HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
আমি খানিকটা ঘরকুনো আর শান্তিপ্রিয় জীব। বাইরের পৃথিবীতে ছুটে বেরোবার শখ আছে, কিন্তু সাহস নেই। অনিশ্চয় অ্যাডভেঞ্চার সবসময়ে আমাকে রোমাঞ্চিত করে তোলে না বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উদ্বি আছে কিনা সাহা নেই। অলির অ্যাঙ্কেই ট্রেন পরমোৎসাহে ছুটতে লাগল। গাড়ির চাকার যেন মেল ট্রেনের ছন্দ মিলেছে। একটার পর একটা স্টেশন পেছনে সরে যেতে লাগল, তারপর নক্ষত্র কার পায়াপথের আলোয় আভাসিত দিগন্তে মাথা তুলে দাঁড়ালো জরাসন্ধের পুরী, বিম্বিসারের রাজধানী, ভগবান তথাগতের চরণধন্য পঙ্কগিরির শিখরমালা- গিরিব্রজপুরী রাজগৃহ। তীব্র দুইসিলের শব্দ করে ট্রেন একটা বাঁক ঘুরল।
ক
কবি কয় মাইল হেঁটেছিলেন?
উত্তর
কবি সাত মাইল হেঁটেছিলেন।
খ
"আর আমি এদের ভাই।"- একথা কবি কোন প্রসঙ্গে কেন বলেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ "আর আমি এদের ভাই।"- এ কথটি কবি তাঁর ভাইবোনদের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে বলেছিলেন।
➤ প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি স্টেশনে পৌঁছাতে পৌছাতে ট্রেন ছেড়ে দেয়। তখন হতাশায় কবির বাবা-মায়ের কথাগুলো ' মনে পড়ে। নিজের ভাইবোনদের সতর্ক ও সচেতন প্রস্তুতির স্মৃতিও কবির মনে জাগ্রত হয়। তাঁর বোন জাহানারা কোনোদিন ট্রেন ফেল করে না, ফরহাদ আধা ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলীও এ ব্যাপারে খুব সচেতন। আর নাহার কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না। অথচ তাদের ভাই হয়ে কবি ট্রেন ফেল করে বসে আছেন।
সারকথা: কবির ভাইবোনদের মতো কবি সচেতন ও সতর্ক নন, এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।
গ
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
➤ উদ্দীপকের লেখকের সঙ্গে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার কবির বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করার দিকটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➤ স্বদেশের আলো-হাওয়ার মাঝেই মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠে। তাই স্বদেশের প্রকৃতি ছেড়ে মানুষ কোথাও যেতে চায় না।
➤ উদ্দীপরে লেখকের বর্ণনায় দেখা যায়, বাইরের জগতে যাওয়ার তাঁর শখ থাকলেও সাহস নেই। তবু তাঁর দুর্ভাবনাকে উপেক্ষা করে উৎসাহ নিয়ে ট্রেন ছুটে চলে। একের পর এক স্টেশন তার পেছনে সরে যেতে থাকে। তিনি যেন দেখতে লাগলেন জরাসন্ধের পুরী, বিম্বিসারের রাজধানী, ভগবান তথাগতের চরণধন্য পঙ্কগিরি শিখরমালা গিরিব্রজপুরী রাজগৃহ ইত্যাদি। অন্যদিকে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনে উঠতেই পারেননি। ফলে স্টেশনে বসেই তিনি কল্পনায় চলে যেতে চেয়েছেন গ্রামের প্রিয় আঙিনায়, মা ও মাতৃভূমির প্রকৃতির কাছে। তিনি যেন সব সংকোচ ও ভয়ের ঊর্ধ্বে ঊর্ধ্বে ছুটে গেলেন মায়ের কোলে। কবির এমন প্রত্যাবর্তন উদ্দীপকের লেখকের মধ্যে দেখা যায়নি।
সারকথা: উদ্দীপকের লেখকের দুর্ভাবনা উপেক্ষা করেই ট্রেনে চলতে লাগল, সেখানে লেখকের প্রত্যাবর্তন চোখে পড় না, যা 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবির মধ্যে দেখা যায়।
ঘ
উদ্দীপকের মূলভাব কি 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
➤ না, উদ্দীপকের মূলভাব 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত নয়।
➤ পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা পরিচিত গণ্ডি ছেড়ে দূরে যেতে চায় না। তবে তাদের অনেকের মধ্যেই পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরে বেড়ানোর শখ থাকে। আবার কেউ কেউ বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।
➤ উদ্দীপকের লেখক দুর্ভাবনা কাটিয়ে ট্রেনে বহুদূরে ছুটতে লাগলেন। এভাবে একের পর এক স্টেশন তিনি যেতে লাগলেন। কল্পনায় তিনি বিচরণ করতে লাগলেন ইতিহাসের দিক থেকে দিগন্তে। কবির এমন ছুটে চলার সঙ্গে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে। কেননা উদ্দীপকের লেখক ছুটে চলেছেন কিন্তু তাঁর শেকড়ে তিনি প্রত্যাবর্তন করেননি। তবে উদ্দীপকের মূলভাবের কিছু বিষয় আলোচ্য কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন- উদ্দীপকের লেখক ঘরকুনো, কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে তার সাহস নেই। আবার ট্রেনে উঠতে না পেরে কল্পনায় কবি তাঁর গ্রামের দিকে যে যাত্রাটি শুরু করলেন সেখানে যাত্রাপথে তিনি অনেক বিষয়ের বর্ণনা করেছেন।
➤ 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবির শহরে যাওয়ার তেমন আগ্রহ নেই, কেননা গ্রামীণ জীবনই তাঁর কাছে পরম স্বস্তির। সেই বর্ণনায় রয়েছে গ্রামীণ পরিবেশ ও প্রকৃতির বিভিন্ন চিত্র। যাত্রাপথে এসব বর্ণনার সঙ্গে উদ্দীপকের লেখকের যাত্রাপথের বর্ণনার কিছুটা মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটির মূলভাব 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত নয়।
সারকথা: উদ্দীপকের মূলভাবে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার বৈসাদৃশ্য থাকলেও কিছু বিষয়ের সাদৃশও রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব আলোচ্য কবিতার মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত নয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো