HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
"ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।
রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে
আজকে যে যা বলে বলুক তোরে,
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ করে
পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা।"
Comilla · 2017
ক
সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর
সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'দৈনিক স্বাধীনতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
খ
'এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে'- পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
কবি উক্ত পঙক্তিটির মাধ্যমে প্রত্যাশা করেছেন, আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এ বয়সের তরুণরা জড়-নিশ্চল প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে সবসময় নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন দেখে। কল্যাণচিন্তা, সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি- এসবই তাদের বৈশিষ্ট্য। কবির কামনা এসব বৈশিষ্ট্য দিয়েই যেন তরুণরা জাতীয় জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়।
গ
"উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে"- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে তারুণ্যের কেবল একটি বিশেষ দিক আলোচিত হওয়ায় এখানে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি বয়ঃসন্ধিকালের নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। তারুণ্যের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের গুণগানের পাশাপাশি জাতীয় জীবনে এ বয়সের উদ্দীপনাকে তিনি প্রত্যাশা করেছেন। কবিতায় তিনি আঠারো বছর বয়সের নানা দিক নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে বিশদভাবে
উপস্থাপন করেছেন। এ বয়স নিয়ে উৎকণ্ঠাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নিশ্চল সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে নবীনদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে। এখানে তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সকল বাধা অতিক্রম করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় আঠারো বছর বয়সি তরুণদের নানা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। কবির দৃষ্টিতে এ বয়সটি উত্তেজনার, প্রবল উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার, অদম্য দুঃসাহসে বাধা-বিপদ পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার উপযুক্ত সময়। পাশাপাশি, সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে এ বয়সের শঙ্কাজনক দিকটিও তুলে ধরেছেন তিনি। উদ্দীপকের ক্ষুদ্র পরিসরে তারুণ্যের জয়গানের দিকটি ফুটে উঠলেও আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত অন্যান্য দিক প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।
ঘ
'আঠারো বছর বয়স' কবিতা এবং উদ্দীপকে মূলত তারুণ্যেরই জয়গান গাওয়া হয়েছে- এ বিষয়ে তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।
উত্তর
পরিসরে ভিন্নতা থাকলেও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতা ও উদ্দীপকে মূলত তারুণ্যেরই জয়গান গাওয়া হয়েছে।
পাঠ্য কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের নানা ইতিবাচক দিক চিহ্নিত করেছেন। সতর্ক করেছেন নেতিবাচক দিক সম্পর্কেও। এ বয়সের বৈশিষ্ট্য অঙ্কন করতে গিয়ে কবি মূলত তরুণদের জয়গানই করেছেন। তিনি মনে করেন, এদেশের তরুণেরাই জাতীয় জীবনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে এগিয়ে আসবে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্থবিরতা ও নিশ্চলতায় জর্জরিত মানুষের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করতে নবীনদের আহ্বান করা হয়েছে। একইসঙ্গে সকল বাধাকে তুচ্ছ করে নিজ নিজ ব্যক্তিত্বের স্ফূরণ ঘটানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে এখানে। কবি সমস্যাপীড়িত জাতিকে উদ্ধার করতে তারুণ্যের শক্তির ওপর তাঁর নির্ভরতার কথা ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে, 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায়ও কবি আঠারো বছর বয়সের নানা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের জাগরণ কামনা করেছেন।
পাঠ্য কবিতায় কবি মনে করেন, আঠারো বছর বয়সটি প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য উপযোগী। এ বয়সের তরুণদের ধর্মই
হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া- আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এখানে নির্দিষ্টভাবে আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য বলা হলেও তা আসলে তারুণ্যেরই সাধারণ বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকের কবিতার ক্ষুদ্র পরিসরেও মূলত তারুণ্যের জয়গান গাওয়া হয়েছে। তাই বলা যায়, আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশ, উভয়ক্ষেত্রেই মুখ্য হয়ে উঠেছে তারুণ্যের জয়গানের দিকটি।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো