নিজ জন্মভূমির প্রতি আবেগপূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়।
খ
বংশগত ঐক্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যখন কোনো জনসমাজে অন্তর্গত প্রায় সকল লোকই নিজেদেরকে এক বংশোদ্ভূত বলে মনে করে তখন তাদের মধ্যে যে একাত্মবোধের সৃষ্টি হয় তাকে বংশগত ঐক্য বলা হয়। বর্তমান সময়ে বংশগত ঐক্যকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করা হয় না।
গ
উদ্দীপকে জাতীয়তার কোন কোন উপাদান কার্যকর ছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে জাতীয়তার তিনটি উপাদান তথা (১) ভৌগোলিক ঐক্য এবং (২) ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য (৩) অর্থনৈতিক ঐক্য কার্যকর ছিল। এ উপাদানগুলো সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো। ১. ভৌগোলিক ঐক্য: ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট ও সংলগ্ন ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়। জাতীয়তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভৌগোলিক ঐক্যের অভাবে একটি ভবঘুরে জনসমষ্টি জাতি বলে পরিগণিত হতে পারে না। ২.ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য: যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সকল লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাঁদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে। ৩. অর্থনৈতিক ঐক্য: অর্থনৈতিক ঐক্যও জনগণকে জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত করে। অর্থনৈতিক দিক হতে যখন জনগণের মধ্যে সমতা বিরাজ করে তখন তারা একত্রে বসবাস করার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়। সকল জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ যখন এক ও অভিন্ন হয় তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর থেকে এসে নাফিজের দেশকে আক্রমণ করে। সে তার মাতৃভূমিকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। জাতীয়তাবাদের তিনটি উপাদান তথা ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য এবং অর্থনৈতিক ঐক্যই নাফিজকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত নাফিজের আত্মত্যাগের কারণটির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের নাফিজ দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় আত্মত্যাগ করেছিল, কারণ তার মধ্যে দেশপ্রেমের প্রবল অনুভূতি কাজ করেছে। দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক গভীর। জন্মভূমির মাটি, আলো- বাতাস, অন্ন-জলের প্রতি মানুষের মমত্ব অপরিসীম। দেশপ্রেমের এই ধারণা বা অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ। জাতীয়তার ধারণাকে এজন্যই এক প্রকার মানসিক ধারণা বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যতার সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সেই চেতনাকেই জাতীয়তা বলে। জাতীয়তার ভিত্তিতেই জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) উদ্ভব ঘটে। সাধারণত একটি জাতি রাষ্ট্রের নিজস্ব পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য থাকে। দেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতিতে তা আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী নেতাদের অনেকেই তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজ রাষ্ট্রকে গতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করে বিশ্ব দরবারে সুমহান মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয়তার চেতনা ও দেশপ্রেমের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, ভিয়েতনামের হো চি মিন, তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ রচনা করেছেন দেশপ্রেমের অমরগাঁথা। উপসংহারে বলা যায়, জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশপ্রেমের মূলেই রয়েছে জাতীয়তার চেতনা। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো উদ্দীপকের নাফিজ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মানুষের নিপীড়ন তাকে দুঃখ দেয়। যখন শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর হতে এসে অসহায় মানুষকে আক্রমণ করে, তখন সে শপথ করে "আমি দেশকে মুক্ত করবো।" তাই মাতৃভাষাকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে সে যুদ্ধক্ষেত্রে গেল। দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু নাফিজ তার মায়ের কাছে ফিরে এলো না।

Sylhet · 2017

ক
দেশপ্রেম কী?

উত্তর

দেশপ্রেম হলো এক ধরনের মানসিক অনুভূতি যা নিজ জন্মভূমির প্রতি আবেগপূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়।
খ
বংশগত ঐক্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যখন কোনো জনসমাজে অন্তর্গত প্রায় সকল লোকই নিজেদেরকে এক বংশোদ্ভূত বলে মনে করে তখন তাদের মধ্যে যে একাত্মবোধের সৃষ্টি হয় তাকে বংশগত ঐক্য বলা হয়। বর্তমান সময়ে বংশগত ঐক্যকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করা হয় না।
গ
উদ্দীপকে জাতীয়তার কোন কোন উপাদান কার্যকর ছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে জাতীয়তার তিনটি উপাদান তথা (১) ভৌগোলিক ঐক্য এবং (২) ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য (৩) অর্থনৈতিক ঐক্য কার্যকর ছিল। এ উপাদানগুলো সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো। ১. ভৌগোলিক ঐক্য: ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট ও সংলগ্ন ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়। জাতীয়তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভৌগোলিক ঐক্যের অভাবে একটি ভবঘুরে জনসমষ্টি জাতি বলে পরিগণিত হতে পারে না। ২.ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য: যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সকল লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাঁদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে। ৩. অর্থনৈতিক ঐক্য: অর্থনৈতিক ঐক্যও জনগণকে জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত করে। অর্থনৈতিক দিক হতে যখন জনগণের মধ্যে সমতা বিরাজ করে তখন তারা একত্রে বসবাস করার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়। সকল জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ যখন এক ও অভিন্ন হয় তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই শত্রুরা ১২০০ মাইল দূর থেকে এসে নাফিজের দেশকে আক্রমণ করে। সে তার মাতৃভূমিকে বাঁচাতে, অর্থনৈতিক শোষণ দূর করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। জাতীয়তাবাদের তিনটি উপাদান তথা ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য এবং অর্থনৈতিক ঐক্যই নাফিজকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত নাফিজের আত্মত্যাগের কারণটির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের নাফিজ দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় আত্মত্যাগ করেছিল, কারণ তার মধ্যে দেশপ্রেমের প্রবল অনুভূতি কাজ করেছে। দেশপ্রেমের সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক গভীর। জন্মভূমির মাটি, আলো- বাতাস, অন্ন-জলের প্রতি মানুষের মমত্ব অপরিসীম। দেশপ্রেমের এই ধারণা বা অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ। জাতীয়তার ধারণাকে এজন্যই এক প্রকার মানসিক ধারণা বলা হয়। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যতার সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সেই চেতনাকেই জাতীয়তা বলে। জাতীয়তার ভিত্তিতেই জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) উদ্ভব ঘটে। সাধারণত একটি জাতি রাষ্ট্রের নিজস্ব পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য থাকে। দেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতিতে তা আবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী নেতাদের অনেকেই তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজ রাষ্ট্রকে গতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করে বিশ্ব দরবারে সুমহান মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয়তার চেতনা ও দেশপ্রেমের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, ভিয়েতনামের হো চি মিন, তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ রচনা করেছেন দেশপ্রেমের অমরগাঁথা। উপসংহারে বলা যায়, জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশপ্রেমের মূলেই রয়েছে জাতীয়তার চেতনা। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো উদ্দীপকের নাফিজ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুদানের একটি অংশ ছিল দক্ষিণ সুদান। দক্ষিণ সুদানের জনগণ অধিকাংশই খ্রিষ্টান। আর উত্তর সুদানসহ সমগ্র সুদানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দক্ষিণ সুদানের জনগণ আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি করে। অনেক সংঘাত ও দ্বন্দ্ব শেষে জাতিসংঘের উদ্যোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মত দিলে সুদান সরকার তা মেনে নেয়। দক্ষিণ সুদান আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

Chittagong · 2017

ক
জাতীয়তার প্রধান উপাদান কোনটি?

উত্তর

জাতীয়তার প্রধান উপাদান মানসিক বা ভাবগত ঐক্য।
খ
জাতীয়তা কখন জাতিতে পরিণত হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জাতীয়তা তখনই জাতিতে পরিণত হয়, যখন একটি জনসমাজ রাজনৈতিক ভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। জাতীয়তা হচ্ছে মনন ও চিন্তার এমন এক অবস্থা যা কোনো জনসমষ্টিকে অন্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা করে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে। জাতীয়তা থেকে জাতিতে পরিণত হওয়া মানে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করা। এভাবেই জাতীয়তা থেকে জাতির সৃষ্টি হয়।
গ
দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা লাভে কোন উপাদানটি কাজ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা লাভে ধর্মীয় ঐক্য কাজ করেছে। ধর্মীয় ঐক্য জাতীয়তার একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মীয় ঐক্য জাতি গঠনের অন্যতম উপাদান বলে বিবেচিত হতো। জাতীয় ভাবধারা অক্ষুন্ন রাখতে ও তা জোরদার করতে ধর্মীয় ঐক্য সাহায্য করে। আবার একই ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সহজেই ঐক্য গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ সুদানের অধিকাংশ জনগণই খ্রিষ্টান। তারা সুদান সরকারের নিকট আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি করে। অনেক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত শেষে জাতিসংঘের উদ্যোগে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় তাতে দক্ষিণ সুদানের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে জনগণ মত দেয়। অবশেষে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এখানে দেখা যাচ্ছে, কেবল ধর্মের ভিত্তিতেই দক্ষিণ সুদানের জনগণ নিজেদের একত্রিত করেছে এবং নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জাতিসংঘের মাধ্যমে আদায় করেছে। পরিশেষে বলা যায়, ধর্মের ঐক্য জাতীয়তা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেখতে পাই।
ঘ
দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্র গঠনে যে উপাদানটি কাজ করেছে তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় ঐক্য কাজ করেছে। একই ধর্মাবলম্বীদের সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকায় তাদের মধ্যে সহজেই একতা সৃষ্টি হয়। একই ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে নৈকট্য বৃদ্ধি পায়। ফলে জাতীয়তা গঠন সহজ হয়। জাতীয়তার উপাদান অনেক (বংশগত ঐক্য, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য প্রভৃতি)। এর মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র তৈরির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। ইহুদিরা ধর্মের প্রভাবে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসরায়েল জাতীয় রাষ্ট্র গঠন করে। বর্তমানে ধর্মের ক্ষেত্রে উদারনীতি গৃহীত হওয়ায় এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার ভাব জাগ্রত হওয়ায় ধর্মের ঐক্য আর জাতীয়তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গণ্য হয় না। যেমন- পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অধিকাংশ জনসমষ্টি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। আবার চীন, ভারত প্রভৃতি রাষ্ট্রের জনগণ বহু ধর্মে বিশ্বাসী হলেও তারা এক একটি জাতি। আবার আরব রাষ্ট্রসমূহে ধর্মীয় ঐক্য থাকলেও তারা ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করছে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জাতীয় ভাবধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে ধর্মীয় ঐক্যের ভূমিকা এক সময় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে ক্রমশ উপাদানটির গুরুত্ব কমে আসছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুদানের একটি অংশ ছিল দক্ষিণ সুদান। দক্ষিণ সুদানের জনগণ অধিকাংশই খ্রিষ্টান। আর উত্তর সুদানসহ সমগ্র সুদানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দক্ষিণ সুদানের জনগণ আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি করে। অনেক সংঘাত ও দ্বন্দ্ব শেষে জাতিসংঘের উদ্যোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মত দিলে সুদান সরকার তা মেনে নেয়। দক্ষিণ সুদান আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

Chittagong · 2017

ক
জাতীয়তার প্রধান উপাদান কোনটি?

উত্তর

জাতীয়তার প্রধান উপাদান মানসিক বা ভাবগত ঐক্য।
খ
জাতীয়তা কখন জাতিতে পরিণত হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জাতীয়তা তখনই জাতিতে পরিণত হয়, যখন একটি জনসমাজ রাজনৈতিক ভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। জাতীয়তা হচ্ছে মনন ও চিন্তার এমন এক অবস্থা যা কোনো জনসমষ্টিকে অন্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা করে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে। জাতীয়তা থেকে জাতিতে পরিণত হওয়া মানে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করা। এভাবেই জাতীয়তা থেকে জাতির সৃষ্টি হয়।
গ
দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা লাভে কোন উপাদানটি কাজ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা লাভে ধর্মীয় ঐক্য কাজ করেছে। ধর্মীয় ঐক্য জাতীয়তার একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মীয় ঐক্য জাতি গঠনের অন্যতম উপাদান বলে বিবেচিত হতো। জাতীয় ভাবধারা অক্ষুন্ন রাখতে ও তা জোরদার করতে ধর্মীয় ঐক্য সাহায্য করে। আবার একই ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সহজেই ঐক্য গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ সুদানের অধিকাংশ জনগণই খ্রিষ্টান। তারা সুদান সরকারের নিকট আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি করে। অনেক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত শেষে জাতিসংঘের উদ্যোগে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় তাতে দক্ষিণ সুদানের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে জনগণ মত দেয়। অবশেষে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এখানে দেখা যাচ্ছে, কেবল ধর্মের ভিত্তিতেই দক্ষিণ সুদানের জনগণ নিজেদের একত্রিত করেছে এবং নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জাতিসংঘের মাধ্যমে আদায় করেছে। পরিশেষে বলা যায়, ধর্মের ঐক্য জাতীয়তা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেখতে পাই।
ঘ
দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্র গঠনে যে উপাদানটি কাজ করেছে তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় ঐক্য কাজ করেছে। একই ধর্মাবলম্বীদের সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকায় তাদের মধ্যে সহজেই একতা সৃষ্টি হয়। একই ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে নৈকট্য বৃদ্ধি পায়। ফলে জাতীয়তা গঠন সহজ হয়। জাতীয়তার উপাদান অনেক (বংশগত ঐক্য, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য প্রভৃতি)। এর মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র তৈরির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। ইহুদিরা ধর্মের প্রভাবে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসরায়েল জাতীয় রাষ্ট্র গঠন করে। বর্তমানে ধর্মের ক্ষেত্রে উদারনীতি গৃহীত হওয়ায় এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার ভাব জাগ্রত হওয়ায় ধর্মের ঐক্য আর জাতীয়তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গণ্য হয় না। যেমন- পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অধিকাংশ জনসমষ্টি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। আবার চীন, ভারত প্রভৃতি রাষ্ট্রের জনগণ বহু ধর্মে বিশ্বাসী হলেও তারা এক একটি জাতি। আবার আরব রাষ্ট্রসমূহে ধর্মীয় ঐক্য থাকলেও তারা ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করছে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জাতীয় ভাবধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে ধর্মীয় ঐক্যের ভূমিকা এক সময় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে ক্রমশ উপাদানটির গুরুত্ব কমে আসছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো